০৬. রিরার জ্ঞান ফিরে আসে

খুব ধীরে ধীরে রিরার জ্ঞান ফিরে আসে। মহাকাশযানের ভেতর সব সময়ই অল্প কম্পনের একটা শব্দ হতে থাকে। সেই শব্দটা এখন নেই। যে শক্তিশালী কুরু ইঞ্জিনটি মহাকাশযানটিকে উড়িয়ে নিয়ে এসেছে, এই প্রথমবার সেই ইঞ্জিনটি বন্ধ হয়ে গেছে, হঠাৎ করে পুরো মহাকাশযানে একটি বিস্ময়কর নৈঃশব্দ্য নেমে এসেছে। রিরা মনে করতে চেষ্টা করে সে কোথায়, তার কী হয়েছে। সে মহাকাশযানটিকে অবতরণ করানোর চেষ্টা করছিল, মহাকাশযানের বিশাল দুটি পাখা বের হয়ে এসেছিল, খুব ধীরে ধীরে সেটি নেমে আসছিল, ঠিক তখন এক ভয়ংকর বিস্ফোরণের শব্দ হল–

হঠাৎ রিরার সব কথা মনে পড়ে যায়, লাফিয়ে উঠে বসে সে। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে ক্যাপ্টেনের ঘরে নরম বিছানায় শুয়ে আছে সে। কে এনেছে তাকে এখানে?

রিরা বিছানা থেকে নামার চেষ্টা করে হঠাৎ মুখ থুবড়ে নিচে পড়ে গেল, অবাক হয়ে আবিষ্কার করল তার দুই পা শেকল দিয়ে বাধা। রিরা হতচকিত হয়ে নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে, কে তাকে বেঁধে রেখেছে এখানে? রিরা কাপা গলায় ডাকল, প্রসেসর… প্রসেসর…।

ক্যাপ্টেনের ঘরে প্রসেসর শুষ্ক গলায় উত্তর দিল, বলো রিরা।

আমাকে কে বেঁধে রেখেছে?

তুমি যথেষ্ট বুদ্ধিমতী মেয়ে, তোমার এটি জানার কথা।

নীলমানব?

হ্যাঁ। আমি বলেছিলাম তাকে হত্যা করতে তুমি রাজি হলে না। এখন তার মূল্য দিচ্ছ।

সে কেমন করে বের হল?

মহাকাশযানটি যখন বিধ্বস্ত হয়েছে, তখন তার ঘরের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে তখন তার দরজা ভেঙে বের হয়ে এসেছে।

কিন্তু… তার পায়ে গুলি লেগেছিল?

মূল প্রসেসর একমুহূর্ত অপেক্ষা করে বলল, সে খুঁজে খুঁজে মেডিক্যাল কিট বের করে পায়ে ব্যান্ডেজ করেছে। যন্ত্রণা কমানোর জন্য নিথিলিন ইনজেকশন নিয়েছে, তারপর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে হেঁটে সবকিছু করেছে।

রিরা বড় বড় দুটি নিশ্বাস ফেলে বলল, আমাকে টেনে বের করে এনেছে?

হ্যাঁ, তুমি একটা বিমের নিচে আটকা পড়েছিলে, অনেক কষ্ট করে সেই বিমের নিচে থেকে টেনে বের করে এনেছে।

তুমি বলেছিলে সে আমাকে গুলি করে মারবে।

মূল প্রসেসর ধাতব গলায় বলল, তার সময় এখনো শেষ হয়ে যায় নি। তুমি ভুলে যেও না তোমার দুই পা শিকল দিয়ে বাধা। তোমাকে হত্যা করতে তার এক সেকেন্ড সময়ও লাগবে না।

কিন্তু—

মূল প্রসেসর রিরাকে বাধা দিয়ে বলল, নীলমানব এদিকে আসছে।

রিরার গলার স্বর কেঁপে উঠল, সে কি সশস্ত্র?

