• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

কলকাতা ’৪৬ : মৃত্যু উপত্যকা – সুজিত রায়

লাইব্রেরি » সুজিত রায় » কলকাতা ’৪৬ : মৃত্যু উপত্যকা – সুজিত রায়
কলকাতা ’৪৬
লেখক: সুজিত রায়বইয়ের ধরন: ইতিহাস ও সংস্কৃতি

কলকাতা ’৪৬ : মৃত্যু উপত্যকা – সুজিত রায়

প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২৫
প্রচ্ছদ : সপ্তদীপ দে সরকার

.

ডিসক্লেইমার

‘কলকাতা ’৪৬ মৃত্যু উপত্যকা’ সম্পূর্ণভাবে একটি অনুসন্ধানী গ্রন্থ। এই গ্রন্থের কেন্দ্রীয় চরিত্র হল একটি মর্মস্পর্শী অবাঞ্চিত ঘটনা— যা বাংলা তথা ভারতবর্ষের ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে সংযোজিত। এ গ্রন্থের তথ্যাদি ও আলোকচিত্র মনগড়া নয়, দেশীয় এবং বিদেশী ঐতিহাসিকদের গবেষণা, সমাজতত্ত্ববিদদের সমীক্ষা, সরকারি ও নির্ভরযোগ্য বেসরকারি তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতালব্ধ রচনা এবং বিভিন্ন বই সহ তৎকালীন সংবাদপত্র ও সংবাদপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথির সত্য ঘটনা ও তথ্য হল এই গ্রন্থের মূল উপাদান।

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো, বইটিতে ব্যবহৃত কিছু প্রাসঙ্গিক আলোকচিত্র ও তথ্য পাঠক বিশেষের কাছে অস্বস্তিকর লাগতে পারে। অতি সংবেদনশীল মানুষরা বইটি এড়িয়ে যেতে পারেন।

কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায়, ধর্ম, প্রতিষ্ঠান অথবা সংগঠনের অনুভূতিতে আঘাত বা কুৎসা করার উদ্দেশ্যে এই গ্রন্থ রচিত হয়নি। কোনো রাজনৈতিক মতামত প্ৰকাশ বা প্রচারের উদ্দেশ্যও এই অনুসন্ধানী গ্রন্থের লেখকের বা প্রকাশকের নেই। এই বই কোনো সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও লেখা হয়নি। মূল উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক দৃষ্টিতে প্রায় আশি বছরের ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা আরও একবার।

সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই লেখা আমার এই নতুন গ্রন্থ তুলে দিলাম আমার প্রিয় পাঠক- পাঠিকাদের হাতে যাঁরা বইটি পড়বেন, ভাববেন, বিশ্লেষণ করবেন, বিচার করবেন।

.

মুখভাষ্য

দাঙ্গা!

শব্দটির মূল অর্থ নিঃসন্দেহে আতঙ্ক। এবং, দাঙ্গার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হলে বোধ হয় এই শব্দটিকে ঘিরেই গড়ে উঠবে দাঙ্গার সংজ্ঞার নির্মাণ। কিন্তু, তবুও অনেকেই ‘দাঙ্গা’ শব্দটিকে অতিসরলীকরণ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন। বিশেষত তাঁরা যাঁরা বলেন, ‘দাঙ্গা’ হল একটি বিশাল জনতার (মনে রাখবেন জনগোষ্ঠী নয়) আচমকা স্বতঃস্ফূর্ত, উন্মত্ত এবং প্রমত্ত হিংসার বহিঃপ্রকাশ, যা সাময়িক এবং কখনোই দীর্ঘস্থায়ী নয়। মানবিক সভ্যতার উন্মেষের ক্ষণ থেকে যে মানুষ সমাজভুক্তির উপকরণ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, তারাই কিন্তু আজও দাঙ্গাকে এইভাবেই সরলরেখায় বিবৃত করবে। কিন্তু, বাস্তবটা সম্পূর্ণ অন্য। সমাজ-দার্শনিকদের মতে, দাঙ্গার উদ্যোক্তা দাঙ্গাবাজরা হলেন ‘Criminals, madmen, the offspring of madmen, alchoholics, the slime of society, deprived of all moral sense, given over to crime…’ (Rule 1988, p 95). অর্থাৎ, দাঙ্গা হল কিছু অপরাধী, উন্মত্ত এবং উন্মত্ত- বাহিনীর চ্যালাচামুণ্ডা, মদ্যসেবক নেশাগ্রস্ত, নীতিজ্ঞান বিসর্জিত অপরাধ জগতের কাছে বিকিয়ে যাওয়া কিছু মানুষের অমানবিক আচরণ।

