এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
বিশ্বসেরা চিরায়ত সাহিত্য ১৯৫৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী
অনুবাদ – সৌরীন নাগ
The Old Man And The Sea by Ernest Hemingway
(দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি)
প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ
প্রকাশক : সাইফুর রহমান চৌধুরী
.
অনুবাদকের উৎসর্গ
পরমপূজ্য পিতৃদেবকে যাঁর হাত ধরে
ইংরেজি ভাষার জগতে প্রবেশ
.
কিছু কথা
তখন আমি তরুণ যুবক। বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছি বন্দুক নিয়ে শিকার করার আর ছিপ দিয়ে মাছ ধরার নেশা। সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়তাম, হাতে থাকত হয় বন্দুক, না হয় হুইল ছিপ। সেই রকম সময়ে ১৯৬৯ সালে অর্থাৎ হেমিংওয়ের মৃত্যুর বছরই দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী বইটি আমার হাতে আসে। পড়ে আমি অভিভূত হয়ে থাই। এমন স্বচ্ছ, সরল, সোজাসুজি লেখা, পড়তে পড়তে মনে হয়েছিল, ওই বুড়ো নয়, যেন আমিই সেই অসাধারণ মার্লিন মাছের সঙ্গে জীবনমৃত্যুর লড়াই চালাচ্ছি।বইটির আরেকটি অসাধারণত্ব, যা আমাকে মুগ্ধ করেছিল, তা হল এর চরিত্রচিত্রণ। সমুদ্র, আকাশ, বাতাস, মাছ, হাঙর, কাছ, পাখি, প্রত্যেকে যেন এক একটি প্রাণবন্ত চরিত্র, বুড়োর সঙ্গে একাত্ম হয়ে জড়িয়ে আছে, ছড়িয়ে আছে সমগ্র উপন্যাসটিতে।
ভাষান্তর করতে গিয়ে হেমংিওয়ের সাবলীল রচনাশৈলীর কতটা বাংলা ভাষায় রাখতে পেরেছি, পাঠকের বিচার্য। বইটিতে অনেক স্প্যানিশ শব্দ ছড়িয়ে আছে, তাদের শুদ্ধ উচ্চারণ ও সঠিক অর্থ সম্বন্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন স্প্যানিশ ভাষা-বিশেষজ্ঞ ও লেখক-অনুবাদক তরুণ ঘটক। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
জ্ঞান বিচিত্রা প্রকাশনীর কর্ণধার দেবানন্দ দাম তার অমূল্য পরামর্শ ও অকুণ্ঠ সহযোগিতা দিয়ে এবং সর্বোপরি বইটি প্রকাশনার সমগ্র দায়িত্ব নিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। তার কাছে আমি চিরঋণী রইলাম।
সৌরীন নাগ
২০ জানুয়ারি ২০০৪
.
ফ্ল্যাপের লেখা
হাভানার উপসাগরীয় অঞ্চলে একজন বুড়ো, একজন কিশোর আর একটা দানব আকৃতির মাছকে নিয়ে রচিত হয়েছে হেমিংওয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় উপন্যাস দ্য ওল্ড ম্যান এণ্ড দ্য সী। উপন্যাসটির জন্য হেমিংওয়ে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এখানে অঙ্কিত হয়েছে দুঃখ আর সময়োত্তীর্ণ এমন সব সৌন্দর্য যা মানুষের যাপিত জীবনের উপাদানগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
.
এক প্রাচীন বৃদ্ধের কথা। এক আদিম, জীবন্ত, ভয়াবহ, সুন্দর সমুদ্রের কথা। সমুদ্রের গভীর তলদেশ থেকে উঠে আসা এক অসাধারণ বিশাল মাছের কথা। সর্বোপরি, এক অনন্ত জীবন সংগ্রামের কথা।
এ যেন এক চলমান জীবনের বেঁচে থাকার প্রাত্যহিক লড়াই-এর প্রতীকী ছবি। এ জীবন হার মানতে জানে না, জয় বা পরাজয়ে সমান নির্বিকার, বাঁচার তাগিদে কেবল লড়াই চালিয়ে যায়।
.
ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্প-লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের জন্ম আমেরিকার ইলিওনিসের ওকপার্কে ১৮৯৯ সালে। চিকিৎসক পিতার ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ১৮ বছর বয়সে ১৯১৭ সালে হেমিংওয়ে কানসাস সিটি স্টার পত্রিকায় তরুণ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন। পরের বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তিনি ইতালিয়ান ফ্রন্টে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে যোগ দেন, কিন্তু সেখানে ১৯১৮ সালে গুরুতর আহত হন। দু-বার তিনি সামরিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ১৯১৯ সালে তিনি আমেরিকায় ফিরে আসেন ও ১৯২১ সালে বিয়ে করেন। ১৯২২ সালে কানসাস সিটি স্টার পত্রিকায় গ্রেকো-টার্কিশ যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টিং করেন। দু-বছর পর সাংবাদিকতা ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।
হেমিংওয়ের প্রথম প্রকাশিত দুটি গ্রন্থ : ‘থ্রি স্টোরিজ অ্যান্ড টেন পোয়েমস’ এবং ‘ইন আওয়ার টাইম। কিন্তু তাঁর ব্যঙ্গধর্মী উপন্যাস ‘দ্য টরেন্টস অব স্প্রিং’ লেখক হিসেবে তাঁর নাম সুপ্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তী তিনটি বই, ‘ফিয়েস্তা, ‘মেন উইদাউট উইমেন’ এবং ‘এ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস’ তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। বুল-ফাইটিং, বড় জন্তু শিকার ও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ছিল তার নেশা। তার লেখায় এর প্রতিফলন রয়েছে। ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী’ গ্রন্থটি প্রকাশের পর ১৯৫৪ সালে আর্নেস্ট হেমিংওয়ে সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
অনুবাদক : সৌরীন নাগ কবিতা, ছড়া এবং গান লেখেন। অনুবাদেও তিনি সিদ্ধহস্ত। জন্ম বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলায়। দেশ ছেড়েছেন অনেক ছোটবেলায়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় বাস করেন। অপরাধ ও দুর্নীতি দমন পেশায় কেটেছে কর্মজীবন। এ পর্যন্ত চারটি বই অনুবাদ করেছেন। দুটি ভারতের আগরতলার একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে এবং বাংলাদেশের বুক ক্লাব ও শৈশব থেকে প্রকাশিত হয়েছে। দুটি বাংলাদেশের সন্দেশ থেকে।


Good