ঝাল লজেন – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
ঝাল লজেন’— আশি ও নব্বই দশকের সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতিকথা। এখানে ধরা রইল সেই সময়ের মফস্সল জীবনের গল্প। তার ফ্রিজ, টিভি আর অ্যান্টেনার মহার্ঘতা। সেই সময়ের পুজো, নেমন্তন্ন বাড়ি, পাড়ার জলসা আর খেলাধুলোর উন্মাদনা। ধরা রইল সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের কলকাতার স্মৃতিও। সেই কলকাতার ট্রাম, ট্রেন, রেস্তোরাঁ আর রাস্তাঘাটের জলছবি। ধরা রইল সেই শহরের ঋতু পরিবর্তনের চিত্র, কলেজ স্ট্রিটের আলো ছায়াময় পথের গল্প! আর ধরা রইল সেই পৃথিবীর স্কুল কলেজের কথা! প্রেম-ভালবাসার কাহিনি! কেমন ছিল সেই প্রেম! সেই প্রেমপত্র আর মনখারাপের বিকেলগুলো! ঝাল লজেন গেঁথে রাখল তাদের গল্পও! এ ছাড়াও ঝাল লজেনের মধ্যে বেঁচে রইল হারিয়ে যাওয়া সেইসব মানুষেরাও যারা সহজ জীবনের কথা বলতেন। যারা অনাড়ম্বরের মধ্যেও বেঁচে থাকার আনন্দ জানতেন।
.
প্রথম সংস্করণ এপ্রিল 2024
.
যারা পুরনো ভাঙা পেন ফেলতে পারে না। ক্লাস টু-তে নীল রঙের হারানো একপাটি মোজার শোকে আজও কাতর হয়। যারা ছোটবেলার ডনাল্ড ডাক আঁকা টিফিনবক্সের ঢাকনা জমিয়ে রাখে। সবার থেকে লুকিয়ে রাখে কাচের গুলির সেই গুপ্তধন। যারা স্কুলে প্রাইজ় পাওয়া নিকেল করা মেডেল রেখে দেয় যত্ন করে। রেখে দেয় ছিঁড়ে যাওয়া প্রথম পড়ার বই। রঙচটা ডায়রির ভাঁজে গোপন সুগন্ধী কাগজের চিঠি, খাম। জমিয়ে রাখে বাসের টিকিট, ট্রামের টিকিট। সেই ‘তার’ দেওয়া লজেন্স আর চকোলেটের র্যাপার। বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রথম ঘড়ি। ভুল করে ফেলে যাওয়া চুলের ক্লিপ। মায়ের কাঠের বাক্সে খুঁজে পাওয়া ছোট্ট সোনালি সেফটিপিন। ক্ষয়ে যাওয়া গন্ধ রাবার। আর শত চেষ্টা করেও যারা আজও ভুলতে পারে না সেই ফোন নাম্বার!
তাদের
“Most of our childhood is stored not in photos, but in certain biscuits, lights of day, smells, texture of carpet.” -Alain de Botton






Leave a Reply