হ্যাঁ। তার হাতে একটা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র।

রিরা একটা বড় নিশ্বাস নিয়ে তার বিছানায় গিয়ে বসে। একটু আগেই নীলমানব ছিল তার হাতে বন্দি, এখন সে নীলমানবের হাতে বন্দি।

খুট করে একটা শব্দ হল, তারপর খুব ধীরে ধীরে দরজা খুলে গেল। রিরা তাকিয়ে দেখল ঘরের দরজায় দীর্ঘদেহী নীলমানবটি পাথরের মতো মুখ করে তাকিয়ে আছে। তার ডান হাতে আলগোছে একটা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ধরে রাখা। রিরা তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, তুমি আমাকে কেন শেকল দিয়ে বেঁধে রেখেছ?

নীলমানবটি তার কথা বুঝতে পারল কি না বোঝা গেল না, কিন্তু সে উত্তর দেবার কোনো চেষ্টা না করে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। রিরা উচ্চকণ্ঠে ডাকল, প্রসেসর… প্রসেসর…

বলো।

তুমি কি নীলমানবের ভাষা জান?

জানি।

তুমি আমার প্রশ্নটি অনুবাদ করে দাও।

রিরা শুনতে পেল কোনো একটি বিজাতীয় ভাষায় প্রসেসর তার প্রশ্নটি অনুবাদ করে দিচ্ছে। প্রশ্নটি শুনে নীলমানব খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকল, তারপর কিছু একটা উত্তর দিল। রিরা জিজ্ঞেস করল, কী বলেছে সে?

প্রসেসর বলল, সে বলেছে তুমি যে কারণে আমাকে বন্দি করে রেখেছিলে, আমি ঠিক সেই কারণে তোমাকে বন্দি করে রেখেছি।

রিরা চিৎকার করে বলল, তাকে বলল এটা আমাদের মহাকাশযান তার না। আমার তাকে বন্দি করে রাখার অধিকার আছে। তার নেই।

মূল প্রসেসর রিরার কথাটির অনুবাদ করে শুনিয়ে দিল এবং তখন প্রথমবার নীলমানবটিকে হাসতে দেখল। নীলমানবটির চেহারা নিষ্ঠুর কিন্তু হাসার সময় এটা রিরা স্বীকার না করে পারল না সে অত্যন্ত সুদর্শন।

নীলমানবটি কিছু একটা বলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে উদ্যত হল। রিরা জিজ্ঞেস করল, কী বলেছে সে?

তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।

কিন্তু আমি শুনতে চাই।

সে বলেছে তোমার কথাবার্তা অল্পবয়সী শিশুর মতো।

রিরা নিশ্বাস আটকে রেখে বলল, তাই বলেছে?

হ্যাঁ।

তাকে বলে এই মুহূর্তে আমার পায়ের শেকল খুলে দিতে।

বলে কোনো লাভ হবে না রিরা।

লাভ না হলে নাই। তাকে বলো।

মূল প্রসেসর নীলমানরটিকে তার ভাষায় শেকল খুলে দিতে বলল। সাথে সাথে নীলমানবের মুখমণ্ডল কঠোর হয়ে ওঠে, হাতের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ঝাঁকিয়ে কিছু একটা বলে, সে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। রিরা জিজ্ঞেস করল, কী বলেছে নীলমানব?

বলেছে অর্থহীন কথা বলে শক্তিক্ষয় না করতে। তাই বলেছে?

হ্যাঁ। তারপর বলেছে এই মুহূর্তে তোমাকে হত্যা করার তার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু তুমি যদি বাড়াবাড়ি কর, তা হলে সে তার মত পরিবর্তন করতে পাবে।

রিরার ভেতরে এক ধরনের অক্ষম ক্রোধ পাক খেতে থাকে। সে দাতে দাঁত ঘষে বলল, সে এখন কোথায় যাচ্ছে? কী করছে?

