দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস
Dasharupa by Soumitra Biswas
প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২০
প্রচ্ছদ : গৌতম কর্মকার (স্কেচ), কামিল দাস (কালার)
.
ভূমিকা
শক্তিসাধনার গভীরের রহস্য একমাত্র সাধকই বুঝতে পারেন। আমার বিদ্যেবুদ্ধি অতি সামান্য। ফলে তন্ত্রশাস্ত্র পড়ার সাহস হয়নি। গুরুর দেখানো পথেও চলিনি, কেবল ফাঁকিই মেরেছি। তবু গুরু দয়া করে যেটুকু বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাইতে যতটুকু উপলব্ধি হওয়া সম্ভব, সেটুকুই আমার সম্বল। কাজেই বেশি না বকে বরং গুরুর মুখ থেকে শোনা একটা গল্প শোনাই।
একবার কার্তিক কোথা থেকে ঘুরে-টুরে ঘরে ফিরল। এসে দেখে তার মা আলুথালু বেশে চোখ বন্ধ করে শুয়ে রয়েছেন। কার্তিক খুবই ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করল যে মায়ের কী হয়েছে।
কোনো উত্তর নেই।
কার্তিক বার বার করে মাকে ডাকছে, ‘মা ওঠো, ওমা, তোমার কী হয়েছে? কেন শুয়ে রয়েছ? কী কষ্ট হচ্ছে আমাকে বলো।’
কোনো সাড়াই নেই। বেশ কিছুক্ষণ পরে মা চোখ খুলে বললেন যে তাঁর পিঠে খুব ব্যথা।
‘কেন?’
‘একজন খুব মেরেছে।’
কার্তিক তো ফুঁসে উঠল, ‘কে মেরেছে তুমি শুধু নামটা বলো। তারপর আমি তাকে দেখাচ্ছি মজা।’
মা বললেন, ‘কী আর বলব বাবা! তুমি নিজেই তো আমাকে এইভাবে মেরেছ! সব ভুলে গেলে?’
‘আমি?’ কার্তিক অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল, ‘আমি সারাদিন বাড়িই ছিলাম না, আর আমি মেরেছি তোমাকে? আর আমি আমার মায়ের গায়ে হাত তুলব? ছি ছি!’
মা বললেন, ‘তুমিই করেছ! মনে করে দ্যাখো।’
অনেক ভেবে ভেবেও কার্তিক বুঝতে পারল না যে ও কখন মাকে মেরেছে।
মা মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মনে পড়ছে না? আচ্ছা সকালে যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলে তখন খানিকটা যাবার পরে একটা ঝরনা পড়েছিল?’
‘হ্যাঁ, মা।’
‘সেখানে তুমি কী করেছিলে বলো তো?’ মা আবার হাসলেন।
‘সেখানে?’ কার্তিক আকাশ-পাতাল ভাবছে, কিন্তু কিছুই মনে পড়ছে না।
মা বললেন, ‘একটা বড়ো পাথর তুলেছিলে না? সেটা আমার গায়ে ছুড়ে মারলে, মনে নেই?’
কার্তিক অবাক হয়ে বলল, ‘পাথর তুলেছিলাম তো ঠিকই। কিন্তু সেটা তো একটা বেড়ালকে ছুড়ে মেরেছি। তোমাকে আবার কখন মারলাম? তুমি তো সেখানে ছিলেই না।’
মা মৃদু হেসে বললেন, ‘জগতে আমি ছাড়া আর কিছু আছে কি? এমন কোনো স্থান আছে, যেখানে আমি নেই?’
এটাই হল সমস্ত সাধনার উদ্দেশ্য। উপলব্ধি করা যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একজন ছাড়া আর দ্বিতীয় কেউ নেই। সেই একজনই আবিশ্বচরাচর বহুবিধ রূপ ধারণ করে রয়েছেন। তার মধ্যে ভালো-মন্দ, হিতকারী-অনিষ্টকারী সবই আছেন। আর, সেই রূপের বাইরেও তিনি রয়েছেন অনুভব আর অনুভূতির মধ্যে।
যেমন বেড়ালের মধ্যে রয়েছেন তেমনিই আবার ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা, স্মৃতি, বুদ্ধি, লজ্জা সবেতেই তিনি। তিনি বৃত্তিরূপেণ সংস্থিতা এবং জীবনের যত ভুলভ্রান্তি সেই ভ্রান্তিরূপাও বটে।
আর সেই একজনই দশবিধ রূপ ধারণ করে দশমহাবিদ্যা হয়ে ওঠেন। যদিও শক্তিসংগমতন্ত্র অনুযায়ী মহাবিদ্যা তেরোজন, আর নিরুত্তরতন্ত্রে বলা হয়েছে মহাবিদ্যা আঠেরোজন। তবে সব কিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছে নারদপঞ্চরাত্র। এখানে মহাবিদ্যার সংখ্যা বলা হচ্ছে সপ্তকোটি। যদিও বুঝতে অসুবিধে হয় না যে সংখ্যাটা আসলে ব্যবহার করা হয়েছে ‘অসংখ্য’ অর্থে। কেননা ওই শ্লোকেই বলা হচ্ছে যে তাঁদের মূর্তির সংখ্যা গণনা করা যায় না।
যাই হোক, মহাবিদ্যাদের সাধারণভাবে প্রচলিত সংখ্যা দশ এবং তাঁরা হলেন, কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী এবং কমলা। এই দশমহাবিদ্যার সঙ্গে আবার পরোক্ষে একান্নপীঠ জড়িয়ে রয়েছে।
কীভাবে?
একান্নপীঠের মূল কাহিনি হল যে দক্ষরাজের যজ্ঞসভায় পতিনিন্দে সহ্য করতে না পেরে সতী দেহত্যাগ করেছিলেন। তখন ক্রুদ্ধ শিব তাঁর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে ত্রিভুবন জুড়ে তাণ্ডবনৃত্য করে বেড়াচ্ছিলেন। সেইসময়ে তাঁকে থামানোর জন্যে বিষ্ণু সতীদেহকে একান্নটা টুকরোয় কেটে ফেলেন। প্রতিটি টুকরোর ওপরে একটা তীর্থক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। কিন্তু এরও আগে একটা ঘটনা আছে।
সতী যে দক্ষরাজের যজ্ঞসভায় গেলেন, তাতে গোড়া থেকেই শিবের বিস্তর আপত্তি ছিল। কেননা দক্ষরাজ তো তাঁদের আমন্ত্রণ জানাননি। বিনা আমন্ত্রণে শিব নিজে তো যাবেনই না, এমনকী সতীকেও যেতে দিতে আপত্তি ছিল। কিন্তু সতী জেদ ধরে বসে থাকেন যে তিনি যাবেনই।
তখন শিব বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘তুমি যখন আমার কথা শুনবেই না, তখন যা ইচ্ছে হয় তুমি করো। আমার অনুমতি চাইবার দরকার কী?’
এই কথা শুনে সতী ক্রুদ্ধ হয়ে ঠিক করলেন যে শিবকে নিজের স্বরূপ দেখাতে হবে। তিনি তখন ভয়ংকরী কালীমূর্তি ধারণ করলেন। লোলজিহ্বা, আলুলায়িত কুন্তলা, মুন্ডমালিনী সেই রূপ দেখে শিব প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পালাতে গেলেন।
কিন্তু কোথায় যাবেন? তাঁকে আটকানোর জন্যে সতী ততক্ষণে দশমূর্তি ধারণ করে দশদিক আচ্ছন্ন করে ফেলেছেন— উত্তরে কালী, পূর্বে ছিন্নমস্তা, দক্ষিণে বগলা, পশ্চিমে ভুবনেশ্বরী, অগ্নিকোণে ধূমাবতী, নৈঋত কোণে ত্রিপুরসুন্দরী, বায়ুকোণে মাতঙ্গী ঈশানকোণে ষোড়শী, ঊর্ধ্বে তারা আর অধঃকোণে ভৈরবী।
সেই দৃশ্য দেখে শিব ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললেন।
তখন সতী বললেন, ‘আমি সৃষ্টিস্থিতিপ্রলয়কারিণী সূক্ষ্মা প্রকৃতি, তোমার বনিতা হবার জন্যেই গৌরবর্ণ ধারণ করেছিলাম। দশদিক্ষু মহাভীমা যা এতা দশমূর্তয়ঃ/ সর্বা মমৈব মা শম্ভো ভয়ং কুরু মহামতে— দশদিকে যে মহাভয়ংকরী দশমূর্তি দেখছ, সেসব আমারই মূর্তি। কাজেই হে শম্ভো, ভয় কোরো না।’
কিন্তু এই সমস্ত গল্প আর মন্ত্রের আড়ালে যে গভীর উপলব্ধির জায়গা আড়াল করা রয়েছে সেটা গুরুর সাহায্য ছাড়া বোঝা যায় না। তার প্রধান কারণ সাধারণ মানুষ অভেদদৃষ্টিতে দেখতে পারে না। তাদের কাছে কালী আর ধূমাবতী আলাদা। ত্রিপুরসুন্দরীর সঙ্গে ভৈরবীর বা কমলার সঙ্গে ছিন্নমস্তার অভেদজ্ঞান তাদের কল্পনারও অতীত। কেননা জন্মাবধি সে জেনে এসেছে যে দেব দেবী যক্ষ ভূত প্রেত মানুষ ইতর প্রাণী ইত্যাদি সকলেই আলাদা আলাদা।
সেইজন্যে প্রত্যেকেই নিজের নিজের প্রকৃতি এবং উদ্দেশ্য অনুসারে একটা বিশেষ ভাব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দেবতা রূপের এমনকী অপদেবতা রূপেরও পুজো করে। তন্ত্রশাস্ত্রে সেইসব উপাস্যদের শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে এবং বশীভূত করার উপায় যেমন আছে তেমনি বিতাড়ন করার পথও বলে দেওয়া আছে।
