যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে

যদি তোর   ডাক শুনে কেউ না আসে   তবে   একলা চলো রে। একলা চলো,   একলা চলো,   একলা চলো,   একলা চলো রে॥ যদি   কেউ কথা না কয়,   ওরে ওরে ও অভাগা, যদি   সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে   সবাই করে ভয়—                    তবে   পরান খুলে ও তুই   মুখ ফুটে তোর মনের কথা   একলা বলো রে॥ যদি   সবাই ফিরে যায়,   ওরে ওরে ও অভাগা, যদি   গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়—                    তবে   পথের কাঁটা ও তুই   রক্তমাখা চরণতলে   একলা দলো রে॥ যদি   আলো না ধরে,   ওরে ওরে ও অভাগা, যদি   ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে   দুয়ার দেয় ঘরে—                    তবে   বজ্রানলে আপন   বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে   একলা জ্বলো রে॥

যদি তোর ভাবনা থাকে

যদি তোর   ভাবনা থাকে ফিরে যা-না।   তবে তুই   ফিরে যা-না।               যদি তোর   ভয় থাকে তো করি মানা॥ যদি তোর   ঘুম জড়িয়ে থাকে গায়ে   ভুলবি যে পথ পায়ে পায়ে, যদি তোর   হাত কাঁপে তো নিবিয়ে আলো সবারে করবি কানা॥ যদি তোর   ছাড়তে কিছু না চাহে মন   করিস ভারী বোঝা আপন— তবে তুই   সইতে কভু পারবি নে রে   এ বিষম পথের টানা॥ যদি তোর   আপনা হতে অকারণে   সুখ সদা না জাগে মনে তবে তুই   তর্ক ক’রে সকল কথা করিবি নানাখানা॥ স্বরবিতান ৪৬

যাচনা

কীর্তন           ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে                 আমার নামটি লিখিয়ো— তোমার                    মনের মন্দিরে।           আমার পরানে যে গান বাজিছে… Read more যাচনা

যাবার দিন এই কথাটি

যাবার দিন এই কথাটি               বলে যেন যাই–               যা দেখেছি যা পেয়েছি               তুলনা তার নাই৷              এই জ্যোতিসমুদ্র-মাঝে               যে শতদল পদ্ম রাজে … Read more যাবার দিন এই কথাটি

যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক

     যে তোমায়  ছাড়ে ছাড়ুক,    আমি তোমায় ছাড়ব না মা!                         আমি    তোমার চরণ— মা গো, আমি   তোমার চরণ করব শরণ,   আর কারো ধার ধারব না মা॥           কে বলে তোর দরিদ্র ঘর,    হৃদয় তোর রতনরাশি— আমি    জানি গো তার মূল্য জানি,   পরের আদর কাড়ব না মা॥      মানের আশে দেশবিদেশে   যে মরে সে মরুক ঘুরে— তোমার   ছেঁড়া কাঁথা আছে পাতা,   ভুলতে সে যে পারব না মা!।      ধনে মানে লোকের টানে     ভুলিয়ে নিতে চায় যে আমায়— ও মা,    ভয় যে জাগে শিয়র-বাগে,   কারো কাছেই হারব না মা॥ স্বরবিতান ৪৬

যে তোরে পাগল বলে

যে তোরে   পাগল বলে   তারে তুই   বলিস নে কিছু॥ আজকে তোরে কেমন ভেবে   অঙ্গে যে তোর ধুলো দেবে কাল সে প্রাতে মালা হাতে আসবে রে তোর পিছু-পিছু॥ আজকে আপন মানের ভরে   থাক্ সে বসে গদির’পরে— কালকে প্রেমে আসবে নেমে, করবে সে তার মাথা নিচু॥ স্বরবিতান ৪৬

যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে

     যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে      জানি নাই তো তুমি এলে আমার ঘরে॥ সব যে হয়ে গেল কালো,  নিবে গেল দীপের আলো,      আকাশ-পানে হাত বাড়ালেম কাহার তরে?।      অন্ধকারে রইনু পড়ে স্বপন মানি।      ঝড় যে তোমার জয়ধ্বজা তাই কি জানি! সকালবেলা চেয়ে দেখি,   দাঁড়িয়ে আছ তুমি এ কি      ঘর-ভরা মোর শূন্যতারই বুকের’পরে॥

যেতে যেতে একলা পথে নিবেছে মোর বাতি

যেতে যেতে একলা পথে নিবেছে মোর বাতি। ঝড় এসেছে, ওরে, এবার ঝড়কে পেলেম সাথি॥ আকাশকোণে সর্বনেশে   ক্ষণে ক্ষণে উঠছে হেসে,      প্রলয় আমার কেশে বেশে করছে মাতামাতি॥ যে পথ দিয়ে যেতেছিলেম ভুলিয়ে দিল তারে, আবার কোথা চলতে হবে গভীর অন্ধকারে। বুঝি বা এই বজ্ররবে   নূতন পথের বার্তা কবে—      কোন্ পুরীতে গিয়ে তবে প্রভাত হবে রাতি॥