দ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
দ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
রূপান্তর – সালমান হক
অনুবাদকের উৎসর্গ
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের
.
কিছু কথা
আপনার হাতে এই মুহূর্তে যে বইটি আছে, সেটা প্রখ্যাত জাপানি রহস্য ঔপন্যাসিক কেইগো হিগাশিনোর ‘মুকাশি বোকু গা শিনদা লে’ উপন্যাসের বাংলা অনুবাদ। নামটার বঙ্গানুবাদ করলে দাঁড়ায়, যে বাড়িতে আমার মৃত্যু হয়েছিল। পুরো উপন্যাসটি পড়ার পর নামটা একদম স্বার্থক মনে হয় আমার। আমি অবশ্য গল্পের প্লটের সাথে মিলিয়ে স্মৃতি সমাধি নাম রাখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রকাশক বললেন ইংরেজি দ্য হাউস হোয়্যার আই ডাইড ওয়ান্স নামটাই রাখতে।
এই বইটায় কোনো গোয়েন্দা নেই। নেই কোনো খুনি। তবু এটা আগাগোড়া একটি রহস্য উপন্যাস। আসলে মানুষের জীবনটাই তো একটা রহস্য, তাই না? কেইগো হিগাশিনো কখনোই শুধু লেখার জন্যে কিছু লিখেন না। তার রহস্যোপন্যাসগুলোতেও থাকে নানারকম বার্তা। এই বইটাও ব্যতিক্রম নয়। দ্য ডিভোশন অভ সাসপেক্ট এক্স প্রকাশিত হবার আগ অবধি দ্য হাউস হোয়্যার আই ডাইড ওয়ান্সই ছিল তার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস। হিগাশিনো যে কত বিচিত্র বিষয়ে লিখেছেন, তা ভাবলে অবাক না হয়ে পারি না।
বইটা নিয়ে কাজ করতে আমার এবং প্রকাশক মাফিউল কাদির আদনের যেরকম ভালো লেগেছে, আশা করি সম্মানিত পাঠকদেরও তেমনটাই লাগবে। আর ভালো না লাগলে সেই দায়ভার পুরোপুরি আমার। সবাই ভালো থাকবেন।
সালমান হক
লালমাটিয়া, ঢাকা
.
পূর্বকথা
মাসখানেক আগের কথা। যাকে বাবা বলে জানতাম একসময়, তার কাছ থেকে একটা চিঠি পেলাম হঠাৎ। যে বাড়িটায় শৈশব কেটেছে আমার, সেটা ভেঙ্গে ফেলা হবে কিছুদিনের মধ্যে। এই তথ্যটা দেয়ার জন্যেই ফোন দিয়েছিল সে। এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই মা’র সাথে পরামর্শ করেই নিয়েছে। বেশ লম্বা সময় ধরে বাসাটা পরিত্যক্ত। বর্তমানে সমুদ্রের ধারে একটা অ্যাপার্টমেন্টে থাকে দু’জন। জীবনের বাকি সময়টুকু শান্তিতে সেখানেই কাটাবে, এভাবেও বলা যায় কথাটা।
বাড়িটা কবে ভাঙা হবে, সেই তারিখেরও উল্লেখ আছে চিঠিটায়। প্রাথমিক কাজ কখন শুরু হবে, সেটারও আনুমানিক একটা সময় বলে দিয়েছে। বাবা নিশ্চয়ই চাইছে এর আগেই বাড়িটা থেকে ঘুরে আসি।
কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাব না সেখানে। তার কথা অনুযায়ী আর কিছু করার ইচ্ছে নেই আমার। ব্যাপারটা এমন নয় যে তাদের সাথে দেখা করার ইচ্ছে নেই। যত যা-ই বলি না কেন, তারা আমার বাবা-মা। তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া অপরাধের মধ্যেই পড়বে। কিন্তু আমার অনীহার কারণ ভিন্ন। আসলে পুরোনো ওই বাড়িটা থেকে নতুন কী কী জানা যাবে, সেটাই ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিল আমার মনে।
যদি পা বাড়িটা যেদিন ভাঙা হবে, সেদিন আমার অ্যাপার্টমেন্টে বসে গান শুনছিলাম। ইচ্ছে করেই বাসা থেকে বের হইনি। বলা যায় না, জোড়া আপনা থেকেই রওনা দেয় সেই ঠিকানায়!
কিন্তু যতই বই পড়া বা গান শোনার ভান করি, বারবার মনে হচ্ছিল বাড়িটার কথা। সেই বেডরুম, যেখানে বসে আমি আমার হোমওয়ার্ক করতাম। সেই লিভিংরুম, যেখানে তাতামি ম্যাটের নিচে পা ঢুকিয়ে বসে টিভি দেখতাম সবাই। স্কুল থেকে ফিরে ব্যাগ কাঁধে রান্নাঘরটায় উঁকি দিতাম চুপেচুপে। রাতে খাওয়া দাওয়ার কী বন্দোবস্ত, সেটা বোঝার চেষ্টা করতাম। সেই পরিচিত হলওয়ে, ক্লোজেট আর অন্ধকার স্টোর রুম।
মনের পর্দায় ভেসে উঠলো বাড়িটা গুড়িয়ে যাওয়ার ছবি। দেয়ালগুলো ভেঙ্গে পড়ছে, ফাটল ধরছে মেঝেতে। প্রতি সপ্তাহে যে বড় ঘড়িটা পাঁচ মিনিট করে পিছিয়ে যেত, সেটা হয়তো এখনো দেয়ালে ঝুলছে। স্থানীয় এক দৈনিক পত্রিকার নামসমেত ক্যালেন্ডারটা কি এখনো পেরেক দিয়ে সাঁটানো? ড্রয়িং রুমের কাঠের প্যানেলটায় নিশ্চয়ই তিন সেন্টিমিটারের সেই পোড়া দাগটা এখনো আছে। স্কুল থেকে ফিরে ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে কাজটা করেছিলাম আমি। বাবার চিৎকারে কান পাতা দায় হয়েছিল সেদিন। এই দৃশ্যগুলোই বারবার ঘুরতে লাগল মনে। এক সময় মিলিয়েও গেল। রয়ে গেল কেবল বাদামি হয়ে আসা পুরোনো ছবির মতন স্মৃতির রেশ।
এরকম আরেকটা বাড়ি আছে, যেটার কথা কখনো ভুলব না আমি। আমার ছোটবেলার বাড়িটা জাপানি নকশার হলেও এই ছোট্ট বাড়িটা পশ্চিমা নকশায় তৈরি। একটা উঁচু পাহাড়ের কোনায় দাঁড়িয়ে আছে নিঃসঙ্গ যেখানে কেউ কখনো যায় না।
ওই বাড়িটার কথা মনে হলে এখনো কেঁপে উঠি আমি। ভয়ংকর চিন্তাগুলো পাথর হয়ে চেপে বসে বুকে। বিছানায় একা শুয়ে যখন বিষয়টা নিয়ে ভাবি, চাদরের তলে মুখ লুকাতে ইচ্ছে করে।
কিন্তু মাঝে মাঝে সেই ভয় রূপ নেয় নস্টালজিয়ায়। মনে হয় কে যেন ডাকছে সেখান থেকে।
কিন্তু জবাব দেই না ইচ্ছা করেই। নিজের ভালোর জন্যেই।
সেই সাদা বাড়িটায় আমার সাথে আরেকজন গিয়েছিল। আসলে কিছু একটা খোঁজার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু সে বা আমি, কেউই জানতাম না যে কী খুঁজছি। কোনো কিছু হয়তো জানা যাবে, এই আশাই সেখানে নিয়ে গিয়েছিল আমাদের।
এমনকি আজ অবধি আমি নিশ্চিত নই যে, সেদিন সেখানে যাওয়া উচিত হয়েছিল কিনা।
দুই বছর আগের কথা বলছি।






অসাধারণ! বহুদিন পরে হিগাশিনো পেলাম। ওনার আরও বই দেওয়ার অনুরোধ রইল, কারণ এগুলো খুঁজে খুঁজে জোগাড় করে পড়া বেশ কঠিন! আপনাদের ভালো কাজের জন্যই পড়তে পারছি। অসংখ্য ধন্যবাদ!
Nothing
13
প্লিজ, হিগশিনোর আরও বই আপলোড করবেন।
আমি অন্ধকার থেকে বের হতে পারি না’ আনি এর্নো এর লেখা বইটি দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি
Rupak Saha r Jihadi novel ta upload korben please
Download
থমাস হারবার্ট লুইন এর ‘ থাংলিয়ানা ‘ বইটা দেওয়ার অনুরোধ রইল।
অনেক রিভিউ দেখে শুরু করছি আশা করছি ভালো কিছু হবে ❤️
masquarade hotel upload koiren please
বই ডাউনলোড করবো কীভাবে?
দ্য লেটার বইটা দিলে ভালো হয়।
প্লিজ, হিগশিনোর আরও বই আপলোড করুন।