০৪. নারদ কর্ত্তৃক বাল্মীকিকে রামায়ণ রচনার আভাষ প্রদান

এক দিন সে বাল্মীকি সরোবর-কূলে।
রামনাম জপেন বসিয়া বৃক্ষমূলে।।
ক্রৌঞ্চ ক্রৌঞ্চী বসিয়া আছিল বৃক্ষডালে।
এক ব্যাধ আসি পক্ষী বিন্ধিলেক নলে ।।
বিন্ধিলেক ব্যাধ পক্ষী শৃঙ্গারের কালে।
ব্যাকুল হইয়া পড়ে বাল্মীকির কোলে।।
রামে স্মরি বলে মুনি কাণে দিয়া হাত।
জীবহত্যা কৈলে পাপী আমার সাক্ষাৎ।।
শৃঙ্গারে মারিলে পক্ষী বড়ই কু-কর্ম্ম।
পাপিষ্ঠ নারকী তুই নাহি কোন ধর্ম্ম।।
বিনা অপরাধে হিংসা কর পক্ষীজাতি।
বুঝিলাম তোমার নরকে হবে স্থিতি।।
এতেক বলিয়া মুনি শাপ দিল তাকে।
সেই শোকে এই শ্লোক নিঃসরিল মুখে।।
শোক হৈতে শ্লোকের হইল উপাদান।
মা নিষাদ বলিয়া তাহার উপাখ্যান।।
চারি পদ ছন্দ মুনি লিখিলেক পাতে।
লিখিয়া আপনি মূল না পারে বুঝিতে।।
ভরদ্বাজ সন্নিধানে করিল গমন।
গুরু শিষ্য বসিয়া আছেন দুই জন।।
ব্রহ্মা পাঠাইয়া দিল তথা নারদেরে।
বাল্মীকিরে উপদেশ করিবার তরে।।
যেখানে বাল্মীকি মুনি ভাবেন বসিয়া।
সেখানে নারদ মুনি উত্তরিল গিয়া।।
নারদে দেখিয়া মুনি সম্ভ্রমে উঠিল।
দণ্ডবৎ করিয়া আসন তাঁরে দিল।।
সেই শ্লোক শুনাইল মুনি নারদেরে।
নারদ করিয়া অর্থ বুঝাইল তারে।।
এই শ্লোকছন্দে তুমি কর রামায়ণ ।
উপদেশ কহি, জানি তুমি সে ভাজন ।।
সূর্য্যবংশে দশরথ হবে নরপতি।
রাবণ বধিতে জন্মিবেন লক্ষ্মীপতি।।
শ্রীরাম লক্ষ্মণ আর ভরত শত্রুঘ্ন।
তিন গর্ভে জন্মিবেন এই চারি জন।।
সীতাদেবী জন্মিবেন জনকের ঘরে।
ধনুর্ভঙ্গ পণে তাঁর বিবাহ তৎপরে।।
পিতার আজ্ঞায় রাম যাইবেন বন।
সঙ্গেতে যাবেন তাঁর জানকী লক্ষ্মণ।।
সীতারে হরিয়া লবে লঙ্কার রাবণ।
সুগ্রীব সহিত রাম করিবে মিলন।।
বালিকে মারিয়া তারে দিবে রাজ্যভার।
সুগ্রীব করিয়া দিবে সীতার উদ্ধার।।
দশ মুণ্ড বিশ হাতে মারিয়া রাবণ।
অযোধ্যায় রাজা হইবেন নারায়ণ।।
কহিবেন অগস্ত্য রাবণ-দিগ্বিজয়।
পুনরায় সীতাকে বর্জ্জিবে মহাশয়।।
পঞ্চমাস গর্ভবতী সীতারে গোপনে।
লক্ষ্মণ রাখিবে তাঁরে তপ তপোবনে ।।
লব কুশ নামে হবে সীতার নন্দন।
উভয়ে শিভাবে তুমি বেদ রামায়ণ।।
এগার সহস্র বর্ষ পালিবেন ক্ষিতি।
পুত্রে রাজ্য গিয়া স্বর্গে করিবেন গতি।।
জন্ম হৈতে কহিলাম স্বর্গ আরোহণ।
জন্মিয়া করিবে ইহা প্রভু নারায়ণ।।
এত বলি নারদ গেলেন স্বর্গবাস।
আদিকাণ্ড রচিল পণ্ডিত কৃত্তিবাস।।

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

5 thoughts on “০৪. নারদ কর্ত্তৃক বাল্মীকিকে রামায়ণ রচনার আভাষ প্রদান

  1. খুব ই ই ভাল লাগল এ রখম একটা সাইট পেয়ে।
    ধন্যবাদ

  2. লব কুশ নামে হবে সীতার নন্দন।
    উভয়ে শিভাবে তুমি বেদ রামায়ণ।।

  3. এগার সহস্র বর্ষ পালিবেন ক্ষিতি।
    পুত্রে রাজ্য গিয়া স্বর্গে করিবেন গতি।।

  4. এতদিন পরে আর উত্তর পাওয়ার কোন প্রয়োজন বা ইচ্ছা আপনার আছে কিনা জানি না, কিন্তু মনে হল উত্তরটা দেওয়া দরকার। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে ১০৮টি নীলপদ্মে দেবী দুর্গার পূজা করলে মনস্কামনা পূর্ণ হতে বাধ্য। রামায়ণে আছে রামচন্দ্র রাবণবধের মানসে ১০৮ টি নীলপদ্মে দেবীর পূজার ব্রত নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত ১০৬টির বেশি জোগাড় করতে পারেন নি। তখন নিজের নীলপদ্মতুল্য চোখদুটি উপড়ে তিনি দেবীর পূজা করেন। দেবী সন্তুষ্টা হয়ে তাঁর চোখদুটি ফিরিয়ে দেন এবং রাবণবধের উপায় বলে দেন। এখানেও এক দেবীর সন্তুষ্টি বিধায় আর নিজের মনোকামনা পূরণের ইচ্ছার কথা রয়েছে, সম্ভবত তাই ১০৮ পদ্মের কথা এসেছে। 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *