অসিশপ্ত – সুমিত বর্ধন
প্রাপ্তমনস্ক কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস
প্রচ্ছদ: ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য
প্রকাশ: এপ্রিল ২০২৩
.
জাপানি সাহিত্যের পুনর্নির্মাণে রচিত এক কল্পিত গ্রহের অরাজক, অধঃপতিত সমাজের প্রেক্ষাপটে এক অপ্রতিরোধ্য রক্তলিপ্সু যোদ্ধার সংগ্রামের কাহিনী।
.
কী করুণ!
যোদ্ধার শিরস্ত্রাণের নীচে
ঝিঁঝির ডাক
মাৎসুও বাশো (১৬৪৪-৯৪)
.
কৈফিয়ত
জাপানি ‘জিদাইগেকি’ বা ঐতিহাসিক সিনেমা এবং নাটকের শৈলীকে কল্পবিজ্ঞানে ব্যবহার করার প্রয়াস থেকে বছরকয়েক আগে ‘মঙ্গলদেউড়ি’ নামে একটি গল্প লিখি। গল্পটি আকিরো কুরোসাওয়া পরিচালিত বিখ্যাত ‘রাশোমন’ চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্রটির কাহিনিকার রাইয়ুসোনোকো আকুতাগাওয়ার ‘রাশোমন’ ও ‘ইয়াবু নো নাকা’ নামক যে দুটি গল্পকে ভিত্তি করে নির্মিত, তাদের আশ্রয় করে একটি কল্পিত দুনিয়ার পটভূমিকায় রচিত। অনান্য গুণীজনের লেখার পাশাপাশি আমার এই গল্পটি কল্পবিশ্ব ওয়েবজিনে স্থান পায়।
‘অসিশপ্ত’ উপন্যাসটিও জিদাইগেকি শৈলীকে কল্পবিজ্ঞানে ব্যবহার করতে চাওয়ার সেই একই দুঃসাহসের ফসল। কাইজান নাকাজাতো রচিত ‘দাই বোসাৎসু তোগে’ বা ‘মহান বোধিসত্ত্ব পাস’ কাহিনি অবলম্বনে পরিচালক কিহাচি ওকামোতো ১৯৬৬ সালে তাঁর ‘দ্য সোর্ড অফ ডুম’ বা ‘ধ্বংসের অসি’ সিনেমাটি নির্মাণ করেন। কাইজান নাকাজাতোর কাহিনিটি ধারাবাহিকভাবে ১৯১৩ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে জাপানের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। বর্তমান উপন্যাসটির কাঠামোটি ওকামোতোর সিনেমা এবং নাকাজাতোর মূল কাহিনির ওপর আধারিত। ‘মঙ্গলদেউড়ি’র মতো ‘অসিশপ্ত’ কাহিনির পটভূমিকাও অম্বালিকা নামক কাল্পনিক গ্রহটি। তবে ‘মঙ্গলদেউড়ি’ গল্পটি ছিল মূল কাহিনির সন্তর্পণ অনুসরণ, কিন্তু এই উপন্যাসটি কাইজান নাকাজাতো এবং কিহাচি ওকামোতোর ইমারতের চারপাশে আরও নানা মহল তুলে একটি স্বতন্ত্র পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টা। তার মধ্যে যেমন রয়েছে লাভক্রাফ্টিয়ান হরর, তেমনই আছে অসিযুদ্ধের দর্শন এবং রাজনীতি। এই পুনর্নির্মাণের প্রয়াস সার্থক হল কি না, তার বিচার অবশ্যই থাকবে পাঠকের হাতে।
কাইজান নাকাজাতো এবং কিহাচি ওকামোতো ছাড়াও এই উপন্যাসে যে সমস্ত রচনার প্রভাব আছে, তার মধ্যে অসিযুদ্ধের দর্শন মূলত নির্ভরশীল ১৬৪৩ সালে মিয়ামোতো মুসাশি রচিত ‘গো রিন নো শো’ বা ‘পঞ্চবৃত্তের পুস্তক’ বইটির ওপর। এ ছাড়াও সেনগাই গিবোন, ফুসে ইয়াজিরো, মিনামোতো নো শিতাগো, কোজান ইচিগিও এবং আরও নানান কবির কাছে আমি ঋণী। তাঁদের কবিতার টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে কাহিনির নানা অংশে।
অসিশপ্ত বইটির নির্মাণকার্যটি খুব একটা সহজ ছিল না। বাংলায় কল্পবিজ্ঞানে ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং এর উদাহরণ খুব একটা নেই। সেখানে অম্বালিকার অচেনা জীবজগৎ, সমাজ সংস্কৃতি, শহর ইত্যাদি অলঙ্করণ ও মানচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা একেবারেই নতুন ধরনের প্রচেষ্টা। বইটিকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে তোলার জন্যে কৃতজ্ঞতা জানাই শিল্পী ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য ও প্রকাশক সন্তু বাগের প্রচেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রমকে। এ ছাড়াও ধন্যবাদ জানাই প্রকাশক দীপ ঘোষ, সুপ্রিয় দাস ও গৌতম মন্ডলকে। কল্পবিজ্ঞানের সম্পূর্ণ একটি অচেনা শৈলির বই প্রকাশের দুঃসাহস দেখিয়ে তাঁরা আমার কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন।
উপন্যাসটি পাঠকের অনুগ্রহ পেলে আবার অন্য কোনও জিদাইগেকি কাহিনির হাত ধরে অম্বালিকায় পুনরায় পদার্পণের ইচ্ছে অবশ্যই রইল।
কিমধিকমিতি।
সুমিত বর্ধন
.
লেখক পরিচিতি
কল্পবিশ্ব ওয়েবজিনের নিয়মিত লেখক সুমিত বর্ধনের কল্পবিজ্ঞানে লেখার হাতেখড়ি অদ্রীশ বর্ধন সম্পাদিত ফ্যানটাসটিক পত্রিকায় লেখালিখি করার সুবাদে। তাঁর বেশ কয়েকটি নতুন ধারার মৌলিক কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। স্ক্রোল ডট ইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের রিভিউ। কল্পবিজ্ঞান নিয়ে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা করা সুমিত বর্ধনের এযাবৎ প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘নক্ষত্রপথিক’ এবং বহুচর্চিত বাংলা স্টিমপাঙ্ক থ্রিলার ‘অর্থতৃষ্ণা’।




history ar boi aktu den
cant access. open it please