কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই – লিরিক্স – গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
কফি হাউসের সেই আড্ডাটা
আজ আর নেই,
কোথায় হারিয়ে গেল
সোনালী বিকেলগুলো সেই ।।
আজ আর নেই…
নিখিলেশ প্যারিসে, মঈদুল ঢাকাতে,
নেই তারা আজ কোন খবরে,
গ্র্যাণ্ডের গীটারিস্ট গোয়ানীস ডিসুজা
ঘুমিয়ে আছে যে আজ কবরে ।
কাকে যেন ভালোবেসে আঘাত পেয়ে যে শেষে
পাগলা গারদে আছে রমা রায়,
অমলটা ধুঁকছে দুরন্ত ক্যানসারে
জীবন করে নি তাকে ক্ষমা হায় ।।
সুজাতাই আজ শুধু সবচেয়ে সুখে আছে
শুনেছি তো লাখপতি স্বামী তার,
হীরে আর জহরতে আগাগোড়া মোড়া সে
গাড়ীবাড়ী সবকিছু দামী তার ।
আর্ট কলেজের ছেলে নিখিলেশ সান্যাল
বিজ্ঞাপনের ছবি আঁকতো,
আর চোখ ভরা কথা নিয়ে
নির্বাক শ্রোতা হয়ে
ডিসুজাটা বসে শুধু থাকতো ।।
একটা টেবিলে সেই তিন চার ঘন্টা
চারমিনারটা ঠোঁটে জ্বলতো,
কখনো বিষ্ণু দে কখনো যামিনী রায়
এই নিয়ে তর্কটা চলতো ।
রোদ ঝড় বৃষ্টিতে যেখানেই যে থাকুক
কাজ সেরে ঠিক এসে জুটতাম,
চারটেতে শুরু করে জমিয়ে আড্ডা মেরে
সাড়ে সাতটায় ঠিক উঠতাম ।।
কবি কবি চেহারা কাঁধেতে ঝোলানো ব্যাগ
মুছে যাবে অমলের নামটা,
একটা কবিতা তার হোল না কোথাও ছাপা
পেলনা সে প্রতিভার দামটা ।
অফিসের সোশ্যালে ‘অ্যামেচার’ নাটকে
রমা রায় অভিনয় করতো,
কাগজের রিপোর্টার মঈদুল এসে রোজ
কি লিখেছে তাই শুধু পড়তো ।।
সেই সাত জন নেই আজ
টেবিলটা তবু আছে
সাতটা পেয়ালা অজোও খালি নেই,
একই সে বাগানে আজ
এসেছে নতুন কুঁড়ি
শুধু সেই সেদিনের মালী নেই ।
কতো স্বপ্নের রোদ ওঠে এই কফি হাউসে
কতো স্বপ্ন মেঘে ঢেকে যায়,
কতোজন এলো গেলো
কতোজনই আসবে
কফি হাউসটা শুধু থেকে যায় ।।
***
গান – কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই
লিরিক্স – গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
কণ্ঠশিল্পী: মান্না দে
সুরকার: সুপর্ণ কান্তি ঘোষ
.
(গৌরীপ্রসন্ন বন্ধুপুত্র সুপর্ণকান্তিকে পুত্রের মতো স্নেহ করতেন। সময় গড়াতে গড়াতে শিলালিপি ক্ষয়ে যায়, মানুষও ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠে। সুপর্ণকান্তিও বড় হলেন। তখন চারদিকে বাবা নচিকেতা ঘোষের জয়জয়কার। তিনিও বাবার পথে হাঁটবেন বলে মনস্থির করলেন। শুরু হলো সুর সাধনার কাজ। তখন মাত্র কয়েকটি গানের সুর করেছেন। একদিন বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় গৌরীপ্রসন্নর প্রশ্নের মুখে পড়লেন। সেদিন গান তৈরির কাজে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার তাঁদের বাড়িতে ছিলেন। ঘরে ঢুকতেই প্রশ্ন করলেন, ‘কী, বাইরে আড্ডা মেরে সময় কাটাচ্ছ?’ কথার পালকি এগোতে এগোতে অনেক দূর এগোল। একপর্যায়ে সুপর্ণকান্তি কফি হাউসের আড্ডা নিয়ে গান লেখার জন্য চ্যালেঞ্জ করলেন গৌরীপ্রসন্নকে। গৌরীপ্রসন্নও কম যান না, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে লিখতে শুরু করলেন তিনি। বিবিসির শ্রোতা জরিপে শ্রেষ্ঠ বাংলা গানের খেতাব পাওয়া গানটির প্রথম দুই চরণ, ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই/ কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো সেই’ রচিত হলো কয়েক মুহূর্তেই। তবে সম্পূর্ণ গানটি সময় নিয়েই রচনা করেছিলেন গৌরীপ্রসন্ন।)
পাঁচ নম্বর স্তবকে পাঁচ নম্বর চরণে “ম্যানেজার” শব্দের বদলে “অ্যামেচার” হবে।
সুরকার “স্বপন” নন “সুপর্ণ”।
কই সব তো ঠিকই আছে
একদম সঠিক
কালজয়ী গান। আমি গাইতাম বলে আমার ছেলের ৩ বৎসর বয়সে সেটা গাইতে শিখেছে।
ধন্যবাদ রাজীব। ভুল সংশোধন করা হয়েছে।
Shundor posting (for Coffee House). Dhonnobaad.
Ekta banan ichche korle thik kore dite paren (jodio emon kichu bhul noy).
Shaata peyala ajo (typed ojo in Bangla)
Thanks for lyrics
তার সব গান সুন্দর।কিজানি একটা ছিল যে বুকের উড়না …….. ভুলে গেছি।
আমার এ গনটা অনেক ভাল লাগে । যত বার শুনেছি তত বারি ভাল লেগেছে ।.
ধন্যবাদ,গানটা আমার অনেক প্রিয়
ধন্যবাদ,গানটা আমার অনেক প্রিয়
“চারটেতে শুরু হয়ে ” এখানে “করে ” হবে । সুতারাং , ” চারটেতে শুরু করে” সঠিক । এছাড়া,” কত স্বপনের রোদ ওঠে” এখানে ” স্বপনের ” বানানে “প” এর নিচে হসন্ত হবে ।
ধন্যবাদ।
কফি হাউজে আর কখনও দেখা যাবে না প্রিয় গায়ক মান্না দে-কে!আমি তাকে প্রচন্ড মিস করছি।তুমি আবার এই বাংলার কফি হাউজে ফিরে এস…………..
পছন্দ মতো গান