দি অ্যাডভেঞ্চারস অভ হাকলবেরি ফিন – মার্ক টোয়েন

দি অ্যাডভেঞ্চারস অভ হাকলবেরি ফিন – মার্ক টোয়েন। রূপান্তর – রওশন জামিল। অশান্ত, অস্থির এক কিশোর, অজানার প্রতি তার দুর্বার আকর্ষণ বাড়ি ছাড়ল হাকলবেরি। পথে দেখা হল আরেকজনের সাথে। সে-ও পালিয়েছে। জিম, নিগ্রো। মিসিসিপির স্রোত বেয়ে চলল ওরা এমন এক রাজ্যে, যেখানে রয়েছে মুক্তি। একের পর এক ঘটতে লাগল রোমাঞ্চকর সব ঘটনা। একসময় এ বই নিষিদ্ধ ছিল আমেরিকার বহু রাজ্যে। কিন্তু এভাবে এর প্রচার বন্ধ করা যায়নি। মার্কিন সাহিত্যে সর্বাধিক বিক্রীত বই দি অ্যাডভেঞ্চারস অভ হাকলবেরি ফিন। কিশোরদের জন্যে অবশ্যপাঠ্য।

০১. দুঃসাহসী টম সয়্যার বইটা পড়া না থাকলে

দুঃসাহসী টম সয়্যার বইটা পড়া না থাকলে আমার ব্যাপারে কিছুই জান না তোমরা। অবশ্য তাতে ক্ষতি নেই কোন, কারণ এখন আমার অভিযানের সব কথাই বলতে যাচ্ছি আমি। স্টম সয়্যার বইখানার লেখক মিস্টার মার্ক টোয়েন। কিছু কিছু ব্যাপার একটুআধটু বাড়িয়ে বলার চেষ্টা থাকলেও, মূলত সত্যি কথাই...

০২. গাছ-গাছালির ভেতর দিয়ে একটা রাস্তা

গাছ-গাছালির ভেতর দিয়ে একটা রাস্তা চলে গিয়েছে বাগানের শেষ মাথায়, তারপর বেড়া। বেড়ার ওপারে পাহাড়, জঙ্গল। ওই রাস্তা ধরে পা টিপে টিপে এগোতে লাগলাম আমরা। উবু হয়ে আছি, যেন মাথা ঠুকে না যায় গাছের ডালে। রান্নাঘরের পাশ দিয়ে যাবার সময় আচমকা একটা গাছের শেকড়ে বেধে হোঁচট খেলাম আমি।...

০৩. প্রায় মাসখানেক ডাকাত-ডাকাত খেললাম

প্রায় মাসখানেক ডাকাত-ডাকাত খেললাম আমরা। তারপর ইস্তফা। আমরা কারও ওপর রাহাজানি করিনি, খুনও করিনি কাউকে। কেবল ভান করেছি সেরকম। জঙ্গল থেকে হুঁট করে বেরিয়ে এসে রাখাল বা মেয়েদের ওপর, যারা বাজারে সবজি বিক্রি করে, হামলা করতাম। তবে ক্ষতি করিনি কখনও। টম শুয়োরগুলোকে বলত সোনা,...

০৪. পরদিন বেহেড মাতাল অবস্থায়

পরদিন বেহেড মাতাল অবস্থায় জাজ থ্যাচারের কাছে গেল বাবা। টাকা দাবি করল, চোখ রাঙাল। কিন্তু চিড়ে ভিজল না, টাকা দিলেন না জাজ। তখন আদালতে যাবার হুমকি দিল বাবা; বলল, আইনের সাহায্যে জোর করে আদায় করবে টাকা। আমার ব্যাপারে আদালতের শরণ নিলেন জাজ থ্যাচার আর ওই বিধবা, তাদের কাউকে...

০৫. পিটপিট করে তাকালাম

অ্যাই, হাক! ওঠ, হতচ্ছাড়া! পিটপিট করে তাকালাম; চারপাশে চেয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম, আমি কোথায়। রোদে স্নান করছে ঘর; অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছি, মরার মত। বাবা আমার উপর ঝুঁকে দাঁড়িয়ে, চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ। কিছুটা অসুস্থ দেখাচ্ছে। বন্দুক দিয়ে কী করছিলি? জিজ্ঞেস করল। কাল রাতের কথা,...

০৬. যখন ঘুম ভাঙল বেলা চড়ে গেছে

যখন ঘুম ভাঙল বেলা চড়ে গেছে। সূর্যের অবস্থান থেকে মনে হল আটটার বেশি হবে। ছায়ায় ঘাসের ওপর শুয়ে নানান চিন্তা এল মাথায়। বিশ্রামের পর বেশ হালকা আর ঝরঝরে লাগছে। চারদিকে বড় বড় গাছ, পাতার ফাঁক দিয়ে স্নান সূর্যের আলো এসে পড়েছে খানিকটা। মাটিতে ডালপালার ছায়াগুলো নড়ছে বাতাসে।...

০৭. নাস্তার পর কুড়িয়ে আনা মালপত্র ঘঁটতে বসলাম

নাস্তার পর কুড়িয়ে আনা মালপত্র ঘঁটতে বসলাম আমরা। যেসব কাপড় চোপড় এনেছিলাম সেগুলো দেখলাম নেড়েচেড়ে। পুরোন একটা কম্বল দিয়ে তৈরি ওভারকোটটার লাইনিংয়ের ভেতর পেলাম আটটা ডলার। জিম বলল ওর ধারণা, যে-লোকগুলো ওই কাঠের বাড়িটায় ছিল, তারা কোথাও থেকে চুরি করেছে কোটটা। কারণ, তারা ওই...

০৮. রাত প্রায় একটার দিকে দ্বীপের শেষ প্রান্তে

রাত প্রায় একটার দিকে দ্বীপের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেলাম। মন্থর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ভেলা। যদি কোন নৌকো আমাদের খোঁজে এসে পড়ে, ডিঙি নিয়ে ইলিনয়ের দিকে পাড়ি জমাব আমরা। কপাল ভালই বলতে হবে, কোন নৌকো এল না। পুব-আকাশে ভোরের আলো ফোটামাত্রই একটা বাঁকের মাথায় বাধলাম ভেলাটা। কটনউড...

০৯. জিমের কথা শুনে ভয়ে হাত-পা পেটের ভেতর

জিমের কথা শুনে ভয়ে হাত-পা পেটের ভেতর ঢুকে যাবার দশা হল। ডাকাত দলের সাথে এই ভাঙা স্টিমারে আটকা পড়লে আর রক্ষে নেই। যে করেই হোক নৌকোটা পেতেই হবে, মনে মনে বললাম। দুরু দুরু বুকে স্টারবোর্ড সাইডের দিকে এগিয়ে গেলাম আমরা। নাহ! নৌকোর চিহ্নমাত্র নেই কোথাও। ভয়ে আর এগুতে চাইল না...

১০. ওই লোক দুজনকে কীভাবে বোকা বানালাম

ওই লোক দুজনকে কীভাবে বোকা বানালাম তা নিয়ে অনেক হাসাহাসি করলাম আমরা। ওরা কুড়ি ডলারের যে-দুটো গিনি দিয়ে গেছে, তা নিয়েও আলাপ করলাম। স্টিমারের টিকিট কাটার পরও বেশকিছু পয়সা আমাদের হাতে থাকবে, জিম বলল। ওই টাকা দিয়ে যেখানে নিগ্রোদের স্বাধীনতা আছে, স্বচ্ছন্দে সেখানে যেতে পারব...

১১. বাকের পরিবারের সবাই খুব ভাল

বাকের পরিবারের সবাই খুব ভাল, চমৎকার ব্যবহার। বাড়িটাও সুন্দর। সামনের দরজায় পেতলের হাতল। বসার ঘরে খাট-পালঙ্ক নেই, অথচ শহরের অনেক বৈঠকখানায় অমনটা দেখেছি আমি। ইটের তৈরি বিশাল ফায়ারপ্লেস। ম্যাপিসের ঠিক মাঝখানে একটা আজব ধরনের ঘড়ি। ঘড়িটার নিচের অংশে কাচের ওপর একটা শহরের ছবি...

১২. পরদিন খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গেল

পরদিন খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গেল। পাশ ফিরে শোব, হঠাৎ মনে হল, সব যেন চুপচাপ। মনেই হচ্ছে না, কেউ আছে বাড়িতে। ব্যাপারটা স্বাভাবিক ঠেকল না আমার কাছে। কাপড় পাল্টে নিচে গেলাম। কোথাও কোন জনমন্যিষ্যির চিহ্ন নেই। থমথমে পরিবেশ। বাইরের উঠোনে গিয়ে দেখলাম লাকড়ির গাদার কাছে দাঁড়িয়ে আছে...

১৩. এক দুজন নানান প্রশ্ন করল আমাদের

এক দুজন নানান প্রশ্ন করল আমাদের। জানতে চাইল, আমরা কেন রাতের বেলায় চলি, আর দিনে লুকিয়ে রাখি ভেলা। জিম কি পলাতক নিগ্রো? ওরা জিজ্ঞেস করল। পাগল! আঁতকে ওঠার ভান করলাম, তাহলে কি আর দক্ষিণে যায়। এরপর আমাদের এহেন আচরণকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে একটা গল্প খাড়া করলাম: মিসৌরির...

১৪. পরদিন সকালে নতুন আরেকটা বিজ্ঞাপন

পরদিন সকালে নতুন আরেকটা বিজ্ঞাপন সাঁটলাম আমরা। ওতে লেখা: কোট হাউসে! মাত্র তিন রাত্রির জন্য! ডেভিড গ্যারিক (ছোট) এবং এডমন্ড কিন (বড়) রোমাঞ্চকর ট্র্যাজেডি পালা দ্য রয়াল নানসাচ!!! প্রবেশ মূল্য পঞ্চাশ সেন্ট। মহিলা ও শিশুদের প্রবেশ নিষেধ বিজ্ঞপ্তিটা ডিউকের মনে ধরেছিল।...

১৫. দুপুরের দিকে একটা বড় জাহাজ এল

দুপুরের দিকে একটা বড় জাহাজ এল। আমরা হাত দেখাতেই থামল ওটা। একটা বোট পাঠিয়ে দিল তীরে। ওই বোটে চেপে সম্রাট, ডিউক আর আমি জাহাজে উঠলাম। জিম ভেলাতেই রয়ে গেল। সিনসিন্যাটি থেকে আসছে জাহাজটা। আমরা মাত্র চার-পাঁচ মাইল যাব শুনে জাহাজের ক্যাপ্টেন রেগে কাই হয়ে গেল। বলল, নামিয়ে...

১৬. সন্ধ্যায় ঘুরে ঘুরে সবার সাথে দেখা করল সম্রাট

সন্ধ্যায় ঘুরে ঘুরে সবার সাথে দেখা করল সম্রাট। তার মিষ্টি সুরের সান্ত্বনা মন জয় করে নিল সবার। এমন ভাব দেখাল যেন ইংল্যান্ডে তার শিষ্যরা অধীরভাবে অপেক্ষা করছে, তাই তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়া দরকার তার। এত তাড়াতাড়ি চলে যেতে হচ্ছে বলে দুঃখে আমার কলজেটা ফেটে যাচ্ছে। চোখ মুছল...

১৭. বাটপার দুটো হাল ছাড়ার পাত্র নয়

বাটপার দুটো হাল ছাড়ার পাত্র নয়। এটা ন্যায়বিচার হল না, মিনমিন করে বলল সম্রাট। এক কাজ করুন, আচমকা বললেন বুড়ো ভদ্রলোক। পিটার উইলকে কবরে শুইয়েছে এমন কেউ আছে এখানে? হা, বলল একজন। আমি আর অ্যাবি টার্নার। সম্রাটের পানে তাকালেন বৃদ্ধ। বললেন, আচ্ছা বলুন তো, মৃতের বুকের ওপর কী...

১৮. ফার্মে পৌঁছে দেখলাম

ফার্মে পৌঁছে দেখলাম, সবকিছু এক্কেবারে রোববারের দিনটার মত শুনশান। কেউ নেই কোথাও। মজুরের মাঠে কাজ করতে গেছে। বাতাসে মশামাছির গুঞ্জন নির্জনতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মনে হচ্ছে কেউ বেঁচে নেই। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দকে মনে হচ্ছে যেন মরা মানুষের ফিসফিসানি। গাছের সামনেই একটা বড়...

১৯. জিম কোথায় আছে আমি জানি

জিম কোথায় আছে আমি জানি, ফেরার পথে বলল টম। রান্নাঘরের ওপাশেই যে-ছোট্ট কুঁড়েটা, ওখানে। কেন, লক্ষ্য করনি তুমি, আমরা যখন ডিনার খাচ্ছিলাম, একটা চাকর খাবার নিয়ে ওদিকে গেল? হ্যাঁ, দেখেছি। তবে ভেবেছিলাম, কোন কুকুরের খাবার হবে হয়ত। উহুঁ, কুকুরের না, হাক। কেন? কারণ, ওর ভেতর ফলও...

২০. পিঠার খামির তৈরি শেষ

তিনদিন পর। পিঠার খামির তৈরি শেষ। তবে এজন্যে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে আমাদের। তিন তিন বার ময়দা পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। ধোঁয়ায় চোখ কানা হবার দশা হয়েছে। পিঠা বানানো শেষ করে চাদরটা ফালি করে ছিড়লাম আমরা। ভোর হবার আগেই পাকিয়ে চমৎকার দড়ি তৈরি করলাম একটা, তারপর পুর দেয়ার মত করে...