সব সময় যা করে।

সব সময় কী করে?

মহাকাশযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। যত জায়গা ভেঙেচুরে গেছে সেগুলো বন্ধ করছে। অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কেন?

কেউ যেন ঢুকতে না পারে।

রিরা নিশ্বাস বন্ধ করে বলল, কে ঢুকবে এখানে?

তোমাকে আগেই বলেছি, এখানে বুদ্ধিহীন নৃশংস ভয়ংকর এক ধরনের প্রাণী থাকে।

রিরা মাথা নাড়ল, বলল, হ্যাঁ, তুমি বলেছিলে। এখন সেটা খুব কাছের ব্যাপার হয়ে গেছে।

রিরা বিষদৃষ্টিতে তার পায়ের শেকলের দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর দুই হাতে ভর দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। ক্যাপ্টেনের ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, প্রসেসর।

বলো।

এই গ্রহের কি কোনো নাম আছে?

আগে ছিল। এখন নেই, এখন শুধু একটি সংখ্যা।

এই গ্রহের প্রাণীগুলো কী রকম তুমি জান?

না, জানি না।

কিছুই জান না?

না, কিছুই জানি না। মহাকাশযানটা যখন বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে নামিয়ে এনেছ, তখন প্রচণ্ড উত্তাপে বাইরের দিকের সবকিছু জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে গেছে। সেখানে আমাদের সব সেন্সর ছিল। সেন্সরগুলো থাকলে আমি এই গ্রহটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে পারতাম। এখন আমি কিছু করতে পারি না, কিছু দেখতে পারি না।

শুধু মহাকাশযানের ভেতরে দেখতে পার?

হ্যাঁ, মহাকাশযানের ভেতর্বকার ক্যামেরাগুলো নষ্ট হয় নি—ভেতরে দেখতে পারি।

রিরা একটা নিশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করল, নীলমানব এখন কী করছে?

এতক্ষণ মহাকাশযানের সামনে দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল। কয়েকটা। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বসিয়ে এসেছে। এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পিছন দিকে যাচ্ছে, ঘাড়ে করে বেশ কয়েকটা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছে।

তুমি বলতে চাও নীলমানবটা কোনো বিশ্রাম নেয় না?

না।

খায় না?

না, এখনো খেতে দেখি নি।

ঘুমায় না?

এখনো ঘুমায় নি।

রিরা কোনো কথা না বলে ছাদের দিকে মাথা রেখে দুই হাতের উপর শুয়ে রইল।

নীলমানব খায় না বা ঘুমায় না—কথাটা পুরোপুরি সত্যি নয়। ঘণ্টা ছয়েক পরে সে একটা খাবারের ট্রে নিয়ে হাজির হল। মেঝেতে রেখে সে ট্রেটা পা দিয়ে রিরার দিকে ঠেলে দিল। রিরা চাপা গলায় বলল, প্রসেসর।

বলো।

ওকে বলো একজন মানুষকে পা দিয়ে খাবার ঠেলে দেওয়া যায় না। সেটা অসম্মানজনক।

বলে লাভ নেই।

কেন?

সে এসব বোঝে না। নীলমানদের কালচার মানুষের কালচার থেকে ভিন্ন।

হোক। রিরা পাথরের মতো মুখ করে বলল, তুমি ওকে বলো একজন মানুষকে তার খাবার পা দিয়ে ঠেলে দেওয়া যায় না।

প্রসেসর বিজাতীয় ভাষায় কিছু একটা বলল এবং নীলমানবকে হঠাৎ একটু বিভ্রান্ত দেখায়। সে কয়েক মুহূর্ত একটা কিছু ভাবল, তারপর হাতের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটি তাক করে রিরার দিকে এগিয়ে এল। রিরার কাছাকাছি এসে সে খাবারের ট্রেটা হাতে নিয়ে রিরার দিকে এগিয়ে দেয়, নিচু গলায় বলে, অনুগ্রহ করে। কিশিমারা।

