বিদায়

ক্ষমা করো, ধৈর্য ধরো, হউক সুন্দরতর        বিদায়ের ক্ষণ। মৃত্যু নয়, ধ্বংস নয়, নহে বিচ্ছেদের ভয়—        শুধু সমাপন। শুধু… Read more বিদায়

বিদূষক

কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনামানিকে হাতি বোঝাই হল। দেশে ফেরবার পথে… Read more বিদূষক

বিধির বাঁধন কাটবে তুমি

          বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান—               তুমি কি   এমন শক্তিমান! আমাদের   ভাঙাগড়া তোমার হাতে এমন অভিমান—               তোমাদের   এমনি অভিমান॥      চিরদিন টানবে পিছে,   চিরদিন   রাখবে নীচে—      এত বল   নাই রে তোমার,   সবে না সেই টান॥ শাসনে   যতই ঘেরো   আছে বল   দুর্বলেরও,      হও-না   যতই বড়ো   আছেন ভগবান।           আমাদের   শক্তি মেরে   তোরাও   বাঁচবি নে রে,               বোঝা তোর   ভারী হলেই ডুববে তরীখান। স্বরবিতান ৪৬

বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা

বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা—      বিপদে আমি না যেন করি ভয়। দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে নাই বা দিলে সান্ত্বনা,      দুঃখে যেন করিতে পারি জয়॥ সহায় মোর না যদি জুটে   নিজের বল না যেন টুটে—      সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা,         নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়॥ আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা—         তরিতে পারি শকতি যেন রয়। আমার ভার লাঘব করি নাই বা দিলে সান্ত্বনা,         বহিতে পারি এমনি যেন হয়॥ নম্রশিরে সুখের দিনে   তোমারি মুখ লইব চিনে—      দুখের রাতে নিখিল ধরা যে দিন করে বঞ্চনা         তোমারে যেন না করি সংশয়॥

বিবাহমঙ্গল

ঝিঁঝিট দুইটি হৃদয়ে একটি আসন          পাতিয়া বোসো হে হৃদয়নাথ। কল্যাণকরে মঙ্গলডোরে          বাঁধিয়া রাখো হে দোঁহার  হাত। প্রাণেশ,  তোমারি… Read more বিবাহমঙ্গল

বিশ্ব যখন নিদ্রামগন, গগন অন্ধকার

বিশ্ব যখন নিদ্রামগন, গগন অন্ধকার,      কে দেয় আমার বীণার তারে এমন ঝঙ্কার॥ নয়নে ঘুম নিল কেড়ে,   উঠে বসি শয়ন ছেড়ে—            মেলে আঁখি চেয়ে থাকি, পাই নে দেখা তার॥ গুঞ্জরিয়া গুঞ্জরিয়া প্রাণ উঠিল পুরে,      জানি নে কোন্ বিপুল বাণী বাজে ব্যাকুল সুরে। কোন্ বেদনায় বুঝি না রে   হৃদয় ভরা অশ্রুভারে,            পরিয়ে দিতে চাই কাহারে আপন কণ্ঠহার॥

বিসর্জন

দুইটি কোলের ছেলে গেছে পর পর বয়স না হতে হতে পুরা দু বছর। এবার ছেলেটি তার জন্মিল যখন স্বামীরেও হারালো… Read more বিসর্জন

বুক বেঁধে তুই দাঁড়া দেখি

     বুক বেঁধে তুই দাঁড়া দেখি,   বারে বারে হেলিস নে ভাই!      শুধু তুই    ভেবে ভেবেই হাতের লক্ষ্ণী   ঠেলিস নে ভাই॥ একটা কিছু করে নে ঠিক,       ভেসে ফেরা মরার অধিক—      বারেক এ দিক বারেক ও দিক,  এ খেলা আর খেলিস নে ভাই॥ মেলে কিনা মেলে রতন   করতে তবু হবে যতন—      না যদি হয় মনের মতন   চোখের জলটা ফেলিস নে ভাই! ভাসাতে হয় ভাসা ভেলা,   করিস নে আর হেলাফেলা—      পেরিয়ে যখন যাবে বেলা   তখন আঁখি মেলিস নে ভাই॥ স্বরবিতান ৪৬

বৈশাখ

        হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ, ধুলায় ধূসর রুক্ষ উড্ডীন পিঙ্গল জটাজাল তপঃক্লিষ্ট তপ্ত তনু, মুখে তুলি বিষাণ ভয়াল            … Read more বৈশাখ

ব্যবধান

সম্পর্ক মিলাইয়া দেখিতে গেলে বনমালী এবং হিমাংশুমালী উভয়ে মামাতো পিসতুতো ভাই; সেও অনেক হিসাব করিয়া দেখিলে তবে মেলে। কিন্তু ইহাদের… Read more ব্যবধান

ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা

ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো। একলা রাতের অন্ধকারে   আমি চাই   পথের আলো॥      দুন্দুভিতে হল রে কার আঘাত শুরু,      বুকের মধ্যে উঠল বেজে গুরুগুরু— পালায় ছুটে সুপ্তিরাতের স্বপ্নে-দেখা মন্দ ভালো॥      নিরুদ্দেশের পথিক আমায় ডাক দিলে কি—      দেখতে তোমায় না যদি পাই নাই-বা দেখি।      ভিতর থেকে ঘুচিয়ে দিলে চাওয়া পাওয়া, ভাব্‌নাতে মোর লাগিয়ে দিলে ঝড়ের হাওয়া বজ্রশিখায় এক পলকে মিলিয়ে দিলে সাদা কালো॥ স্বরবিতান ৫৬