• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

নিসা নিশা নেশা

লাইব্রেরি » বাংলা কৌতুক । Bangla Jokes » রম্য রচনা » নিসা নিশা নেশা

উচ্চ আদালতের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আমাদের পড়াতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন শুধু আইনজীবী, এই কারণে ওনার বিয়ের সময় নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। একবার নাকি ছেলে ব্যবসা করে শুনে মেয়ের পরিবার রাজি। আংটি বদলও হয়ে গেছে। কিন্তু যখনই শুনল আইন ব্যবসা, তখন আংটি ফিরিয়ে দিয়ে গেল! এ ঘটনা জানার পরও আমাদের বন্ধু আফজাল ফার্মেসি বিভাগের নিসার প্রেমে পড়ে গেল। একদম জীবন-মরণ প্রেম। আমরা তাকে বোঝালাম, এমনিতেই পড়ছ ল, এর ওপর মেয়ে পড়ে ফার্মেসি। এখানে তেলে আর জলে কি মিশ খাবে? বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সাবজেক্ট পড়তে কত লাগে, এর ওপর স্ট্যাটাস নির্ভর করে। লয়ের চেয়ে কমপক্ষে চার গুণ বেশি টাকা লাগে ফার্মেসি পড়তে। কিছুকাল পরই নিসার অ্যানগেজমেন্টের খবরে বেচারা এমন ভেঙে পড়ল যে নির্দোষ কারও ফাঁসির আদেশ আপিল বিভাগে বাতিল হওয়ার পর যে দশা হয়। ক্রমেই তার অবস্থা খারাপ হতে লাগল। ক্লাসে আসে না, শেভ করে না, ফোন বন্ধ রাখে। আফজালের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর। তার বাবা স্কুলশিক্ষক। পুত্রধনের করুণ কাহিনী তাঁর কানেও গেল। কিন্তু কী হয়েছে, সেটা তিনি জানেননি। আফজালের এক রুমমেটের কাছে ভদ্রলোক ফোন দিয়ে জানতে চাইলেন, তাঁর ছেলের আসলে কী হয়েছে। রুমমেটের বাড়ি ছিল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। সে বলে দিল, আংকেল, ফয়সাল ক্যাম্পাসের নিসার জন্য এমন করছে। নোয়াখালীর লোকজন ‘স’কে উচ্চারণ করে ‘শ’। আবার নেশাকে বলে নিশা। তো ভদ্রলোক নিসা কোনো মেয়ের নাম এটা ভাবতে পারেননি। তিনি ভেবেছেন তাঁর সুসন্তান শহরে গিয়ে নেশা করা শুরু করেছে। পরদিন সকালে ভদ্রলোক ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিলেন এবং সে রাতেই আত্মীয়স্বজন সবার কাছে কেঁদেকেটে বললেন তাঁর ছেলে নেশা করে। ঢাকায় এসে ছেলের চেহারার হাল দেখে এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ রইল না। মেসের সামনে চিৎকার-চেঁচামেচি করে পুরো বিল্ডিংয়ের মানুষকে জানান দিলেন তাঁর ছেলের কুকীর্তির কথা। আফজালসহ তার রুমমেটরা তখন যতই চেষ্টা করছে তাকে বোঝাতে যে ব্যাপারটা আসলে তা নয়, কিন্তু ভদ্রলোক একজন শিক্ষক হয়ে তাঁর ছেলে নেশা করবে, এটা শুনে আগামী শীত না আসা পর্যন্ত ঠান্ডা না হওয়ারই কথা। শেষমেশ রীতিমতো টেনে-হিঁচড়ে আফজালকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করান হলো। আফজালের কোনো কথাই তাঁর বাবা বিশ্বাস করলেন না এবং মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আদেশ দিলেন সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে এক মিনিটের জন্যও যেন না ছাড়া হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসকের হাতে-পায়ে ধরে সাত দিন পর আফজাল ছাড়া পেল, তত দিনে নিসার বিয়ে হয়ে গেছে।

শাত শামীম
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জুন ২৯, ২০০৯

Category: বাংলা কৌতুক । Bangla Jokes, রম্য রচনা
Previous Post:নামে কী বা আসে-যায়?
Next Post:ভুল, সবই ভুল

Reader Interactions

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