রিরা স্থিরদৃষ্টিতে কিছুক্ষণ নীলমানবটির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, কুগুরা। ধন্যবাদ।

নীলমানবটি দুই পা পিছনে সরে গিয়ে হেলান দিয়ে বসে রিরার দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। রিরা খাবারের ট্রেটির দিকে তাকাল, একজন মানুষ যতটুকু খেতে পারে খাবার তার থেকে অনেক বেশি। নীলমানবদের খাবারের অভ্যাস নিশ্চয়ই অন্যরকম, কারণ ট্রেতে প্রোটিনের পরিমাণ অনেক বেশি। রিরা যেটুকু খেতে পারবে, আলাদা করে সরিয়ে বার্কি খাবারসহ ট্রেটা নীলমানবটির দিকে এগিয়ে দেয়। নীলমানটা অনিশ্চিতভাবে কিছুক্ষণ রিরার দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর এগিয়ে এসে খাবারের ট্রেটা হাতে নেয়। রিরা যখন খেতে শুরু করল তখন নীলমানবটিও খৈতে শুরু করল। নীলমানবের খাবারের ভঙ্গিটুকু এক বিচিত্র, খাবারের টুকরো যত ছোটই হোক কিংবা যত বড়ই হোক সেটা সে দুই হাতে ধরে খায়। কে জানে এর পেছনে হয়তো কোনো সংস্কার রয়েছে। তবে রিরার কৌতূহলটি হল অন্য ব্যাপারে, যে কোনো কারণেই হোক নীলমানবটি বসেছে তার কাছাকাছি, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটা রেখেছে এমন জায়গায় যে রিরা ইচ্ছে করলে সেটা ধরে ফেলতে পারে। রিরা খেতে খেতে পুরো ব্যাপারটা একটু ভেবে দেখল নীলমানবটি কিছু সন্দেহ করছে না, অন্যমনস্কভাবে খাবার মুখে তুলছে। রিরা বাম হাত দিয়ে ইচ্ছে করলেই এক ঝটকায় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটা তুলে নিতে পারে সাথে সাথে এই মহাকাশযানে পুরো সমীকরণটি পাল্টে যাবে। যদি তুলতে না পারে তা হলে একটা ঝামেলা হতে পারে কিন্তু সেটা নিয়ে এখন চিন্তা না করাই ভালো। রিরা চোখের কোনা দিয়ে নলিমানবটিকে লক্ষ করল এবং যখন সে দু হাতে এক টুকরো প্রোটিন হাতে নিয়েছে রিরা তখন ঝাঁপিয়ে পড়ল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটির ওপর।

নীলমানবটি হকচকিয়ে গিয়ে যখন কী হচ্ছে বুঝতে পেরেছে তখন খুব দেরি হয়ে। গেছে। রিরার হাতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং ট্রিগারে আঙুল। সে হিংস্র গলায় বলল, দুই হাত উপরে নীলমানব।

নীলমানবটি কী করবে বুঝতে পারছিল না, রিরা তখন অধৈর্য গলায় চিৎকার করে উঠল, হাত উপরে।

নীলমানবটি ইতস্ততভাবে হাত উপরে তুলল। রিরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ঝাকুনি দিয়ে বলল, দেয়ালের কাছে যাও। নীলমানবটি বিভ্রান্ত হয়ে দুই হাত উপরে তুলে দেয়ালের কাছে এগিয়ে যায়। দেয়ালে হেলান দিয়ে সে এক ধরনের বিস্ময় নিয়ে রিরার দিকে তাকিয়ে রইল।

প্রসেসর হঠাৎ শিস দেওয়ার মতো একটা শব্দ করে বলল, চমৎকার।

রিরা কোনো কথা বলল না। প্রসেসর আবার বলল, গুলি কর রিরা। অস্ত্রটি তার হৃৎপিণ্ডের দিকে তাক করে গুলি কর। তুমি আরো একবার সুযোগ পেয়ে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আর এই সুযোগ পাবে না।

রিরা অস্ত্র তাক করে দাঁড়িয়ে রইল, প্রসেসর আবার বলল, গুলি কর রিরা। গুলি

কর।

রিরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটি নিজের পায়ের দিকে তাক করে শেকল লক্ষ করে গুলি করল, বন্ধ ঘরের মাঝে ভয়ংকর শব্দে সেই অস্ত্রের বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠল। নীলমানব নিষ্পলক দৃষ্টিতে রিরার দিকে তাকিয়ে রইল, প্রসেসর আবার বলল, রিরা, গুলি কর। হত্যা কর নীলমানবকে।

রিরা নিজেকে মুক্ত করে নীলমানবের দিকে এগিয়ে গেল, পায়ে বাধা শেকলের অংশ নূপুরের মতো শব্দ করে ওঠে। প্রসেসর চাপা গলায় বলল, দেরি করো না, রিরা। এই সুযোগ আর তুমি পাবে না।

রিরা এক মুহূর্ত দ্বিধা করে তারপর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটি নীলমানবের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, নাও।

নীলমানবটি এক ধবনের বিস্ময় নিয়ে রিরার দিকে তাকিয়ে থাকে, এখনো সে বিশ্বাস করতে পারছে না রিরা কী করতে চাইছে। রিরা আবার বলল, নাও।

নীলমানবটি নিজের বুকে হাত দিয়ে বলল, আমি অস্ত্র?

হ্যাঁ, আমি তোমাকে এই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটি দিচ্ছি। আমি আমার পায়ের শেকল খোলার জন্য নিয়েছিলাম, শেকল খুলেছি, এখন আর প্রয়োজন নেই। তোমার অস্ত্র তুমি নাও।

নীলমানব কী বুঝল কে জানে, সে হাত বাড়িয়ে অস্ত্রটি নিল এবং হঠাৎ হেসে ফেলল। ঝকঝকে সাদা দাঁত এবং এক ধরনের ভালো মানুষের মতো হাসি—রিরা হঠাৎ আবার বুঝতে পারে নীলমানবটি অসম্ভব রূপবান।

নীলমানবটি অস্ত্র হাতে নিয়ে কয়েক মুহূর্ত আড্রষ্টের মতো দাঁড়িয়ে থাকে, সেটি কী করবে যেন বুঝতে পারে না। ইতস্তত করে সে দুই পা এগিয়ে বিছানার উপর অস্ত্রটি রেখে রিরার কাছে ফিরে এল, রিরা তার হাতটি বাড়িয়ে দিয়ে বলল, আমার নাম রিরা।

নীলমানবটি রিরার হাত ধরে নবম গলায় বলল, আমি কুশান।

তোমার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুশি হলাম কুশান।

কুশান বিড়বিড় করে কী যেন বলল, রিরা ঠিক বুঝতে পারল না। রিরা সেটা নিয়ে মাথা ঘামাল না, বলল, এই মহাকাশযানে অনেক লাল এবং নীল রক্তক্ষয় হয়েছে। সেটা যথেষ্ট। আশা করছি আমি এবং তুমি সেই নির্বুদ্ধিতার কথা ভুলে যাব।

নীলমানব তার নিজের বিজাতীয় ভাষায় কিছু একটা বলল, রিরা তার কিছু একটা বুঝতে পারল না। সে গলা উঁচিয়ে বলল, প্রসেসর।

বলে রিরা।

কশান কী বলেছে?

সে বলেছে তোমার গায়ের রঙ যদি পচা আঙুরের মতো না হত, তা হলে তোমাকে মোটামুটি সুন্দরী হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যেত।

রিরা কথাটি শুনতে পায় নি ভান করে হঠাৎ করে নিজের পায়ে বাধা শেকলের অংশগুলো খুলতে ব্যস্ত হয়ে গেল।