এ ভারতে রাখো নিত্য

এ ভারতে রাখো নিত্য, প্রভু, তব শুভ আশীর্বাদ— তোমার অভয়, তোমার অজিত অমৃত বাণী,           তোমার স্থির অমর আশা॥ অনির্বাণ ধর্ম আলো   সবার ঊর্ধ্বে জ্বালো জ্বালো,           সঙ্কটে দুর্দিনে হে,      রাখো তারে অরণ্যে তোমারই পথে॥ বক্ষে বাঁধি দাও তার   বর্ম তব নির্বিদার,      নিঃশঙ্কে যেন সঞ্চরে নির্ভীক। পাপের নিরখি জয়   নিষ্ঠা তবুও রয়—      থাকে তব চরণে অটল বিশ্বাসে॥ ব্রহ্মসঙ্গীত। ভারততীর্থ। স্বরবিতান ৪ ও ৪৬

একটি চাউনি

গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে। এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌‍খানে।… Read more একটি চাউনি

একটি দিন

মনে পড়ছে সেই দুপুরবেলাটি। ক্ষণে ক্ষণে বৃষ্টিধারা ক্লান্ত হয়ে আসে, আবার দমকা হাওয়া তাকে মাতিয়ে তোলে। ঘরে অন্ধকার, কাজে মন… Read more একটি দিন

একরাত্রি

সুরবালার সঙ্গে একত্রে পাঠশালায় গিয়াছি, এবং বউ-বউ খেলিয়াছি। তাহাদের বাড়িতে গেলে সুরবালার মা আমাকে বড়ো যত্ন করিতেন এবং আমাদের দুইজনকে… Read more একরাত্রি

এখন আর দেরি নয়

          এখন   আর দেরি নয়, ধর্ গো তোরা   হাতে হাতে ধর্ গো।           আজ     আপন পথে ফিরতে হবে     সামনে মিলন-স্বর্গ॥ ওরে    ঐ উঠেছে শঙ্খ বেজে,   খুলল দুয়ার মন্দিরে যে—           লগ্ন বয়ে যায় পাছে, ভাই,   কোথায় পূজার অর্ঘ্য?। এখন    যার যা-কিছু আছে ঘরে   সাজা পূজার থালার’পরে,           আত্মদানের উত্‍‌সধারায়   মঙ্গলঘট ভর্ গো। আজ    নিতেও হবে, আজ   দিতেও হবে,   দেরি কেন করিস তবে—           বাঁচতে যদি হয় বেঁচে নে,   মর্‌তে হয় তো মর্ গো॥ স্বরবিতান ৪৬

এবার আমায় ডাকলে দূরে

              এবার আমায় ডাকলে দূরে               সাগর-পারের গোপন পুরে॥ বোঝা আমার নামিয়েছি যে,  সঙ্গে আমায় নাও গো নিজে,          স্তব্ধ রাতের স্নিগ্ধ সুধা পান করাবে তৃষ্ণাতুরে॥                     আমার সন্ধ্যাফুলের মধু              এবার যে ভোগ করবে বঁধু।   তারার আলোর প্রদীপখানি    প্রাণে আমার জ্বালবে আনি,        আমার যত কথা ছিল ভেসে যাবে তোমার সুরে॥

এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে

     এবার তোর   মরা গাঙে বান এসেছে,     `জয় মা’ ব’লে ভাসা তরী॥ ওরে রে     ওরে মাঝি, কোথায় মাঝি,    প্রাণপণে, ভাই, ডাক দে আজি—      তোরা  সবাই মিলে বৈঠা নে রে,           খুলে ফেল্ সব দড়াদড়ি॥      দিনে দিনে বাড়ল দেনা,   ও ভাই,   করলি নে কেউ বেচা কেনা—                    হাতে নাই রে কড়া কড়ি।      ঘাটে বাঁধা দিন গেল রে,     মুখ দেখাবি কেমন ক’রে—               ওরে,   দে খুলে দে,   পাল তুলে দে,   যা হয় হবে বাঁচি মরি॥