• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

লাইব্রেরি » প্রমথনাথ মল্লিক » কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক
কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) - প্রমথনাথ মল্লিক
লেখক: প্রমথনাথ মল্লিকবইয়ের ধরন: ইতিহাস ও সংস্কৃতি

কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

রায়বাহাদুর
শ্রীপ্রমথনাথ মল্লিক, এম্, আর, এ, এস,
ভারত-বাণীভূষণ কর্ত্তৃক প্রণীত

প্রথম প্রকাশ – ১৯৩১

KOLIKATAR KATHA
History of the City of Kolkata
by Pramathanath Mallick

. 

H. E. Lord Lytton said at the Government House Durbar :—

“It gives me great pleasure to hand to you the Sanad of your title. You have taken much interest in public affairs and your connection with various educational institutions and your unostentations charity show that you appreciate your responsibility as a citizen of Calcutta and as representative of an ancient family.”

“Am desired by His Excellency to congratulate you on title conferred on you.”

Darjeeling 2 June, 22 Private Secretary, Governor, Bengal.

“Hearty congratulation.” (Maharajadhiraj) Burdwan.

 Darjeeling 5 June, 22.

“রায়বাহাদুর ভায়া, সম্মান ও উপাধি বর্ষণে আপনার শ্লাঘা বাড়িবে না জানি, বরং সম্মানই সম্মানিত হইবে৷ সাহিত্যসেবায় দেশসেবায় প্রাণপাত করিয়া ধন্য হইয়াছি রাজা তাহা জানিলেন ও বলিলেন ইহাই পরম সুখ৷ দীর্ঘজীবি হইয়া অকুতোভয়ে দেশ জননী ও ভাষা জননীর সেবা করুন, ইহা অপেক্ষা শুভইচ্ছা জানিনা৷ (সার) শ্রীদেবপ্রসাদ সর্ব্বাধিকারী৷ (3-6-22)

My dear Rai Bahadur,

So shall I address you and later on I am sure higher honorific titles will be bestowed on you. When I read in the papers I could not make out if it was you, for indeed you deserved to start with higher honours. My hearty congratulations to you.

With kind regards, Yours Sincerely, (Raja) Kisory Lal Goswami,

7-6-1922

“Your name in the honours’ list is a very agreeable and welcome surprise in force of expression and independence of thought. You have distinguished yourself in public life regardless of frowns and favours of powers that be. You are an ornament of our Country and a chif of the old block. You do not care for any distinction but it has come unasked and unsought. You deserve it and much higher honours admire you, love you and esteem you as a valued friend and coadjutor and considence a pride to be associated with you.”

 (Rai Bahadur) Radha Charan Pal,

 3-6-22

My congratulations for the Bharatbani Bhusan title conferred on you by Pandits.

 Maharajah Benares.

শ্রীরামচন্দ্রায় নমঃ

শ্রীপ্রমথনাথ মল্লিকস্য স্বর্ণবণিজঃ মহাভারতে সশ্রদ্ধং মহাপরিশ্রমং বহুকাল প্রবৃত্তং তৎপ্রযুক্তং ভগবতি শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রে পরমাত্মনি সানুরাগং পক্ষপাতং চাবলোক্য করালকলিকালসময়েঽপি যৌবনং ধনসম্পত্তিরিত্যাদ্যনর্থকারিণাং লব্ধাবসরত্বেঽপি শ্রীমৎকুমার হৃদয়োদ্ভাসিত তাদৃশ সৎপ্রবৃতি দর্শন সঞ্জীত হৃদয়সন্তোষোঽস্মৈ সচ্চরিত্রায় “ভারতবাণীভূষণ” ইত্যুপাধিং বিতরামি অনেন চোপাধিনা যুক্তোঽয়ং চিরং জীব্যাদিতি শিবং৷ সঃ ১৯৬৭

(মহামহোপাধ্যায়) শিবকুমার শর্ম্মমিশ্রঃ, চন্দ্রভূষণ শর্ম্মা প্রিংস্পল হিন্দুকলেজ, অনন্তরাম শর্ম্মা, প্রভূদত্ত শর্ম্মাগ্নিহোত্রী, শ্রীরামভর্ত্তা চৌবেদী৷

Maharaja Bahadur Sir Joteendro Mohan Tagore, K.C.S.I. wrote :— “I offer you my best congratulations and good wishes for your sucecss in the literary world.” 24. 3. 1899.

