হারানো পৃথিবী – আর্থার কোনান ডয়েল

হারানো পৃথিবী - স্যার আর্থার কোনান ডয়েল । রূপান্তর : কাজী মাহবুব হোসেন

০১. মেয়েটির বাবা মিস্টার হাঙ্গারটন

খ্যাপা বিজ্ঞানী প্রফেসর চ্যালেঞ্জার দাবি করেছেন, আদিম পৃথিবীর বিশালাকার জীবজন্তু— দানবাকৃতি ডাইনোসর, স্টেগোসরাস, ইগুয়ানেডেন, দৈত্যপাখি টেরোডাকটিস নাকি আছে আজও, জ্যান্ত! পাঠক, যাবেন নাকি রোমাঞ্চকর অভিযানে? ০১. মেয়েটির বাবা মিস্টার হাঙ্গারটন। নিতান্ত ভালমানুষ, তবে তাঁর...

০২. বুড়ো ম্যাকারডলকে আমার বেশ ভাল লাগে

বুড়ো ম্যাকারডলকে আমার বেশ ভাল লাগে। আমাদের গেজেট পত্রিকার বার্তা সম্পাদক। মাথায় লাল চুল, সামনের দিকে চুল নেই বললেই চলে;  ফলে কপালটা বিরাট দেখায়। ঘরে ঢুকতেই চশমাটা ঠেলে টাকের উপরে তুলে দিলেন তিনি। এই যে, মিস্টার ম্যালোন, শুনছি ভাল রিপোর্ট করছেন আপনি? কথায় স্কচ টানের...

০৩. দরজা ভাল করে বন্ধ করতে না করতেই

দরজা ভাল করে বন্ধ করতে না করতেই খাবার ঘরের দরজা দিয়ে ছুটে বেরিয়ে এলেন মিসেস চ্যালেঞ্জার। অগ্নিমূর্তি মহিলার। স্বামীর পথ আগলে দাঁড়ালেন উনি-যেন ক্রুদ্ধ মুরগী পথ আগলে দাঁড়িয়েছে বিশাল এক বুলডগের! বোঝা গেল যে আমাকে বেরুতে দেখেছেন প্রফেসর-গিন্নী, কিন্তু আবার ফিরে আসাটা...

০৪. চ্যালেঞ্জারের সাথে দেখা করতে এসে

চ্যালেঞ্জারের সাথে দেখা করতে এসে প্রথমে শারিরীক ও পরে মানসিক নির্যাতন আমার সাংবাদিকসুলভ মনের জোর ভেঙে দিয়েছে। মাথা ব্যথা করছে—সেই সাথে একটা চিন্তা ক্রমাগত মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে: প্রফেসরের কাহিনীটা সত্যিই বাস্তব! একটা ট্যাক্সি নিয়ে সোজা অফিসে গেলাম। দেখি ম্যাকারডল রোজকার...

০৫. লর্ড জন রক্সটন

লর্ড জন রক্সটন আমাকে ভিগো স্ট্রীট দিয়ে নিয়ে গেলেন। একটা অপরিষ্কার প্রবেশ পথ দিয়ে এগিয়ে বিখ্যাত অভিজাত পাড়ায় ঢুকলাম আমরা। মেটে রঙের লম্বা গলির মাথায় একটা দরজা খুলে তিনি বাতি জ্বেলে দিলেন। রঙিন শেডের ভিতর থেকে কয়েকটা বাতি একসাথে জ্বলে উঠল। বিরাট ঘরটা ভরে উঠল গোলাপী...

০৬. জাহাজে আমরা যে কি রাজার হালে ছিলাম

জাহাজে আমরা যে কি রাজার হালে ছিলাম তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে আপনাদের ভারাক্রান্ত করব না। এক সপ্তাহ আমরা পারাতে ছিলাম। (পেরেইরা ডা পিন্টা কোম্পানী আমাদের যন্ত্রপাতি, রসদ সব একসাথে করতে খুবই সাহায্য করে।) ছোট আরেকটা স্টীমারে করে চওড়া, শান্ত স্রোতের একটা নদী ধরে আমরা...

০৭. পরদিন খুব সকালেই রওনা হলাম

পরদিন খুব সকালেই রওনা হলাম। এক এক নৌকায় ছয়জন করে। দুই প্রফেসরের ঝগড়া এড়াবার জন্যে সামারলীর নৌকায় পাঁচজন হতেই রক্সটন সেটাতে চট করে উঠে পড়লেন। প্রফেসর চ্যালেঞ্জার ওদিকেই এগুচ্ছিলেন, কিন্তু আর জায়গা নেই দেখে জ্বলন্ত দৃষ্টিতে রক্সটনের দিকে তাকিয়ে ফিরে এসে উঠলেন আমাদের...

০৮. পাহাড়ের কাছে পৌঁছে দেখলাম

পাহাড়ের কাছে পৌঁছে দেখলাম কোন কোন জায়গা হাজার ফুটেরও বেশি উঁচু। এডিনবারার সেলসবারি ক্রাগের মতই গড়ন। চুড়ার দিকে নানা রকম গাছ দেখা যাচ্ছে, তবে অন্য কোন প্রাণীর লক্ষণ এখনও আমাদের চোখে পড়েনি। পাহাড়ের ধার কেবল যে খাড়া উঠে গেছে তাই নয়, উপরের দিকে আবার হেলে বেরিয়ে এসেছে...

০৯. অত্যাশ্চর্য সব ঘটনা অনবরত ঘটে চলেছে

অত্যাশ্চর্য সব ঘটনা অনবরত ঘটে চলেছে আমাদের সামনে। মোট কাগজ যা আছে আমার কাছে তা হচ্ছে পাঁচটা খাতা আর কিছু ফাসকা কাগজ। আর আছে মাত্র একটা সীস কলম। যতক্ষণ হাত চলে আমি লিখে যাব, সেই লেখা কোনদিন সভ্য সমাজে পৌঁছবে কিনা জানি না, তবে লিখতে আমাকে হবেই। এমন সব অভিজ্ঞতা আমাদের...

১০. জন ঠিকই বলেছিলেন

জন ঠিকই বলেছিলেন যে ওদের দাঁতে কোনরকম বিষ থাকতে পারে। পর দিন সকালে সামারলী আর আমি দুজনেই অসহ্য ব্যথা আর জ্বরে পড়ে রইলাম। চ্যালেঞ্জারের হাঁটুর অবস্থাও ভাল নয়—কোনমতে খুঁড়িয়ে সামান্য চলতে পারেন মাত্র। সারাদিন ক্যাম্পেই থাকলাম আমরা। জন দিনভর কাটা ঝোপের বেড়া আরও চওড়া আর...

১১. আমার বুকটা সেদিন সত্যিই গর্বে ফুলে উঠেছিল

আমার বুকটা সেদিন সত্যিই গর্বে ফুলে উঠেছিল যেদিন আমার তিনজন গুণী সঙ্গী আমাকে এই সাফল্যের জন্যে অভিনন্দন জানালেন। দলের প্রচুর সময় আর পরিশ্রম বেঁচে গেল। আমি দলের সবচেয়ে ছোট সদস্য। ছোট কেবল বয়সে নয়-অভিজ্ঞতায়, জ্ঞানে, আরও অন্যান্য দিক থেকে। সত্যিকারের মানুষ হতে যে সব...

১২. ঠিক সূর্যাস্তের সময়ে

ঠিক সূর্যাস্তের সময়ে সেই বিষাদময় সন্ধ্যায় ইন্ডিয়ান লোকটার আকৃতি দেখা গেল ওই বিশাল সমভূমিটার উপর। চেয়ে চেয়ে দেখলাম ওকে যতক্ষণ দেখা যায়। আমার উদ্ধার পাবার শেষ ভরসা হচ্ছে লোকটা। বিধ্বস্ত ক্যাম্পে ফিরতে বেশ অন্ধকার হয়ে গেল। ফেরার আগে জাম্বাের জ্বালানো লাল আগুনটা শেষবারের...

১৩. আমরা সবাই জেগে উঠলাম সকালে

আমরা সবাই জেগে উঠলাম সকালে। সকলেই গতদিনের উত্তেজনা আর স্বল্প খাবারের পরে বিপর্যস্ত, ক্লান্ত। সামারলী এত দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে উঠে দাঁড়ানোও তার জন্যে কষ্টকর। কিন্তু বুড়ো সত্যিই বাপের ব্যাটা, আশ্চর্য মনোবল দিয়ে নিজেকে সামলে নিয়েছেন। হার স্বীকার করা তাঁর চরিত্রে নেই। সবাই...

১৪. প্রত্যেক দিনের ঘটনা আমি লিখে চলেছি

প্রত্যেক দিনের ঘটনা আমি লিখে চলেছি। শেষ করার আগে যেন লিখতে পারি যে, আমাদের মাথার উপর থেকে কালো মেঘ কেটে গেছে, মুক্তির আলো দেখতে পাচ্ছি আমরা, মনে প্রাণে সেই কামনাই করি। তবে এমন দিনও আসতে পারে যেদিন এই অদ্ভুত দেশে কোন আশ্চর্য ঘটনা বা জন্তু জানোয়ার সম্পর্কে নতুন তথ্য...

১৫. আমাদের আমাজনের বন্ধু

এখানে আমি আমাদের আমাজনের বন্ধুদের–বিশেষ করে সিনরপেনালোসা আর ব্রাজিলের সরকারী কর্মচারীদের আমাদের ফিরতি পথে বিশেষ সুযোগ সুবিধা করে দেয়ার জন্যে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দক্ষিণ আমেরিকায় আমাদের নিয়ে যে সব কথাবার্তা আর ঔৎসুক্য দেখা গেল তাতে মনে করেছিলাম যে লোক মুখে ছড়িয়ে...