নির্বাসিতের আত্মকথা – উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নির্বাসিতের আত্মকথা – উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
পঞ্চম সংস্করণ—মাঘ, ১৩৬১
প্রকাশক–শ্রীশচীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়,
বেঙ্গল পাবলিশার্স
১৪. বঙ্কিম চাটুজ্জে স্টীট,
কলিকাতা-১২
মুদ্রাকর——শ্রী অজিতমোহন গুপ্ত,
ভারত ফোটোটাইপ স্টুডিও,
৭২।১, কলেজ স্ট্রীট,
কলিকাতা—১২
প্রচ্ছদপট পরিকল্পনা, জাশু বন্দ্যোপাধ্যায়
বাঁধাই—বেঙ্গল বাইণ্ডাস
আড়াই টাকা
.
ভূমিকা
বাংলায় বা ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশে যে সমস্ত যুবক ইংরাজ গবর্ণমেন্টের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিয়াছিল, সরকারী কাগজপত্রে ও ইংরাজী সংবাদপত্রে তাহাদিগকে ‘আনার কষ্ট’ (anarchist) আখ্যা দেওয়া হইয়াছে। যাহারা সর্ববিধ শাসন প্রণালীর বিরোধী, ইংরাজীতে তাহাদিগকেই আনার কষ্ট বলে। এরূপ কোনও দল ভারতবর্ষে আছে বা ছিল বলিয়া আমি জানি না। যে সমস্ত পরাধীন দেশে লোকমত প্রভাবে বিদেশীয় শাসনযন্ত্র পরিবর্তিত করিবার উপায় নাই, সে সমস্ত দেশে স্বাধীনতাস্পৃহা জাগিয়া উঠিলে গুপ্ত সভা-সমিতির সৃষ্টি অনিবার্য। ইটালী, পোলাও, আয়লও প্রভৃতি দেশে যে সমস্ত কারণে বিপ্লবপন্থীদিগের আবির্ভাব হইয়াছিল, ভারতবর্ষে সেই কারণগুলি সম্পূর্ণরূপে বর্তমান ছিল বলিয়াই এখানেও বিপ্লবাগ্নির স্ফুলিঙ্গ দেখা দিয়াছিল। আমাদের শাসকসম্প্রদায়ও সে কথা বেশ ভাল করিয়া জানেন বলিয়াই তাড়াতাড়ি রিফর্ম বিলের শান্তিজল ছিটাইয়া দিয়া সে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নির্বাপিত করিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন। তাঁহাদের সে চেষ্টা সফল কি ব্যর্থ হইয়াছে তাহা বিচার করা আমার উদ্দেশ্য নহে; আমার শুধু এইটুকুই বক্তব্য যে এদেশের বিপ্লবপন্থীরা আনারকিষ্ট নহেন! বিপ্লব-সমিতিগুলির ইতিহাস যাঁহারা জানেন তাঁহারাই এ কথা স্বীকার করিবেন। সে কথা প্রমাণ করিবার জন্য অতীতের অন্ধকারময় গহ্বর হইতে সে বিশ্বত ইতিহাস আপাতত টানিয়া বাহির করিবার আবশ্যকতা নাই। বাঙালীদের আত্মসম্মানবোধ রাজপুরুষদিগের ব্যবহারে প্রতিপদে ক্ষুণ্ণ হইতেছিল বলিয়াই ইংরাজাধিকারে তাঁহাদের মনুষ্যত্ব লাভের সম্ভাবনা ছিল না বলিয়াই, বাঙালীরা তাহাদের ক্ষীণ প্রাণের সমগ্র শক্তি একত্র করিয়া ইংরাজের দুর্জয় শক্তি প্রতিরোধ করিবার চেষ্টা করিয়াছিল। বঙ্গভঙ্গের আন্দোলনের পূর্বে যে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করিবার জন্য গুপ্ত সভা-সমিতি স্থাপনের চেষ্টা না হইয়াছিল তাহা নহে, কিন্তু তাহা কার্যতঃ বিশেষ ফলদায়ী হয় নাই। ১৯০৫ খ্রীষ্টাব্দে সমস্ত বাংলাদেশ লর্ড কার্জনকৃত অপমানে যে বাত্যাবিক্ষুব্ধ সাগরবক্ষের মত চঞ্চল হইয়া উঠিয়াছিল সেই চাঞ্চল্য হইতে প্রকৃতপক্ষে বাংলায় বিপ্লববাদের উৎপত্তি। দেশের মধ্যে তখন যে প্রবল উত্তেজনা-স্রোত বহিতেছিল তাহাই আধার বিশেষে ঘুর্ণাবর্তে পরিণত হইয়া বিপ্লবকেন্দ্রের সৃষ্টি করিয়া তুলিয়াছিল। ‘যুগান্তর’ ছিল ঐরূপ একটি বিপ্লবকেন্দ্রের মুখপত্র। ঐ সংবাদপত্রের পরিচালকগণের সংস্রবে আসিয়াই আমি বিপ্লবীদলে যোগ দিয়াছিলাম।



অনবদ্য♥️ ধন্যবাদ আপলোড করার জন্য।
দ্রুত কাজ করার জন্য কিছু ভুলভ্রান্তি থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশাকরি। আর কেউ যদি ভুলগুলো সংশোধন করে দেয়, আমরা আবার শুধরে দিতে পারি।