Raja Peary Mohan Mookerji C.S.I. wrote :—

“Allow me to congratulate you on the excellence of the collection of poems. The simple and easy flow of verse and the choice of words made the reading of the little pieces delightful.” 5.5.1901.

Saroda Charan Mitra, Late Judge, Cal. High Court wrote:—

“I seldom relish Bengali poetry as my misfortune has been to come generally across doggerrels and translations. But I am glad to say that some of your pieces evinced real poetry (রসাত্মকং বাক্যং)”. 26. 6. 1902.

Mr. R.C. Dutt C.I.E wrote:—

“জয়েতি দেবা শ্চ মূদা তা মূচুঃ সিংহবাহিনীং, তুষ্টুবু র্মূনয় শ্চৈনাং ভক্তি-নম্রাত্ম-মূর্ত্তয়ঃ৷” ২য় অধ্যায়৷ ১০৯৷

“যা চ স্মৃতা তৎক্ষণ মেব হন্তি নস্ সর্ব্বাপদো ভক্তিবিনম্রমূৰ্ত্তিভিঃ”

‘মার্কণ্ডেয় চণ্ডীতে যে দেবশক্তির আবির্ভাব অসুর বিনাশ করিবার জন্য দেবী শ্রীশ্রী ৺সিংহবাহিনীতে স্ফূর্ত্ত হইয়াছিল, যাঁহার পূজায় পুষ্পভূতির বংশধরগণ স্থানীশ্বর কনৌজ ও ভারতের সাম্রাজ্য লাভ করিয়াছিল, বর্ত্তমানে যিনি সেই বংশধর মল্লিকবংশে বিরাজমানা ও সম্পূজিতা, যাঁহার কৃপায় দুঃখ দারিদ্র্য দূর হয় তাঁহারই শ্রীচরণকমলে আন্তরিক ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি স্বরূপ এই পরিশ্রমের ধন ৺শারদীয় পূজার সময় উৎসর্গীকৃত হইল৷

 সাষ্ঠাঙ্গাবনত সেবক মল্লিক শ্রীপ্রমথনাথ৷

“I have no doubt, your book will have value in the eyes of all real students of history.” 2.3.1903.

Sir James Mackay (Now, Lord Inchcape) wrote:—

“The History of the Vaisyas of Bengal, dedicated to your late father my old friend for whom I had high regard and esteem. I am very grateful to you for thinking of me.” 7.3.1903.

Dr. Sir Goorudas Benerji Kt. (Late Judge Cal. High Court) wrote:—

“The spirit of historical research which History of the Vaisyas of Bengal evinces is admirable. By writing this book, you have not only done valuable service to your community, but you have made a useful contribution to our historical literature. You have already given fair earnest of good works in literary fields. 23.3.03.

Sir Chander Madhab Ghosh Kt. Late offg. Chief Justice Cal. High Court, wrote:—

“I have perused your book entitled “History of the Vaisyas of Bengal” which you have been so good as to present to me, with great interest and much pleasure. It seems to me that there are good grounds to believe that the Subarnabaniks of Bengal were at one time Vaisyas, but degenerated into the status of Sudras. You have deserved well of your caste people in bringing to light their true origin.” 10.4.03.

Viscount Dillon, President, Society of Antequarians of London wrote:—

“I am always interested in the history of our loyal fellow subjects in those parts, as I spent 3 years in India long ago. I am reading your work with great pleasure.” 16.4.03.

Maharajah Durga Charan Law C.I.E. wrote :—

“I must say that instead of spending your time thoughtlessly like many other men you have taken to literary pursuits is very commendable. I only wish your good father was living. I am sure he and I would have passed a pleasant time in talking of your valued propensities.”

.

ভূমিকা

কিছু দিন হইল একখানি মাসিক পত্রিকায় কলিকাতার কথা বাহির হইয়াছিল৷ পরমশ্রদ্ধাস্পদ আচার্য্য সার প্রফুল্লচন্দ্র প্রমুখ ব্যক্তিগণ উহা গ্রন্থাকারে প্রকাশ করিবার জন্য অনুরোধ করেন৷ তাঁহাদের সহানুভূতি ও উৎসাহদান কৃতজ্ঞতার সহিত স্বীকার করিয়া উহা গ্রন্থাকারে সম্পূর্ণ নূতন আকারে পরিবর্ত্তিত করা হইল৷