এঁদের মধ্যে যাঁরা নিম্নস্তরের তাঁরা উপাসকের দৈহিক কামনা বাসনা চরিতার্থ করায় সাহায্য করলেও তাকে ওপরের স্তরে নিয়ে যেতে পারেন না।
আর যাঁরা উচ্চস্তরের শক্তি তাঁরা উপাসককে ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ সবই প্রদান করেন। যাতে সাধকের মঙ্গল হয় তাঁরা তা-ই দেন।
এখানে একটা প্রশ্ন উঠতে পারে যে যদি সেই এক শক্তিই বিভিন্ন রূপ ধারণ করে থাকেন, তাহলে উচ্চশক্তি আর নিম্নশক্তি এই বিভেদটা কেন?
এই বিভেদের মূল কারণ সাধারণ মানুষ এই অভেদ বুঝতে পারে না। তাত্ত্বিকভাবে বুঝলেও সত্যিকারের উপলব্ধিটা সাধনা এবং গুরুকৃপা ছাড়া হয় না। ঠিক যেরকম একজন অভিনেতাই কখনো অপু, কখনো-বা ফেলু মিত্তির, কখনো-বা উদয়ন পন্ডিত আবার কখনো-বা ময়ূরবাহন, এই দেবদেবীরাও ঠিক সেরকম। বস্তুত যে কারণে ময়ূরবাহন এবং ফেলু মিত্তির আলাদা, সেই কারণেই নারদপঞ্চরাত্রের ত্রিপুরসুন্দরীদেবী এবং ভূতডামরতন্ত্রের সুরসুন্দরীদেবী আলাদা।
দশজন মহাবিদ্যার ধ্যানমন্ত্রে বর্ণিত যে রূপ দেখে আমরা অভ্যস্ত, তার অর্থ কিন্তু আগমশাস্ত্র আর যুক্তিতর্কের বিষয় নয়। সাধক নিজে তার যে ব্যাখ্যা দেবেন, সেই ব্যাখ্যাই ঠিক, কেননা তাঁর কাছে এই মূর্তি একইসঙ্গে বাস্তব এবং প্রতীক। সাধকের নিজস্ব ভাব অনুযায়ী যে মূর্তিতে তিনি প্রতিভাত হয়েছেন, সাধক ধ্যানমন্ত্রে সেই রূপেরই বর্ণনা দিয়েছেন। অন্যেরা তার যে ব্যাখ্যাই করুন না কেন তাতে কিছু যায় আসে না। একটা উদাহরণ দিলে হয়তো বুঝতে সুবিধে হবে।
তাঁকে যদি মাতৃভাবে দেখা যায়, তাহলে তিনি কমলার রূপে আবির্ভূতা হন। যদি গুরুভাব নিয়ে ডাকা যায়, তাহলে তিনি ভুবনেশ্বরীর রূপ নিয়ে আসেন। তেমনি আবার রাক্ষস বা দানবেরা যেমন ভাব নিয়ে তাঁর সম্মুখীন হয়েছিলেন, তিনিও তেমন ভাব নিয়েই তাদের দিকে এগিয়ে এসেছিলেন।
তবে কালী বা তারা বা ছিন্নমস্তার যে ভয়ংকরী রূপ, তা কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে। মূর্তিরহস্য এবং রূপকের আড়ালে গুপ্ততত্ত্ব যিনি জানেন, তাঁর কাছে এই মূর্তিই আনন্দময়ী জননীর রূপ।
যেমন, কালী মুণ্ডমালিনী। ধর্মসংস্কার করার জন্যে যে সমস্ত দানবকে তিনি বধ করেছেন তাদের মুণ্ডই তিনি মালা করে পড়েছেন। মজা হল, দানবেরাও তো দেবীরই রূপবিশেষ। কাজেই তারা যখন দেবীর হাতে নিহত হল, তখন তারা যেন নিজেদের স্বরূপ জেনে সেখানেই স্থিত হল। কাজেই মুণ্ডমালা ভয়ের দ্যোতক নয়, বরং এই রূপকের আড়ালে লুকোনো তত্ত্বটা হল যে অহং-এর ধ্বংস হলেই আত্মস্বরূপ জানা যাবে।
