গোপন

গোপন

জয়াকে নামিয়ে দিয়ে ট্যাক্সিটা ঘুরিয়ে নেওয়ার একটু পরেই সব আলো নিভে গেল। একেবারে ঘুরঘুটি অন্ধকার। সঙ্গে-সঙ্গে প্রবল আপশোশের সঙ্গে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছন দিকে তাকাল রজত। আর পাঁচ মিনিট আগে লোডশেডিং হতে পারত না? নেমে যাওয়ার সময় জয়া তার হাতটাও ছুঁতে দেয়নি। জয়া ভয় পায়। ভয় ঠিক নয়। লজ্জাও নয়। এক ধরনের অস্বস্তি। এ-পাড়ার একটি যুবককে জয়া প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই অবনীর সামনে সে রজতের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা দেখাতে চায় না! ট্যাক্সির মধ্যেও জয়া খানিকটা দূরত্ব রেখে বসে। তা বসুক। রজত তো আর ট্যাক্সির মধ্যে জয়াকে চুমু খেতে চায় না। কিন্তু বিদায় নেওয়ার সময় একটুখানি হাতের সঙ্গে হাতের স্পর্শ…

একটু আগে লোডশেডিং হলে রজত জয়ার একটা হাত ধরে নাকের কাছে আনত। জয়ার হাতেরও একটা সুগন্ধ আছে।

এখন আর কোথাও যাওয়ার নেই। রজত বাড়িতেই ফিরবে।

রজতদের পাড়াটাও অন্ধকার। আজ সন্ধেবেলা বাতাসেরও তেজ নেই, বাড়ি ফিরে অন্ধকারে ভূত হয়ে থাকতে হবে। একটা ইনভার্টার কেনা খুবই দরকার, কিন্তু নতুন বাড়িতে যাওয়ার আগে এনে লাভ নেই, শুধু-শুধু লাইন পালটাবার ঝামেলা।

ট্যাক্সিটা গলির মধ্যে ঢুকতে চাইল না। ঝগড়া করার ইচ্ছে নেই রজতের। সে ভাড়া মিটিয়ে নেমে পড়ল। এখন তাকে হিসেব করে হাঁটতে হবে ফুটপাথের কোথায়-কোথায় ভাঙা তা প্রায় তার মুখস্থ, ডান পাশে দুটো হাইড্রান্টের ঢাকনা নেই। ফুটপাথের এক দিকে ঘেঁষে পাড়ার ছেলেরা গাছ লাগিয়েছে। কিছুই দেখা যায় না।

রজতের বেশি ভয় কুকুরদের। ভুলে গায়ে পা পড়লেই কামড়ে দেবে। গ্রামের রাস্তায় অন্ধকারে যেমন সাপের ভয়, কলকাতায় তেমনি কুকুর। ওরা যেখানে সেখানে শুয়ে থাকে।

খানিক আগে রজত তার বান্ধবীর সঙ্গে আমেজময় সময় কাটিয়েছে, এখন সে কুকুরের ভয়ে সিঁটকে হাঁটছে। একই অন্ধকার, যদি সে এখন জয়ার পাশে বসে থাকত। এই অন্ধকারই স্বর্ণাভ বাঙময় হয়ে উঠত।

সদর দরজাটা খোলা। রজত ভেতরে পা দিতেই সিঁড়ির নীচে কী যেন খচর-খচর করে উঠল রজতের। সে চোর-গুন্ডার কথা ভাবল না। তার মনে হল, রাস্তার কুকুর!

পুরোনো আমলের ফ্ল্যাটবাড়ি। এক সময় দরজার কাছে একজন দারোয়ান থাকত, এখনও সে আছে বটে, কিন্তু তার কাজের ঠিক নেই। এ-বাড়ির দেওয়ালে প্লাস্টার, চুন-বালি খসে খসে পড়ছে, কিন্তু এ-বাড়ির মালিকের কোনও মায়া নেই বাড়ি সম্পর্কে। সিঁড়ির রেলিং দু-এক জায়গায় বিপজ্জনকভাবে ভাঙা কিন্তু পুরোনো ভাড়াটেদের অসুবিধের দিকগুলো দেখতে যাবে কেন?

যদি সিঁড়ির ধাপেও কোনও কুকুর শুয়ে থাকে? রজতের মাথায় খেলে গেল চোদ্দোটি ইঞ্জেকশানের কথা; এ-পাড়ার একটি ড্রাইভারকে নিতে হয়েছে কয়েকদিন আগেই।

নিঃসাড়ে একটুখানি দাঁড়িয়ে থাকার পর রজত পকেট থেকে লাইটার বার করে জ্বালল। সিঁড়ির মুখটা পরিষ্কার, কিন্তু সিঁড়ির নীচে কিছু আছে।

রজত আবার চমকে উঠল। কুকুর নয়, একটি রমণী। জোড়াসনে সোজা হয়ে বসে স্থিরভাবে চেয়ে আছে রজতের দিকে। একরাশ কালো চুলের পটভূমিকায় শুধু দেখা যাচ্ছে তার মুখখানা।

লাইটার বেশিক্ষণ জ্বালিয়ে রাখলে সেটা গরম হয়ে যায়। নিভিয়ে দিয়ে রজত কয়েক মুহূর্ত বিমূঢ় হয়ে রইল! সে কি ভুল দেখছে? বাইরের কোনও ভিখিরি-টিখিরি এসে এরকম একটা বারোয়ারি বাড়ির সিঁড়ির নীচে আশ্রয় নেওয়া বিচিত্র কিছু নয়। কিন্তু রজতের মনে হল, এরকম অসাধারণ। সুন্দরী সে আগে কখনও দেখেনি।

আবার লাইটার জ্বেলে রজত দেখল সেই রমণীটি সেইরকম একই ভঙ্গিতে চেয়ে আছে। রজতের দৃষ্টি বিভ্রম নয়। সত্যিই সে সুন্দরী। এবার তার কাছাকাছি অন্ধকার থেকে শোনা গেল ওঁয়া ওঁয়া করে একটা বাচ্চার কান্না।

রজত আর দাঁড়াল না। সে এ-বাড়ির ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামায় না। সিঁড়ির নীচে যে খুশি এসে আশ্রয় নিক, তাতে তার কী যায় আসে? আর দু-মাসের মধ্যেই সে এ-বাড়ির মালিককে একেবারে হতবাক করে দিয়ে নিঃশর্তে তার ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যাবে।

রজত উঠে এল তিনতলায়। দাদা, বউদি তাদের দুই ছেলে মেয়ে, মা, একজন কাজের লোক, অথচ সব মিলিয়ে ঘর মাত্র আড়াইখানা। সবচেয়ে ছোট ঘরখানা রজতের। এই ঘরে জয়াকে আনা যায় না।

মোমবাতির আলোয় জামা-প্যান্ট ছেড়ে রজত বাথরুমে গিয়ে চোখে-মুখে জল দিল। কয়েকদিন ধরে বেশ জমপেশ করে গরম পড়ছে। বঙ্গোপসাগরের বাতাস আসছে না। এখন কালবৈশাখীর সময়, কিন্তু সেই ঝড়ও নিরুদ্দেশ।

নিজের ঘরে ফিরে রজত রাস্তার দিকের জানলাটা খুলে দিল। অন্ধকারের মধ্যেও লোকজনের চলাফেরার বিরাম নেই। একসময় এ-বাড়িটার সামনে অনেকখানি খোলা জায়গা ছিল। এখন ঘেঁষাঘেঁষি অনেক বাড়ি উঠে গেছে।

রজত ভুরু কুঁচকে ভাবল। অস্পষ্ট আলোয় দেখা ওই সুন্দরী রমণীটি কে? ঠিক যেন টিশিয়ানের আঁকা একটা ছবি। এমন এক সুন্দরী এলে সিঁড়ির নীচে বসে থাকবে কেন? কী গভীর কালো চোখে সে তাকিয়েছিল রজতের দিকে।

মোমবাতির আলোয় বই পড়া যায় না। টি.ভি, দেখা যাবে না। ক্যাসেট প্লেয়ারটিতে ব্যাটারি ভরা নেই। তাহলে এই সন্ধে সাড়ে সাতটায় তুমি আর কী করতে পারো?

রজত একটা সিগারেট ধরিয়ে শুয়ে পড়ল।

কয়েকদিন আগে এই ঘরের শিলিং থেকে হুড়মুড় করে বেশ বড় একটা চাঙর ভেঙে পড়েছিল। বেশ বিপজ্জনক ব্যাপার। ঘুমের মধ্যে আচমকা এরকম মাথায় এসে পড়তে পারে বলে রজত মশারি টাঙিয়ে শোয়। বাড়িওয়ালা তো কিছু করবে না। দাদাও এ-ফ্ল্যাট সারাবার জন্য একটা পয়সাও খরচ করতে রাজি নয়। চাকরি বদল করে দাদা সপরিবারে চলে যাচ্ছে ব্যাঙ্গালোরে। আগামী মাসে। রজতও একটা সরকারি অ্যাপার্টমেন্ট পেয়ে যাচ্ছে আয়রন সাইড রোডে। খুব সুন্দর সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। মাকে নিয়ে সে ওখানে উঠে যাবে। তারপর জয়া আসবে।

সিঁড়ির নীচে একজন রহস্যময়ী বসে আছে। সঙ্গে একটা শিশু।

কিছুক্ষণ বাদে রজত খেয়াল করল, ঘুরে ফিরে ওই রমণীটির মুখখানা বারবার ভেসে উঠছে তার চোখের সামনে। সে জয়ার কথা ভাবছে না। এই রহস্যটা ভাঙা দরকার।