গ্রন্থের পরিচয় উহার নামেই হইয়া থাকে, তবে পাঠকবর্গ গ্রন্থকর্ত্তার মুখে তৎসম্বন্ধে সংক্ষেপে কিঞ্চিৎ অবগত হইয়া উহা পাঠ করেন৷ বর্ত্তমান সময়ে নাটক নভেলের পাঠক সর্ব্বাপেক্ষা অধিক, কিন্তু অনেক সময় বিষয়ান্তর আনন্দদায়ক হয়, তজ্জন্য বর্ত্তমানের সহিত প্রাচীন ঘটনা সকলের যে কিছু সম্বন্ধ আছে, উহা অতি পরিশ্রম ও যত্ন সহকারে দেখান হইয়াছে; যাহাতে দেশের ও দশের দুরবস্থা ও দুঃখ দারিদ্র্য দূর হয়, উহাই এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য৷

কলিকাতা ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির রাজত্ব লাভের রঙ্গালয় বলিলে অত্যুক্তি হয় না৷ ভারতবর্ষে হিন্দু, মুসলমান, মার্হাটা পিণ্ডারি শিখ প্রভৃতি সকলেই পরস্পরে বিবাদ বিসম্বাদ করিয়া ইউরোপের বিদেশী বণিকগণের ব্যবসা বাণিজ্য হইতে রাজত্ব ও দেশাধিকার করিবার পথ সরল ও সুগম করিয়াছিল৷ সৃষ্টির প্রথম অঙ্কে আদ্যাশক্তি যেরূপ অসুর নাশ করিয়া দেবতাগণের হৃতরাজ্য উদ্ধার করিয়া দিয়াছিলেন, পুরাণাদিতে উহার বিবরণ আছে, সেইরূপ ঘোর কলিযুগের প্রারম্ভে হিন্দু রাজাগণের মধ্যে ঘোরতর প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধ ও বিবাদের কথা মহাভারতে উক্ত রহিয়াছে৷ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির কর্ম্মচারিগণের দোষগুণ বিচার বিলাতের পার্লিয়ামেন্টেই হইয়াছিল৷ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির দোষগুণ বিচার করিয়া উহাদের উচ্ছেদ ও তৎস্থলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য স্থাপনের সূত্রপাত কেমন করিয়া হইয়াছিল, উহার বৃত্তান্ত ইতিহাস, কোম্পানির মূল কাগজপত্রে ও সাময়িক ঘটনা পর্য্যালোচনা পূর্ব্বক উল্লেখ করা হইল৷ আদিকাণ্ডে ইউরোপের ব্যবসায়িগণ কি কৌশলে এদেশের সম্রাট মন্ত্রী ও কর্ম্মচারিগণকে বশীভূত করিয়া ব্যবসা করিবার সর্ত্ত লাভ করে, কেমন করিয়া দেশের ব্যবসায়িগণের সহায়তায় এদেশে ব্যবসা আরম্ভ করে ক্রমে একাধিকার ব্যবসাদি দ্বারা তাহাদিগকে দুগ্ধের মক্ষিকার ন্যায় দূরে ফেলিয়া দেশের ব্যবসাধিকার করে ও শেষে রাজত্ব পর্য্যন্ত লাভ করে; এই কথা দেওয়ানি লাভেই সূত্রপাত হয়৷ সেই দেওয়ানি লাভের কথা পর্য্যন্ত আদিকাণ্ডে বিবৃত হইয়াছে৷ কোম্পানির শেষ গবর্ণরের কথায় শেষ হইয়াছে ও পরবর্ত্তী কাণ্ড, ১ম গবর্ণর জেনারেলের কথায় আরম্ভ হইবে৷ তিমিরাচ্ছন্ন কলিকাতা কেমন করিয়া প্রকাণ্ড ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের যাবতীয় সমৃদ্ধিশালী নগরের মধ্যে দ্বিতীয়স্থান অধিকার করিল উহার রহস্যভেদ করা এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য—কলির সহিত যে কলিকাতার ঘনিষ্ট সম্বন্ধ ছিল, উহার সূত্র নির্দ্ধারণ করা নূতনত্ব না হইলেও, উহার গায়িত্রী উল্লেখ করা আবশ্যক “তোর কড়ি বুদ্ধি ফলার করি আয়৷” উহা প্রবাদ বাক্যে পরিণত হইলেও উহা উদাহরণদ্বারা হৃদয়ঙ্গম হওয়া উচিত৷ কলিকাতার নাম ও প্রতিপত্তি প্রাচীন হিন্দু রাজত্বে ছিল না, উহার সূত্রপাতে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির শুভাগমনে ও ব্যবসায় হইয়াছিল৷ সেই অপূর্ব্ব ব্যবসার ইতিহাস ত্রিকালদর্শী আর্য্যমুনি ঋষিগণের অজ্ঞাত ছিল, কারণ তাঁহারা সেকথা কোন পুরাণাদিতে উল্লেখ করেন নাই৷ মহাত্মা ব্যাস মহাভারতে যে সকল চিত্র অঙ্কিত করিয়া অমর হইয়াছেন, সে সকল উদাহরণকে যেন ক্লাইব, ওয়ারেণ হেষ্টিংস, সিরাজউদ্দৌলা, মীরজাফর, উমিচাঁদ, নন্দকুমার প্রভৃতি কালের মহিমা অতিক্রম করিয়াছে৷ আধুনিক বা সেকালের কবি বা ঐতিহাসিকগণের উক্তির সহিত ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির প্রকাশিত কাগজপত্র ও তাহাদের উচ্চ কর্ম্মচারিগণের বিলাতের পার্লিয়ামেণ্ট সভায় বিচারাদিতে প্রকাশিত সত্য প্রচার করা এই গ্রন্থের গৌণ লক্ষ্য৷