শক্তির এই যে দশরকম রূপ তার প্রত্যেকটার আড়ালেই কিন্তু রূপক লুকিয়ে আছে। যেমন, দশমহাবিদ্যার আবির্ভাবের যে কাহিনিটা বলা হল তাতে রয়েছে যে পলায়নপর শিবকে আটকানোর জন্যে দেবী ক্ষণমধ্যে দশরূপ ধারণ করে দশদিকে অবস্থান করতে থাকলেন— ক্ষণমাত্রমধ্যতঃ স্থিতা চ ভূত্বা দশমূর্তয়স্তদা।
তেমনি আবার অন্য জায়গায় বলা হচ্ছে যে প্রত্যেক দেবীর নির্দিষ্ট আবির্ভাবকাল রয়েছে। তাকে পরিভাষায় বলা হচ্ছে রাত্রি। প্রত্যেক আবির্ভাবরাত্রির বিশেষ নামও আছে। যেমন কৃষ্ণজন্মাষ্টমীর রাত্রি হল মাতঙ্গীর আবির্ভাবকাল। তার নাম মোহরাত্রি। চৈত্রমাসের শুক্লা নবমী হল তারার আবির্ভাবকাল, ক্রোধরাত্রি। আবার চৈত্রমাসেই যদি অষ্টমী তিথিতে সংক্রান্তি পড়ে যায় তখন সেটা হবে, সিদ্ধরাত্রি, ভুবনেশ্বরীর আবির্ভাবকাল।
মুশকিল হল যদি ক্ষণমধ্যে তিনি দশরূপ ধরে দশদিক আচ্ছন্ন করেন, তাহলে তো ওই বিভিন্ন আবির্ভাবরাত্রির তত্ত্ব ধোপে টেকে না। অথচ তন্ত্রের মতে দুইই সত্য। এর এই রূপকের আড়ালে বিভিন্ন তত্ত্ব লুকিয়ে রয়েছে। যখন তাঁকে কালের সীমার মধ্যে থেকে দেখছি, তখন তিনি বিভিন্ন মাসের বিভিন্ন তিথিতে আবির্ভূত হচ্ছেন। কিন্তু যখনই সাধক কালের সীমা পেরিয়ে গেলেন, তখনই তিনি বুঝতে পারলেন আসলে সবই ক্ষণমাত্র।
এ ছাড়াও এই আবির্ভাবকালের মধ্যে প্রত্যেক দেবীর জন্যে নির্দিষ্ট এক অতি গূঢ় সাধনপ্রণালী বলা হয়েছে। একমাত্র নিষ্ঠাবান সাধকই কেবল এর মর্ম বুঝতে পারবেন। অথবা, গুরু যদি কাউকে বুঝিয়ে দেন, তাহলে তিনি বুঝবেন।
যাই হোক, এই রূপক যতটা বুঝেছি ততটুকুই গল্পের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। তবে খুব বেশি স্পষ্ট করা যায়নি, নিষেধ আছে— আপন সাধনকথা না কইও যথা তথা। তবে এই গল্পগুলো একটাও আমার লেখা নয়।
২০০৮ সালে ‘নাস্তিক’ দিয়ে শুরু আর ২০১৯ সালে শেষ লেখা ‘বিকরালক’।
এই যে প্রায় এগারো বছরের ব্যবধান এর মধ্যে যেমন অভিজ্ঞতা বেড়েছে তেমনই নতুন কোনো উপলব্ধি এসেছে। আর তার ওপরে ভর রেখে প্রায় নিজে নিজেই তৈরি হয়েছে গল্পগুলো। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে দিয়ে তারা আমার চোখের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কল্পনা নয়, বাস্তব দেখা এবং বাস্তব শোনার অভিজ্ঞতাই হয়েছে। এরপর কেবল কম্পিউটারের কী-বোর্ডে আঙুল রাখা। কোথাও তার ওপরে সামান্য কিছুটা প্রলেপ দেবার চেষ্টা করেছি যেমন ‘অবগাহন’ বা ‘নাস্তিক’। আবার কোনো কাহিনির কাঠামোটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ, যেমন ‘শব্দ’ আর ‘বিকরালক’।
‘নাস্তিক’ প্রকাশিত হয়েছিল পাক্ষিক ‘দেশ’ পত্রিকাতে। পড়ার পরে শ্রদ্ধেয় তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ফোন করে বহুল প্রশংসা করেছিলেন। সেটা এক বড়ো প্রাপ্তি। তারপরেই আমার আবাল্য বন্ধু ত্রিদিব বুদ্ধি দিয়েছিল শুধু একজন নয়, বাকি ন-জন দেবীকে নিয়েও একের পর এক লিখে যেতে। বস্তুত দশমহাবিদ্যাদের নিয়ে যে একটা সিরিজ করা যেতে পারে সেই বুদ্ধিটা ওরই।
