অস্থির মতি

একদিন বিকেলে রবীন্দ্রনাথ কয়েকজন পরিচিত মানুষজনের সঙ্গে বসে গল্প করছিলেন। এমন সময় সেখানে এলেন কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ। রথীন্দ্রনাথকে দেখে রবীন্দ্ৰনাথ বললেন, ‘ও তুই এসেছিস, ভাল কথা, কাল বিকেলে মাদ্রাজ যেতে হবে আমাকে, তুইও সঙ্গে যাবি। যা টিকিট কেটে আন।’

কথামত রথীন্দ্রনাথ কিছুক্ষণ পরে টিকিট কেটে এনে বললেন, ‘বাবামশাই, এই নিন টিকিট।’

পুত্র টিকিট কেটে এনেছে দেখে রবীন্দ্ৰনাথ হঠাৎ বলে বসলেন, ‘না রে, ভাবছি কাল আর মাদ্রাজ যাব না। তুই টিকিট ফেরত দিয়ে আয়।’

বাবামশাই-এর কথা শুনে রখীন্দ্ৰনাথ টিকিট ফেরত দিতে যেই না হস্তদন্ত হয়ে চললেন, আমনি আর একজনকে রবীন্দ্রনাথ পাঠালেন। তাঁকে ফিরিয়ে আনতে! রথীন্দ্রনাথ ফিরে এসে জিগ্যেস করলেন, ‘বাবামশাই, কী হল, ডাকলেন কেন?’

এবার রবীন্দ্ৰনাথ বললেন, ‘না রে রখী, ভাবছি। কাল বিকেলে মাদ্রাজেই যাবো, টিকিট ফেরত দিয়ে লাভ নেই!’

রবীন্দ্রনাথের এই আচরণে পুত্র রথীন্দ্রনাথ মোটেও অবাক হলেন না। কিন্তু বাকিরা স্বভােতই হতভম্ব। তারা ভাবলেন, কবি। এত অস্থির মতি কোন!

রবীন্দ্ৰনাথ তখন তাঁদের হাসতে হাসতে বললেন, ‘কী হে, আমাকে অস্থিরমতি মনে হচ্ছে, তাই না? মনে রেখো আমি প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের নাতি। বাবু চেঞ্জেস হিজ মাইণ্ড।’

কবির মুখে এ কথা শুনে রথীন্দ্ৰনাথ সহ বাকিরা হেসে উঠলেন।