১১. রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের তর্ক-বিতর্ক

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের তর্ক-বিতর্ক

তাদের প্রত্যুত্তরে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর যথোপযুক্ত প্রমাণ পেশ এবং গোড়ামি, হিংসা, সত্যদ্রোহিতা ও প্রত্যাখ্যানমূলক মানসিকতার তাড়নায় প্রকাশ্যে তারা সত্য অস্বীকার করলেও মনে মনে তাদের সত্য উপলব্ধি ও সত্যের স্বীকৃতি প্ৰদান সংক্রান্ত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলো।

ইসহাক ইবন রাহওয়ায়হ বলেন, আবদুর রাযযাক (রা)…..হযরত ইবন আব্বাস (রা) সূত্রে ক * করেন। তিনি বলেন, একদা ওয়ালীদ ইবন মুগীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত স্থায় শুনি তাকে কুরআন পাঠ করে শোনান। তাতে সে কুরআনের প্রতি কিছুটা আকৃষ্ট ও বিনম্র হয়ে পড়ে এ সংবাদ আবু জাহলের নিকট পৌছে যায়। সে ওয়ালীদের নিকট এসে বলে, চাচা! আপনার গোত্রের লোকেরা আপনার জন্যে কিছু মালামাল সংগ্ৰহ করতে চাচ্ছে। ওয়ালীদ বলল, কেন কী হয়েছে? সে বলল, আপনাকে দেখার জন্যে। কারণ, আপনি মুহাম্মদের নিকট গিয়েছেন আপনার পূর্ব ধর্মমত পরিত্যাগ করার জন্যে। ওয়ালীদ বলল, কুরায়শের লোকজন তো জানে যে, আমি তাদের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি। তাহলে ধন-সম্পদের আমার প্রয়োজন কী?

আবু জাহল বলল, তাহলে আপনার গোত্রের উদ্দেশ্যে আপনি এমন একটি জোরালো বক্তব্য পেশ করুন যাতে তারা বুঝতে পারে যে, আপনি মুহাম্মদের প্রতি ঘূণা পোষণ করেন। ওয়ালীদ বলল, আমি কী বলব? আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে কেউই গীতিকাব্য, ছন্দ, কাসীদা এবং জিনদের কবিতা সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক অবগত নয়, আল্লাহ কসম, মুহাম্মদ যা বলছে তা তো। ওগুলোর কোনটির সাথেই মিলছে না। আল্লাহর কসম, সে যা বলছে তার মধ্যে এক বিশেষ মাধুর্য রয়েছে, তাতে রয়েছে আকর্ষণ। তার উপরের অংশ ফলবান আর নীচের অংশ পানিসিক্ত। সে অবশ্যই বিজয়ী হতে থাকবে, বিজিত হবে না। তার বিপরীতে যা আছে তার সব কিছুকে সে ভেঙ্গে চুরমার করে দিবে।

আবু জাহল বলল, আপনি তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য না করা পর্যন্ত আপনার গোত্রের লোকেরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না। ওয়ালীদ বলল, ঠিক আছে, অপেক্ষা কর, আমি একটু ভেবে নিই। ভেবে-চিন্তে সে বলল, এটি অন্য করো নিকট থেকে প্রাপ্ত জাদু ব্যতীত কিছু নয়। ذرانی و من خلقت وحید او جعلت لهٔ مالاً ممدودا و بنین 8 }Rع آ}if RFC 5।|।Rع گ ……….। —আমাকে ছেড়ে দাও এবং তাকে, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি। অসাধারণ করে। আমি তাকে দিয়েছি বিপুল ধন-সম্পদ এবং নিত্যসংগী পুত্ৰগণ (৭৪ : ১১-১৩)। বায়হাকী (র)

হাকিম……. ইসহাক সূত্রে এরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাম্মাদ ইবন যায়দ আইয়ুব সূত্রে ইকরিম থেকে মুরসাল পদ্ধতিতে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। উক্ত বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ওয়ালীদের নিকট এ আয়াত পাঠ করেছিলেন :

আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি নিষেধ করেন অশ্লীলতা, অসৎ কার্য ও সীমালংঘন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্ৰহণ কর (১৬ : ৯০)।

বায়হাকী (র) হাকিম…… ইবন আব্বাস (রা) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, একদা ওয়ালীদ ইবন মুগীরা এবং কুরায়শের কতক নেতৃস্থানীয় লোক একস্থানে মিলিত হয়। উপস্থিত লোকদের মধ্যে সে ছিল বয়ােবৃদ্ধ। তখন হজ্জের মওসুম নিকটবতী ছিল। সে প্রস্তাব করল যে, আরবের বিভিন্ন প্রতিনিধিদল এ সময়ে তোমাদের নিকট আসবে। তোমাদের প্রতিপক্ষ মুহাম্মদের কথা তো তারা জেনেছে। সুতরাং তার ব্যাপারে তোমরা একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ কর। তার সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞেস করলে সকলে একই কথা বলবে। একেক জন একেক কথা বলবে না। যাতে করে একজনের কথায় আরেকজন মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হও এবং একজনের কথা অপরজনের কথাকে বাতিল করে দেয়।

তারা বলল, হে আবু আবদ শামস! আপনিই একটি সিদ্ধান্ত দিয়ে দিন। আমরা সবাই তাই মেনে নেবো। সে বলল, না, তোমরাই বরং প্রস্তাব পেশ করা, আমি শুনি। তারা বলল, আমরা