শুধু বুদ্ধি দেওয়া নয়, আমার প্রতিটি গল্পের প্রথম পাঠক হিসেবে ও যা যা মতামত দিয়েছে সেগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে গল্পের পরিমার্জন করেছি। তারপরে পড়তে দিয়েছি আরও তিনজনকে।
প্রথমজন আমার স্ত্রী শর্মিষ্ঠা। অধ্যাপনা করার জন্যেই সম্ভবত তথ্যগত কোনো খুঁতই ওর চোখ এড়াতে পারে না। ফলে সেইদিক দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পেরেছি।
পরের দু-জন আমার ছেলে আর মেয়ে তিষ্য আর টুকু। দু-জনেই প্রত্যেকটা গল্প পড়েছে এবং বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে। সেইসব মতামত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেনে নিয়েছি। আর, ‘বীররাত্রি’ গল্পের প্লট তো পুরোটাই টুকুর কাছ থেকে পাওয়া।
‘নাস্তিক’ ছাড়া আরও পাঁচটা গল্প প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন পত্রিকায়। তারপরেও যে চারটে বাকি ছিল, সেগুলোকে সোনাল দাস জোর করে লিখিয়ে না নিলে হয়তো আরও দেরি হত। কাজেই সেই চারটে গল্পের সমস্ত দায়িত্ব সোনালের।
যে গল্পগুলো ইতিমধ্যেই প্রকাশিত সেগুলো বহু পাঠক পড়েছেন এবং তাঁদের প্রশংসাই পেয়ে এসেছি। অপ্রকাশিত গল্পগুলোও যারা যারা পড়েছে, যদিও তাদের সংখ্যা হাতে গোনা, তবু প্রত্যেকেই তাদের ভালো-লাগা জানিয়েছে।
কিন্তু তার জন্যে আত্মশ্লাঘার কোনো জায়গা নেই। একটা গল্পতেও, যে দেবীর উদ্দেশে নিবেদিত, সেই দেবীর সামান্যতম মহিমাও আমি ফোটাতে পারিনি। পারা সম্ভবও নয়। কেননা,
‘বদামস্তে কিংবা জননি বয়মুচ্চৈর্জড়ধিয়ঃ ন ধাতা নাপীশো হরিরপি ন তে বেত্তি পরমং—
(হে জননি! তোমার পরম তত্ত্ব ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরও জানতে পারেন না, তো আমার মতো তুচ্ছ জড়বুদ্ধি মানুষ কি বুঝবে?) —-বিখ্যাত কর্পুরাদি স্তোত্রে মহাকাল বলছেন—
‘তবুও হে অসিতে! তোমার প্রতি ভক্তিই আমাকে স্তুতিমুখর করে তুলেছে। আমার এই অপরাধ ক্ষমা করো। অজ্ঞান পশুর ওপরে রাগ করা তোমার শোভা পায় না।’
এইটুকুই আমার ভরসা, যে, হে পাঠক, আমার ভুলভ্রান্তি এবং অপাঠ্য লেখনীজনিত ত্রুটিও আপনি ক্ষমাসুন্দর চোখেই দেখবেন। কেননা, আপনি তো স্বরূপত সেই দেবী এবং সেইজন্যেই আমার মতো অজ্ঞান পশুর ওপরে রোষ আপনার যোগ্য নয়।
সৌমিত্র বিশ্বাস



প্রীতম বসুর ‘প্রাণনাথ হইও তুমি’ বইটি আপলোড করার অনুরোধ রইল।
Please upload ডঃ ডেথ written by Sayantani Putatunda
please upload Heruk 2
Please somebody explain to me why we called “ধুমাবতী” as a devi???
যখন উনি মানুষের এত ক্ষতি করে, অশুভ একটা জিনিস তাহলে ওকে দেবী কেন বলা হয়েছে ??