আগমনী

আয়োজন চলেইছে। তার মাঝে একটুও ফাঁক পাওয়া যায় না যে ভেবে দেখি, কিসের আয়োজন। তবুও কাজের ভিড়ের মধ্যে মনকে এক-একবার… Read more আগমনী

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।

আগুনের     পরশমণি  ছোঁয়াও প্রাণে। এ জীবন     পুণ্য কর  দহন-দানে॥ আমার এই    দেহখানি  তুলে ধরো, তোমার ঐ    দেবালয়ের  প্রদীপ করো— নিশিদিন      আলোক-শিখা  জ্বলুক গানে॥ আঁধারের     গায়ে গায়ে  পরশ তব সারা রাত     ফোটাক তারা  নব নব। নয়নের       দৃষ্টি হতে  ঘুচবে কালো, যেখানে       পড়বে সেথায়  দেখবে আলো— ব্যথা মোর    উঠবে জ্বলে  ঊর্ধ্ব-পানে॥ 

আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই

     আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই! পড়ে থাকা পিছে, মরে থাকা মিছে,      বেঁচে মরে কিবা ফল ভাই!      আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই॥ প্রতি নিমেষেই যেতেছে সময়, দিন ক্ষণ চেয়ে থাকা কিছু নয়— `সময় সময়’ ক’রে পাঁজি পুঁথি ধ’রে      সময় কোথা পাবি বল্ ভাই!      আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই॥ পিছায়ে যে আছে তারে ডেকে নাও      নিয়ে যাও সাথে করে— কেহ নাহি আসে, একা চলে যাও      মহত্ত্বের পথ ধরে। পিছু হতে ডাকে মায়ার কাঁদন, ছিঁড়ে চলে যাও মোহের বাঁধন— সাধিতে হইবে প্রাণের সাধন,      মিছে নয়নের জল ভাই!      আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই॥ চিরদিন আছি ভিখারির বেশে      জগতের পথপাশে—… Read more আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই

আজ জ্যোত্‍‌স্নারাতে সবাই গেছে বনে

আজ   জ্যোত্‍‌স্নারাতে সবাই গেছে বনে        বসন্তের এই মাতাল সমীরণে॥ যাব না গো যাব না যে,   রইনু পড়ে ঘরের মাঝে—        এই নিরালায় রব আপন কোণে।               যাব না এই মাতাল সমীরণে॥        আমার এ ঘর বহু যতন ক’রে              ধুতে হবে মুছতে হবে মোরে। আমারে যে জাগতে হবে,   কী জানি সে আসবে কবে        যদি আমায় পড়ে তাহার মনে               বসন্তের এই মাতাল সমীরণে॥

আজি এ ভারত লজ্জিত হে

              আজি এ ভারত লজ্জিত হে,                 হীনতাপঙ্কে মজ্জিত হে॥ নাহি পৌরুষ, নাহি বিচারণা,         কঠিন তপস্যা, সত্যসাধনা—      অন্তরে বাহিরে ধর্মে কর্মে সকলই ব্রহ্মবিবর্জিত হে॥ ধিক্‌কৃত লাঞ্ছিত পৃথ’পরে,          ধূলিবিলুন্ঠিত সুপ্তিভরে—      রুদ্র, তোমার নিদারুণ বজ্রে করো তারে সহসা তর্জিত হে॥ পর্বতে প্রান্তরে নগরে গ্রামে    জাগ্রত ভারত ব্রহ্মের নামে,      পুণ্যে বীর্যে অভয়ে অমৃতে হইবে পলকে সজ্জিত হে॥ স্বরবিতান ৪৭

আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে

আজি      বাংলাদেশের হৃদয় হতে   কখন আপনি তুমি এই  অপরূপ রূপে বাহির   হলে জননী! ওগো   মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার   দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ ডান হাতে তোর খড়্গ জ্বলে,   বাঁ হাত করে শঙ্কাহরণ, দুই নয়নে স্নেহের হাসি,   ললাটনেত্র আগুনবরণ। ওগো      মা, তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে! তোমার   দুয়ার আজি খুলে গেছে   সোনার মন্দিরে॥ তোমার   মুক্তকেশের পুঞ্জ মেঘে   লুকায় অশনি, তোমার   আঁচল ঝলে আকাশতলে   রৌদ্রবসনী! ওগো    মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার   দুয়ার আজি খুলে গেছে   সোনার মন্দিরে॥ যখন       অনাদরে চাই নি মুখে   ভেবেছিলেম দুঃখিনী মা আছে      ভাঙা ঘরে একলা পড়ে,   দুখের বুঝি নাইকো সীমা। কোথা সে তোর দরিদ্র বেশ,   কোথা সে তোর মলিন হাসি— আকাশে আজ ছড়িয়ে গেল   ঐ চরণের দীপ্তিরাশি! ওগো    মা, তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে! তোমার   দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ আজি      দুখের রাতে সুখের স্রোতে ভাসাও ধরণী— তোমার   অভয় বাজে হৃদয়মাঝে   হৃদয়হরণী!… Read more আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে

আজি যত তারা তব আকাশে

            আজি   যত তারা তব আকাশে             সবে    মোর প্রাণ ভরি প্রকাশে॥ নিখিল তোমার এসেছে ছুটিয়া,   মোর মাঝে আজি পড়েছে টুটিয়া হে,   তব নিকুঞ্জের মঞ্জরী যত   আমারি অঙ্গে বিকাশে॥ দিকে দিগন্তে যত আনন্দ   লভিয়াছে এক গভীর গন্ধ,   আমার চিত্তে মিলি একত্রে   তোমার মন্দিরে উছাসে।       আজি কোনোখানে কারেও না জানি,       শুনিতে না পাই আজি কারো বাণী হে, নিখিল নিশ্বাস আজি এ বক্ষে   বাঁশরির সুরে বিলাসে॥