মহাত্মা ব্যাসের মহাভারতে যাহা নাই, উহা কোথাও নাই, এই কথাই চলিয়া আসিতেছে; কিন্তু কলিকাতায় যে সকল ঘটনা ও ভবিষ্যৎ রাজত্ব ভিত্তি স্থাপনের কথা নূতন৷ কোন শাস্ত্রে বা জ্যোতিষে কোথাও কেহ কলিকাতা ও উহার ভবিষ্যত উন্নতির কথা বলিয়া যান নাই৷ ইহাতে যুধিষ্ঠিরাদির ন্যায় উচ্চাদর্শ নাই, তবে ইহাতে অতীতের পঙ্কের সার দিয়া বর্ত্তমান ও ভবিষ্যৎ মানব চরিত্র ও জাতীয় জীবন উজ্জ্বল করা উচিত৷ কবিরা তাঁহার কাব্যে বাঙ্গালী জাতির প্রতি যে অন্যায়াচরণ বা ইতিহাস ও নীতিবিরুদ্ধ যে চিত্র আঁকিয়া রাখিয়া গিয়াছেন, উহার যথাসাধ্য সমালোচনা ও যতটুকু যেখানে যাহা বাদ পড়িয়াছে তাহা দশের ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্ত্তব্যানুরোধে উহার সংস্করণ করা হইয়াছে৷ বিলাতে সাধারণ রাজকীয় পরিষদে সেকালের ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির সর্ব্বেসর্ব্বা কর্ত্তৃপক্ষগণের ও তাঁহাদের উচ্চ কর্ম্মচারী বা তদনুচরগণের ক্রিয়াকলাপ দেখিয়া কর্ত্তব্যপরায়ণ ইংরাজ জাতির বার্ক প্রমুখ সুপ্রসিদ্ধ মনীষিগণ তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করিয়া আপনাদিগকে গৌরবান্বিত মনে করিয়াছিলেন, সেইরূপ সেকালের বাঙ্গালী জাতির কথায় সমালোচনা করায় কাহারও কোন অসন্তোষ প্রকাশ করিবার কিছুই নাই৷ ইসপের গল্পে পনীরভাগপ্রার্থী বিড়ালের ক্ষুধা নিবৃত্তি না হইয়া যেরূপ কেবল ন্যায় সুবিচারই লাভ হইয়াছিল, সেইরূপ ভারতবর্ষে অন্তর্বিবাদে দেশের লোকের সহায়তায় ও আহ্বানে বিদেশী মুসলমান রাজত্ব স্থাপন ও উহার পরিবর্ত্তন হইয়াছিল৷ দেশের ধন রত্ন বিদেশীর হইয়াছিল, দেশের লোক ক্রমে ক্রমে দরিদ্র হইয়া পড়িতেছিল৷ লোভের ও হিংসার বশবর্ত্তী হইয়া যাহারা সেই সকল বিদেশীর সহায়তা করিয়া রাজ্য জমিদারী লাভ করিতেছিল, তাহারা স্ব স্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশের ও দশের মঙ্গলের প্রতি দৃষ্টিপাত না করিয়া দেশে দুঃখ দারিদ্র্যের কারণ স্বরূপ হইয়াছিলেন৷ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির শাসন সংস্কার ও সুব্যবস্থার জন্য বর্ত্তমান ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শাসনকর্ত্তারা স্বহস্তে রাজ্যভার গ্রহণ করিয়াছেন ও অতি ধীরে ধীরে অগ্রসর হইতেছেন; উহার সমালোচনার যোগ্য সময় এখনও হয় নাই ও উহা এ গ্রন্থের উদ্দেশ্য নয়৷

যাহাই হউক সকল যুগ অপেক্ষা কলিকালে উদ্ধারের পথ সুগম, উহাতেই জগাই মাধাই যেমন পাপিষ্ঠ ছিল তেমনি শ্রীমন্নিত্যানন্দের সংস্পর্শে পরম ভক্ত হইয়াছিল৷ বিল্বমঙ্গলের বেশ্যার প্রেমাসক্তিতেই ভগবদ্ প্রেম লাভ হইয়াছিল, তুলসীদাসের স্ত্রীর গঞ্জনায় শ্রীরামচন্দ্রের দর্শন লাভ হইয়াছিল; ঐকান্তিক আসক্তি ও উহার নিবৃত্তি হইলেই মুক্তি হয়৷ নরকের ভীষণ চিত্রের মধ্যে শিক্ষা করিবার অনেক আছে৷ মহাত্মা ব্যাস অজাতশত্রু যুধিষ্ঠিরকে সশরীরে স্বর্গে লইয়া যাইবার পূর্ব্বে নরক দর্শন করাইয়াছিলেন৷ নরক দর্শন না করিলে স্বর্গের সুষমা ও সুখানুভব করা যায় না৷ আশা বৈতরণী নদী ভোগের আকাঙ্ক্ষায় লোক মায়ার আবর্ত্তে মগ্ন হইয়া যায়, কিন্তু যখন প্রবৃত্তির নিবৃত্তি হয়, তখনই স্বর্গের কূলে উপনীত হয়৷ শাস্ত্রকারেরা বলেন যে সন্তানই মানুষকে নরক হইতে উদ্ধার করে৷ ইহার অর্থ এই যে, সন্তান না হইলে স্বর্গীয় ভগবদ্‌ নিঃস্বার্থ ভালবাসা, স্নেহ, মমতা ও প্রেম যে কি বস্তু, উহা উপলব্ধি করিতে পারা যায় না; অর্থাৎ ইন্দ্রিয়চরিতার্থতার পরিণামেই সন্তান লাভ হয় বটে, কিন্তু তদ্ভিন্ন নিঃস্বার্থ বাৎসল্য আদি উপলব্ধি করিতে পারা যায় না৷ কলিকাতার কথায় ঘোর নরকের চিত্র সকল বর্ত্তমান। উহাতে বাঙ্গালী জাতির উপর কলির অত্যাচারে বা বিধিবিড়ম্বনায় তাহাদের যে গৌরব নষ্ট হইয়াছে উহা দূর করিবার চেষ্টা এই গ্রন্থের নূতনত্ব নয়৷ উন্নতিশীল বাঙ্গালী জাতির উহার প্রতি লক্ষ্য পড়িলেই শ্রম সার্থক হইবে৷ দ্যুতক্রীড়ার ব্যসন যেরূপ দুর্য্যোধন ও শকুনির কার্য্যে প্রতিফলিত হইয়াছিল, সেরূপ নলদময়ন্তীর কথায় হয় নাই৷ কালের করালচক্রে বাঙ্গালী জাতি ভারতের অন্য কোন জাতি অপেক্ষা কোনাংশে হীন না হইলেও সেকালে শিক্ষা ও গুণগ্রাহী ঐতিহাসিক কবির আবির্ভাবাভাবে পরাধীন ভীরু হইয়াছিল৷ সেই কলঙ্ক দূর করা গ্রন্থের মুখ্য উদ্দেশ্য না হইলেও গৌণ বটে৷ এই জন্য ঘটনাদির সহিত মানব চরিত্রের সমালোচনা আবশ্যক হইয়া পড়ে ও করা হইয়াছে, উহা কোথাও ব্যক্তিগত ভাবে করা উদ্দেশ্য নয়৷ দুর্য্যোধন বা শকুনির চিত্র লইয়া আর্য্যকুলের বিচার করা যায় না; তবে মহাত্মা ব্যাস ঐ সকল চরিত্রের সমাবেশ করিয়া যুধিষ্ঠিরাদির চিত্র উজ্জ্বল করিবার হীন চরিত্রের সহিত সাজাইয়াছিলেন৷ কবি ভরতচন্দ্র, অতি দুঃখের বিষয়, যে সকল চিত্র রাখিয়া গিয়াছেন তাহাতে তিনি আদিরসের শিরোমণি বলিয়া উল্লিখিত হইতে পারেন, কিন্তু তিনি যে বীরত্বের পক্ষপাতী ছিলেন না এ কথা বলিতে হইবে৷ তাঁহার অন্নদাতার অনুরোধ রক্ষা করিয়া তিনি অন্নদামঙ্গলের সৃষ্টি করিয়া বাঙ্গালীর সর্ব্বনাশ করিয়াছিলেন৷ কোন স্বদেশভক্ত বাঙ্গালী দেশদ্রোহী ভবানন্দকে মঙ্গলময়ী অন্নদার বরপুত্র বলিয়া গ্রহণ করিবেন না৷ কবি ঐ চিত্র আঁকিয়া বাঙ্গালীর আদর্শ করিয়া সেকালে অনেক বাঙ্গালীকে উহার অনুসরণ করাইয়া দেশের ও দশের সর্ব্বনাশ করিয়াছেন৷ হা নবীন চন্দ্র! তুমি তোমার পলাশির যুদ্ধে বাঙালীর চরিত্রে যে কলঙ্ক কালিমা দান করিয়াছ, উহা সেকালের ইতিহাসের সত্য চিত্রের বিরুদ্ধ৷ তুমি বাঙ্গালীকে কাপুরুষ সাজাইয়া বক্তিয়ার খিলজীকে দিয়া বাঙ্গালা অধিকার করাইয়াছ, অথচ মীরমদনের অমিত বিক্রমের কথাও উল্লেখ করিয়াছ৷ নিশ্চয়ই প্রতাপাদিত্য, কেদার রায় প্রমুখ বাঙ্গালী বীরগণের কথা অবগত ছিলে, কেন উল্লেখ কর নাই বা কবিতায় তাহাদের কীর্ত্তি ব্যক্ত কর নাই? মানবের রুচি ও মতি গতির পরিবর্ত্তন করিবার চেষ্টা করা স্বদেশ ভক্ত কবির প্রধান কর্ত্তব্য কর্ম্ম৷ সেকালে শিক্ষাভাবে, বোধ হয়, লোকের স্বদেশ ভক্তির অভাব ছিল উহাতেই আজ বাঙ্গালীর এত দুর্দ্দশা৷

শেষ কথা, আজকালের মত অধীত গ্রন্থের তালিকা দিয়া পরিশ্রমাদির আড়ম্বর করা যুক্তিসঙ্গত নয়, কারণ না পড়িয়া, ত’ আর কেহ গ্রন্থকর্ত্তা হয় না৷…যে যাহা লেখে সে সে সম্বন্ধে সমস্ত কথা অনুসন্ধান ও তথ্য অবগত হইয়াই লেখে, উহার সমালোচনা করিবার সময়ই ঐ সকল বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন লেখকের মত উল্লেখ করা ব্যবস্থা৷ যাহা কোন গ্রন্থকর্ত্তার মত বা কথা উহা উল্লেখ করা হইয়াছে৷ আর্য্য মুনি ঋষিদেরও ভ্রম আর্য প্রয়োগ আছে; সুতরাং যেই লেখে সেই ভোলে৷ যাহাই হউক দেশের ও দশের হিতকামনায় সংকল্প করিয়া কার্য্য করাই কর্ত্তব্য৷ লেখকের গুণ অপেক্ষা দোষই অধিক, সহৃদয় পাঠকগণ, আশা করি, মধুমক্ষিকার ন্যায় মধুই গ্রহণ করিবেন৷ মুদ্রাঙ্কন বিভ্রাট নূতন নয়, তবে অবসর ও উপযুক্ত সহায়তা অভাবে অনেক ভুল হইয়াছে৷ ভ্রম সংশোধন তালিকা দেওয়া অপেক্ষা কৃতবিদ্য পাঠকমণ্ডলীর উপর সেই ভারার্পণ করা হইল৷ ভ্রমপ্রমাদ ও ত্রুটী থাকাই সম্ভব তজ্জন্য মার্জ্জনা করা উচিত৷

বিনীত

শ্রী প্রমথনাথ মল্লিক
১২৯ নং কর্ণওয়ালিস স্ট্রীট
শ্যামবাজার, কলিকাতা

.

কিছু কথা

আমাদের প্রাণের শহর কলকাতা। এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইতিহাসের মোড়ক। গ্রাম কলকাতা থেকে শহর কলকাতা হয়ে ওঠার ইতিহাস নিয়ে প্রচুর চর্চা হয়েছে, হচ্ছে, আগামীতেও হবে। মূলত কলকাতার গড়ে ওঠার ইতিহাস জানতে আমাদের সাহায্য করে সে সময়কার ইংরেজ রাজকর্মচারীদের লেখা দিনলিপি, চিঠি এবং লিখে রাখা নিবন্ধ। অনেক রাজকর্মচারীর স্ত্রীরাও সেই সময়ের কলকাতা সমাজের ছবি এঁকে রেখে গেছেন তাঁদের লেখনীতে। যার মধ্যে শ্রীমতি ফ্যানী পার্কস-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া সে সময়কার ইউরোপীয় শিল্পীদের আঁকা ছবিগুলিতে প্রতিফলিত হয়েছে তৎকালীন কলকাতার নগরজীবনের ছবি, যেগুলো পরবর্তীতে কলকাতার স্থায়ী ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা নিয়েছে। টেলি কিটল, উইলিয়াম হজেস, জোহান জোফানি, টমাস ও উইলিয়াম ড্যানিয়েল, বালথাজার সলভিন্স-এর আঁকা চিত্রগুলো তো ইতিহাসেরই পরিপূরক। এছাড়া সে সময়ের পত্রিকাগুলোও ইতিহাস লিপিবদ্ধতার ক্ষেত্রে প্রধান সহায়ক।

বাংলায় পরবর্তীকালে প্রিয় শহর কলকাতাকে নিয়ে প্রচুর গবেষণামূলক বই লেখা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এই শহরটার নানা দিক উদ্ভাসিত হচ্ছে নতুন নতুন লেখায়, গবেষণায়। কিন্তু এই লেখাগুলো লিখতে গিয়ে যে আকরগ্রন্থের সহায়তা আমাদের নিতে হয় তার মধ্যে রায়বাহাদুর প্রমথনাথ মল্লিকের লেখা ‘কলিকাতার কথা’ বইটি অন্যতম। সাবেক কলকাতার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এই বইটিতে প্রথম লিপিবদ্ধ হয়। এই বইয়ের যে আলোচনা সেই সময়ের The Statesman পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, তার দুটি লাইন পড়লেই বোঝা যাবে এই গ্রন্থের মূল্য কত অপরিসীম।—The present volume represents the first attempt to write a systematic history of Calcutta in Bengali; স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এ বইয়ের প্রশংসা করে লিখেছেন—‘ ‘‘কলিকাতার কথা’’ পড়ে বিশেষ আনন্দ পেয়েছি। এই বইখানির মধ্যে কোম্পানির আমলের বাঙলার ইতিহাস বিবৃত হয়েছে—পড়তে উৎসুক বোধ হয়। এই বইখানির মধ্যে জ্ঞাতব্য বিষয় অনেক আছে।’

বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক ব্যক্তিত্ব যদুলাল মল্লিকের পুত্র প্রমথনাথ মল্লিকের জন্ম হয় ১৮৭৮ সালে। হিন্দু স্কুল ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে তিনি পড়াশুনো করেছেন। সংস্কৃত ও ইংরেজি এই দুই ভাষায় তাঁর অত্যন্ত গভীর জ্ঞান ছিল। ১৯০৩ সালে তিনি ‘সুবর্ণবণিক সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতা করপোরেশনের কমিশনার নিযুক্ত হন। ছিলেন পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সভ্যও। ১৯২১ সালে তিনি ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত হন। মহাভারতের ওপর তাঁর অসাধারণ গবেষণার জন্য নবদ্বীপের পণ্ডিত মহল তাঁকে ‘ভারতবাণীভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৪৩ সালে এই বাগ্মী মানুষটির প্রয়াণ হয়।

তাঁর রচিত মোট বারোটি গ্রন্থের একটি সূচী দেওয়া যেতে পারে—১) কলিকাতার কথা আদিকাণ্ড (১৯৩১); ২) কলিকাতার কথা মধ্যকাণ্ড (১৯৩৪); ৩) মহাভারত (১৯৩৫); ৪) মার্কণ্ডেয় চণ্ডী (১৯৩৭); ৫) দুটি কথা; ৬) দয়া; ৭) অবকাশ লহরী (১৯০১); ৮) 1894 or India’s Recovery (১৮৯৮); ৯) Origin of Caste (১৮৯৯); ১০) The Mahabharata as it was is and ever shall be (১৯৩৪); ১১) The Mahabharata as a History and a Drama (১৯৪৯); ১২) The history of the Vaisyas of Bengal (কৃতজ্ঞতা স্বীকার—ডঃ শম্ভুনাথ গঙ্গোপাধ্যায়)

প্রমথনাথ মল্লিকের ‘কলিকাতার কথা’ মূল বইটি দুটি খণ্ডে বিভক্ত আদিকাণ্ড ও মধ্যকাণ্ড। প্রথম পর্বে রয়েছে পনেরোটি পরিচ্ছেদ ও উপসংহার। কলকাতার নাম ও ইতিহাস থেকে শুরু করে ওয়ারেণ হেস্টিংস সহ প্রাচীন ব্যবসা বাণিজ্য এবং দ্বিতীয় খণ্ডটিতে আছে ষোলটি পরিচ্ছেদ। মূলত সেসময়ের ভারতীয় গভর্নর জেনারেলদের কার্যকাহিনি ও সে সময়কার সমাজ বিবর্তনের ছবি এতে ধরা আছে। কিন্তু বইটির মূল পরিচ্ছেদের বাইরে গিয়ে দুটি খণ্ডেই যে বিশেষ ক্রোড়পত্রগুলি সংযুক্ত হয়েছে তা এই বইটির ঐতিহাসিক মূল্যকে আরও বর্ধিত করেছে। মূল বইটি তো অবশ্যই একটি আকরগ্রন্থ। কিন্তু এই বইগুলির সঙ্গে ক্রোড়পত্রগুলি পড়লে বোঝা যায় যে শ্রদ্ধেয় প্রমথনাথ মল্লিক কতখানি পরিশ্রম করে সেযুগের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করেছেন। বইটির সঙ্গে যে ছবিগুলি ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলোও বইটিতে অন্যমাত্রা যুক্ত করেছে। রায়বাহাদুর প্রমথনাথ মল্লিকের লেখা এই গ্রন্থটি নবরূপে পত্রভারতী প্ৰকাশ করতে চলেছেন। এটি অত্যন্ত সুসংবাদ। এই ধরনের একটি মূল্যবান গ্রন্থ নতুনভাবে পাঠকদের হাতে তুলে দেওয়া একটি মহতী কাজ। যাঁরা কলকাতাকে ভালোবাসেন, যাঁদের নিঃশ্বাসের সঙ্গে এই শহরের ভালোবাসা সম্পৃক্ত এই বইটি তাঁদের কাছে একটি মূল্যবান উপহার।

চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়

Book Content

১. নাম ও ইতিহাস
২. কালধর্ম্ম ও পূর্ব্বস্মৃতি
৩. বঙ্গ বিজয়ের কারণ ও ফল
৪. ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ও তাহাদের উদ্যোগ
৫. হিন্দু মুসলমান ও ইংরাজ জাতির পরস্পর উন্নতির কারণের প্রভেদ ও তারতম্য
৬. কলিকাতায় জমিদারী ও ব্যবসা
৭. ঘটনা বৈচিত্র্যে মার্হাটা ও শিখের অভ্যুদয়
৮. নবাব আলিবর্দ্দি ও সিরাজউদ্দৌলা
৯. কলিকাতাধিকার ও নাম পরিবর্ত্তন
১০. সৌভাগ্যোদয়ের কারণানুসন্ধান
১১. পলাশী যুদ্ধের ফল
১২. লর্ড ক্লাইব
১৩. ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের কারণ
১৪. কোম্পানির বিচার কৌশল ও ছিয়াত্তর মন্বন্তর
১৫. গবর্ণর ওয়ারেণ হেষ্টিংস
১৬. প্রাচীন ব্যবসা বাণিজ্য
১৭. বাঙ্গালায় ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির প্রথম ব্যবসা

Reader Interactions

Comments

  1. Muhammad Tawhid yeasin

    January 27, 2026 at 12:36 pm

    অনেক ভালো বই

    Reply
  2. Muhammad Tawhid yeasin

    January 27, 2026 at 12:37 pm

    ভালো

    Reply

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.