>Wりー

তাকে গণক বলব। সে বলল না, সেতো গণক নয়। আমি গণকদেরকে দেখেছি। তার পেশ করা বাণী গণকদের মন্ত্রের ধ্বনির মত নয়। তারা বলল, আমরা তাকে জিনগ্রস্ত বলব। সে বলল, আমি জিনগ্রস্ত ব্যক্তিদেরকে দেখেছি। এবং সে সম্পর্কে আমার প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার কথা কিন্তু জিনগ্রস্ত লোকের প্রলাপ”ও নয়, ভালমন্দের মিশ্রণও নয়। তারা বলল, তাহলে আমরা তাকে কবি বলব। সে বলল, সেতো কবি নয়। প্রশংসা গীতি, নিন্দাগীতি, ছোট কবিতা ও বড় কবিতাসহ সকল প্রকারের কবিতা সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার বক্তব্য তো কবিতা নয়। তারা বলল, তাহলে আমরা তাকে জাদুকর বলব। সে বলল, সে তো জাদুকর নয়। আমি জাদুকরদেরকেও দেখেছি, তাদের জাদুও দেখেছি। তার বাণী জাদুমন্ত্র নয়। জাদুকরের গিট দেয়াও নয়।

তারা বলল, হে আবু আবদ শামস! তাহলে আমরা তাকে কী বলব? সে বলল, আল্লাহর কসম, তার কথায় একটি বিশেষ মাধুর্য রয়েছে। সেটির গোড়ার দিক হল রসসিক্ত। আর শাখা প্রশাখা হল ফল সমৃদ্ধ। তার সম্পর্কে তোমরা উপরোক্ত মন্তব্যগুলোর যেটিই বল তাতে সবাই বুঝে নিবে যে, তোমাদের কথা মিথ্যা। তবে তাকে জাদুকর বলাটাই অধিকতর যুক্তিসংগত। সুতরাং তোমরা সকলে তাকে এমন জাদুকর বলবে যে মানুষকে ধর্ম, তার পিতৃপুরুষ, তার স্ত্রী ও তার ভাই ও তার জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয়। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর তারা ওয়ালীদের কাছ থেকে বিদায় নেয়। পরবতীতে তারা লোকজনের অপেক্ষায় থাকে।

অবশেষে হজ্জ মওসুম উপস্থিত হয়। তাদের পাশ দিয়ে যারাই যেত তারা ওদেরকে মুহাম্মদ (সা) সম্পর্কে সতর্ক করে দিত এবং তাঁর সম্পর্কে অসত্য কথা শুনাত। এ প্রেক্ষিতে ওয়ালীদ  —আমাকে ছেড়ে দাও এবং তাকে, যাকে আমি সষ্টি করেছি অসাধারণ করে। আমি তাকে দিয়েছি বিপুল ধন-সম্পদ এবং নিত্যসংগী পুত্ৰগণ (৭৪ :। (ܣܠ-ܠܠ

ওয়ালীদের আসরে উপস্থিত। ওই সকল লোক যারা কুরআন সম্পর্কে জাদু, কবিতা ইত্যাদি فوریل لنکست لنگهام جمعیین عماکائو।|।|۶ج Tifl7ة گ>}}<۶۹ ۲۹ام)Tی چF(IC تقf।| مه ……….. সুতরাং শপথ আপনার প্রতিপালকের, আমি ওদের সকলকে প্রশ্ন করবই সে বিষয়ে যা ওরা করে (১৫, : ৯২)।

আমি বলি, ওদের অজ্ঞতা ও নিবুদ্ধিতামূলক মন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করে আল্লাহ্ তাআলা

বলেন, :

الأولون. তারা এও বলে, এটি অলীক কল্পনা হয়ত সে উদ্ভাবন করেছে, না হয় সে একজন কবি। অতএব, সে আনয়ন করুক আমাদের নিকট এক নিদর্শন যেরূপ নিদর্শনসহ প্রেরিত হয়েছিল

পূর্ববর্তিগণ (২১ : ৫)। বস্তৃত রাসূলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে তারা কি বক্তব্য দিবে সে বিষয়ে তারা অস্থিরতায় ভুগছিল। তারা যা-ই বলতে চেয়েছে, তা-ই মিথ্যা ও অসত্যরূপে চিহ্নিত হয়েছে। কারণ, সত্য পথ যে ত্যাগ করে, তার সকল কথাই ভুল হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন :

أنظر كيف ضربوا لك الأمثال فضلّوا فلا يستيستطيعون سبيلاً. দেখুন, ওরা আপনার কী উপমা দেয়! ওরা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং ওরা পথ পাবে न्म (S१ 8 8br)।