কিন্তু, সমাজতত্ত্বের গভীরে গিয়ে দাঙ্গার এই স্বরূপ নিয়ে বিশ্লেষণ করলে বলতে হয়, দাঙ্গা তাহলে কিছু সামাজিক ময়লা বা Scum of the society-র অযৌক্তিক আচরণ; যাকে উপেক্ষা করাই ভালো, কারণ এই আচরণের পিছনে কোনো রাজনীতি, অর্থনীতি, জাতিতত্ত্ব বা ধর্মতত্ত্ব প্রগাঢ়ভাবে নিহিত থাকে না। কিন্তু, বাস্তবটা কি সত্যিই তাই? নাকি, ঠিক উলটোটাই? যেখানে দাঙ্গার স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গেলেই সামনে এসে দাঁড়ায় কোনো মানবিক চরিত্র নয়, কিছু সামাজিক উপকরণ যেগুলোকে সামাজিক দুশমন হিসেবে চিহ্নিত করাটাই শ্রেয়। সাম্প্রদায়িকতা তাদের মধ্যে অন্যতম।

সমাজতত্ত্ববিদদের বড়ো অংশই মনে করেন, দুই বা ততোধিক জাতি ও সম্প্রদায়ের সাময়িক প্রমত্ত হিংসামূলক আচরণের পিছনে নিঃশব্দে কাজ করে যায় অনেকগুলি উপাদান; যেমন— ধর্ম, জাতিচেতনা, অস্পৃশ্যতা, সাম্প্রদায়িক ভাবনার প্রসার, ক্ষমতার লোভ, নির্বিবেক রাজনীতি, অর্থনৈতিক পরাধীনতা, শিক্ষাগত আক্রোশ, চোখের সামনে সামাজিক উচ্চতা ও নীচতার ব্যবধানের প্রত্যক্ষ সীমারেখা ইত্যাদি। আর, এই সবক-টি উপাদানই ফুটে ওঠে একটি নির্দিষ্ট পরিপ্রেক্ষিতে, নির্দিষ্ট পটভূমিতে। তাই যেগুলিকে দাঙ্গার সাধারণ সূত্র বলে প্রাথমিক দৃষ্টিতে মনে হয়, সেগুলিই হারিয়ে যায়। ফলত, বলতে হয়, দাঙ্গার কোনো সাধারণ সূত্র হয় না বা হতে পারে না।

স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতবর্ষের মাটিতে যেক-টি বড়ো এবং মাঝারি মাপের দাঙ্গা সংগঠিত হয়েছে সেগুলি হল— ময়মনসিংহ দাঙ্গা (১৯০৬-০৭), কলকাতা, পাবনা ও ঢাকার দাঙ্গা (১৯১৮-১৯২৬), পাটুয়াখালি ও পোনাবালিয়া দাঙ্গা (১৯২৭), ঢাকার দাঙ্গা (১৯৩০), কিশোরগঞ্জের দাঙ্গা (১৯৩০), চট্টগ্রাম দাঙ্গা (১৯৩১), ঢাকার দাঙ্গা (১৯৪১), কলকাতা দাঙ্গা (১৯৪৬), নোয়াখালি দাঙ্গা (১৯৪৬)।

স্বাধীনতা-উত্তরকালে ভারতবর্ষের মাটিতে বড়ো মাপের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে প্রথম ১৯৯২ সালে, যখন উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় বিতর্কিত ধর্মক্ষেত্র— রামমন্দির তথা বাবরি মসজিদ বিতর্কের সমাধান হওয়ার আগেই হিন্দু জনরোষে ভেঙে ফেলা হয় বিতর্কিত ধর্মীয় ধাঁচা। গোটা দেশ জুড়ে হিন্দু- মুসলিম দাঙ্গা ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি বিরাট ক্ষতচিহ্ন হয়ে রয়েছে। যদিও তার আগে ১৯৮৪-তে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী খালিস্তান আন্দোলনের সমর্থক দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিবর্ষণে মারা গেলে গোটা দেশ জুড়েই শুরু হয়ে গিয়েছিল শিখনিধন পর্ব। সেও এক ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা! এরই মধ্যে স্বাধীন ভারতের গত ৭৭ বছরের ইতিহাসে পশ্চিমবাংলা এবং উত্তরপ্রদেশের বহু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটে গেছে এবং এই সমস্ত দাঙ্গার পিছনেই প্রবলভাবে উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় জেহাদি রাজনীতি, নির্বাচনের অঙ্কে ধর্মের রাজনীতি তথা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির মুখ নয়— মুখোশের আক্রোশ। এবং, অবশ্যই কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না, এই সাম্প্রদায়িকতার মুখ যখন ধর্ম, মুখোশ তখন সংকীর্ণ রাজনীতি, যেখানে অর্থনৈতিক বনিয়াদ থেকে শিক্ষার মতো সামাজিক উপাদানকেও রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানো হয়েছে একপক্ষের বিরুদ্ধে অন্যপক্ষকে উত্তেজিত করে তুলতে। ফলত, ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে দাঙ্গার মোড়ক হিসেবে, যে মোড়ক খসে পড়লেই প্রকাশিত হয়ে যাবে প্রত্যক্ষ অর্থনীতি তথা শিক্ষানীতি তথা চাকরিনীতির তীব্র বৈষম্য। একপক্ষকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে সুবিধাভোগী হয়ে উঠতে, অপরপক্ষকে দূরে ঠেলে রাখা হয়েছে সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে।

আলোচ্য গ্রন্থে আমাদের বিষয় কলকাতার দাঙ্গা এবং দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারী হিন্দু ও মুসলমান জনসমাজ। সুতরাং, আমরা প্রবেশ করব সেই ১৯৪৬-এর দাঙ্গাবিধ্বস্ত পরিসরে, যে দাঙ্গায় কয়েক হাজার মানুষের নিধন হয়েছিল মাত্র চারদিনে। কলকাতার দাঙ্গাই হল সেই দাঙ্গা যেটির আক্রোশী মনোভাব থেকে স্পষ্টতই ধরা পড়েছিল দাঙ্গার মনস্তত্ত্ব, দাঙ্গার দর্শন। পরিস্ফুট হয়েছিল, মানবিক মুখ এবং মানবিকতাও কীভাবে কোন পরিস্থিতিতে অমানবিক হয়ে ওঠে এবং পাশাপাশি সেই মানবিক মুখগুলির সাহস ও আর্তিও কীভাবে বিরুদ্ধপক্ষের সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।

‘৪৬-এর কলকাতা দাঙ্গা মূলত ভারতবর্ষের প্রায় সমস্ত দাঙ্গারই মূলসূত্র হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িকতার যে ঐতিহ্য ও পরম্পরা তারই অনুগামী। আরও স্পষ্টভাবে বললে বলতে হয়— ব্রিটিশ ও ভারতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের একাংশের প্রত্যক্ষ চক্রান্তে সৃষ্ট ভারত-বিভাজন ও তার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট মুসলিম সাম্প্রদায়িক উসকানির এক বিভীষিকাময় উল্লাস। এবং, সেই উল্লাসের উপযুক্ত জবাব দিতে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতার হিন্দুদের একাংশের হিংসামূলক প্রতিশোধপরায়ণতার এক ভয়ংকর নজির। ব্রিটিশ রাজশক্তির সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, দেশ বিভাজনের পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু-মুসলমানের মানসিক যন্ত্রণা, পাক-ই-স্তান তৈরির মাধ্যমে মুসলমানদের একটি পৃথক স্বাধীন দেশের সংখ্যাগুরু প্রথম শ্রেণির নাগরিক হওয়ার বেদম প্রবৃত্তি ও কাফেরদের ধ্বংস করার জন্য মুসলিম নেতৃত্বের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত— সব মিলেমিশে ‘৪৬-এর কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম সৌভ্রাতৃত্বের শিকড়ে যেভাবে দাঙ্গাপূর্ব কয়েক বছরে ঘুণপোকার সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাই আছড়ে পড়েছিল ১৬ অগাস্ট। এবং, এই দাঙ্গাতেই সেই চিরন্তন মিথ– ‘দাঙ্গা করে শুধু দাঙ্গাবাজরাই, হিন্দু বা মুসলমানরা নয়’ ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। ‘কায়েমি স্বার্থের মদতেই সাধারণ মানুষ ওই স্বার্থান্বেষী চক্রের হাতের পুতুল হয়ে দাঙ্গায় যোগ দেয়’– এই চিরপরিচিত, অতিসরলীকৃত সূত্রও ‘৪৬-এর দাঙ্গায় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ই ‘আত্মরক্ষা করছি’— এই অজুহাতে একে অপরকে সংহারে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। সবরকম আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্রাদি নরসংহারে যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকী মধ্যবিত্ত বাঙালি যাঁরা দাঙ্গা দেখেন নিরাপদ দূরত্বে থেকে গা বাঁচিয়ে, তাঁরাও যখন দাঙ্গাবাজদের প্রত্যক্ষ মদত দিতে সক্রিয়তা দেখাতে শুরু করেন, তখন আর দাঙ্গার মনস্তত্ত্ব বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না। ‘৪৬-এর দাঙ্গাতেও সেই মনস্তত্ত্ব স্পষ্ট হয়ে গেছে। কারণ, দাঙ্গা প্রতিরোধে কোনো পক্ষই তেমনভাবে সক্রিয় হয়নি ১৬ অগাস্টের চারদিন পরেও। কারণ, তখনও চলছিল নরসংহারলীলা, লুঠপাট, নারীধর্ষণ, শিশুহত্যার মতো ভয়ংকর ও তীব্র নিন্দার যোগ্য অপরাধগুলি। ব্রিটিশ সরকার এবং ব্রিটিশ পুলিশও ছিল মৌনীবাবার ভূমিকায়। স্বাধিকার প্রমত্ততার সঙ্গেই দাঙ্গার অন্যতম উপাদান— গুজব, প্যানিক এবং রাজনৈতিক ন্যারেটিভও ব্যবহৃত হয়েছে যথেষ্টভাবে। ফল হয়েছে তীব্র। আক্রমণ ও হত্যার ঘটনাবলি তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

বিখ্যাত গবেষক আসগর আলি ইঞ্জিনিয়ার সাম্প্রদায়িকতা ইসুতে একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও ধারণার বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেছেন— একটি সমষ্টিগত স্তর (macro-level) ও একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত স্তর (micro- level)— দাঙ্গা ঘটে দুই স্তরের সমন্বয়ে। সমষ্টিগত স্তরের মূল কারণগুলো সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক। অর্থাৎ, অর্থনীতিকে সাম্প্রদায়িক প্রতিযোগিতা ও সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া, কায়েমি স্বার্থগুলির সুচিন্তিত অভিসন্ধিমূলক চক্রান্তব্যূহ রচনা করা, দুর্বৃত্ত ও গুন্ডাবাহিনীকে কায়েমি স্বার্থে লড়িয়ে দেওয়া, রাষ্ট্রের নিজের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে, কায়েমি স্বার্থের ধ্বজাবাহী দাঙ্গাবাজবাহিনী, যারা মধ্যবিত্ত শ্রেণিকেও দাঙ্গার মুখ বানিয়ে, তাদের বিপর্যস্ত করে তুলে তাদেরই মুখ দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাবিগুলির উদিগরণ ঘটায়। দেশে-বিদেশে যেকোনো দাঙ্গায় এই প্রক্রিয়াটিই পরিচালিত ও রূপায়িত হয় বিস্তারিতভাবে।

আলোচ্য গ্রন্থে ‘৪৬-এর দাঙ্গার পটচিত্র এবং দাঙ্গার বিস্তার, বিবরণ সংবাদমাধ্যমের নানাবিধ রিপোর্ট, সামাজিক পরিস্থিতি, কোন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেল, শকুন আর চিলের ডানায় ঢেকে গেল কলকাতার আকাশ— এসবই তুলে ধরা হয়েছে যথাযথ মাত্রা মেপে। কারণ, এই গ্রন্থ সময়ের জলছবি, সস্তার ঔপন্যাসিক বাজিমাত নয়।

আন্তরিক অনুসন্ধানধর্মী এই গ্রন্থে বউবাজারের জাতীয় যুবদল ও তার প্রতিষ্ঠাতা গোপাল মুখার্জি (গোপাল পাঁঠা নামে পরিচিত)-র ভূমিকা ও অবদান প্রসঙ্গেও সম্পূর্ণ বাস্তবোচিত তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে বিস্তারে।

সুজিত রায়
কলকাতা, ২০২৫ বইমেলা

.

এ বই রচনার জন্য সহায়ক গ্রন্থাবলি

কলকাতা হত্যা এবং নোয়াখালি গণহত্যা: দীনেশ চন্দ্র সিনহা, অশোক কুমার দাশগুপ্ত ও আশিস চৌধুরি, ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন, প্ৰকাশক : হিমাংশু মাইতি, কলকাতা, ২০২২।

ইতিহাসের দিকে ফিরে ছেচল্লিশের দাঙ্গা: সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্ৰকাশক : র‍্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন, কলকাতা ২০১৯ এবং উৎস মানুষ: ১৯৯৩।

অনুষ্টুপ— দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ক বিশেষ সংখ্যা, অগাস্ট ১৯৯৩।

খড়ির গণ্ডি পেরিয়ে বাংলা উপন্যাস: অরূপকুমার দাস, প্ৰকাশক : কারুলিপি, কলকাতা, ১৪৩০।

দাঙ্গা থেকে দেশভাগ ‘হিন্দু’ বাঙালির প্রতিক্রিয়া।

দাঙ্গা থেকে দেশভাগ ‘মুসলমান’ বাঙালির প্রতিক্রিয়া।

সংকলন ও সম্পাদনা: সৌম্য বসু, খড়ি প্রকাশনী, কলকাতা ২০২৪।

ইতিহাসের উপেক্ষিত নায়ক (প্রবন্ধ): ড. নারায়ণ চক্রবর্তী, স্বস্তিকা পুজো সংখ্যা ১৪৩০-এ প্রকাশিত।

নাগরিক মঞ্চ বুলেটিন, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩।

সেদিনের কথা: মণিকুন্তলা সেন (নবপত্র প্রকাশন)।

পুলিশ কাহিনী (১ম) : পঞ্চানন ঘোষাল (মণ্ডল বুক হাউস, ১৩৬১)।

পুলিশ কাহিনী (২য়): পঞ্চানন ঘোষাল (মণ্ডল বুক হাউস, ১৩৬৫)

শনিবারের চিঠি: ভাদ্র ১৩৫৩।

পরিচয়, অগ্রহায়ণ ১৩৫২ সংখ্যা।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী: শেখ মুজিবুর রহমান।

অকপটে: যতীন চক্রবর্তী (আজকাল)।

স্মৃতি যখন কথা বলে: সুধাংশু কুমার মজুমদার (১৪১০)।

বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস: এম এ রহিম, আহমদ পাবলিশিং হাউজ, ঢাকা, বাংলাদেশ।

বাংলায় মুসলমানদের ইতিহাস: আব্বাস আলি খান, বাংলাদেশ।

ইসলামিক সেন্টার, ঢাকা, বাংলাদেশ, জুন ২০১১।

দাঙ্গার ইতিহাস: শৈলেশকুমার গঙ্গোপাধ্যায় (মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রা. লি.)।

দেশভাগ দেশত্যাগ: সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (অনুষ্টুপ)।

বাঙালির পরিত্রাতা শ্যামাপ্রসাদ: ড. দীনেশচন্দ্র সিনহা (বিবেকানন্দ সাহিত্য কেন্দ্র)।

ভারতকেশরী যুগপুরুষ শ্যামাপ্রসাদ: তথাগত রায়, মিত্র ও ঘোষ।

যা ছিল আমার দেশ: তথাগত রায়, মিত্র ও ঘোষ।

শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরি ও মৃত্যুপ্রসঙ্গে: উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (মিত্র ও ঘোষ)।

ভূস্বর্গে শ্যামাপ্রসাদ হত্যা: সুজিত রায়, দে পাবলিকেশনস।

স্বাধীনতার অর্ধশতক হস্তান্তর: শংকর ঘোষ, আনন্দ।

বঙ্গসংহার এবং: সুররঞ্জন সেনগুপ্ত (চতুরঙ্গ)।

রডা কোম্পানির অস্ত্রলুণ্ঠন ও বিপ্লবতীর্থ মলঙ্গা লেন : অমিত দেবনাথ, প্রকাশক: বিসর্গ জানুয়ারি ২০২৩

Communal Riots in Bengal 1905-1947: Suranjan Das, OIP 2022.

The Last Days of British Raj: Leonard Mosley, Jaico 1960.

The Transfer of Power: Ed N Mansergh vol VIII.

A Nation Betrayed: Saida. (S Shamsul Hasan 1946)

Muslim Politics in Bengal (1937-1947): Sheila Sen. (Sage Publication)

India wins Freedom: Abul Kalam Azad (Complete Edition 1988)

Calcutta Municipal Gazette: Aug 17, 1946 p 362, Aug 24, 1946.

My Days with Gandhi: Nirmal Kr Bose. (Calcutta Nishana, 1953)

Communalism in Bengal From Famine to Noakhali 1943- 47: Rakesh Batabyal. (Sage Pub)

Partition, Bengal and after: The Great Tragedy of India: Kali Prasad Mukhopadhyay. (Reference Press)

Proceedings of the Calcutta Disturbances Enquiry Commission In Retrospection: Abdul Hashim.

The Indian Annual Register, vol II 1946, p 182-185.

Calcutta Municipal Gazette: 21-28 Sept. 1946.

Police Intelligence Branch Papers 1946.

Home Political Papers 1946.

Different Websites, Blogs, Youtube Channels, Online News/Articles.

Book Content

দুঃস্বপ্নের নগরী কলকাতা
মার্ডার রেপ লুঠ দিনভর
প্রতিরোধের প্রতীক মলঙ্গা লেন
দাঙ্গার ইতিহাসে কলকাতা
অগ্নিবলয় কলকাতা তবুও মানবিক
সশস্ত্র বিপ্লব রুখতেই খেল শুরু
গণতন্ত্র চুলোয় বিভাজনের ইস্তেহার
সংবিধান নয়— চাই পিস্তল : জিন্নাহ্
সাতসকালেই রক্তপাত আগুনের ফুলকি
পালটা আক্রমণ পথে হিন্দুরা
যখন দাঙ্গা থামল
মন্বন্তরের ছায়া ’৪৬-এর কলকাতায়
গোপাল পাঁঠা আত্মসমর্পণ করলেন না
ফিয়ার্স লেনের ‘গল্প হলেও সত্যি’

Reader Interactions

Comments

  1. SUDIPTA DUTTA

    January 2, 2026 at 1:41 am

    সুজিত রায় লেখকের সব কটি উপন্যাস চাই।
    যেমন –
    “গোপাল ভাঁড়ের সন্ধানে”
    “মহিলা সিরিয়াল কিলার”
    “গুজবের গ্রাশে নেতাজি”
    এবং বাকি যা আছে ওনার লেখা সব।
    Please ektu dekhben

    Reply

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.