একটা টর্চ নিয়ে নীচে নামার জন্য তৈরি হতেই আলো জ্বলে উঠল। যাক ভালোই হল, টর্চ নিয়ে নীচে নামতে গেলে মা হয়তো কৌতূহলী হয়ে কারণটা জানতে চাইতেন। এখন রজত সিগারেট কেনার ছুতো করে যেতে পারে।

উজ্জ্বল আলোয় রহস্য অনেকটা কেটে যেতে বাধ্য। সেই রমণীটি এখনও সেখানে বসে আছে। বটে, কিন্তু বিশেষ বিস্ময়ের কিছু নেই। লাইটারের শিখায় শুধু ওর মুখখানি দেখতে পেয়েছিল। এখন চড়া আলোয় বোঝা গেল, সে ভদ্দরলোক শ্রেণির নয়, লাল ফুল ছাপ শাড়ি পরা একজন। দেহাতি স্ত্রীলোক। ঈষৎ পাশ ফিরে বসে সে বাচ্চাটিকে স্তন পান করাচ্ছে। রজতের পায়ের শব্দ শুনে সে একবার শুধু মুখ ফিরিয়ে তাকাল।

রজত একেবারে ভুলে দেখেনি। যে-কোনও বিচারেই মেয়েটাকে যথেষ্ট রূপসী বলা যায়। টানা টানা চোখ, টিকোলো নাক, প্রশস্ত কপাল, সম্পূর্ণ ভরা নদীর মতন স্বাস্থ্য। শুধু মুখে একটা ভয়। মাখানো সারল্যের জন্যই গ্রাম্যতার ছাপটা বোঝা যায়। এই নারী এখনও শহর চেনে না।

রজত আর বেশি কৌতূহল দেখাল না। বাড়ি থেকে বেরিয়ে সিগারেট কিনতে গেল। ফিরে আসার সময় সে আবার স্ত্রীলোকটির দিকে একঝলক না তাকিয়ে পারল না। তার মনে হল, গ্রাম কিংবা পাহাড় অঞ্চলের এই স্বাস্থ্যবতী তরুণীটি কেন শহরে এসে সিঁড়ির তলায় এমনভাবে বসে থাকে? প্রকৃতি কি তার সন্তান সন্ততিদের ধরে রাখতে পারে না?

রাত্তিরবেলা জয়ার মুখের পাশাপাশি এ মুখখানা রজত দেখল অনেকবার।

পরদিন রহস্যটা একেবারেই পরিষ্কার হয়ে গেল।

ষাট-সত্তর বছর আগে কলকাতার বড়লোক শ্রেণি বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দেওয়াটা একটা লাভজনক ব্যাবসা মনে করত। তখন এত রকম ট্যাকসের ঝামেলা ছিল না। তখন এইসব ফ্ল্যাট বাড়ির ব্যবস্থাও বেশ ভালো ছিল, ঝি, চাকর, দারোয়ানদের আলাদা ঘরের ব্যবস্থা ছিল, ছেলেমেয়েদের খেলবার সেই জায়গাটিতে এখন গাড়ি সারাবার কারখানা হয়েছে।

এ-বাড়ির দারোয়ান ছিল হীরালাল। বয়স তার বেশি নয়, চল্লিশের নীচেই হবে, কিন্তু প্রায়ই অসুখে ভুগত সে। একবার ছুটি নিয়ে দেশে গেল, ছমাসের মধ্যে আর ফিরল না। এ-বাড়ির মালিক তার ঘরখানাও ভাড়া দিয়ে দিল একজন দোকানদারকে। হীরালাল ফিরলে তাকে জানানো হল যে তার আর চাকরি নেই।

হীরালাল তবু গেল না। সে বিনা মাইনের দারোয়ানগিরি চালিয়ে যেতে লাগল। শুয়ে থাকে তারই আগেকার কোয়ার্টারের বারান্দায়। তার অসুখও সারেনি। চেহারাটা শুকিয়ে অর্ধেক হয়ে গেছে,

সবসময় খকখক করে কাশে। যেহেতু অন্য কোনও দারোয়ান আর নিয়োগ করা হয়নি বাড়ির মালিক হীরালালকেও মাইনে দেবে না। ভাড়াটেরা দয়া করে প্রত্যেকে ওকে মাসে পনেরো কুড়িটাকা করে দেয়। কারুর বাড়িতে রান্না বেশি হলে হীরালালকে ডাকে।

সেই হীরালাল আবার দেশে গিয়ে নিয়ে এসেছে তার বউ আর দুটি বাচ্চাকে। বউকে তো আর বারান্দায় বেআব্রু অবস্থায় রাখা যায় না। পুরোনো বাড়ি, সিঁড়ির নীচে অনেকটা জায়গা প্রায় একটা ছোটখাটো ঘরের মতন।

আর তো সবই ঠিক ছিল, কিন্তু রুগ্ন, বুড়োটে চেহারার হীরালালের এমন স্বাস্থ্যবতী যুবতী বউ থাকবে কেন? এটা ঠিক যেন মেনে নেওয়া যায় না। যোগ্য প্রহরী না থাকলে এরকম যৌবন। অনেক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

এ-বাড়ির ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামায় না রজত। সে সকালে বেরিয়ে যায়, সন্ধের পর ফিরে নিজের ঘরে বসে থাকে। অন্য ফ্ল্যাটের লোকজনদের সঙ্গে মেলামেশা করে না কখনও। সুতরাং অন্য ভাড়াটেরা হীরালালের বউকে নিয়ে কী আলোচনা করছে তা রজতের জানার কথা নয়।

যাওয়া আসার পথে সে শুধু মেয়েটিকে একবার করে দেখে। দিনেরবেলা মেয়েটি প্রায় অধিকাংশ সময় মাথায় ঘোমটা দিয়ে থাকে। সিঁড়ির তলায় ওই কুঠুরি থেকে ওকে কখনও বেরুতেও দেখে না রজত। অমন যৌবন নিয়েও অন্য কোনও পুরুষকে প্রলুব্ধ করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা নেই তার।

মেয়েটিকে দেখে রজত প্রত্যেকবার এক ধরনের বিরক্ত বোধ করে। চোখের সামনে একটা কিছু অন্যায় দেখেও যখন প্রতিকার করা যায় না, তখন মানুষের মনে এরকম আত্ম-বিরক্তি আসে। এই রমণীটি দিনের-পর-দিন ওই অন্ধকার সিঁড়ির তলায় জীবন কাটাবে। ওর সুন্দর স্বাস্থ্যটি তা হলে অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে। এটা একটা অন্যায় না? কিন্তু এ বিষয়ে রজতের কোনও কথা বলার উপায় নেই।

প্রথম দিন লাইটারের কাঁপা কাঁপা আলোয় মেয়েটির মুখখানা দেখে রজতের যে অসাধারণ সুন্দর মনে হয়েছিল, সে ছবিটি তার চোখ থেকে এখনও মুছে যায়নি। দিনের আলোতেও সে সুন্দর। একদিন মেয়েটিকে উঠে দাঁড়ানো অবস্থায় সে দেখল, রজত একবার চোখ ফিরিয়ে নিয়েও আবার তাকাল। মেয়েটি বেশদীর্ঘাঙ্গী, তার কোমরের নিখুঁত ভাঁজ দেখলে কোনারকের ভাস্কর্যের কথা মনে পড়ে। এর বয়স তিরিশ-বত্রিশের কম নিশ্চয়ই নয়। পরিপূর্ণ রমণী বোধহয় একেই বলা যায়।

হীরালালের বউয়ের নাম জানে না রজত। মনে-মনে ওর নাম দিয়েছে শঙ্করী। আপনে না পায় ঠাঁই শঙ্করাকে ডাকে এরকম একটা প্রবাদ আছেনা।

এক-একসময় রজতের মনে একটা অপরোধবোধও জাগে। সে যে প্রত্যেকদিন এ শঙ্করীকে দুবার করে দেখে যায়, তার মধ্যে কি লোভ আছে? জয়াকে সে ভালোবাসে, অথচ লোভ করছে অন্য রমণীর শরীর?

তারপর সে নিজেকে বোঝায়, লোভ নয়, সে দেখছে সৌন্দর্য। জয়াকে ভালোবাসে বলে সে সারাজীবন অন্য মেয়েদের দিকে তাকাতে পারবে না, এর কি কোনও মানে আছে? জয়াও তো। কত অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলে, হাসে, গল্প করে। এমনকি ওদের পাড়ার অবনী নামে যে ছেলেটিকে জয়া প্রত্যাখ্যান করেছে একবার, তার সঙ্গে জয়া কথা বলা বন্ধ করেনি। অবনীর। যাতে মনে আঘাত না লাগে, সেইজন্য জয়া রজতের পাশাপাশিও হাঁটে না।

রেডিয়ো স্টেশনে জয়ার একটা প্রোগ্রাম রেকডিং ছিল, রজত ওর জন্য অপেক্ষা করছিল বাইরে। জয়া বেরিয়ে আসার পর একসঙ্গে দুজন হাঁটতে লাগল রাজভবনের পাশ দিয়ে।

সন্ধের পর এদিকটা বেশ নিরালা থাকে। ইচ্ছে করলে হাতও ধরা যায়। আকাশের গুমোট দশা কেটেছে। প্রবল হাওয়া দিচ্ছে আজ, বারবার উড়ে যাচ্ছে জয়ার শাড়ির আঁচল।