আরদ ইবন হুমায়দ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আবু বকর ইবন আবু শায়াবা…… জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কুরায়শ বংশের লোকেরা একদিন এক পরামর্শ সভায় মিলিত হয়। তারা বলল, জাদুবিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং কবিতা সম্পর্কে আমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সর্বাধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তাকে খুঁজে বের কর। সে যেন ওই লোকের নিকট যায়, যে আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্ট করে দিয়েছে এবং আমাদের ধর্মের নিন্দা করেছে। আমাদের অভিজ্ঞ লোকটি যেন তার সাথে কথা বলে এবং সে কি উত্তর দেয় তা লক্ষ্য করে। তারা বলল, এ বিষয়ে উতবা ইবন রাবীআ ব্যতীত অন্য কাউকে আমরা উপযুক্ত মনে করছি না। উতবার উদ্দেশ্যে তারা বলল, হে আবু ওয়ালীদ আপনিই এই দায়িত্ব পালন করুন। তখন উতবা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট আসে। সে বলে, হে মুহাম্মদ! তুমি উত্তম, নাকি তোমার পিতা আবদুল্লাহ? তিনি কিছু না বলে চুপ করে রইলেন। সে এবার বলল, তুমি উত্তম, নাকি আবদুল মুত্তালিব? তিনি চুপ করে রইলেন। উতবা এবার বলল, তুমি যদি মনে করা যে, তারা তোমার চেয়ে উত্তম ছিলেন, তবে তারা তো সে সব উপাস্যের উপাসনা করে গিয়েছেন তুমি যেগুলোর নিন্দা করছি। আর তুমি যদি মনে করা যে, তুমি তাদের তুলনায় উত্তম, তবে তুমি তোমার নিজের কথা বল আমরা তা শুনি।

আল্লাহর কসম! নিজ সম্প্রদায়ের জন্যে তুমি যত ক্ষতিকর ও অলক্ষুণে ততোধিক ক্ষতিকর ও অলক্ষুণে কাউকে আমরা দেখি না। তুমি আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছ। আমাদের সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট করে দিয়েছ এবং আমাদের ধর্মের নিন্দা করেছ। সমগ্র আরব দেশে এ কথা ছড়িয়ে পড়েছে যে, কুরায়শ গোত্রে একজন জাদুকরের আবির্ভাব ঘটেছে। একজন গণকের আগমন ঘটেছে। আল্লাহর কসম, আমরা এখন গর্ভবতী মহিলার প্রাণফাটা চীৎকারের ন্যায় একটি চীৎকারের আশংকায় অস্থির রয়েছি যে চীৎকার শুনে আমাদের একদল অপরদলের উপর তরবারি হাতে ঝাপিয়ে পড়বে। ফলে আমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাব। ওহে, তোমার যদি কোন অভাব-অনটন থাকে, তাহলে আমরা তোমাকে প্রচুর ধন-সম্পদ সংগ্রহ করে দিব, যাতে তুমি কুরায়শ বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তি হতে পোর। তোমার যদি বিয়ে-শাদী করার ইচ্ছা থাকে তবে কুরায়শ বংশের যে মহিলাকে তোমার পসন্দ হয় তার কথা বল, সে রকম দশজন মহিলা আমরা তোমার নিকট বিয়ে দিয়ে দিব। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আপনার কথা কি শেষ হয়েছে? সে

“দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।” হা-মীম। এটি দয়াময়, পরম দয়ালুর নিকট হতে অবতীর্ণ। এটি এক কিতাব বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে এর আয়াতসমূহ আরবী ভাষায় কুরআনরূপে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্যে। সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। কিন্তু ওদের অধিকাংশই বিমুখ হয়েছে। সুতরাং তারা শুনবে না। ওরা বলে, তুমি যার প্রতি আমাদেরকে আহবান করছ, সে বিষয়ে আমাদের অন্তর আবরণ-আচ্ছাদিত, কৰ্ণে অাছে বধিরতা এবং তোমার ও আমাদের মধ্যে আছে অন্তরাল। সুতরাং তুমি তোমার কাজ কর এবং আমরা আমাদের কাজ করি। বলুন, আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী হয় যে, তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ।

অতএব তাঁরই পথ দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর এবং তারই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। দুর্ভোগ অংশীবাদীদের জন্যে। যারা যাকাত প্ৰদান করে না এবং ওরা আখিরাতেও অবিশ্বাসী। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।

বলুন, তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবেই, যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং : তোমরা তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে চাচ্ছি? তিনি তো জগতসমূহের প্রতিপালক। তিনি স্থাপন করেছেন অটল পর্বতমালা ভূ-পৃষ্ঠে এবং তাতে রেখেছেন কল্যাণ এবং চার দিনের মধ্যে তার ব্যবস্থা করেছেন খাদ্যের সমভাবে যাঞ্চাকারীদের জন্যে। এরপর তিনি আকাশের দিকে মনােনিবেশ করেন যা ছিল ধূমপুঞ্জ বিশেষ। অনন্তর তিনি সেটিকে এবং পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস, ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়! ওরা বলল, আমরা এলাম অনুগত হয়ে। এরপর তিনি আকাশ জগতকে দু’দিনে সপ্তাকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে সেটির বিধান ব্যক্ত করলেন এবং আমি নিকটবতী আকাশকে সুশোভিত করলাম প্ৰদীপমালা দ্বারা এবং করলাম সুরক্ষিত। এটি পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা। তবু তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন, আমি তো তোমাদেরকে সতর্ক করছি এবং ধ্বংসকর শাস্তির আদি ও ছামুদের শাস্তির অনুরূপ (৪১ : ১-১৩)।

এবার উতবা বলল, যথেষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কিছু কি তোমার নিকট নেই? তিনি বললেন, না। উতবা এবার কুরায়শী নেতৃবৃন্দের নিকট ফিরে গেল। তারা বলল, ওদিককার খবর কী? সে বলল, তোমরা যা যা বলতে, আমার ধারণা তার সবই আমি তাকে বলেছি। তারা বলল, সে কি কোন উত্তর দিয়েছে? সে বলল, হ্যা। এরপর সে বলল, যিনি কা’বাগৃহ নির্মাণ করেছেন সেই পবিত্ৰ সত্তার শপথ করে আমি বলছি, সে যা বলেছে আমি তার কিছুই বুঝিনি। শুধু এতটুকু বুঝেছি যে, “আদ ও ছামুদ সম্প্রদায়ের উপর আগত একটি বিকট চিৎকারের আগমন সম্পর্কে সে তোমাদেরকে সতর্ক করেছে। তারা বলল, হায়! এটি কেমন কথা! একজন লোক আরবী ভাষায় আপনার সাথে কথা বলল, অথচ আপনি তা বুঝতে পারলেন না। সে

বলল, না, না, আল্লাহর কসম, বিকট চীৎকারের কথা ব্যতীত আর কিছুই আমার বোধগম্য হয়নি।

বায়হাকী (র) প্রমুখ হাকিম…… আজলাহ সূত্রে এ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তবে ওই বর্ণনা সন্দেহমুক্ত নয়। ওই বর্ণনায় এতটুকু অতিরিক্ত আছে যে, তুমি যদি নেতৃত্ব চাও, তবে আমাদের নেতৃত্বের পতাকা আমরা তোমার হাতে তুলে দেবী। যতদিন তুমি জীবিত থাকবে ততদিন তুমি নেতা হিসেবে থাকবে। ওই বর্ণনায় একথাও আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন–

(তবুও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়। তবে বলুন, আমি তো তোমাদেরকে সতর্ক করছি এক ংসকর শাস্তির আদি ও ছামুদের ধ্বংসের অনুরূপ) পাঠ করলেন, তখন উতবা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর মুখ চেপে ধরল এবং রক্ত সম্পর্কের দোহাই দিয়ে আর কিছু না বলতে অনুরোধ করল। W

এরপর কিছুকাল উতবা তার ঘনিষ্ঠজনদের সাথে দেখা করেনি, বরং তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দিন কাটায়। তখন আবু জাহল বলে, হে কুরায়শ সম্প্রদায়, আল্লাহর কসম, আমার মনে হয় পিতৃধৰ্ম ত্যাগ করে উতবা মুহাম্মদের ধর্ম গ্ৰহণ করেছে এবং মুহাম্মদের আপ্যায়নে সে খুশী হয়েছে। এটা নিশ্চয়ই তার অভাব-অনটনের কারণে হয়েছে। চল, আমরা সবাই তার নিকট যাই। উতবার সাথে দেখা করে আবু জাহুল বলল, হে উতবা! আমরা তোমার নিকট এ জন্যে এসেছি যে, তুমি তো মুহাম্মদের ধর্ম গ্ৰহণ করেছ এবং তার ধর্ম তোমার ভাল লেগেছে। মূলত তুমি যদি কোন অভাব-অনটনে থাক, তবে আমাদেরকে বল, আমরা তোমাকে ধন-সম্পদ সংগ্ৰহ করে দিই যাতে করে তুমি আর মুহাম্মদের আপ্যায়নের মুখাপেক্ষী থাকবে না। এ কথা শুনে উতবা রেগে যায় এবং আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে, কখনও সে মুহাম্মদ (সা)-এর সাথে কথা বলবে না। সে এও বলে যে, তোমরা তো জান আমি কুরায়শ বংশের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি, তবে আমি তার নিকট গিয়েছিলাম। এরপর সে রাসূলুল্লাহ (সা)-কে যা যা বলেছিল তা তাদেরকে জানােল। এরপর সে বলল, মুহাম্মদ এমন ভাষায় আমাকে উত্তর দিল যে, আল্লাহর কসম, তা কোন জাদুও নয়, কবিতাও নয়, গণকের মন্ত্রও নয়। সে আমার নিকট এগুলো পাঠ

পর্যন্ত। তখন আমি তার মুখ চেপে ধরি এবং রক্ত সম্পর্কের দোহাই দিয়ে তাকে থামতে বলি। তোমাদের তো ভালভাবেই জানা আছে যে, মুহাম্মদ কিছু বললে তা মিথ্যা হয় না। তাই তোমাদের উপর আযাব নাযিল হওয়ার ভয়ে আমি শংকিত ছিলাম।

এরপর বায়হাকী (র) বলেন, হাকিম. মুহাম্মদ ইবন কাআব থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাকে বলা হয়েছে যে, কুরায়শের ধৈর্যশীল নেতা উতবা ইবন রাবীআ একদিন বলেছিল। —তখন সে ছিল কুরায়শী লোকদের সমাবেশে বসা আর রাসূলুল্লাহ (সা) ছিলেন একাকী মসজিদে বসা। বস্তুত সে বলেছিল, হে কুরায়শ সম্প্রদায়! আমি কি ওই লোকের কাছে

