ঈশ্বর কি অপরিহার্য – স্বামী বুধানন্দ
Iswar Ki Apariharya by Swami Budhananda
অনুবাদক – স্বামী অমলেশানন্দ
উদ্বোধন কার্যালয়
প্রথম সংস্করণ ১৯৯০-১৯৯১
.
প্রকাশকের নিবেদন
পার্থিব সবকিছু পাইবার পরও মানুষের মনে একটা অভাববোধ থাকিয়াই যায়। এই অভাববোধ চিরন্তন। মানুষের সব কর্ম এবং চিন্তার পশ্চাতে রহিয়াছে এই অভাব পূরণের তাগিদ। এই তাগিদেই বর্তমান বিজ্ঞান আর কারিগরি-বিদ্যা মানুষকে অজস্য ভোগ্যপণ্যের যোগান দিয়া যাইতেছে। কিন্তু অগ্নিতে ঘৃতাহুতির মতো ভোগ্যপণ্যো দ্বারা মানুষের তৃষাগ্নি বাড়িয়াই চলিতেছে। এই তৃষাগ্নির নিবৃত্তি কোথায়?
বর্তমান বিশ্বের ভোগক্লান্ত মানুষের মনে স্বাভাবিক কারণেই জিজ্ঞাসা জাগিয়াছে, “শান্তি বা তৃপ্তি কোন্ পথে?” যাঁহাদের মনে শান্তিলাভের ইচ্ছা প্রবল হইয়া উঠিয়াছে—(আগে বা পরে সকলেরই এই জিজ্ঞাসা জাগিবেই)—তাঁহারা ‘ঈশ্বর কি অপরিহার্য’ এই ক্ষুদ্র পুস্তিকায় ইহার সন্ধান পাইবেন।
পুস্তিকাটি স্বামী বুধানন্দজী রচিত এবং দিল্লী রামকৃষ্ণমিশন প্রকাশিত ইংরাজী পুস্তিকা ‘Why Man Needs God”-এর বঙ্গানুবাদ। পুস্তিকাটি বাংলাভাষী পাঠকের সুবিধার্থে উদ্বোধন কার্যালয় উহার অনুবাদ প্রকাশে ব্রতী হইয়াছে। জীবন-জিজ্ঞাসু মানুষ মাত্রেই এই পুস্তিকায় প্রভূত সাহায্য লাভ করিবেন—এই বিশ্বাস আমরা পোষণ করি।
আষাঢ়, ১৩৯৮
.
ভূমিকা
ঈশ্বরকে মানুষের প্রয়োজন অতি একান্ত। কারণ তাঁর মধ্যেই সে লাভ করে তার স্বয়ংসম্পূর্ণতা।
শিশুর পক্ষে জননীর প্রয়োজন যতটা, মানুষের পক্ষে ঈশ্বরের প্রয়োজন তার চেয়েও অনেক বেশি। একটা সময় আসে যখন শিশুর পক্ষে মায়ের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। কিন্তু মানুষের পক্ষে ঈশ্বরের প্রয়োজন কখনো ফুরাবার নয় ; বরং তিনি তার কাছে আরও অপরিহার্য হয়ে উঠেন ; বয়সে এবং কীর্তিতে যতই সে পরিণত ও পরিপক্বতা লাভ করুক, অথবা তার প্রয়োজন সম্পর্কে সে যতই অনবহিত থাকুক না কেন।
কেউ যদি সত্য সত্যই মনে করে যে তার ঈশ্বরকে দিয়ে কোন প্রয়োজন নেই, স্বচ্ছন্দে সে তা করতে পারে। কিন্তু যারা তাঁকে চায় তাদের স্বাগতম্। তাদের পথ প্রদর্শন করতেই পুস্তিকার আয়োজন। আশা করা যায় সে প্রয়োজন মেটাতে এই ক্ষুদ্র পুস্তক সহায়ক হবে।
— স্বামী বুধানন্দ



Hi