কলির কাণ্ড লণ্ড-ভণ্ড
স্রষ্টার সৃষ্টি হইলো পণ্ড
গণ্ড মূর্খের দাপটে
ব্রহ্মাণ্ড ছেয়েছে ভণ্ড কপটে।
অসৎ লোকের কদর বেশি সাধু সুজন বাদ দিয়া
বাঁদরেরই আদর বেশি পোষে না কেউ ময়না-টিয়া
অলক্ষ্মী ভালোবাসিয়া
লক্ষ্মীকে বনবাস দিয়া
মত্ত সদা মিথ্যা নিয়া
সত্য তথ্য যায় হটে।
ব্রহ্মাণ্ড ছেয়েছে ভণ্ড কপটে।।
শিখলে কিছু এ বি সি ডি দু\'দিন স্কুলে যেয়ে
বাবার চেয়ে বেশি বোঝে নাবালক ছেলে-মেয়ে
তারা শুরু করে বানান ফলা
গুরুজনকে দেখায় কলা
তাদের আদববিহীন চলা
বললে কিছু যায় চটে।
ব্রহ্মাণ্ড ছেয়েছে ভণ্ড কপটে।।
কলিতে হয় কথায় কথায় স্বামী-স্ত্রী ছাড়াছাড়ি
ঝাঁটা তুলে কুলের বধূ শাশুড়িকে দেয় বাড়ি
চরে সিংহ-মহিষ একই মাঠে
বাঘের গাল ছাগলে চাটে
প্রেম বিকায় মদনের হাটে
অর্থের শর্তে অকপটে।
ব্রহ্মাণ্ড ছেয়েছে ভণ্ড কপটে।।
উল্লুখ আর ভল্লুক মিলে মুল্লুক ছেয়ে ফেলেছে
মানুষ বেশি বাড়েনি ভাই জনসংখ্যা বেড়েছে
জ্ঞান-বিজ্ঞানের বাড়ছে প্রভাব
কাণ্ডজ্ঞানের পড়ছে অভাব
দেখি মানবের সেই আদিম স্বভাব
দুনিয়ার এই চিত্রপটে।
ব্রহ্মাণ্ড ছেয়েছে ভণ্ড কপটে।।
তাই নকুল কান্দে অকূলেতে না পাইয়া কোন কূল
এই ঘোর কলিতে জন্ম নিয়ে করেছি মস্ত এক ভুল
আমি মিশিয়া কু-জনের সাথে
হারাইলাম যা ছিলো হাতে
এখন কোনদিকে যাবো অবেলাতে
কপালে কী যে ঘটে।
ব্রহ্মাণ্ড ছেয়েছে ভণ্ড কপটে।।
—————————-
নকুল কুমার বিশ্বাস
অ্যালবাম: নকুল কুমার বিশ্বাস V-1
রচনা- ২৫.১০.৮৭
ব্রহ্মাণ্ড ছেয়েছে ভণ্ড কপটে।।.