গিয়ে কতগুলো প্ৰস্তাব পেশ করব? এমনও হতে পারে যে কোন একটি প্রস্তাব সে গ্রহণ করবে: এবং আমাদেরকে জ্বালাতন করা থেকে বিরত থাকবে। উপস্থিত লোকজন বলল, হে আবু ওয়ালীদ, আপনি তাই করুন। উতবা উঠে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বসে। এরপর উতবা ধন-সম্পদ ও রাজত্ব সম্পর্কে যে সব প্রস্তাব দিয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (সা) যা উত্তর দিয়েছেন তার বিবরণ দেয়।

যিয়াদ ইবন ইসহাক বৰ্ণনা করেছেন যে, উতবা বলেছিল, হে কুরায়শ সম্প্রদায়! আমি কি মুহাম্মদের নিকট যাব এবং তার সাথে আলাপ-আলোচনা করে তার নিকট কতক প্রস্তাব পেশ করব? এমনও হতে পারে যে, সে কোন একটি প্রস্তাব পেশ করবে এবং আমরা প্রস্তাব অনুযায়ী তার চাহিদা পূরণ করব এবং ফলশ্রুতিতে সে আমাদেরকে জ্বালাতন করা থেকে বিরত থাকবে। এ ঘটনা সংঘটিত হয় তখন, যখন হযরত হামযা (রা:) ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তারা দেখতে পায় যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথীদের সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তখন উপস্থিত লোকজন বলল, হ্যা, হে আবু ওয়ালীদ! আপনি তার নিকট যান এবং তার সাথে কথা বলুন! উতবা উঠে দাঁড়ায় এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট গিয়ে বসে। সে বলে, ভাতিজা! আমাদের মধ্যে এবং আমাদের গোত্রের মধ্যে তোমার মর্যাদা এবং আভিজাত্যের কথা তো তোমার জানা আছে। তবে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট তুমি এমন একটি গুরুতর বিষয় নিয়ে এসেছ যা দ্বারা তুমি তাদের ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করে দিয়েছ, তাদের গুণীজনদেরকে মূখ্যরূপে আখ্যায়িত করেছ, তাদের উপাস্যগুলো ও ধর্মমতের নিন্দাবাদ করেছ এবং তাদের পরলোকগত পূর্ব পুরুষদেরকে কাফির বলে আখ্যায়িত করেছ। তুমি আমার কথা শোন, আমি তোমার নিকট কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করছি। তুমি সেগুলো ভালভাবে বিবেচনা করে দেখবে। এমনও হতে পারে যে, তার মধ্যে কোন একটি প্রস্তাব তুমি গ্রহণ করবে।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আবুল ওয়ালীদ! বলুন, আমি শুনছি। সে বলল, “ভাতিজা! তুমি যা নিয়ে এসেছ তার মাধ্যমে ধন-সম্পদ অর্জন করা যদি তোমার উদ্দিষ্ট হয়, তবে আমাদের প্রত্যেকের ধন-সম্পদের একটা অংশ আমরা তোমাকে দিয়ে দেব, ফলে তুমি আমাদের সবার চেয়ে বড় সম্পদশালী হয়ে যাবে। তুমি যদি মর্যাদা অর্জন করতে চাও, তবে আমরা তোমাকে চিরদিনের জন্যে নেতা রূপে বরণ করে নেবো। তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে নেতৃত্ব দেব না। তুমি যদি রাজত্ব চাও আমরা তোমাকে আমাদের রাজা রূপে বরণ করবো। তোমার নিকট যে অদৃশ্য আগন্তুক আসে সে যদি জিন হয়ে থাকে এবং তার হাত থেকে আত্মরক্ষায় তুমি যদি অক্ষম হয়ে থােক, তবে আমরা ডাক্তার-কবিরাজ ডেকে এনে অর্থব্যয় তোমাকে সুস্থ করে তুলব। কারণ, মাঝে মাঝে অনুষঙ্গী তার মূল ব্যক্তির উপর প্রাধান্য লাভ করে, যার জন্যে চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। উতবা হুবহু একথা অথবা এ জাতীয় অন্য কিছু বলেছিল। উতবার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হে আবুল ওয়ালীদ, আপনার কথা শেষ হয়েছে? সে বলল, হ্যা, শেষ হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এবার আমার বক্তব্য শুনুন। সে বলল, ঠিক আছে, বলে যাও!। রাসূলুল্লাহ্ (সা) পড়তে শুরু করলেন?

এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) রীতিমত পড়ে যেতে লাগলেন।

তিলাওয়াত শুনে উতবা চুপ হয়ে গেল এবং দু’হাত পেছনে ঠেকিয়ে মনোযোগ সহকারে শুনতে লাগল। সূরা পাঠ করতে করতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সিজদার আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলেন এবং আয়াত পাঠান্তে সিজদা করলেন। তারপর বললেন, আপনি তো শুনলেন হে আবুল ওয়ালীদ! উতবা বলল হ্যা, শুনেছি। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, এবার আপনার কােজ আপনি করুন! উতবা উঠে তার সাথীদের নিকট গিয়ে উপস্থিত হল। ওরা বলাবলি করছিল যে, আল্লাহর নামে কসম করে বলতে পারি। আবুল ওয়ালীদ যেমন চেহারা নিয়ে মুহাম্মদ (সা)-এর নিকট গিয়েছিল তার ভিন্ন চেহারা নিয়ে সে ফিরে এসেছে। তাদের নিকট এসে বসার পর তারা বলল, আবুল ওয়ালীদ! কী সংবাদ এনেছেন? সে বলল, আল্লাহর কসম, আমি এমন এক বাণী শুনেছি। যা ইতোপূর্বে কখনো শুনিনি। আল্লাহর কসম, সেটি কবিতাও নয়, গণকের মন্ত্রও নয়। হে কুরায়শী সম্প্রদায়! তোমরা তার আনুগত্য কর এবং আমাকে তার আনুগত্য করার সুযোগ দাও। ওই লোক যা করতে চায় তাকে তা করতে দাও। আল্লাহর কসম, আমি তার যে বক্তব্য শুনেছি তা একদিন ঘটবেই। আরবের অন্যান্য লোকেরা যদি তাকে কাবু করতে পারে, তবে অন্যের মাধ্যমে তোমাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়ে গেল। আর সে যদি সমগ্র আরব জাতির উপর বিজয়ী হয়, তবে তার রাজত্ব মূলত তোমাদেরই রাজত্ব এবং তার সম্মান তোমাদেরই সম্মান। তার মাধ্যমে তোমরা হবে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান সম্প্রদায়। তারা বলল, হে আবু ওয়ালীদ আল্লাহর কসম, তার বাকচাতুর্য তোমাকে জাদুগ্ৰস্ত করেছে। সে বলল, তোমাদের সম্মুখে এটিই আমার অভিমত। তারপর তোমরা যা ভাল মনে কর, করতে পার।

এরপর ইসহাক সূত্রে ইউনুস আবু তালিবের কতক কবিতা উদ্ধৃত করেছেন। সেগুলোতে তিনি উতবার প্রশংসা করেছেন।

বায়হাকী (র) বলেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইস্পাহানী…….. ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উতবা ইবন রাবী আর নিকট দল ও …। ৬”-১”। ৩৮,৩,… পাঠ করার পর সে তার সাথীদের নিকট উপস্থিত হয়। সে তাদেরকে বলে, হে আমার সম্প্রদায়! এ বিষয়ে আজকের মত তোমরা আমার কথা মেনে নাও। এরপর না হয় আমার অবাধ্য হবে। আল্লাহর কসম, ওর নিকট থেকে আমি এমন বাণী শুনেছি যা আমার কান দু’টি কোন দিন শুনেনি। আমি তার কী উত্তর দিব, তাও আমি বুঝে উঠতে পারিনি। এ সনদে এটি খুবই অপরিচিত বৰ্ণনা।

এরপর বায়হাকী (র) হাকিম…… যুহরী সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমার নিকট এ মর্মে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আবু জাহল, আবু সুফিয়ান এবং আখনাস ইবন শুরায়ক প্রমুখ এক রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কুরআন পাঠ শোনার জন্যে বের হয়। তিনি তখন নিজ গৃহে নামায আদায় করছিলেন। তারা প্রত্যেকেই গোপনে এক একটি স্থানে বসে পড়ে। তাদের

একে অন্যের আগমন সম্পর্কে জ্ঞাত ছিল না। সারারাত তারা কুরআন তিলাওয়াত শোনে। ভোরে তারা আপন আপন গৃহ অভিমুখে যাত্রা করে। পথিমধ্যে তাদের দেখা হয়ে যায়। তখন তারা এ কাজের জন্যে একে অন্যকে ভৎসনা করে এবং একে অন্যকে বলে, খবরদার, আর কখনো এখানে আসবে না।

তোমাদের কোন মুখজন যদি দেখে, তবে তার মনে নিশ্চয়ই সন্দেহ সৃষ্টি হবে। এরপর তারা নিজ নিজ গন্তব্যপথে চলে যায়। দ্বিতীয় রাতেও তাদের প্রত্যেকে গোপনে এসে নিজ নিজ স্থানে বসে এবং কুরআন তিলাওয়াত শুনে রাত কাটিয়ে দেয়। প্ৰত্যুষে প্রত্যেকে নিজ নিজ পথে ফিরে যেতে থাকে। কেউ পথিমধ্যে আবার পরস্পরে সাক্ষাত হয়ে যায়।

পুনরায় না। আসার জন্যে গতরাতে একে অন্যকে যে ভাবে বুঝিয়েছিল এ রাতেও একে অন্যকে সে ভাবে বুঝােল। তারপর তারা সে স্থান ত্যাগ করল। কিন্তু তৃতীয় রাতেও তাদের প্রত্যেকে গোপনে নিজ নিজ স্থানে এসে বসে পড়ে এবং তিলাওয়াত শুনে রাত কাটিয়ে দেয়। প্রত্যুষে প্রত্যেকে স্ব-স্ব গৃহ অভিমুখে যাত্রা করে। কিন্তু পথে আবার তাদের দেখা হয়ে যায়। এবার তারা বলে, “না, আর চলতে দেয়া যায় না। আসুন, আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে, আমরা আর এখানে আসব না।” এরপর তারা প্ৰতিজ্ঞাবদ্ধ হয় এবং নিজ নিজ পথে চলে शों:।

প্রত্যুষে আখনাস ইবন শুরায়ক লাঠি হাতে ঘর থেকে বের হয় এবং আবু সুফিয়ানের বাড়ি এসে তার সাথে দেখা করে। সে বলে, “হে আবু হানযালা! (আবু সুফিয়ানের উপনাম) মুহাম্মদের মুখ থেকে আপনি যা শুনেছেন সে সম্পর্কে আপনার মতামত ব্যক্ত করুন তো! আবু সুফিয়ান বলল, হে আবু ছালাবা! আল্লাহর কসম, আমি এমন কিছু শুনেছি যা আমি ভালভাবে জ্ঞাত আছি এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য তাও আমি জানি। তখন আখনাস বলল, আপনি যার কসম করেছেন আমিও তার কসম করে বলছি, আমার অভিমতও তাই।

এরপর সে ওখান থেকে বের হয়ে আবু জাহলের বাড়ি যায় এবং বলে, হে আবুল হাকাম! মুহাম্মাদ থেকে আপনি যা শুনেছেন সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? সে বলল, আমি যা শুনেছি, তা হল আমরা এবং আবদ মানাফ গোত্ৰ মর্যাদা ও সম্মান অর্জনে প্রতিযোগিতারত! তারা লোকজনকে আপ্যায়ন করেছে আমরাও তা করেছি। তারা লোকজনকে সওয়ার হবার জন্যে বাহন দিয়েছে আমরাও বাহন দিয়েছি। তারা দান-দক্ষিণা করেছে আমরাও দান-দক্ষিণা করেছি। অবশেষে আমরা যখন সওয়ারীতে আরোহণ করে অসাধারণ দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছিলাম আর আমরা ছিলাম প্রতিযোগিতায় রত দুটো অশ্ব, তখন তারা বলে উঠল, আমাদের মধ্যে একজন নবী আছেন, আসমান থেকে যার নিকট ওহী আসে। হায় আমরা ওই মর্যাদা কোথায় পাব? আল্লাহর কসম, আমি ওই বাণী আর কোন দিন শুনবাও না। আর সেটি সত্য বলেও মেনে নেব না। এরপর আখনাস ইবন শুরায়ক সেখান থেকে চলে যায়।

এরপর বায়হাকী (র) বলেন, আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম…… মুগীরা, ইবন শু’বা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি প্রথম যেদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে চিনতে পাই, সেদিনের

ঘটনা এই : আমি এবং আবু জাহল মক্কার এক গলি দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে আমাদের দেখা হয়ে যায়। আবু জাহলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, হে আবুল হাকাম! আপনি আল্লাহর প্রতি এবং তার রাসূলের প্রতি এগিয়ে আসুন, আমি আপনাকে আল্লাহর প্রতি আহবান জানাচ্ছি। আবু জাহল বলল, হে মুহাম্মদ, আমাদের উপাস্যগুলোর সমালোচনা ও ওগুলোকে গালমন্দ করা থেকে তুমি কি বিরত থাকবে? তুমি কি এটাই চাও যে, আমি এই সাক্ষ্য দিই যে, তুমি তোমার রিসালাতের দায়িত্ব পৌছে দিয়েছ? আমরা কি কখনো তোমার দায়িত্ব পালনের সাক্ষ্য দিব?

আল্লাহর কসম, আমি যদি জানতাম যে, তুমি যা বলছি তা সত্য, তবে আমি নিশ্চয়ই তোমার অনুসরণ করতাম। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আপন পথে চলে গেলেন। আর আবু জাহল আমার দিকে ফিরে বলল, আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিত জানি যে, সে যা বলছে তা সত্য। তবে কিছু ব্যাপার আছে যেগুলো আমাকে তার অনুসরণে বাধা দিচ্ছে। গৌরব ও মর্যাদা বর্ণনার প্রতিযোগিতায় কুসাইর বংশধরগণ বলল, আমাদের আছে কা’বা গৃহ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব, তখন আমরা বললাম, হ্যা, ঠিক আছে। তারা বলল, আমাদের আছে হাজীদেরকে পানি পান করানোর মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। আমরা বললাম, হ্যা তাও ঠিক আছে। তারা বলল, আমাদের আছে পরামর্শ সভার দায়িত্ব। আমরা বললাম, হ্যা তাও ঠিক আছে। তারা বলল, আমাদের পতাকা বহনের দায়িত্ব আছে, আমরা বললাম, হ্যা, তাও আছে বৈ কি! এরপর তারা লোকজনকে আপ্যায়িত করে এবং আমরা লোকজনকে আপ্যায়িত করি।

অবশেষে প্রতিযোগী দুই সওয়ারী যখন সমান সমান হয়ে গেল, তখন তারা বলল, আমাদের মধ্যে একজন নবী আছেন।” সুতরাং আল্লাহর কসম, আমি কখনো তার অনুসরণ

করব না।

বায়হাকী (র) বলেন, আবু আবদুল্লাহ হাকিম….. আবু ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবু জাহল ও আবু সুফিয়ান এক জায়গায় বসা ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। আবু জাহল বলল, এটি তোমাদের নবী, হে আবদ শামস গোত্ৰ! আবু সুফিয়ান বলল, আমাদের গোত্রে নবী আবির্ভূত হবে এতে কি তুমি অবাক হচ্ছে? তাহলে কি যারা আমাদের চেয়ে সংখ্যায় কম এবং মর্যাদায় নীচ, তাদের মধ্য থেকে নবী হবে? আবু জাহল বলল, আমার অবাক লাগে এ জন্যে যে, প্রবীণ লোকদেরকে বাদ দিয়ে অল্পবয়স্ক বালক কেমন করে নবী হয়? রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের কথাবার্তা শুনছিলেন। তিনি তাদের নিকট এসে বললেন, হে আবু সুফিয়ান! আপনি তো আল্লাহ এবং তার রাসূলের জন্যে ক্রুদ্ধ হননি, আপনি বরং ক্রুদ্ধ হয়েছেন নিজের বংশ মর্যাদার জন্যে। আর হে আবুল হাকাম!! আল্লাহর কসম, আপনি অবশ্যই প্রচুর কাঁদবেন এবং কম হাসবেন। তখন আবু জাহল বলল, ভাতিজা! তোমার নবুওয়াতী দৃষ্টিকোণ থেকে তুমি আমাকে কত মন্দ সতর্কবাণীই না শুনালে! এ সূত্রে হাদীছটি ২। মুরসাল বটে এবং এটির মধ্যে কোন এক স্থানে বর্ণনাকারীর সংখ্যা মাত্র একজনে নেমে

আবু জাহলের উপরোক্ত বক্তব্য উল্লেখ করে তার নিজের ও তার সঙ্গীদের অবস্থান সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন, :

ওরা যখন আপনাকে দেখে, তখন ওরা আপনাকে কেবল ঠাট্টা-বিন্দ্ররূপের পাত্ররূপে গণ্য করে এবং বলে, এই কি সে, যাকে আল্লাহ রাসূল রূপে পাঠিয়েছেন? সে তো আমাদেরকে আমাদের

দেবতাগণ থেকে দূরে সরিয়ে দিত, যদি না আমরা তাদের আনুগত্যে,দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকতাম! যখন ওরা শাস্তি প্ৰত্যক্ষ করবে, তখন ওরা জানবে কে সর্বাধিক পথভ্ৰষ্ট (২৫ : :১-৪২)

ইমাম আহমদ (র) বলেন, হুশায়াম…… হযরত ইবন আব্বাস (রা) সূত্রে বণনা করেন। ۹۹।|।|।| >}}گ م> 5 ق ۲۹× 2f1f5–ولا تجهر بصیلاتل و لا تخرافات بها 8 ۶۲۹)>। آق آ অতিশয় ক্ষীণও করবেন না— এ দুয়ের মধ্যপস্থা অবলম্বন করুন (১৭ : ১১০) আয়াতটি যখন নাযিল হয়। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)মক্কায় আত্মগোপন করে থাকতেন। এ প্রসংগে হযরত ইবন আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন সাহাবীগণকে সাথে নিয়ে নামায পড়তেন, তখন উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকগণ কুরআনের শব্দ শুনে কুরআনকে, যিনি কুরআন নাযিল করেছেন তাকে এবং যিনি কুরআন এনেছেন তাকে গালমন্দ করত। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’আলা তার নবী মুহাম্মাদ (সা)-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, : ৩-০১-০২, ১৫ এS, অর্থাৎ উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠ করবেন না। উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠ করলে মুশরিকগণ তা শুনে কুরআনকে গালমন্দ করবে।–Lষ ৫১%, অর্থাৎ আপনার সাহাবীগণ শুনতে না পান এমন ক্ষীণ স্বরেও পাঠ করবেন না। ক্ষীণ স্বরে পাঠ করলে তারা আপনার নিকট থেকে তা গ্রহণ করতে পারবেন না। ১. এu; ৩, ৫ এ, বরং এ দুয়ের মধ্যবর্তী পস্থা অবলম্বন করুন (১৭ : SSO)

ইমাম বুখারী ও মুসলিম এ হাদীছ আবু বিশর জাফর ইবন আবী হাইয়া থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক বলেন, দাউদ ইবন হুসায়ন….. ইবন আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) নামায পড়ার সময় যখন উচ্চৈঃস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করতেন, তখন মুশরিকরা সেখান থেকে দূরে সরে যেত এবং তার কণ্ঠে তা শুনতে অনীহা প্রকাশ করতো। কোন লোক যদি স্বেচ্ছায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নামায আদায়কালীন কুরআন তিলাওয়াত শুনতে চাইত, তবে তাদের থেকে পৃথক হয়ে একাকী সংগোপনে সে তা শুনত। যদি সে দেখত যে, তার কুরআন শ্রবণ সম্পর্কে ওরা জেনে ফেলেছে, তবে ওদের নির্যাতনের ভয়ে সে ওখান থেকে চলে যেত, তার আর শোনা হত না।

অন্যদিকে রাসূলুল্লাহ (সা) যদি নিম্নস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করতেন, তাহলে যারা মনোযোগ সহকারে তিলাওয়াত শুনতে চাইতেন, তারা তা শুনতে পেতেন না। এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন এ।|৭১_~) ০৫, এ১, —আপনি নামাযে উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠ করবেন না। যার ফলে ওরা সবাই আপনার নিকট থেকে দূরে সরে যায়। L14 = 3.0 US $১, এবং অতিশয় ক্ষীণস্বরেও পাঠ করবেন না। তা হলে তো গোপনে শ্রবণকারীরা তা শুনতে পাবে। না। এমনও হতে পারে যে, সে যা শুনবে তাতে তার অন্তরে খোদাভীতি সৃষ্টি হবে এবং সে উপকৃত হবে। ১৬. এL; ৩, & \,, —বরং এ দুয়ের মধ্যপস্থা অবলম্বন করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *