১০. রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জব্দ করার উদ্দেশ্যে মুশরিকরা যে সব নিদর্শন ও অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শনের দাবী জানিয়েছিল

রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জব্দ করার উদ্দেশ্যে মুশরিকরা যে সব নিদর্শন ও অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শনের দাবী জানিয়েছিল

তাদের এ দাবী ছিল সত্যুদ্রোহিতামূলক। হিদায়াত কামনা ও সৎপথপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে নয়। এ জন্যেই তাদের অধিকাংশ আবদারই পূরণ করা হয়নি। কারণ, মহান আল্লাহর নিশ্চিত জানা ছিল যে, তাদের পেশকৃত দাবী ও ঘটনাগুলো স্বচক্ষে দেখা সত্ত্বেও তারা তাদের সত্যুদ্রোহিতায় অন্ধ হয়ে থাকবে এবং তাদের গোমরাহীর অন্ধকারে আবর্তিত হতে থাকবে। এ প্রসংগে আল্লাহ তা’আলা বলেন, :

তারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করে বলে, তাদের নিকট যদি কোন নিদর্শন আসতো, তবে অবশ্যই তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত। বলুন, নিদর্শন তো আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। তাদের নিকট নিদর্শন আসলেও তারা যে বিশ্বাস করবে না তা কিভাবে তোমাদের বোধগম্য করা যাবে? তারা যেমন প্ৰথমবার তাতে বিশ্বাস করেনি, তেমন আমিও তাদের অন্তরে ও নয়নে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করব এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্ৰান্তের মত ঘুরে বেড়াতে দেব। আমি তাদের নিকট ফেরেশতা প্রেরণ করলেও এবং মৃতেরা তাদের সাথে কথা বললেও এবং সকল বস্তুকে তাদের সম্মুখে হাযির করলেও যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তারা বিশ্বাস করবে না। কিন্তু তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ (৬ : ১০৯-১১১)।

মহান আল্লাহ আরো বলেন : ان الذين حقتت عليهم كلمة ربك لا يؤمنون – ولوجاءتهم كل أية حتى يرو

العذاب الأليم. যাদের বিরুদ্ধে আপনার প্রতিপালকের বাণী সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে, তারা ঈমান আনবে না, এমনকি ওদের নিকট প্রত্যেকটি নিদর্শন আসলেও যতক্ষণ না তারা মর্মন্তদ শাস্তি প্ৰত্যক্ষ করবে: (S० ६ ७-०१)।

আল্লাহ তা’আলা অন্যত্র বলেন : وما منعنا أن نرسل بالأيت الأ أن كذب بها الأولون وأتينا ثمود الشاقة

مبصرة فظلموا بها وما تُرسل بالأيت الأتخويفا. পূর্ববর্তিগণ কর্তৃক নিদর্শন অস্বীকার করাই আমাকে নিদর্শন প্রেরণ করা থেকে বিরত রাখে।

আমি শিক্ষাপ্রদ নিদর্শন স্বরূপ ছামূদ জাতিকে উত্নী দিয়েছিলাম। এরপর তারা সেটির প্রতি জুলুম করেছিল। আমি ভীতি প্রদর্শনের জন্যেই নিদর্শন প্রেরণ করি (১৭ : ৫৯)।

মহান আল্লাহ আরো বলেন :

এবং তারা বলে, কখনো আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনিব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্যে ভূমি হতে প্রস্রবণ উৎসারিত করবে। অথবা তোমার খেজুরের ও আংগুরের এক বাগান হবে যার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অজস্র ধারায় প্রবাহিত করে দিবে নদী-নালা। অথবা তুমি যেমন বলে থাক তদনুযায়ী আকাশকে খণ্ড-বিখণ্ড করে আমাদের উপর ফেলবে অথবা আল্লাহ তা’আলা। ও ফেরেশতাগণকে আমাদের সম্মুখে উপস্থিত করবে। অথবা একটি স্বর্ণ নির্মিত গ্রহ হবে, অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে; কিন্তু তোমার আকাশে আরোহণে আমরা কখনাে ঈমান আনব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব অবতীর্ণ করবে যা আমরা পাঠ করব। বলুন,, পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক, আমি তো হলাম কেবল একজন মানুষ একজন রাসূল (১৭ : సిం-సిరి)।

এ সকল আয়াত এবং এগুলোর সাথে সামঞ্জস্যশীল অন্যান্য আয়াত সম্পর্কে তাফসীর গ্রন্থের সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে আমরা বিস্তারিত আলােচনা করেছি। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর।

ইউনুস এবং যিয়াদ………. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদা সূর্যাস্তের পর কুরায়শ বংশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা কা’বা গৃহের নিকট সমবেত হয়। ইবন আব্বাস (রা) উপস্থিত লোকদের নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের একে অন্যকে বলল যে, তোমরা মুহাম্মাদ (সা)-এর নিকট প্রতিনিধি প্রেরণ কর এবং তার নিকট যুক্তিতর্ক পেশ কর যাতে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে তার কোন ওযর-আপত্তি না থাকে। এরপর তারা তার নিকট এই বলে লোক পাঠায় যে, তোমার সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রান্ত ব্যক্তিবর্গ সমবেত হয়েছেন, তারা

তোমার সাথে কথা বলবেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সব সময় এটাই কামনা করতেন তারা যেন সৎপথে আসে। তাদের সত্যদ্রোহিতায় তিনি দুঃখ পেতেন। তাদের উপস্থিতির কথা শুনে তিনি ধারণা করেন যে, ঈমান আনায়নের ব্যাপারে তাদের মনে কোন নতুন অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। তাই সংবাদ শুনে দ্রুত তিনি তাদের নিকট উপস্থিত হন এবং তাদের নিকট গিয়ে বসেন।

তারা বলল, হে মুহাম্মাদ! আমরা তোমার নিকট সংবাদ পাঠিয়েছি। এজন্যে যে, এ বিষয়ে আমরা তোমার ওযর-আপত্তির পথ বন্ধ করে দিতে চাই। তুমি তোমার সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছ কোন মানুষ তার নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে তেমন কিছু করেছে বলে।

বর্ণনা ও সমালোচনা করেছ। আমাদের জ্ঞানী-গুণী লোকদেরকে তুমি মুর্থ বলেছ। আমাদের উপাস্যগুলোকে তুমি গালমন্দ করেছ। আমাদের ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদায়কে তুমি বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত করে দিয়েছ। এমন কোন মন্দ কাজ ও মন্দ আচরণ নেই, যা তুমি আমাদের সাথে করনি। তোমার এরূপ প্রচারের দ্বারা ধন-সম্পদ সংগ্ৰহ করাই যদি উদ্দিষ্ট হয়, তবে আমাদের সকলের ধন-সম্পদ থেকে কিছু কিছু আমরা তোমাকে দিয়ে দিব যার ফলে তুমি আমাদের সকলের চাইতে অধিক সম্পদশালী হয়ে যাবে। সম্মান ও মর্যাদাই যদি তোমার কাম্য হয়, তবে আমরা তোমাকে আমাদের সকলের নেতা রূপে বরণ করে নিব। তুমি যদি রাজা হতে চাও আমরা তোমাকে আমাদের রাজারূপে গ্ৰহণ করব। আর তোমার নিকট এসকল বিষয় সংবাদ নিয়ে যে আসে, সে যদি জিন হয়ে থাকে যাকে তুমি দেখতে পাও এবং যে তোমাকে কাবু করেছে, তবে তার হাত থেকে তোমাকে রক্ষা করার জন্যে চিকিৎসা খাতে যত অর্থ-কড়ি লাগে আমরা তা ব্যয় করে তোমাকে সুস্থ করে তুলব। এর কোনটিই যদি তুমি গ্ৰহণ না কর, তবে তোমার কোন ওযর-আপত্তি আমরা মেনে নেব না।

উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আপনারা যা বলছেন তার কোনটিই আমার ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য নয়। আমি যে বিষয়টি নিয়ে এসেছি তা দ্বারা আপনাদের ধন-সম্পদ হস্তগত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আপনাদের মাঝে সম্মানজনক স্থান লাভ করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। রাজত্বও আমি চাই না। বরং মহান আল্লাহ আমাকে আপনাদের নিকট প্রেরণ করেছেন রাসূল রূপে। তিনি আমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আমি যেন আপনাদেরকে পুরস্কারের সুসংবাদ এবং শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করি। আমি আমার প্ৰতিপালকের দেয়া রিসালাতের বাণী আপনাদের নিকট পৌছিয়ে দিলাম এবং আপনাদের কল্যাণ কামনা করছি। আমি যা এনেছি। আপনারা যদি তা গ্ৰহণ করেন, তবে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ আপনারা লাভ করতে পারবেন, আর যদি তা প্রত্যাখ্যান করেন, তবে আমি ধৈর্য ধারণ করব যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনাদের ও আমার ব্যাপারে কোন ফায়সালা

আসছে।

এরপর কুরায়শের লোকেরা বলল, আমরা তোমাকে যে সকল প্রস্তাব দিয়েছি, তার কোনটিই যদি তুমি গ্ৰহণ না কর, তবে অন্য একটি কাজ কর। তুমি তো জান যে, আমাদের দেশ খুব ছোট, আমাদের ধন-সম্পদ খুবই কম এবং আমরা খুব দুঃখ-কষ্টে জীবন যাপন করি।

তোমার প্রতিপালক যিনি তোমাকে রিসালাত সহকারে পাঠিয়েছেন তুমি তাঁর নিকট এ আর্জি পেশ কর, তিনি যেন আমাদের এলাকাকে সংকুচিত করে রাখা এই পাহাড়টি দূরে সরিয়ে দেন এবং আমাদের দেশের আয়তন বাড়িয়ে দেন। আরো নিবেদন পেশ কর, তিনি যেন আমাদের দেশে সিরিয়া ও ইরাকের ন্যায় নদ-নদী প্রবাহিত করে দেন। আমাদের মৃত পূর্বপুরুষদেরকে পুনজীবিত করে দেন। পুনরুজ্জীবিত মানুষদের মধ্যে যেন কুসাঈ ইবন কিলাবও থাকেন। কারণ, তিনি একজন সত্যবাদী ও শ্রদ্ধাভাজন প্রবীণ লোক ছিলেন। তিনি পুনরুজ্জীবিত হয়ে এলে তুমি যা বলছি, তা সত্যি কি মিথ্যা আমরা তাকে জিজ্ঞেস করব। আমরা তোমাকে যা বললাম, তুমি যদি তা করে দেখাতে পার এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা যদি তোমাকে সত্যবাদী বলে প্রত্যায়ন করেন, তবে আমরা তোমাকে সত্যবাদী বলে মেনে নেব। আমরা তখন আল্লাহর নিকট তোমার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে বলে বুঝতে পারব এবং এও বুঝতে পারব যে, তুমি যেমন বলছ ঠিকই আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে রাসূল রূপে প্রেরণ করেছেন।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে বললেন, ওই সব কাজ করার জন্যে তো আমাকে প্রেরণ করা হয়নি। আমি তো আপনাদের নিকট এসেছি সে সব বিষয় নিয়ে, যেগুলো সহকারে আল্লাহ তা’আলা আমাকে পাঠিয়াছেন। যে সব বিষয়সহ আমি আপনাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি, সে গুলো আমি আপনাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছি। আপনারা যদি সেগুলো গ্ৰহণ করেন, তবে ইহকালে ও পরকালে আপনাদের কল্যাণ হবে। আর যদি সেগুলো প্ৰত্যাখ্যান করেন, তবে আমি ধৈর্য-ধারণ করব এবং আল্লাহ তা’আলার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকব যতক্ষণ না আল্লাহ্ তাআলা আমার ও আপনাদের মাকে ফায়সালা করে দেন।

তারা বলল, আমরা যা চেয়েছি। তুমি যদি তা করতে না পোর, তবে তুমি এ কাজটি কর যে, তুমি তোমার প্রতিপালককে বল, তিনি যেন আমাদের নিকট একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে দেন, যে তোমার কথাগুলো সত্য বলে প্ৰত্যায়ন করবে এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের অভিযোগগুলো খণ্ডন করবে। আর তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট নিবেদন পেশ করবে। তিনি যেন আমাদের জন্যে বাগ-বাগিচা, সম্পদরাশি এবং স্বর্ণ, রৌপ্যের প্রাসাদ।রাজির ব্যবস্থা করে দেন। তোমার জীবিকা অন্বেষণের ঝামেলা থেকে যেন তিনি তোমাকে মুক্ত করে দেন। আমরা তো তোমাকে দেখছি যে, জীবিকার তাকীদে তুমি হাটে-বাজারে যােচ্ছ এবং জীবিকা অন্বেষণ করছি যেমনটি আমরা করছি। যদি এটুকু করতে পোর, তবে তোমার প্রতিপালকের নিকট তোমার মর্যাদা ও গুরুত্ব কতটুকু তা আমরা বুঝতে পারব। তুমি যেমন নিজেকে রাসূল বলে মনে করছে তা যদি সঠিক হয়েই থাকে, তবে একাজগুলো তুমি কর।

প্রতিপালকের নিকট এ জাতীয় কোন আবেদন করব না। এ সকল কাজ করার জন্যে আমাকে আপনাদের প্রতি প্রেরণ করা হয়নি। বরং আল্লাহ তা’আলা আমাকে প্রেরণ করেছেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে। আমি যা এনেছি আপনারা যদি তা গ্ৰহণ করেন, তবে তাতে আপনাদের ইহকাল-পরকালের কল্যাণ হবে। আর যদি তা প্ৰত্যাখ্যান করেন, তবে আমি ধৈৰ্য

ধারণ করব আল্লাহ্র নির্দেশের জন্যে যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের ও আপনাদের মাঝে ফায়সালা করে দেন।

এরপর তারা বলল, তুমি তো বলে থাক যে, তোমার প্রতিপালক যা চান তা করেন, তাহলে তাঁকে বলে আকাশটাকে ভূপাতিত করে দাও। এরূপ না করলে আমরা কখনো তোমার প্রতি ঈমান আনিব না। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এটি আল্লাহর ইখতিয়ারাধীনই তিনি চাইলে তোমাদের জন্যে তা ঘটাবেন।

এরপর তারা বলল, হে মুহাম্মদ! আমরা যে তোমার সাথে বৈঠকে বসব, তোমার নিকট এসব প্রশ্ন করব এবং তোমার নিকট যা দাবী করলাম। এগুলো দাবী করব— এসব বিষয় কি পূর্ব থেকেই তোমার প্রতিপালকের জানা ছিল না? যদি জানা থাকে, তবে তিনি তো আগে-ভাগে তোমাকে তা জানিয়ে দিতে পারতেন এবং এমন উত্তর শিখিয়ে দিতে পারতেন, যা দ্বারা তুমি আমাদের যুক্তি খণ্ডন করতে পারতে। তোমার আনীত বিষয়াদি যদি আমরা গ্ৰহণ না করি, তবে তিনি আমাদের ব্যাপারে কী করবেন তা তো তোমাকে জানিয়ে দিতে পারতেন। আমরা সংবাদ পেয়েছি যে, ইয়ামামা অঞ্চলের অধিবাসী রাহমান” নামের এক ব্যক্তি তোমাকে এসব শিখিয়ে দেয়। আল্লাহর কসম, আমরা কখনই ওই রাহমানের’ প্রতি ঈমান আনিব না। হে মুহাম্মদ! এ সকল বক্তব্য দ্বারা আমরা তোমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের শেষ সুযোগ দিয়েছি। আল্লাহর কসম, তুমি আমাদের ব্যাপারে যা করে যােচ্ছ বিনা বাধায় তা করে যাওয়ার জন্যে আমরা তোমাকে সুযোগ দিব না। বরং তা প্রতিরোধ করতে গিয়ে হয়ত আমরা তোমাকে ধ্বংস করে দিব নতুবা তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করে দিবে।

মুশরিকদের কেউ কেউ বলেছিল, আমরা তো ফেরেশতাদের উপাসনা করি। তারা আল্লাহর কন্যা। ওদের কেউ কেউ বলেছিল, আমরা কখনই তোমার প্রতি ঈমান আনিব না যতক্ষণ না তুমি আল্লাহকে এবং ফেরেশতাদেরকে আমাদের সম্মুখে উপস্থিত কর। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এসব কথা বলার পর তিনি ওখান থেকে চলে যান। তাঁর সাথে উঠে এল আবদুল্লাহ ইবন আবী উমাইয়া ইবন মুগীরা ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন মািখযুম। সে ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ফুফু, আবদুল মুত্তালিবের কন্যা আতিকার পুত্র। সে বলল, হে মুহাম্মদ! তোমার সম্প্রদায় তোমার নিকট এ প্রস্তাবগুলো পেশ করেছে অথচ তুমি এর কোনটিই গ্ৰহণ করলে না। এরপর তারা নিজেদের কল্যাণের জন্যে বেশ কিছু দাবী উত্থাপন করল, যার দ্বারা তারা আল্লাহর নিকট তোমার প্রকৃত মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হতে পারত তাও তুমি করলে না। এরপর তারা তাৎক্ষণিক ও শীঘ শাস্তি আনয়নের দাবী জানাল, যে শাস্তির ব্যাপারে তুমি তাদেরকে সতর্ক করছিলে। আল্লাহর কসম, আমি তোমার প্রতি কখনই ঈমান আনিব না। যতক্ষণ না তুমি আকাশের সাথে একটি সিঁড়ি স্থাপন কর এবং আমাদের সম্মুখে ওই সিঁড়ি বেয়ে আকাশে আরোহণ কর। এরপর সাথে করে একটি উন্মুক্ত কিতাব নিয়ে আসে-আর তোমার সাথে থাকবে :জন ফেরেশতা যারা সাক্ষ্য দিবে যে, তুমি যা বলছে তা যথার্থ। আল্লাহর কসম তুমি যদি এটুকু করতে পোর, তবে আমার ধারণা যে, তোমাকে সত্যবাদী বলে মেনে নিতে পারবো। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট থেকে চলে যায়। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)

তাঁর পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে আসেন। তারা যখন তাকে ডেকেছিল, তখন যে বিরাট আশা নিয়ে তিনি ওদের নিকট গিয়েছিলেন, সে আশা ভঙ্গ হওয়ায় তিনি খুবই মর্মাহত হন। যখন দেখা গেল যে, তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে দূরে সরে থাকতে চায় এবং তাদের সম্মিলিত ওই সমাবেশ ছিল অবিচার, সীমালংঘন ও সত্যদ্রোহিতার মজলিস। তখন মহান আল্লাহর হিকমত ও তার রহমতের দাবী ছিল যে, ওদের আহবানে সাড়া দেয়া যাবে না। কেননা, মহান আল্লাহর সম্যক জানা ছিল যে, তাতেও ওরা ঈমান আনয়ন করবে না। ফলশ্রুতিতে বরং তাদের শাস্তি-ই তুরান্বিত হবে।

এ প্রসংগে ইমাম আহমদ (র) বলেন, উছমান ইবন মুহাম্মদ….. ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কার অধিবাসিগণ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট অনুরোধ করেছিল তিনি যেন তাদের জন্যে সাফা পাহাড়কে স্বর্ণে রূপান্তরিত করে দেন এবং অন্যান্য পাহাড়গুলোকে তাদের নিকট থেকে দূরে সরিয়ে দেন যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ক্ষেত-ফসল উৎপাদন করতে পারে। আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলা হল যে, আপনি ইচ্ছা করলে তাদের ওই অনুরোধের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে পারেন আর ইচ্ছ করলে তাদের আবদারগুলো পূরণও করে দেখাতে পারেন। তবে তখনও যদি তারা কুফরী করে, তাহলে তারা নিশ্চয় তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে, যেমন হয়েছে তাদের পূর্ববতী উন্মত। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আমি বরং তাদের ব্যাপারে অপেক্ষা করব। এ প্রসংগে আল্লাহ তা’আলা বলেন :

و ما منعنا أن تُرسل بالأيت الأ أن كذب بها الأولون وأتينا ثمود الناقة

পূর্ববর্তিগণ কর্তৃক নিদর্শন অস্বীকার করাই আমাকে নিদর্শন প্রেরণ করা হতে বিরত রাখে। আমি শিক্ষাপ্রদ নিদর্শনস্বরূপ ছামূদ জাতিকে উস্ত্রী দিয়েছিলাম, এরপর তারা তার প্রতি জুলুম क(द्धछिल (S१ 8 (१०)।

ইমাম নাসাঈ (র)-ও অনুরূপ হাদীছ হযরত জারীর (র) থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবদুর রহমান…… হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরায়শ বংশের লোকজন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলেছিল। আপনি আমাদের জন্যে আপনার প্রতিপালকের দরবারে দু’আ করুন যাতে তিনি সাফা পাহাড়কে আমাদের জন্যে স্বর্ণে পরিণত করে দেন তাহলে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনিব। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, তোমরা কি সত্যিই ঈমান আনবে? তারা বলল, হঁ্যা আমরা ঈমান আনিব। রাসূলুল্লাহ্ (সা) দুআ করলেন। হযরত জিবরাঈল (আ) এলেন। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার প্রতিপালক আপনাকে সালাম বলেছেন এবং এ কথা বলেছেন যে, যদি আপনি চান তবে সাফা পাহাড় স্বৰ্ণে পরিণত হবেই। কিন্তু এরপর যদি ওদের কেউ কুফৱী করে, তৰে আমি এমন শাস্তি দিব যা বিশ্বের কাউকেই দেব না। আর আপনি যদি চান তবে আমি তাদের জন্যে রহমত ও তাওবার দরজা খুলে দেব। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তাহলে রহমত ও তাওবার দরজাই বরং খুলে দিন। দুটো হাদীছের সনন্দই উৎকৃষ্ট বটে। বেশ কিছু সংখ্যক তাবিঈ থেকে এ হাদীছখানা

প্রমুখ।

ইমাম আহমদ ও তিরমিয়ী (র) আবদুল্লাহ ইবন মুবারক….. আবু উমামা ১ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, আমার প্রতিপালক মক্কাভূমির সবটাই আমার জন্যে স্বর্ণে পরিণত করে দিলে আমি তাতে খুশী হবো কিনা জানতে চেয়েছেন। আমি বলেছি যে, তা করার দরকার নেই। আমি বরং একদিন তৃপ্তির সাথে আহার করব এবং একদিন উপোস করব। তাতেই আমি সন্তুষ্ট। রাসূলুল্লাহ্ (সা) হুবহু একথাটিই বলেছিলেন কিংবা এ মর্মের উক্তি করেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন, আমি যখন উপোস থাকিব, তখন বিনয় সহকারে, কান্নাকাটি করে আপনার দরবারে দু’আ করব এবং আপনাকে স্মরণ করব। আর যখন তৃপ্ত হয়ে খাব, তখন আপনার প্রশংসা করব ও শোেকর আদায় করব। এটি ইমাম আহমদ (র)-এর বর্ণনা তিরমিয়ী (র) এটিকে হাসান বলে অভিহিত করেছেন।

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক… ইবন আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, কুরায়শ বংশের লোকেরা নাযার ইবন হারিছ এবং উকবা ইবন আবী মুআয়তকে মদীনায় ইয়াহুদীদের নিকট প্রেরণ করেছিল। তারা ওদেরকে বলেছিল তোমরা দু’জন গিয়ে ইয়াহুদী যাজকদের নিকট মুহাম্মদ (সা)-এর পরিচয় দেবে এবং তাঁর বক্তব্য সম্পর্কে জ্ঞাত করবে এবং তাঁর সত্যাসত্য সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে। কারণ, তারা প্রথম আসমানী কিতাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়। নবী, রাসূলগণ সম্পর্কে তাদের সেই জ্ঞান আছে, যা আমাদের নেই। ওরা দু’জন যাত্রা করে এবং মদীনায় গিয়ে পৌছে। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পরিচয়, কার্যকলাপ ও তার কতক বক্তব্য উল্লেখ করে ওরা ইয়াহুদী যাজকদেরকে তাঁর সত্যাসত্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তারা দু’জনে বলেছিল আপনারা তাওরাত কিতাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়। আমরা আপনাদের নিকট এসেছি। এ উদ্দেশ্যে যে আমাদের ওই লোকটি সম্পর্কে আপনারা আমাদেরকে প্রকৃত তথ্য জানাবেন। ইয়াহুদী যাজকগণ ওদেরকে বলল, আমরা তোমাদেরকে তিনটি প্রশ্ন শিখিয়ে দিচ্ছি। তোমরা তাকে ওই বিষয় সম্পর্ক জিজ্ঞেস করবে। তিনি যদি ওগুলোর ঠিক ঠিক উত্তর দিতে পারেন, তবে তিনি নিশ্চয়ই রিসালতপ্ৰাপ্ত নবী। আর তা না পারলে নিশ্চয়ই সে মিথ্যাবাদী, প্ৰতারক। এরপর তার সম্পর্কে তোমরাই তোমাদের সিদ্ধান্ত নিবে।

প্রথমত, তোমরা তাকে জিজ্ঞেস করবে। সেই একদল যুবক সম্পর্কে, যারা প্রথম যুগে হারিয়ে গিয়েছিল ওদের পরিণতি কী হয়েছিল? কারণ, তাদেরকে কেন্দ্র করে আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছিল। দ্বিতীয়ত তাকে জিজ্ঞেস করবে। সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ভ্ৰমণ করেছিল তার বৃত্তান্ত কী? তৃতীয়ত তাকে জিজ্ঞেস করবে। রূহ সম্পর্কে। রূহ কী? তিনি যদি এগুলো সম্পর্কে তোমাদেরকে জানাতে পারেন, তবে তিনি নিশ্চয়ই নবী। তোমরা তার অনুসরণ করবে। অন্যথায় সে একজন মিথ্যাবাদী। তার সম্পর্কে তোমরা যা করতে চাও করবে।

১. কোন কোন কপিতে কাসিম ইবন আবু উমামা বলা হয়েছে। মূলত তিনি হলেন কাসিম ইবন আবদুর রহমান,

বনী উমাইয়া দিমাশকী এর মুক্ত ক্রীতদাস। তিনি আবু উমামা ব্যতীত অন্য কোন সাহাবী থেকে হাদীছ বর্ণনা করেননি।

নাযার ও উকবা ফিরে এল কুরায়শ সম্প্রদায়ের নিকট। তারা বলল, হে কুরায়শ সম্প্রদায়! আমরা এমন বিষয় নিয়ে এসেছি যা তোমাদের মাঝে এবং মুহাম্মাদ (সা)-এর মাঝে স্পষ্ট মীমাংসা করে দিবে। ইয়াহুদী যাজকদল আমাদেরকে পরামর্শ দিয়েছে তাকে কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে। উক্ত বিষয়গুলো তারা ওদেরকে জানায়।

তখন কুরায়শের লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আসে এবং বলে, হে মুহাম্মদ! আমাদেরকে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করা দেখি! ইয়াহুদীদের নির্দেশিত বিষয়গুলো তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আপনারা যা জিজ্ঞেস করেছেন, সে সম্পর্কে আলি আগামীকাল আপনাদেরকে জানাব। তিনি ইনশাআল্লাহ বলতে ঐসময় ভুলে যান। ওরা প্রস্থান করল। এদিকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) একে একে পনের দিন অপেক্ষা করলেন। কিন্তু ঐ সম্পর্কে কোন ওহী নাযিল হলো না, হযরত জিবরাঈল (আ.)-ও আসলেন না। মক্কার অধিবাসীরা খুশীতে আটখানা। তারা বলছিল, মুহাম্মদ (সা) আমাদেরকে পরেরদিন উত্তর দেয়ার অঙ্গীকার করেছে, অথচ পনের দিনের মাথায়ও সে আমাদেরকে প্রশ্নগুলো সম্পর্কে কোন উত্তর দিচ্ছে না। ওহী বন্ধ থাকায় রাসূলুল্লাহ্ (সা) দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। মক্কাবাসীদের অব্যাহত কটুক্তি ও তিরস্কার তাঁকে পীড়া দিচ্ছিল। অবশেষে সূরা কাহফ নিয়ে হযরত জিবরাঈল (আ) এলেন। মুশরিকদের আচরণে ক্ষুব্ধ ও অধৈৰ্য হয়ে উঠায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি মৃদু তিরস্কার রয়েছে। এ সূরায়। এতে তাদের প্রশ্নকৃত যুবকের তথ্য এবং পৃথিবী প্রদিক্ষণকারী ব্যক্তির বর্ণনা রয়েছে। অন্যত্র রূহ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন :

ওরা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। বলুন, রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত এবং তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে (১৭ : ৮৫)। ঐ বিষয়ে আমরা

পুংখানুপুংখ ও বিস্তারিত ভাবে তাফসীর গ্রন্থে আলোচনা করেছি। সে সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান আহরণে কারো আগ্রহ থাকলে সেখানে দেখে নিতে পারবেন।

মুশরিকদের প্রশ্ন উপলক্ষে আরো নাযিল হল :

أم حسينت أن أصخب الكهف والرقيم كانوا من أيتنا عجبا.” আপনি কি মনে করেন যে, গুহা ও রাকীমের অধিবাসিগণ আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর? (১৮ : ৯)। এরপর তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন। অবশ্য

মধ্যখানে নিশ্চয়তাসূচক ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান) বলার শিক্ষা দেয়া হয়েছে। শর্তসূচক অর্থে নয়। এ প্রসংগে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন :

কখনো আপনি কোন বিষয়ে বলবেন না। “আমি এটি আগামীকাল করব”— আল্লাহ ইচ্ছা! করলে— একথা বলা ব্যতীত। তবে যদি ভুলে যাও তবে তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করবে: (Sb 8 २७)।

হযরত খিযির (আ)-এর আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকায় প্ৰসংগক্ৰমে এরপর হযরত মূসা (আ:)-এর কথা আলোচনা করা হয়েছে। তারপর আলোচনা করা হয়েছে। যুলকারনায়ন এর কথা। এ প্রসংগে আল্লাহ তা’আলা বলেন, :

یسالونلف عن ذی القرنین قلا سانلوا علیگم منهٔ ذگرا ওরা আপনাকে যুলকারনায়ন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, আমি তোমাদের নিকট তার সম্পর্কে বর্ণনা করব (১৮ : ৮৩)। এরপর আল্লাহ তা’আলা যুলকারনায়নের বিষয়াদি ও

ওরা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত অর্থাৎ সেটি আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি এবং এক বিশেষ নির্দেশ। আল্লাহ্ তা’আলার কুদরত ও প্রজ্ঞার ওই বিশেষ সৃষ্টির তত্ত্ব ও রহস্য অনুধাবন করা তোমাদের সাধ্যাতীত ব্যাপার। তাই আল্লাহ তা’আলা বলেন ১_’, $ 1, 11 ৬৮ : ‘…’, L., —তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, ইয়াহুদিগণ মদীনা শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা)-কে এ প্রশ্ন করেছিল এবং তখন তিনি এ আয়াতখানা পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। তাহলে এটা বলতে হবে যে, তখন আয়াতখানা পুনরায় নাযিল হয়েছিল অথবা প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তিনি এ আয়াত পাঠ করেছিলেন। মূলত আয়াতটি পূর্বেই নাযিল হয়েছিল। কেউ কেউ অবশ্য বলেন যে, এ আয়াত মূলত সূরা বনী ইসরাঈলের অন্তর্ভুক্ত নয়, এটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাদের এ মন্তব্যের যথার্থতা সন্দেহাতীত নয়। আল্লাহই ভাল জানেন।

ইবন ইসহাক বলেন, আবু তালিব যখন শংকিত হয়ে পড়লেন যে, আরবের লোকজন তাঁর সম্প্রদায়সহ সকলে মিলে তাঁর উপর আক্রমণ করবে, তখন তিনি নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করলেন। এ কবিতায় তিনি হারাম শরীফের আশ্রয় কামনা করেছেন এবং হারাম শরীফের কারণে তাঁর মর্যাদার কথা প্রকাশ করেছেন। এতদসত্ত্বেও তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের নেতৃবর্গসহ

সমর্পণ করবেন না এবং কোন বিপদের মুখে তিনি তাঁকে ছেড়ে দিবেন না। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে রক্ষার জন্যে প্রয়োজনে তিনি নিজের প্রাণ বিসর্জন দেবেন। এ প্রসংগে তিনি বললেন :

আমি যখন সম্প্রদায়ের লোকদেরকে দেখলাম যে, তাদের মধ্যে কোন দয়ামায়া নেই এবং আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের সকল মাধ্যম তারা ছিন্ন করে দিয়েছে।

তারা প্ৰকাশ্যে আমাদের সাথে শক্ৰতা পোষণ ও অত্যাচার করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা দূর-দূরান্তের শত্রুপক্ষের নির্দেশ অনুসরণ করছে।

وقد حالفوا قوما علينا أظثة – يغضون غيظا حلفنّا بالأنامل. আমাদের বিরুদ্ধে তারা এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে মৈত্রী চুক্তি করেছে যারা আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ রটায় এবং আমাদের অবর্তমানে যারা আমাদের প্রতিহিংসায় দাঁতে আঙ্গুল কামড়ায়।

نبرت لهم نفسی بسمراء لمحة – وأبيض غضب من تراث المقاولة ওদের জন্যে আমি নিজেকে সংযত রেখেছি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত তীক্ষুধার তরবারি এবং সোজা সরল বর্শা থাকা সত্ত্বেও।

وأحضرت عند البيت رهطى واخوتى – وأمسكت من أثوابه بالوصائل–আমার জ্ঞাতিগোষ্ঠি ও পরিবারের লোকদেরকে আমি বায়তুল্লাহ শরীফের নিকট উপস্থিত করেছি এবং বায়তুল্লাহ শরীফের দেয়ালের সাথে লাগানো গিলাফের আশ্রয় নিয়েছি।

قیاما معا مسنتقبلین ر تاجه–لدای حیات یقضی خلفهٔ گل ناقل আমরা সবাই এক সঙ্গে বায়তুল্লাহ শরীফের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। যেখানে এসে প্রত্যেক তীর্থযাত্রী নিজ নিজ মানত পূর্ণ করে।

وحيث ينيخ الأشعرون ركابهم–بمفضى السيول من أسافي ونائل. যেখানে আশাআর গোত্রের লোকেরা তাদের সওয়ারী উটগুলো বসায়। আসাফ ও নাইলা প্রতিমাদ্বয়ের মধ্যবতী পানি প্রবাহের স্থলে।

উটগুলোর বাহুদেশে কিংবা ঘাড়ে চিহ্ন খচিত। সিদীস ও বাযিল নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যবতীর্ণ

शून्

تری الوداع فيها والرخام وزينة – بأعناقها مقصودة كالعثاكل ওই উট পালে নর উট ওই গুলোর শ্বেতবর্ণ মাথা, ঘাড় ও গলদেশের সৌন্দর্য এবং চাকচিক্য দেখে তোমার মনে হবে ওই গুলো যেন ফলবান বৃক্ষশাখা।

أعوذ برب الناسر من كل طاعن–علينا بسوء أو ملح باطل আমি মানুষের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এমন নিন্দুক থেকে যে মন্দ কথায় আমাদের তিরস্কার করে কিংবা অন্যায় মিষ্টি কথায় আমাদেরকে উপহাস করে।

و من کاشح یہيسنغ لنا بمعيبة – و من ملحق فی الدین مالم نئحاولআমি আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি এমন শত্রু থেকে, যে আমাদেরকে দোষারোপ করতে চেষ্টা করে এবং এমন সব ধমীয় বিধান সংযুক্ত করতে চায় যা আমরা পালন করি না।

وثور و من آرشی ثبیر امکانهٔ–وراق و لیبرقی فی حراء و نازلوশপথ ছওর পর্বতের এবং শপথ সেই মহান সত্তার যিনি ছাবীর পর্বতকে স্বস্থানে স্থাপন করেছেন এবং শপথ হেরা গুহায় আরোহণকারী ও তা থেকে অবতরণকারীর।

وبالبيت حق البيت ببطن مكة – وباللّه أن اللّه ليس بغافل এবং শপথ বায়তুল্লাহ শরীফের যে বায়তুল্লাহ শরীফ মক্কায় অবস্থিত। আর শপথ মহান আল্লাহর নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ উদাসীন নন।

وبا لحج الماسنودر اذ یمسحونهٔ–اذا اگتنفوهٔ بالضخ واللاصائل শপথ হাজারে আসওয়াদের যখন লোকজন সেটিকে স্পর্শ করে এবং বুকে জড়িয়ে ধরে–সকাল-সন্ধ্যায়।

و موطی ابراهیم فی الصخرر طبهٔ–علی قدمیه حافیا غیر ناعلی শপথ কঠিন পাথরে হযরত ইবরাহীম (আ:)-এর পদচিহ্নের তাঁর জুতে বিহীন নগ্ন পায়ের জন্যে যে পাথরও নাম হয়েছিল।

وأشواط بين المروتين الى الصفا – وما فيها من صورة وتماثيل – এবং শপথ সাফা-মারওয়ার মধ্যবর্তী সাঈ-এর স্থানের এবং সেখানে অবস্থিত ছবি ও প্ৰতিমাগুলোর।

و من حج بابت الله من کل راکب و من کل ذی نذر و من کل را جلو

এবং শপথ বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জ পালনকারীর। যে হজ্জ পালন করে সওয়ারীতে আরোহণ করে, যে হজ্জ পালন করে মানত পূরণের জন্যে এবং যে হজ্জ পালন করে পদব্ৰজে।

و با لمشاعر الاقطبی اذا عمد و الهٔ–الال الی مفضی الشتر اج القوا بلমাশতআরো আকসা তথা আরাফাত ময়দানের শপথ। যখন হাজীগণ ওই ময়দানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এবং যখন তারা সম্মুখস্থ ফাঁকা প্রবাহস্থল দিয়ে আরাফাত পর্বতের দিকে অগ্রসর হয়।

শপথ অপরাহে তাদের আরাফাত পর্বতে অবস্থানের। নিজ হাতে তারা তাদের সওয়ারীগুলোর বুক সোজা করে দেয়।

وليلة جمع والمنازل من مينى – وهل فوقها من حرمة ومنازل শপথ মুযদালিফায় অবস্থানের রাত্রির এবং শপথ মিনা ময়দানের মনযিলসমূহের। ওগুলোর চাইতে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন কোন মনযিল আছে কি?

و جمع اذا ما المقربات آجزنهٔ–سراعا کما یخرجن من واقع و ابلا মুযদালিফা ময়দানের শপথ। দ্রুত ধাবমান উস্ত্রীপাল যখন দ্রুতগতিতে সেটি অতিক্রম করে। যেমন তারা দ্রুতগতিতে পলায়ন করে বৃষ্টিপাতের সময়।

وبالجمرة الكبرى اذا صعروا ليها – يؤمون قذفا رأسها بالجنادل – শপথ জামারায়ে কুবরা তথা পাথর নিক্ষেপের প্রধান লক্ষ্যবস্তুর। যখন হাজীগণ সেটির উদ্দেশ্যে উপরের দিকে উঠে। সেটির মাথায় পাথর নিক্ষেপই তাদের উদ্দেশ্য থাকে।

وكندة اذهم بالحصاب عشية – تجيز بهم حجاج بكر بن وائل–শপথ কিনদাহ গোত্রের, যখন বকর ইবন ওয়াইল গোত্রের হাজীগণ সন্ধ্যা বেলা কংকর। নিয়ে ওদের পাশ দিয়ে যায়।

حليفان شدّا عقد ما اختلفا له – وردًا عليه عاطفات الوسائل তারা দুই মিত্ৰ গোত্র। যে বিষয়ে তারা মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে ওই বিষয়ক চুক্তিকে

তারা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে তারা প্রচণ্ড আক্রমণকারী অশ্বদল পাঠিয়েছে।

و حطمهم سامر الر مباح و سر حهٔ–و شیر قهٔ وخذ النعام الجو افل এ লক্ষ্যে তারা ছোট-বড় সকল তীর ও বর্শা এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন উটপাখীর ক্ষিপ্ৰতাকে কাজে লাগিয়েছে।

فهل بعد هذا من معاذ لعائذ–وهل من معيذريتقى الله عادلএরপর কি আশ্রয় প্রার্থনাকারীর জন্যে কোন আশ্রয়স্থল অবশিষ্ট থাকে? আর আল্লাহর ভয় পোষণকারী ন্যায়পরায়ণ কোন আশ্রয়দাতা পাওয়া যায় কি?

يطاغ بنا أمر العداوة اثنا – يسدّ بنا أبواب ترك وكابليআমাদের ব্যাপারে শক্ৰতামূলক কার্যক্রম অনুসরণ করা হয়। আর আমাদের জন্যে তুর্ক ও কাবুলে পথ বন্ধ করে দেয়া হয়।

کذبثم و بیت الله نترل مگة–و نظعن آلا آمار گم فی بلابلবায়তুল্লাহ্ শরীফের কসম, আমরা মক্কা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাব তোমাদের এ ধারণা মিথ্যা স্মরণ রেখো, তোমাদের কাজকর্মের পরিণাম হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।

كذبْتُمْ وبيت اللّه نبذى محمدًا – ولما تُطاعن دونة ونناضل বায়তুল্লাহ শরীফের কসম, তোমাদের ধারণা নিশ্চিতভাবে মিথ্যা। আমরা কখনো মুহাম্মদ (সা)-কে ফেলে দেব না, তোমাদের হাতে তুলে দেব না। বরং তার পাশে থেকে আমরা তোমাদের প্রতি তীর ও বর্শা নিক্ষেপ করব।

وتُستلمة حتى تُضرع حوله – ونذهل عن أبنائنا والحلائل – আমরা তাকে রক্ষা করব এবং নিরাপদ রাখব। প্রয়োজনে তার চারিপাশে অবস্থান করে আমরা নিজেরা শত্রুর আঘাতে জর্জরিত হব এবং আমাদের স্ত্রী-পুত্রের কথা ভুলে যাব।

وينهض قوم بالحديد إليكم – نهوض الروايا تحت ذات الصلاصل – শেষ পর্যন্ত লৌহ নির্মিত অস্ত্ৰ নিয়ে একটি সম্প্রদায় তোমাদের মুকাবিলার জন্যে অগ্রসর হবে। যেমন কুপের সর্বশেষ অবশিষ্ট পানি বহনকারী অশ্বদল অগ্রসর হয়।

وحتى نرى ذات الضبسفن يركب ردّعة – من الطغن فغل الأنكبر

ވ ހި لامل–অবশেষে আমরা দেখব। আমাদের প্রতিহিংসা পোষণকারী ব্যক্তিকে শরাঘাতে জর্জরিত হয়ে সে মুখ থুবড়ে পড়ে যাচ্ছে। নুইয়ে থাকা অস্ত্ৰ বহনকারী যেমন মুখ থুবড়ে পড়ে যায়।

وانا لعمر اللّه ان جدّ ما أرى – لتلتبسان أسيافنا بالأمائل–আল্লাহর কসম, আমি যা দেখতে পাচ্ছি তা যদি সত্য হয়, তবে আমাদের তরবারি মিলিত হবে নিরস্ত্ৰ লোকদের সাথে। অর্থাৎ আমাদের তরবারির ভয়ে শত্রুপক্ষ নিরস্ত্র হয়ে পড়বে।

بکفی فنی مثل الشهاب سامید غ–آخی ثقة حامی الحقیقة باسل

তরবারি থাকবে একজন নওজােয়ানের হাতে। সে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের ন্যায়। নেতৃত্ব প্রদানকারী, আস্থাভাজন, সত্যের প্রহরী এবং বীর ও সাহসী।

شهورا وأياما وحولاً محرما – علينا وتأتى حجة بغد قابليএভাবে আমাদের জন্যে আসবে মাস দিন ও সম্মানিত বছর এবং আসবে বছরের পর বছর।

و ما ترك قوم لا أبا لك سيدا – يحوط الذمار غیر ذرب مواکل–নিজ সম্প্রদায়ের লোকেরা বর্জন করেছে তাতে কি আসে-যায়? আমাদের ওই যুবক তো

যোগ্যতম নেতা, যে সাহসী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনড় প্রাচীর ও প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। সে আশালীনও নয়, আর নিজের কাজ অন্যের হাতে তুলে দেয় এবং সে অক্ষমও নয়।

وأبيض يستسقى الغمام لوجهه – ثمال الأيتامى عصمة للأرامل সে জ্যোতির্ময়, তার মুখমণ্ডলের উসিলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়। সে ইয়াতীমদের আশ্রয়স্থল এবং বিধবাদের রক্ষক।

یلوذ به الهلال من آل هاشم–فهم عنده فی رحمة و فواضل হাশিমী বংশের দীন-দুঃখী লোকেরা তাঁর নিকট আশ্রয় নেয়। তাঁর নিকট গিয়ে দয়া ও অনুগ্রহ লাভ করে।

لعماری لقد آجری آسید و بگرها–الی بغضبنا و جز آنا الاکلنআমার জীবনের কসম, আসয়াদ ও বিকর এ দু’গোত্র আমাদের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ চরিতার্থ করার পথে নেমেছে। তারা আমাদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত করেছে ভক্ষণকারীর জন্য।

وعثمان لم ينفذ علينا وقنفذ ولكن أطاعا أمر تلك القبائل – উছমান এবং কুনফুয গোত্র আমাদের প্রতি অনিষ্ট সাধন থেকে বিরত থাকেনি। বরং তারাও উপরোল্লিখিত গোত্রগুলোর অনুসরণ করেছে।

তারা উবাই এবং আবদ। ইয়াগৃছের পুত্রের আনুগত্য করেছে। আমাদের ব্যাপারে কোন বক্তব্য প্রদানকারীর বক্তব্যকে তারা গুরুত্ব দেয়নি।

کما قد لقینا من سبیع و نوفل–و گل تولی مغرضا لم یجامل যেমনটি আমরা অসৎ আচরণের সম্মুখীন হয়েছি সুবায় এবং নাওফিল গোত্রের পক্ষ থেকে। তারা সকলেই মুখ ফিরিয়ে চলে গিয়েছে। কেউই আমাদের সাথে ভাল আচরণ করেনি।

فان يلقيا أو يمكن اللَّة منهما – نكل لهما صاعا بصاع المكايليতারা যদি দুঃখ-দুর্দশার সম্মুখীন হয় অথবা আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দেন, তবে আমরা তাদেরকে কড়ায় গণ্ডায় প্রতিদান দেবো।

و ذالت آبو عمرو آبی غیر بغضبنا–لیظعننافی آهل شاعر و جامل ওই যে আবু আমর, আমাদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ছাড়া সে অন্য কিছু জানে না। সে চায় আমাদেরকে এখান থেকে তাড়িয়ে বকরীপালক ও উটপালকদের মধ্যে পাঠিয়ে দিতে।

یاناجی بنا فی گل مماسلی و مصنبح–فناج آبا عمرو بنا ثم خاتل আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রচনায় সে সকাল-সন্ধ্যা কানায়ুষা করে। হে আবু আমার! তুমি গোপন আলোচনা চালিয়ে যাও এবং ষড়যন্ত্র পাকাতে থাক।

ويؤلى لنا باللّه ما أن يغشتا – بلى قد ترأها جهرة غير خائل–আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এমন কিছু দান করবেন যা আমাদেরকে ঢেকে ফেলবে। হ্যা, তুমি তা প্রকাশ্যে দেখতে পাবে। সেটি গোপন থাকবে না।

أضاق نلي يغذ ވ .ށ گل 3۔ اُ۔ تل – من الأرض بين آخش ܝܼܿ 。イ ج دل–

আমাদের প্রতি তার বিদ্বেষের ফলশ্রুতিতে আখশাব ও মুজাদিল পাহাড়ের মধ্যবতী সকল টিলা তার জন্যে সংকীর্ণ ও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে।

وسائل أبا الوليد ماذا حبوتنا – بسعيك فينا مغرضا كالمخاتل – আবু ওয়ালিদকে জিজ্ঞেস করি, আমাদের প্রতি তোমার ঘূণ্য তৎপরতা ও প্রতারকের ন্যায় আচরণ দ্বারা তুমি আমাদের কতটুকু ক্ষতি করতে পেরেছ?

وكنت أمرءا ممن يُعاش براية – ورحمته فينا ولست بجاهلي. তুমি আমাদের মধ্যে এমন একজন লোক ছিলে যে আপন বিবেক-বিবেচনা অনুসরণ করে এবং দয়া-দাক্ষিণ্য সহ জীবন যাপন করতে। তুমি তো ইতোপূর্বে মুর্থ ছিলে না।

فعتبة لا تسدتسمع بنا قول کاشیح–rحسود كذوبر ب فمبلغضر نی دغاولএরপর হে উতবা! আমাদের ব্যাপারে তুমি কোন শত্ৰু, হিংসুক, বিদ্বেষ পোষণকারী ও দুষ্ট লোকের কথা শ্ৰবণ করো না?

আবু সুফিয়ান আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে গিয়েছে। যেমন চলে যায় বড় বড় রাজা-বাদশাহদের কেউ কেউ।

يفر إلى نجد ويردر مياهه – ويزعم أنى لست عنكم بغافل সে চলে যায় নাজদ অঞ্চলে এবং তার শীতল পানির দেশে। সে জানে যে, তোমাদের ব্যাপারে। আমি নির্লিপ্ত নই।

و یخبر نافغل الماناصح آنهٔ–شقیق و یخفی عار مات الدو اخلকল্যাণকামী মানুষের কর্মের ন্যায় সে আমাদেরকে জানায় যে, সে আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। আর তার অন্তর্নিহিত শক্রিতা সে লুকিয়ে রাখে।

أمطعم لم أخذلك فى يوم نجدة – ولاً مغظم عند الأمور الجلائل – হে মুতঙ্গম, আমাদের বিজয়ের দিনে আমি তোমাকে অপমানিত করব না। বিপদাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের দিনেও নয়।

ولا يوم خصم إذ أتوك الدّة – أولى جدلا من الخضوم المساجل – তর্কপটু প্ৰচণ্ড ঝগড়াটে তার্কিক প্রতিপক্ষ যেদিন তোমার সাথে তর্ক করার জন্যে উপস্থিত হবে, সেদিনও আমি তোমাকে অপদস্থ করবাে না।

آمطعم ان القوم سامولت خطة–وانی متنی آوکل فلسنت بوانلی হে মুতঙ্গম, সম্প্রদায়ের লোকেরা তোমাকে চারিদিকে চিহ্নিত করে আক্রমণের অক্ষ্যস্থল বানিয়েছে। তবে আমি যখন কারো দায়িত্বপ্রাপ্ত হই, তখন তাকে ধ্বংস হতে দিই না।

جزی الله عنا عبد شمسر و نوفلاً–عقوبهٔ شر عاجلاً غیر اجل আল্লাহ্ তা’আলা আবদ শামস ও নাওফিলের বংশধরদেরকে আমাদের প্রতিশোধরূপে কঠিন শাস্তি দান করুন এবং তা যেন তিনি দেন শীঘ্রই—বিলম্বে নয়।

بميزان قسنط لا يخس شغيرة – له شاهد من نفسه غير عائلমহান আল্লাহ যেন তাদেরকে শাস্তি দেন ন্যায়বিচারের সে নিক্তিতে মেপে মেপে, যাতে এক তিল কম না হয়। তিনি নিজেই তো ওদের অপকর্মের সাক্ষী এবং তিনি শাস্তি দানে অক্ষম

क्रा०ा

لقد سفهات أحلام قوم تبدلوا – بنى خلف قبضا بنا والغباطل সে সম্প্রদায়ের লোকদের জ্ঞান-বুদ্ধি মূর্থিতায় পর্যবসিত হয়েছে, যারা বনু খালফ গোত্রকে আমাদের সমকক্ষ ও মর্যাদাবান বলে গ্ৰহণ করেছে।

ونحن الصميم من ذوابة هاشم – والرقصى فى الخطوب الأوائل – অথচ হাশিমী বংশের মধ্যে এবং কুসাই-এর বংশধরদের মধ্যে প্রথম সারির গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম সম্পাদন ও বড় বড় সমস্যা সমাধানে আমরাই দৃঢ়চিত্ত ও অগ্রণী।

وسهم و مخزوم. تم الوا والبوا – علينا العدى من كل طمل وخامل বনু সাহিম ও বনু মািখযুম গোত্র আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং আমাদের উপর আক্রমণের জন্যে সকল বদমাশ ও তুচ্ছ লোকদেরকে আহবান জানিয়েছে।

فعبد مناف انتم خیر قومگام–فلاً نشرگوا فی آمرگم و اغلر আর হে আবদ মানাফ গোত্র তোমরা সর্বশ্রেষ্ঠ সম্প্রদায়। তোমাদের কর্মকাণ্ডে আভিজাত্যের কোন মিথ্যা দাবীদারকে তোমরা অংশীদার করো না।

لعمرى لقد وهنتم وعجزئم وجئتم بأمر مخطى للمفاصل আমার জীবনের কসম, তোমরা দুর্বল ও অক্ষম হয়ে পড়েছি। তোমরা এমন একটি কর্মসূচী নিয়ে এসেছি, যা বিচার-মীমাংসার জন্যে বিভ্রান্তিকর।

و گنتام حديثا حطب قذر. وأنتُمْ – لأن أخطاب أقدّرر ومراجل – সম্মান ও মর্যাদার সমষ্টিরূপে এক সময় তোমরা আলোচনার কেন্দ্ৰবিন্দু ছিলে। পক্ষান্তরে এখন তোমরা বড় বড় পাতিল ও পাত্রের ইন্ধনে পরিণত হয়েছ।

لیهن بنی عبدمناف عقوقنا–و خذلانانا وترگنتا فی المعاقل–আমাদের প্রতি অবাধ্যতা প্ৰদৰ্শন, আমাদেরকে অপমানিত করা এবং বিপদের মুখে আমাদেরকে পরিত্যাগ করার ফলশ্রুতিতে আবদ মানাফের গোত্র লাঞ্ছিত হোক।

فان نلك قوما نتثر ما متغتُمُ – وت نتالبوها ق ية غير باهل – আমরা যদি দলবদ্ধ ও বহুজনের সমষ্টি হতে পারতাম, তোমরা যা করেছ, তার সবগুলোই ঝোড়ে-মুছে নিশ্চিহ্ন করে দিতাম। আর আমাদের আনীত বিষয়ের অনুসরণ করে তোমরা সংরক্ষিত দুধেল উষ্ট্রীর দুধ দোহন করতে।

লুওয়াই ইবন গালিব গোত্রে বহু মাধ্যম ছিল। সম্মানিত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা ওগুলো আমাদের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

ورهط نفيلرشر من وطى الحطبى – والأم حافر من مع وناعليনুফোয়ল গোত্রের লোকজন তো এমন যে, জুতো পায়ে ও নগ্নপায়ে পৃথিবীতে যত বিচরণকারী আছে সবার মধ্যে ওরা মন্দতর ও নিকৃষ্টতম।

فأبلغ قصيا أن سينشر أمرنا – وبشر قصيا بغدنا بالتخاذل – কুসাইর গোত্রকে সংবাদ দাও যে, অচিরেই আমাদের ব্যাপারটি বিস্তার লাভ করবে। কুসাইর গোত্ৰকে আরো জানিয়ে দাও যে, আমাদের এ অবস্থার পর তাদের লাঞ্ছনার যুগ শুরু श्त।

ولو طرقت ليلاً قصيا عظيمة – اذا ما لجأنا ذونهم فى المداخل – আমি যদি রাতের বেলা কুসাই-এর নিকট যাই আর কুসাইর গোত্রের আশ্রয় ব্যতীত অন্য কোন স্থানে আশ্রয় নিই, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর ব্যাপার বলে গণ্য হবে।

. ولو صدقوا ضرباخلأل بيوتهم – لكشا أسى عند النساء المطافل.–* তারা যদি নিজেদের গৃহ ও পরিবারের মধ্যে আমাদের সঠিক পরিচয় বর্ণনা করে, তবে সন্তানবতী মাতাদের নিকট আমরা সহানুভূতির পাত্র বলে বিবেচিত হব।

فكل صديق وابن أخت تُعَدّه – لعمرى وجذنا غية غير طائل আমাদের সকল বন্ধু এবং ভাগ্নেদের ব্যাপারে যখন আমরা হিসেব কষি এবং পর্যালোচনা

করি, তখন দেখতে পাই যে, তারা আমাদের প্রতি নির্যাতনকারী। মোটেও অনুগ্রহশীল ও দয়ালু।

নয়।

১. এই লাইন এবং এর পূর্বের লাইন এ দুটো লাইন আসলায়ন গ্রন্থে নেই। সীরাতে ইবন হিশাম থেকে আমরা

এ দুটো লাইন এনেছি। ২. U_at_a_a_j ) বাচ্চাওয়ালা মহিলা।

তবে কিলাব ইবন মুররা গোত্রের কিছু লোক ব্যতিক্রম বটে। আমাদের প্রতি লাঞ্ছনাদায়ক অবাধ্যতা ও অসদাচরণ থেকে তারা মুক্ত ও পবিত্র।

و هانالهم حتی تبرد جمعهم–وی حسیر عنا گل باغ و جاهل তাদের জন্যে সান্দর-সম্ভাষণ। তাদের দলটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সীমালংঘনকারী ও মুর্থ লোকদেরকে আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। r

وكان لنا حوض السقاية فيهم – ونحن الكدى من غالب والكواهل – ওদের আওতার মধ্যে আমাদের পানি পানের কপি ছিল। আর গালিব গোত্রের মধ্যে আমরা ছিলাম নেতৃস্থানীয় ও প্রভাবশালী।

شباب من المطيّبين، وهاشم – كبيض السيوف بين أيدي الصياقلওরা উল্লিখিত গোত্রদ্বয় এবং হাশিম বংশীয় সন্ত্রান্ত গোত্রের একদল তারুণ্যে উদ্দীপ্ত সুগন্ধিতে হাত রেখে শপথকারী যুবক। যেমন রেত পরিচালনাকারী কর্মকারদের সম্মুখে তীক্ষ দেদীপ্যমান তলোয়াররাশি।

فما أدركوا ذحلاً ولا سفكوا دما – والأحالفوا الأشرار القبائل তারা কোন হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করেনি, কোন প্রকারের খুন-খারাবি করেনি এবং অসৎ গোত্রগুলোর সাথে মৈত্রী বন্ধন স্থাপন করেনি।

يضرب ترى الفتيان فيه كأنّهم – ضوارى أسود فوق لحم خرادلر ওরা এমন এক গোত্র, তুমি প্রহরীর ভূমিকায় ওদের যুবকদেরকে দেখবে তারা যেন তিলের উপরের কালো আবরণ।

بنی آمة محبوبه صندکیة–بنی جمح عبید قیس بن عاقل–তারা সিনদাকী ও প্ৰেমময়ী এক ক্রীতদাসীর বংশধর। আর কায়স ইবন আকিলের ক্রীতদাস জুমাহের বংশধর।

ولكنا نسل كرام السادة – بهم نعى الأقوام عند البواطل – পক্ষান্তরে আমরা নেতৃত্ব প্রদানকারী সন্ত্রান্ত লোকদের বংশধর। যুদ্ধ-বিগ্রহের সময় আমাদের সাহসী পূর্বপুরুষদের নামের মধ্যে থাকত শত্রুপক্ষের মৃত্যু-সংবাদ।

ونغم ابن اخت القوم غیرمگذب–زهیر حساما مفردا من حمائل – সত্যিই সম্প্রদায়ের ভাগ্নে গোত্র যুহায়র গোত্র খুব ভাল গোত্র। তারা সাহসী ও যোদ্ধা বটে। কিন্তু অন্যায় আক্রমণের দায় থেকে পবিত্র ও মুক্ত।

নির্ভেজাল ও খাটি সুগন্ধি থেকেও তারা অধিকতর ঘাণময়। এমন একটি বংশের সাথে তারা যুক্ত সম্মান ও মর্যাদার পরিবেশে যেটি উৎকৃষ্ট।

আমার জীবনের কসম, আহমদ ও তার আত্মীয়-স্বজনকে রক্ষা করতে গিয়ে আমি বহু কষ্ট সহ্য করেছি। আত্মীয়তা রক্ষাকারী প্রিয় ব্যক্তির নীতি আমি অনুসরণ করেছি।

فمن مثلهٔ فی الناس ای مؤمل–اذا قاسهٔ الحگام عند التفاضل মান-মৰ্যাদার প্রতিযোগিতায় বিচারকের নিকট তার মত মর্যাদাবান কে-ইবা আছে?

حليم رشيد عادل غير طائش – يوالى الها ليس عنه بغافل সে ধৈর্যশীল, সত্যানুসারী, ন্যায়পরায়ণ। সে লক্ষ্যহীন ও বিভ্রান্ত নয়। এমন এক মা’বুদের সাথে তার সম্পর্ক যিনি তার ব্যাপারে গাফিল নন।

کریم المساعی ماجد و ابن ماجد–لهٔ ارث مجاد ثابت غیر ناصلসে দানশীল, পরিশ্রমী, নিজে সন্ত্রান্ত ও অভিজাত ব্যক্তির পুত্র। তার রয়েছে আভিজাত্যের সুদৃঢ় উত্তরাধিকার। যা নড়বড়ে ও অপসৃয়মান নয়। ]

و ایدهٔ رب العباد بن صارم–و اظهر دینا حقهٔ غیر زائل সকল মানুষের প্রভু মহান আল্লাহ স্বীয় সাহায্য দ্বারা তার শক্তি জুগিয়েছেন। সে প্রচার করেছে এমন একটি দীন-ধর্ম যার সত্যতা অবিনশ্বর।

فواللَّه لولاً آن آجى بسبة – تجرأ على أشنباخنا فى المحافل

গাল-মন্দ বর্ষণের আশংকা না থাকলে—

لكتا تبغناه على كل حالة – من الذهر جداً غير قول التهازل আমরা নিশ্চয় যুগ ও জীবনের সকল পর্যায়ে তার পরিপূর্ণ অনুসরণ করতাম। এটি আমার পাকা কথা। হাসি-ঠাট্টা নয়।

لقد علموا أن ابْنَتَالاً مكذب – لَدَيْنا ولاً يغنى بقول الأباطل – ওরা সকলে এটা নিশ্চিত জানে যে, আমাদের এই সন্তান আমাদের বিবেচনায় মোটেই মিথ্যাবাদী নয় এবং সে কোন অসৎ নেতার কথাকে। পরোয়া করে না।

فأضبح فينا آخمد فی آرومة – يقصر عنها سورة المتلمتطاول – ফলে, আহমদ আমাদের মধ্যে সকলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তার মর্যাদা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সুদীর্ঘ বর্ণনা তার বিবরণ দিতে অক্ষম হয়ে পড়ে।

SG:–

حدیت لنفسی دونهٔ وحمینهٔ–ودافغت عنه بالذری و الکلاکل আমি নিজেকে দিয়ে তার চারিদিকে রক্ষাবৃহ তৈরী করেছি এবং তাকে নিরাপদ রেখেছি। আমার চোখের পানি এবং বক্ষ পেতে দিয়ে তার প্রতি আগত আক্রমণ আমি প্ৰতিহত করেছি।

ইবন হিশাম বলেন, কাসীদার এই অংশটি বিশুদ্ধ সূত্রে আমার নিকট পৌঁছেছে। কতক কবিতা বিশেষজ্ঞ এ কাসীদার অধিকাংশ বিশুদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

আমি বলি এটি একটি সুদীর্ঘ, উচ্চাদের ও প্রাঞ্জল কবিতা। যাকে এর রচয়িতা বলে প্রকাশ করা হয়েছে তিনি ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে এমন কবিতা রচনা করা সম্ভবও নয়। এটি সাবআ মু’আল্লাকাত অপেক্ষা অধিকতর উন্নত এবং ভাব ও বিষয়ের উৎকর্ষতার দিক থেকে ওই সবগুলো থেকে উত্তম। উমাবী আরো কিছু অতিরিক্ত চরণ সংযোজন করে কাসীদাটি তার মাগায়ী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভাল জানেন।

পরিচ্ছেদ

ইবন ইসহাক বলেন, এরপর তারা ইসলাম গ্রহণকারী রাসূলুল্লাহ (সা)-এর অনুসারী সাহাবীগণের উপর নির্যাতন শুরু করে। প্রত্যেক গোত্রের লোকজন তাদের নিজ নিজ গোত্রের মুসলমানদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। ইসলাম ত্যাগে বাধ্য করার জন্যে তারা দুর্বল মুসলমানদেরকে বন্দী করে রাখা, ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কষ্ট দেয়া, প্রহার করা এবং প্রখর রৌদ্রে উত্তপ্ত মরুভূমিতে পাথর চাপা দেয়াসহ নানা প্রকারের নির্যাতন চালাতে থাকে। সীমাহীন নির্যাতনের মুখে কেউ কেউ বাহ্যিক ভাবে ইসলাম ত্যাগের কথা উচ্চারণ করেন। আবার শত নির্যাতনের মুখেও কেউ কেউ ইসলাম ধর্মে অবিচল থাকেন এবং আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে মুশরিকদের হাত থেকে রক্ষা করেন।

হযরত আবু বকর (রা)-এর ক্রীতদাস হযরত বিলাল (রা) ছিলেন তখন বনু জুমাহ গোত্রের ক্রীতদাস। জন্মগতভাবে তিনি ওদের ক্রীতদাস ছিলেন। তাঁর পুরো নাম বিলাল ইবন রাবাহ। মায়ের নাম হামামা। তিনি ছিলেন একজন পুণ্যাত্মা খাটি মুসলমান। তার মালিক কাফির উমাইয়া ইবন খালফ প্রচণ্ড রৌদ্রতাপদগ্ধ দুপুরে তাকে মাঠে নিয়ে যেত। তারপর তাকে চিৎ করে শুইয়ে বুকের উপর বড় বড় পাথর চাপিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিত। তার নির্দেশানুসারে হযরত বিলাল (রা)-এর বুকের উপর বড় বড় পাথর চাপিয়ে দেয়া হত। এরপর পাষণ্ড উমাইয়া বলত, আল্লাহর কসম, যতক্ষণ তুই মুহাম্মাদকে ছেড়ে দিয়ে লাত ও উষযার উপাসনা না করবি কিংবা যতক্ষণ তোর মৃত্যু না হবে ততক্ষণ তুই এভাবেই থাকিবি। কিন্তু এ অবস্থায়ও হযরত বিলাল (রা) অবিরত বলতে থাকতেন, আহাদ, আহাদ আল্লাহ একা!! আল্লাহ একা!!

ইবন ইসহাক বলেন, হিশাম ইবন উরওয়া তাঁর পিতার বরাতে আমাকে বলেছেন যে, হযরত বিলাল (রা) এভাবে নির্যাতিত হচ্ছিলেন আর ‘আহাদ আহাদ’ বলে ঘোষণা দিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় ওয়ারোকা ইবন নাওফিল তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, হায় আল্লাহ এ যে বিলাল। এরপর তিনি উমাইয়া ইবন খালফ এবং জুমাহ গোত্রের যারা

এ নৃশংস অত্যাচারে জড়িত ছিল তাদের নিকট গেলেন এবং বললেন আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তোমরা যদি তাকে এভাবে হত্যা কর, তবে আমি তাকে একজন দরবেশরীপে গণ্য করবো। :

আমি বলি, কেউ কেউ এ বর্ণনাটিকে মর্মগত দিক থেকে বাস্তবতাবর্জিত বলে গণ্য করেন। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ওহীপ্রাপ্তির পরপর ওহী বিরতির মেয়াদকালে ওয়ারাক ইবন নাওফিলের মৃত্যু হয়। আর প্রথম যুগে যারা ইসলামগ্রহণ করেছেন তাদের ইসলামগ্রহণ ছিল ওহী বিরতির মেয়াদশেষে “,,,। ut, নাযিল হওয়ার পর। তাহলে হযরত বিলালের অত্যাচারিত হওয়ার প্রাক্কালে ওয়ারোকা তাঁর পাশ দিয়ে যেতে পারেন কী করে? সুতরাং এ বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা সন্দেহাতীত নয়।

ইবন ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে, হযরত বিলালের নির্যাতিত হাওয়ার সময় হযরত আবু বকর (রা)। ওদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর একটি কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসের বিনিময়ে তিনি উমাইয়া ইবন খালফ থেকে তাকে কিনে নিয়ে মুক্ত করে এই কঠোর নির্যাতন থেকে রেহাই দেন। হযরত আবু বকর (রা) ইসলাম গ্রহণকারী যাদেরকে ক্রয় করে নিয়েছিলেন সে সকল ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীর সংখ্যা অনেক। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হযরত বিলাল (রা), আমির ইবন ফুহায়রা (রা) উন্মু উমায়স ১ (রা), তার চোখ অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। নাহদিয়্যা (রা) ও তাঁর কন্যা। তাদেরকে বনু আবদুন্দদার গোত্র থেকে তিনি ক্রয় করেছিলেন। তাদের মহিলা মালিক তাদেরকে পাঠিয়েছিল গম ভাঙ্গার জন্যে। হযরত আবু বকর (রা) শুনছিলেন যে, তাদের মালিক বলছিল আল্লাহর কসম, আমি কখনো তোমাদের দু’জনকে মুক্তি দেবো না। তখন হযরত আবু বকর (রা) বললেন, হে অমুকের মা! তুমি তোমার শপথ ভেঙে ফেল। সে বলল, আপনি বরং তার ব্যবস্থা করুন। আপনি তো ওদেরকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছেন। আপনি গিয়ে ওদেরকে মুক্ত করুন। তিনি বললেন, কত মূল্যে তুমি ওদেরকে আমার নিকট হস্তান্তর করবে? সে বলল, এত এত মূল্যে। হযরত আবু বকর (রা) বললেন, আমি ওদেরকে গ্ৰহণ করলাম।

এখন ওরা দু’জন মুক্ত। তোমরা যাও, ওর গম ওকে ফিরিয়ে দাও। তাঁরা বললেন, হে আবু বকর (রা)। পেষার কাজ শেষ করে আমরা তা ফিরিয়ে দেবো? তিনি বললেন, এটা তোমাদের ইচ্ছা।

হযরত আবু বকর (রা) বনু মুআম্মাল গোত্রের একটি ক্রীতদাসী ক্রয় করেছিলেন। বনু মুআম্মাল গোত্র হল বনু আদী গোত্রের একটি শাখা গোত্র। ইসলামগ্রহণের কারণে উমর যাকে প্ৰহার করতেন।

ইবন ইসহাক বলেন, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবু আতিক বর্ণনা করেছেন আমির

১. আসলায়ন গ্রন্থে রয়েছে উন্মু উমায়স। বিশুদ্ধ অভিমত এই যে, যার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল তিনি হলেন যিমনিরাহ। হতে পারে যে, অনুলেখকের লেখার সময় ওই নামটি ছুটে যায়। কারণ, ইবন হিশাম ওই নামটি উন্মু উমায়সের পর উল্লেখ করেছেন।

বলেন, আবু কুহাফা তদীয় পুত্র আবু বকরকে বলেছিলেন, হে বৎস। আমি তো তোমাকে দেখছি যে, তুমি শুধু দুর্বল দাসদাসীগুলো মুক্ত করছি। ক্রীতদাস মুক্ত করতে গিয়ে তুমি যদি স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী লোক মুক্ত করতে, তবে তারা তোমাকে রক্ষা করতে পারত এবং তোমার পাশে দাড়াত। তখন আবু বকর (রা) বলেছিলেন, পিতা! আমার এ কাজের পেছনে একটি মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর একথা সর্বত্র আলোচিত হয়েছে যে, হযরত আবু বকর (রা) ও তার পিতার কথােপকথন উপলক্ষে নিম্নোক্ত আয়াতগুলো নাযিল হয় :

فأما من أعطى والتقى وصدّق بالحسنى فسنی سیرهٔ لیستری …… ولسوف

یرضی ۰ সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে আমি তার জন্যে সুগম করে দিব সহজ পথ। এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে আর যা উত্তম তা বর্জন করলে তার জন্যে আমি সুগম করে দিব কঠোর পরিণামের পথ। এবং তার সম্পদ তার কোন কাজে আসবে না। যখন সে ধ্বংস হবে। আমার কাজ তো কেবল পথ-নির্দেশ করা। আমি তো মালিক পরলোকের ও ইহলোকের। আমি তোমাদেরকে লেলিহান অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি। তাতে প্ৰবেশ করবে। সে যে নিতান্ত হতভাগ্য। যে অস্বীকার করে। এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর সেটি থেকে বহুদূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকীকে যে স্বীয় সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির জন্যে এবং তার প্রতি কারো অনুগ্রহের প্রতিদানে নয়। কেবল তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায়। সে তো অচিরেই সন্তোষ লাভ করবে (৯২ : ৫-২১)।

ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম আহমদ (র) ও ইবন মাজা (র) আসিম ইবন বাহাদালা. ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেছেন সাতজন। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-আবু বকর (রা), আম্মার (রা), আম্মারের মা সুমাইয়া (রা), সুহায়ব (রা), বিলাল (রা) এবং মিকদাদ (রা)। তাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে তার চাচার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’আলা হিফাযত করেছেন। স্বীয় সম্প্রদায়ের মাধ্যমে তিনি আবু বকর (রা)-কে রক্ষা করেছেন। অবশিষ্ট সকলকে মুশরিকরা ধরে নিয়ে যায় এবং লোহার বর্ম পরিয়ে প্রখর রৌদ্রে ফেলে রাখে। ফলে, হযরত বিলাল (রা) ব্যতীত অন্যান্যরা বাহ্যত মুশরিকদের নির্দেশ মেনে নেন। হযরত বিলাল (রা) এমন ছিলেন যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় নিজের জীবনকে তিনি তুচ্ছ জ্ঞান করতেন এবং নিজের সম্প্রদায়ের নিকটও তিনি তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতেন না। তাই তারা তাকে ধরে নিয়ে যায় এবং ছােট ছোট ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দেয়। গলায় রশি বেঁধে তারা তাকে মক্কার পথে পথে ঘুরাতে থাকে। হযরত বিলাল শুধু বলছিলেন, ‘আহাদ’ ‘আহাদ’।

সুফিয়ান ছাওরী (র) উক্ত হাদীছ মানসূর। সূত্ৰে— তিনি মুজাহিদ থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন।

ইবন ইসহাক বলেন, বনু মািখযুম গোত্রের লোকেরা আম্মার ইবন ইয়াসির, তাঁর পিতা এবং মাতাকে খোলা প্ৰান্তরে নিয়ে যেত। তাদের গোটা পরিবার ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিল। ওরা

ভরদুপুরে প্রচণ্ড তাপদগ্ধ মরুভূমিতে ফেলে রেখে তাদেরকে নির্যাতন করত। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের নিকট যেতেন এবং বলতেন “হে ইয়াসির পরিবার! ধৈৰ্য ধারণ কর। তোমাদের জন্যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।”

বায়হাকী (র) . হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আম্মার ও তার পরিবারের লোকদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদের প্রতি অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন “হে আম্মার ও ইয়াসিরের পরিবার। তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করা, তোমাদের প্রতিশ্রুত স্থান হল জান্নাত। আম্মারের মাকে তারা প্ৰাণে মেরে ফেলেছিল। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি ইসলাম ব্যতীত অন্য সব কিছু প্ৰত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনিই ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ’।

ইমাম আহমদ. মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ইসলামে প্রথম শহীদ হলেন আম্মারের মাতা সুমাইয়া। আবু জাহল একটি বল্লম দিয়ে তাঁর বক্ষে আঘাত করে এবং তাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এটি মুরসাল বর্ণনা।

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন, পাপিষ্ঠ আবু জাহল ছিল অন্যতম প্রধান ব্যক্তি, যে কুরায়শ ংশীয় লোকজন নিয়ে মুসলমানদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালােত। কোন মর্যাদাবান ও আত্মরক্ষায় সক্ষম সন্ত্রান্ত ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে এই সংবাদ পাওয়ার পর সে দ্রুত তাঁর নিকট গিয়ে উপস্থিত হত এবং তাকে অপমান ও লাঞ্ছিত করত এবং বলত তুমি তোমার পিতৃধৰ্ম ত্যাগ করেছ। অথচ তোমার পিতা তোমার চেয়ে অনেক ভাল লোক ছিলেন। তোমার জ্ঞানকে আমরা অবশ্যই অজ্ঞতা ও মূখীতারূপে চিহ্নিত করব। তোমার মতামতকে আমরা অবশ্যই ভ্ৰান্ত আখ্যায়িত করব।

ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি ব্যবসায়ী হলে সে বলত, আল্লাহর কসম,তোমার ব্যবসাকে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্ৰস্ত করে দিব এবং তোমার ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দেব। ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি দুর্বল হলে সে তাকে প্রহার করত এবং তার উপর জুলুম-অত্যাচার চালাত। আল্লাহ্ তাআলা আবু জাহলের উপর লা’নত বর্ষণ করুন।

ইবন ইসহাক বলেন, হাকীম ইবন জুবােয়র বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবন জুবােয়র সূত্রে তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, মুশরিকরা কি সাহাবীগণের উপর এমন জঘন্য নির্যাতন চালাত যাতে তারা ধর্মত্যাগে বাধ্য হওয়ার পর্যায়ে চলে যেতেন এবং যে অবস্থায় ইসলাম-ত্যাগ গ্রহণযোগ্য ওযররূপে বিবেচিত হত? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যা তাই হত। আল্লাহর কসম, মুশরিকরা এক-একজন সাহাবীকে প্রহার করত, উপোেস রাখত এবং তৃষ্ণার্ত করে রাখত-যাতে করে সংশ্লিষ্ট সাহাবী দুর্বল হতে হতে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেতেন যে, সোজা হয়ে বসতেও পারতেন না। ফলে, ধর্মান্তরের যে প্রস্তাব ওরা দিত বাধ্য হয়ে তাকে তা বাহ্যিকভাবে গ্রহণ করতে হত। শেষ পর্যন্ত ওরা তাকে বলত, আল্লাহ ব্যতীত লাত এবং মানাত দু’জন উপাস্য নয় কি? তিনি মুখে বলতেন, হ্যা। ওদের প্রচণ্ড ১. নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম শহীদ ছিলেন বটে, তবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ইসলামের প্রথম শহীদ ছিলেন

হযরত খাদীজার পূর্বের স্বামীর ঔরসজাত সন্তান হযরত হারিছ (রা:) —সম্পাদকদ্বয়।

নির্যাতনের মুখে আত্মরক্ষার জন্যে ওদের কথামত এরূপ বলতেই হত। আমি বলি, এ ধরনের পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন :

“কেউ ঈমান আনয়নের পর আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং কুফরীর জন্যে হৃদয় উন্মুক্ত রাখলে তার উপর আপতিত হবে আল্লাহর গযব এবং তার জন্যে আছে মহাশাস্তি। তবে তার জন্যে নয় যাকে কুফরী করার জন্যে বাধ্য করা হয়। কিন্তু তার অন্তর ঈমানে অবিচলিত (১৬-১০৬)। বস্তৃত তাদের প্রতি আপতিত নৃশংস। জুলুম ও অত্যাচারের প্রেক্ষিতে তাঁরা নিরূপায় হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ্ তা’আলা নিজ কুদরত ও শক্তিতে আমাদেরকে ওই প্রকারের জুলুম-নিৰ্যাতন থেকে রক্ষা করুন।

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবু মুআবিয়া…….. খাকবাব ইবন আরতের বরাতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি এক সময় কর্মকার ছিলাম। ‘আস ইবন ওয়াইলের নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। পাওনা উসুল করার জন্যে আমি তার নিকট উপস্থিত হই। সে বলে, তুমি যতক্ষণ মুহাম্মদ (সা)-কে প্রত্যাখ্যান না করবে ততক্ষণ তোমার পাওনা পরিশোধ করব না। তখন আমি বললাম, “আমি মুহাম্মদ (সা)-কে কখনো প্রত্যাখ্যান করব না। এমনকি তোমার মৃত্যু হলে এবং মুত্যুর পর তুমি পুনরুখিত হলেও না। তখন সে বলল, “তাহলে আমার মৃত্যুর পর আমি পুনরুখিত হলে তখন সেখানে আমার ধন-সম্পদ ও ছেলে মেয়ে নিশ্চয়ই থাকবে। তুমি তখন আমার নিকট এসো, আমি সেখানে তোমার পাওনা পরিশোধ করে দেবো। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন :

أفرأيت الذى كفر بايتنا وقال لأوتين مالاً وولدا أطلع الغيب أم اتخذ عند الرخ من عهدًا كلاً ستكتب ما يقول و تُمدّ له من العذاب ممدًا ونرئة ما يقول ويأتينا فردًا. আপনি কি লক্ষ্য করেছেন ওই ব্যক্তির প্রতি যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, “আমাকে ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই।” সে কি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবগত হয়েছে অথবা দয়াময়ের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে? কখনই নয়, সে যা বলে তা আমি লিখে রাখবই এবং তার শান্তি বৃদ্ধি করতে থাকব। সে যে বিষয়ে কথা বলে, তা থাকবে আমার অধিকারে এবং সে আমার নিকট আসবে একা (১৯ : ৭৭)।

ইমাম বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্যরা আমাশ সূত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ বুখারীর ভাষ্য এই : “আমি মক্কায় কর্মকার ছিলাম। আস ইবন ওয়াইলকে আমি একটি তরবারি বানিয়ে

দিই। পরে পারিশ্রমিক নিতে তার নিকট উপস্থিত হই। এরপর তিনি পূর্ণ হাদীছটি বর্ণনা

করেন।

১. অন্য বর্ণনায় আবু জাহল তার লজ্জাস্থানে আঘাত করে বলে উল্লিখিত হয়েছে।–সম্পাদকদ্বয়

বুখারী (র) বলেন, হুমায়দী……. খাববাব (রা) সূত্রে বলেন তিনি বলেছেন, এক সময় আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হই। তখন তিনি কা’বা গৃহের ছায়ায় চাদরকে বালিশরাপে ব্যবহার করে শুয়ে ছিলেন। আমরা তখন মুশরিকদের প্রচণ্ড নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলাম। আমি তাঁকে বললাম, “আপনি কি আল্লাহর নিকট দু’আ করবেন না?” আমার কথা শুনে তিনি উঠে বসলেন। রাগে তাঁর মুখমণ্ডল তখন রক্তিম হয়ে উঠেছে। এরপর তিনি বললেন, তোমাদের পূর্বে যারা ছিল লৌহ নির্মিত চিরুনী দিয়ে তাদের দেহ চিরে দেয়া হয়েছে। দেহের মাংসও শিরা ভেদ করে তা’ হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে। এত অত্যাচার নির্যাতনও তাদেরকে দীন থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তাদের মাথার উপর করাত রেখে তাদেরকে চিরে দু’টুকরা করে ফেলা হয়েছে। তবু তাদেরকে দীন থেকে বিচু্যত করতে পারেনি। মহান আল্লাহ আমাদের এই দীনকে নিশ্চয়ই পূর্ণতা দান করবেন। শেষে এমন এক পরিবেশ তৈরী হবে যে, পথিক সানাআ, থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত দীর্ঘ পথ নিরাপদে অতিক্রম করবে। একমাত্ৰ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সে ভয় করবে না। রাবী বুনান এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছে, “তখন পথিক তার বকরীপালে বাঘের আক্রমণের আশংকাও করবে না।” অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “তোমরা কিন্তু তুরা করে অস্থির হয়ে পড়াছ” এ অংশটি শুধু ইমাম বুখারী (র) উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম মুসলিম এটুকু উদ্ধৃত করেননি। খাববাব (রা) থেকে অন্য সূত্রে একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। সেটি এটি অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। আল্লাহই ভাল জানেন।

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবদুর রহমান ………. খাববাব (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যুহরের নামাযের সময়ে প্রচণ্ড গরম লাগার কথা অভিযোগ আকারে আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জানাই। আমাদের অভিযোগ নিরসনে তিনি তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেননি। ইবন জাফরের বর্ণনায় আছে যে, “তিনি অভিযোগ রূপে এটি গ্রহণ করেননি।

ইমাম আহমদ (র) আরো বলেন সুলায়মান ইবন দাউদ … খাববাব (রা) সূত্রে বলেছেন। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট দাবদাহের অভিযোগ পেশ করলাম। তিনি আমাদের অভিযোগ নিরসনে কোন ব্যবস্থা নিলেন না। শু’বা বলেন, অর্থাৎ

মধ্যাহ্নের দাবদাহ।

ইমাম মুসলিম, নাসাঈ, বায়হাকী প্রমুখ (র) আবু ইসহাক সুবাঈ …….. খাববাব (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন। আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট প্রচণ্ড খরতাপের অভিযোগ পেশ করি। বায়হাকীর বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে, “আমাদের হাতে ও মুখে প্ৰচণ্ড গরম লাগার অনুযোগ করি। আমাদের অনুযোগ নিরসনে তিনি তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেননি। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, “আমরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নামায আদায় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট অনুযোগ করি। তিনি তা নিরসনে কোন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেননি।

ইবন মাজাও সংক্ষিপ্ত আকারে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। প্রথম হাদীছের মর্ম এই ছিল যে, মুশরিকগণ কর্তৃক প্রচণ্ড উত্তপ্ত মরুভূমিতে নির্যাতন করার কথা তারা অভিযোগ আকারে

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট পেশ করেন। ওরা মুসলমানদেরকে উপুড় করে মাটিতে ফেলে টেনে

করতেন। এরকম আরো অনেক প্রকারে তারা মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালাত। এ সম্পর্কে ইবন ইসহাক ও অন্যান্যদের দ্বারা বর্ণিত হাদীছগুলো আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি। এ সকল অত্যাচার-নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে মুসলমানগণ রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি যেন মুশরিকদের বিরুদ্ধে আল্লাহর নিকট বন্দ দুআ করেন। অথবা এ দুআ করেন যে, আল্লাহ যেন মুসলমানদের বিজয় দান করেন। তিনি এ দু’আ করবেন বলে মুসলমানদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি দুআ করেননি। বরং পূর্ববতী ঈমানদারদের ইতিহাস ও ঘটনা উল্লেখ করেছেন যে, তারা আরো কঠোর ও কঠিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু তবু তাঁরা দীন থেকে বিচু্যত হননি। প্রসঙ্গক্রমে তিনি মুসলমানদেরকে ঐ সুসংবাদ দেন যে, দীন-ই-ইসলামকে আল্লাহ তা’আলা অতিসত্বর পূর্ণতা দান করবেন। এটিকে বিশ্বময় প্রচারিত ও প্রসারিত করবেন এবং দেশে দেশে এ ধর্মকে এবং ঐ ধর্মের অনুসারীদেরকে সাহায্য করবেন। অবশেষে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি হবে যে, সওয়ারী ও মুসাফির ব্যক্তি সানাআ থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিবে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ভয় তার অন্তরে থাকবে না। এমনকি তার বকরীপালের উপর বাঘের আক্রমণেরও আশংকা থাকবে না। তবে তিনি তাদেরকে বলেছেন যে, তোমরা তাড়াহুড়া করছি। এ প্রেক্ষাপটে বর্ণনাকারী বলেছেন যে, আমাদের মুখে ও হাতে প্ৰচণ্ড তাপ লাগার কথা অভিযোগ আকারে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট পেশ করি। তিনি আমাদের অভিযোগ নিরসনে তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেননি। অর্থাৎ ওই কঠিন সময়ে আমাদের জন্যে मूऊा काद्वान्नि।

এ হাদীছের আলোকে যারা একথা বলেন যে, যুহরের নামায আদায়কালে সূৰ্যতাপে শীতলতা আসার মত বিলম্ব করা সমীচীন নয় এবং যারা একথা বলেন যে, নামাযের মধ্যে সিজদার সময় মাটিতে হাত রাখা ওয়াজিব, তাদের বক্তব্য সংশয়মুক্ত নয়। এটি ইমাম শাফিঈ (র)-এর দুটো অভিমতের একটি। আল্লাহই ভাল জানেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *