কত অজানারে – শংকর
বাংলার কাল জয়ী ক্লাসিক
প্রথম প্রকাশ : এপ্রিল ১৯৫৫
.
পরলোকগত
নোয়েল ফ্রেডারিক বারওয়েল মহোদয়ের
পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে
.
কত অজানারে
বিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে যে সামান্য কয়েকটি বই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেও পরবর্তী কালের বাংলা সাহিত্যে ক্লাসিক মহিমা অর্জন করেছে কত অজানারে তাদের একটি। লেখক শংকর-এর জন্ম ৭ই ডিসেম্বর ১৯৩৩। কত অজানারে রচনার শুরু আগষ্ট ১৯৫৩, মাত্র ঊনিশ বছর বয়সে। দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশ পরবর্তী বছরে। বস্তুতপক্ষে বিংশশতকে এত অল্পবয়সে কোনো লেখক বাংলা গদ্যসাহিত্যে এমন বিপুল স্বীকৃতি ও সাফল্য লাভে সমর্থ হননি।
এই কাহিনীর প্রধান চরিত্র নোয়েল ফ্রেডারিক বারওয়েল, কলকাতা হাইকোর্টের শেষ ইংরেজ ব্যারিস্টার। প্রথম মহাযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মিলিটারি ডিউটিতে তিনি কলকাতায় আসেন এবং যথাসময়ে হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন। তাঁর তিরোধান আগষ্ট ১৯৫৩। ঠিক পরবর্তী মাসে এই কালজয়ী সাহিত্য রচনার শুরু। শুধু বাংলা নয়, বিশ্বসাহিত্যে কত অজানারের মত বই যে বেশী রচিত হয়নি তা এখন স্বীকৃতির অপেক্ষা রাখে না।
.
সংসার পরিক্রমার পথে কত বিচিত্র সঞ্চয়ই যে দিনে দিনে পর্যাপ্ত হয়ে ওঠে তার বুঝি আর ইয়ত্তা নেই। যা একদিন অচেনা থাকে, অজানা থাকে তাকেই আবার একদিন চিনে ফেলি, জেনে ফেলি। অপরিচয়ের অবগুণ্ঠন খুলে কখন সে-ই আবার ধরা দেয় মনের কাছে। এই এমনি করেই সঞ্চয়ের পুঁজি একদিন ভারি হয়ে ওঠে, আর স্মৃতির আকাশে রং ধরে তখনই।
ঘটনাচক্রে ওল্ড পোস্ট আপিস স্ট্রীটের আদলতি কর্মক্ষেত্রে আমাকেও এমনি অসংখ্য অপরিচিত চরিত্রের সাক্ষাৎ সংস্পর্শে আসতে হয়েছিল। সেদিন অচেনাকে চেনা আর অজানাকে জানাই ছিল আমার জীবিকার অপরিহার্য অঙ্গ। তারপর এতদিন পরে হঠাৎ একদিন টের পেলাম কখন যেন আমার আকাশও বর্ণাঢ্য হয়ে উঠেছে তাদের রঙে। কখন যেন নিজেরই অজ্ঞাতসারে তাদের আমি ভালোও বেসে ফেলেছি মনে মনে। জানি, আইনের সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্কটা বিশেষ মধুর নয়। অন্ততঃ সাহিত্যের কমলবনে আইনের কলরব ঠিক ভ্রমর গুঞ্জনের মতো শোনায় না। কিন্তু এই গ্রন্থে আমি আইনকে দেখিনি। ওল্ড পোস্ট আপিস স্ট্রীটের যে মানুষদের একদিন ভালোবেসেছিলাম তাদেরই আজ অক্ষরে আবদ্ধ করবার চেষ্টা করেছি মাত্র, আর কিছু নয়।






Leave a Reply