এক-একবার রজতের চোখ চলে যাচ্ছে জয়ার নগ্ন কোমরের দিকে। জয়াকেও অনেকেই সুন্দরী বলে, তবে তেমন লম্বা নয়। জয়ার শরীর থেকে আসছে একটা সুন্দর গন্ধ।

তবু রজতের বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে শঙ্করীর কোমরের খাঁজ ও সুঠাম গড়ন। হীরালালদের বাড়ি দুমকা জেলায়, ওর স্ত্রীর ঠিক যেন পাথর কাটা মূর্তির মতন শরীর।

জয়ার সঙ্গে শঙ্করীর কোনও তুলনাই চলে না। জয়ার সৌন্দর্য শুধু তার শরীরে নয়, তার ব্যক্তিত্বেও। তার ব্যবহার, তার হাসি, তার গানের গলা, তার নম্রতা, যে-কোনও একটা কথা অর্ধেকটা শুনেই বুঝে ফেলার ক্ষমতা এইসব মিলিয়েই তো জয়া। সেই জয়াকে ভালোবাসে। রজত। জয়া যদি এর দ্বিগুণ সুন্দরী হত, অথচ বোকা হত, তাহলে সেই জয়াকে কিছুতেই রজত বিয়ে করতে রাজি হত না।

তবু জয়ার কোমরের দিকে বারবার চেয়ে রজত শঙ্করীর কোমরের সঙ্গে তুলনা না দিয়ে পারছে না। এই অদ্ভুত ইচ্ছেটার জন্য তার নিজের গালে চড় মারতেও ইচ্ছে করছে।

এই কথাটা জয়াকে বলা যাবে না। জয়ার সঙ্গে সে আকাশ-পাতাল কত রকম বিষয় নিয়ে গল্প করে, কোনও কিছুই গোপন থাকে না, কিন্তু হীরালালের বউয়ের প্রসঙ্গটা একবারও তোলা হয়নি। দুজনের কোমরের তুলনাটা মনে আসার পর এখন কেমন যেন সংকোচ হচ্ছে। আর বলা হল না। তাহলে, পৃথিবীতে সবচেয়ে যে কাছের মানুষ তার কাছেও সব কথা খুলে বলা যায় না।

মাসখানেক হয়ে গেল শঙ্করী এসেছে, এখন সে আর রজতকে দেখে তেমন লজ্জা পায় না। এক একসময় ঘোমটা খুলে রাখে। যদিও রজত ওর সঙ্গে এ পর্যন্ত একটাও কথা বলেনি, তবু দুজনের চোখের দৃষ্টিতে খানিকটা পরিচয়ের ভাব ফুটে ওঠে।

সিঁড়ির নীচেই শঙ্করী রান্না করে। ওখানে প্রায় একটা ছোটখাটো সংসার পেতে ফেলেছে। তার দুটি সন্তানের মধ্যে একটির বয়েস বছরছয়েক, অন্যটি দেড়-দু-বছরের বেশি না। বাচ্চা দুটো সামনের চাতালে খেলা করতে যায়। একদিন শঙ্করীকে পেছনের উঠোনের খোলা কল থেকে স্নান করে আসতে দেখেছিল রজত। কিন্তু সে শঙ্করীর ভেজা শরীরের দিকে একবার তাকিয়েই চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিল দ্বিতীয়বার তাকায়নি।

রজত নিজেকে পরীক্ষা করে। নিজের কাছে সে উত্তীর্ণ হয়ে যায়। শঙ্করীর শরীরের দিকে সে লোভের দৃষ্টি দেয় না। সে জয়াকে ভালোবাসে, অন্য নারীর প্রতি তার কোনও আকর্ষণ এখনও পর্যন্ত নেই। তবে, শঙ্করীকে দিনে দুবার অন্তত দেখার ইচ্ছেটা তার আছে ঠিকই। এরকম কোনও ভাস্কর্যের দিকেও সে বারবার তাকাত নিশ্চয়ই।

শঙ্করীও বোধহয় বুঝতে পারে রজতের দৃষ্টির মানে। তাই সে আর অযথা লজ্জা পায় না।

কোনওদিন হয়তো রজত ওখান দিয়ে যাওয়ার সময় হীরালালকে দেখতে পায়। দেওয়াল ঠেস দিয়ে পা ছড়িয়ে হীরালাল ছোট ছেলেটাকে কোলে নিয়ে আদর করে। আর মাঝে-মাঝে কাশে। কাশির অসুখটা আর তার গেলই না।

রজতকে দেখলে হীরালাল ডেকে কিছু না কিছু কথা বলার চেষ্টা করে। রজতরা ছেড়ে দিলে ওই ফ্ল্যাটটায় হীরালাল অন্য কোনও ভাড়াটে জোগাড় করে আনবে। তাতে তার কিছু টাকা পাওয়ার আশা আছে। সেই রোজগারের সম্ভাবনায় সে খুব উৎসাহিত। কিন্তু রজতের দাদা এর মধ্যে মত বদলে ফেলেছে। সে ব্যাঙ্গালোরে বদলি হলেও এই ফ্ল্যাটের দখল ছাড়বে না। নিতান্ত নির্বোধ ছাড়া কলকাতা শহরে মাত্র দুশো পঁচিশ টাকা ভাড়ায় ফ্ল্যাট কেউ কি ছাড়ে? দাদা এখানে তার শ্যালককে ঢুকিয়ে দিয়ে যাবে।

রজত সে কথা এখন ভাঙে না হীরালালকে আশায় রাখে। সে সময় শঙ্করী ভেতর দিকে সরে যায় না, রজতের দিকে সরাসরি তাকায়। এর মধ্যে একটু রোগা হয়েছে শঙ্করী, কিন্তু তার রূপ ঝরেনি। সে যে কত সুন্দর, তা কি সে নিজে জানে? হীরালালের সেরকম কোনও বোধ আছে বলে মনেই হয় না।

এই সিঁড়ির নীচের গহ্বরে আরও দু-পাঁচবছর থাকলে, আরও দু-তিনটে বাচ্চা হয়ে গেলে শঙ্করীও হয়ে যাবে অতি সাধারণ। তখন অবশ্য রজত আর তাকে দেখতে আসবে না।

একদিন রজত একটা সাংঘাতিক দৃশ্য দেখে ফেলল।

সেটা অফিসের দিন হলেও রজত বেরোয়নি। শরীরটা ম্যাজম্যাজ করছিল বলে সে শুয়েছিল প্রায় সারা দুপুর। গলায় বেশ ব্যথা, সিগারেট খাওয়া উচিত না, সে সিগারেট রাখেনি নিজের কাছে, কিন্তু এক সময় আর পারা গেল না।

তখন বেলা সাড়ে তিনটে। এ-বাড়ির ছেলেমেয়েরা স্কুল থেকে ফেরেনি, বাড়ি একেবারে নিঃসাড়। রবারের চটি পরে নেমে আসছিল রজত। পাজামার ওপর গেঞ্জি পরা, অবিন্যস্ত চুল, সে বেশ অন্যমনস্ক ছিল, হঠাৎ এক তলার কাছাকাছি এসে সে থমকে গেল।

রেলিং-এর ফাঁক দিয়ে সিঁড়ির নীচের জায়গাটা দেখা যাচ্ছে। শঙ্করীর বুকে শাড়ি নেই। ব্লাউজ খোলা, এক হাত দিয়ে ধরে আছে সে নিজের একটি খোলা স্তন।

রজত প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেনি। এটা কী ব্যাপার হচ্ছে নিজেই নিজেকে আদর করছে শঙ্করী? ওই স্তন, অমন সুগোল, মসৃণ, ঘুঘু পাখির মতো স্তন সত্যিকারের কোন নারীর হয়?

রজতের সমস্ত শরীর ঝিমঝিম করে উঠল! এই প্রথম সে যেন কোনও নারীর নগ্ন বুক দেখছে। তা ঠিক নয়। আগে সে দেখেছে কয়েকবার, কিন্তু আগেকার সব অভিজ্ঞতা এই বুকের কাছে তুচ্ছ।

শঙ্করী একহাতে নিজের একটি স্তন চেপে ধরেছে, তারপর সে অন্য হাতে একটি পেতলের বাটি এনে তার নীচে রাখল। ফোঁটা-ফোঁটা করে পড়তে লাগল দুধ।

এর আগে রজত দু-একবার দেখতে পেয়েছে যে শঙ্করী তার ছোটছেলেটাকে দুধ খাওয়াচ্ছে। তখন সে দেওয়ালের দিকে ফিরে বসে, ব্লাউজ খোলা থাকলেও শাড়ি দিয়ে এমন ঢাকাটুকি করা থাকে বলে বুক দেখা যায় না। কিন্তু আজ পুরো বুক খুলে সে বাটিতে স্তন্য দুধ রাখছে কেন?

রজত দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দু-মিনিট, তার সারা শরীর ঝাঁঝাঁ করছে, আজ সে দেখছে পুরোপুরি লোভীর মতন। ওই অপরূপ স্তনের দিকে তাকিয়ে শুধু সৌন্দর্য দর্শন নয়, সে ভোগ করছে যৌন রোমাঞ্চ। তার একবার মনে পড়ল জয়ার কথা। তবু সে সরে যেতে পারছে না। সে হেরে গেছে।

মুখখানা নীচু করে আছে শঙ্করী। তার একদিকে গাল, চিবুক, তার স্তনের ওপর আঙুল, সব মিলিয়ে একটা অবর্ণনীয় চিত্র, কোনও ছবিতেও এরকম আঁকা দেখেনি রজত।

ওপর তলায় একটা দরজা খোলার শব্দে রজত আবার কেঁপে উঠল। কেউ এসে পড়লে তাকে

এখানে চোরের মতন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ফেলবে। হ্যাঁ, অবিকল চোরের মতন। রজত এবার জুতোর শব্দ করে তরতরিয়ে নেমে গেল, নীচে গিয়ে এই প্রথম সেশঙ্করীর দিকে চাইল না। ছুটে বেরিয়ে গেল দরজা দিয়ে। সিগারেটের দোকানে গিয়ে প্যাকেটটা নিতে গিয়ে সে টের পেল, তখনও তার হাত কাঁপছে।

গেঞ্জি গায় দিয়ে তো রজত রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে পারবে না। তাকে বাড়ি ফিরতেই হবে। তবু বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সে একটা সিগারেট শেষ করল।

ভেতরে ঢুকেও সে আর সিঁড়ির নীচের দিকে তাকাবে না ঠিক করেছিল, কিন্তু একটা শব্দ শুনে চোখ ঠিক চলে গেল সেদিকে।

শঙ্করী একটা পাথরের ওপর নোড়া দিয়ে কী যেন বাটছে। মনে হয় কোনও শেকড়বাকড়। পাথরের ওপরটা সাদা হয়ে গেছে। শঙ্করী তার ওপর আবার পেতলের বাটি থেকে একটু দুধ ঢেলে দিল।

এখন শঙ্করীর ব্লাউজ বোতাম-আঁটা। শাড়ি ভালো করে বুকে জড়ানো, তবু যেন রজত আগেকার দৃশ্যটাই দেখছে। সে ওপরে উঠতে পারছে না।

ঘাড় ফিরিয়ে শঙ্করী দেখল রজতকে। লজ্জাভাবে হাসল।

এর আগে কোনওদিন কথা বলেনি রজত, আজ হঠাৎ মুখ থেকে বেরিয়ে এল একটা প্রশ্ন। ওটা কী করছ?

শঙ্করী ফিসফিসে গলায় বলল, দাওয়াই?

রজত আবার জিগ্যেস করল, কীসের দাওয়াই।

শঙ্করী বললে, খাঁসিকা দাওয়াই!

রজত বুঝল, স্বামীর জন্য কাশির ওষুধ বানাচ্ছে শঙ্করী। এই ওষুধের জন্য দুধ লাগে। এমনি দুধ কিনতে পারে না বলেই কি শঙ্করী বুকের দুধ মেশাচ্ছে? না, স্তনদুগ্ধই এই ওষুধের অনুপান?

রজতের মনে হল, আহা, আমি যদি হীরালাল হতাম!

এক মুহূর্তের জন্য এরকম মনে হওয়া। এর কোনও মূল্য নেই। ট্রেনে যেতে-যেতে কোনও একটা ছোট্ট, ছিমছাম স্টেশন দেখলে ইচ্ছে হয়, সারাজীবন এরকম একটা জায়গায় স্টেশনমাস্টার হয়ে কাটিয়ে দিলে বেশ হত। কিংবা মোষের পিঠে চড়ে কোনও সাঁওতাল বালককে নদী পার হতে দেখলে মনে হয়, আহা, আমার জীবনটা ওরকম হল না কেন? গ্রাম্য রথের মেলায় কাচের চুড়িওয়ালাকে দেখলেও এরকম মনে হয়। এই সবই বিলাসিতা। এরকম জীবন সত্যিই আমাদের দিলে আমরা নিতাম না।

জয়াকে যে ভালোবাসে, সেই রজত মোটেই হীরালালের স্ত্রীর স্তনে মুখ দিতে চায় না।

শঙ্করী পাথরের ওপর এক মনে ঘষতে লাগল সেই স্তন্য মেশানো শেকড়, সেদিকে চুম্বকের মতন দৃষ্টি আটকে গেছে রজতের। প্রায় জোর করেই যেন নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সে উঠে গেল ওপরে।

কিন্তু সারা বিকেল, সন্ধে সে বিদ্যুৎ ঝলকের মতন বারবার দেখতে লাগল শঙ্করীর নিজের স্তনে নিজের হাত দেওয়ার দৃশ্য।

পরদিন হীরালালের সঙ্গে দেখা দরজার বাইরে। ফ্ল্যাটটার ব্যাপারে সে খুবই আগ্রহী। রজত তাকে তার দাদার সঙ্গে ভজিয়ে দিতে পারলে বাঁচে। রজত নিজে শিগগিরই চলে যাচ্ছে, তার প্রায় সব ঠিক।

কথা বলার সময় সে লক্ষ করল, হীরালাল একবারও কাশছে না। স্ত্রীর নিজের হাতে তৈরি ওষুধ। খেয়ে ওর কাশি ম্যাজিকের মতন সেরে গেল? কী সেই আশ্চর্য শিকড়? কিন্তু এটা জিগ্যেস করা যায় না। রজত যে শঙ্করীর ওষুধ বানাবার প্রক্রিয়াটা দেখে ফেলেছে, এটা জানাতেই তার লজ্জা লাগবে।

জয়ার সঙ্গে সন্ধে সাড়ে ছটায় গঙ্গার ধারে রেস্তোরাঁটার সামনে দেখা করার কথা। আজও শরীরটা ভালো নেই রজতের, বেশ জ্বর-জ্বর ভাব, আজ না গেলেই ভালো হয়। কিন্তু জয়াকে কিছুতেই ফোনে ধরা গেল না সারাদিন। কোনও খবর দিতে পারলে জয়া ওখানে দাঁড়িয়ে। থাকবে। একা-একা ওখানে দাঁড়ানো কোনও মেয়ের পক্ষে মোটেই ভালো নয়।

এক-একদিন কোনও কিছুই ঠিকঠাক হয় না। গঙ্গার ধারের রেস্তোরাঁটার আজ এত অসম্ভব ভিড় কেন? বসবার জায়গা তো নেই-ই, সামনে বেশ কিছু নারী-পুরুষ অপেক্ষা করছে। রজত আর। জয়া দুজনেই এসেছে অফিস থেকে, বেশ খিদে পেয়ে গেছে, এখানে বসবে বলে আজ টিফিনও খায়নি। বাইরের ভেলপুরি কিংবা আলুর চপ জয়া একেবারেই খেতে চায় না। খাওয়ার ব্যাপারে সে খুঁতখুঁতে।

ওরা একটু দূরে সরে গিয়ে একটা রেলিং ধরে দাঁড়াল। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি পড়তে লাগল গুঁড়িগুঁড়ি। জয়া ছাতা খুলে বলল, ভালোই হল, কাছাকাছি লোক থাকবে না। যা ভিড় হয় আজকাল এখানে!

এক ছাতার নীচে দুজনে বেশ ঘনিষ্ঠ হওয়া যায়। একটা ল্যাম্প পোস্টের আলো তির্যক হয়ে এসে পড়েছে জয়ার শরীরে। রজতের ডান বাহু ছুঁয়ে রইল জয়ার বুক, জয়া সরে গেল না।

রজতের হঠাৎ মনে পড়ল, সে আজও জয়ার নগ্ন বুক দেখেনি, কিন্তু অন্য একজনের দেখেছে। সে জয়ার বুকের দিকে তাকাল। একটুখানি আভাস। সে যদি জয়াকে বলে, তোমার ব্লাউজটা খুলে। একবার দেখাবে? জয়া অসম্ভব রাগ করবে। জয়ার সমবোধ খুব বেশি। এ পর্যন্ত মাত্র। গোটাপাঁচেক চুমু খেয়েছে রজত। কিন্তু জয়া তার সঙ্গে কোনও নির্জন ঘরে বেশিক্ষণ থাকতে চায় না।

শঙ্করীর বুকের সঙ্গে জয়ার বুকের তুলনা করতে চায় কেন রজত? এটা তার পাগলামি নয়? আর ঠিক পাঁচদিন বাদে সে নতুন ফ্ল্যাটে চলে যাবে, শঙ্করীকে সে আর কোনওদিন দেখবে না। সিঁড়ির ওপরে দাঁড়িয়ে ওইরকম দৃশ্য জীবনে এক আধবারই মানুষ দেখে। কেউ-কেউ দেখেই না। শেকড়টা বাটছিল শঙ্করী, তার নাম জানা হবে না। কোনওদিন।

তবু, শঙ্করীর সেই নিজের বুকে হাত রাখা, সেই দৃশ্য অন্ধকার নদীর ওপর দুলছে। রজত দাঁড়িয়ে আছে জয়ার পাশে। সে দেখেছে সেই দৃশ্য, এটা যেন সহ্য করা যায় না। এখন জয়া নিজের বুক খুলে দেখালে।…কিন্তু তা সম্ভব নয়।

জয়া জিগ্যেস করল, বন্ধুদের জন্য একটা হাউজ ওয়ার্মিং পার্টি দিতে হবে না? অনেকেই তোমাকে ধরবে।

রজত বলল, আমাদের রেজিস্ট্রি হয়ে যাক, তারপর একসঙ্গে…

জয়া একটু উদ্বিগ্নভাবে বলল, তুমি কাশছ? খুব কাশি হয়েছে দেখছি…ওষুধ খেয়েছ কিছু?

রজত কোনও উত্তর দিতে পারল না। মুখটা ফিরিয়ে নিল।

কিছু কিছু কথা সারা জীবনেও জয়াকে জানানো যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *