অয়ি ভুবনমনোমোহিনী, মা

              অয়ি   ভুবনমনোমোহিনী,   মা, অয়ি   নির্মলসূর্যকরোজ্জ্বল ধরণী   জনকজননিজননী॥ নীলসিন্ধুজলধৌতচরণতল,   অনিলবিকম্পিত-শ্যামল-অঞ্চল, অম্বরচুম্বিতভালহিমাচল, শুভ্রতুষারকিরীটিনী॥ প্রথম প্রভাত উদয় তব গগনে,   প্রথম সামরব তব তপোবনে, প্রথম প্রচারিত তব বনভবনে   জ্ঞানধর্ম কত কাব্যকাহিনী। চিরকল্যাণময়ী তুমি ধন্য,   দেশবিদেশে বিতরিছ অন্ন— জাহ্নবীযমুনা বিগলিত করুণা পুণ্যপীযূষস্তন্যবাহিনী॥ শতগান। ভারততীর্থ। স্বরবিতান ৪৭

আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই

     আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই! পড়ে থাকা পিছে, মরে থাকা মিছে,      বেঁচে মরে কিবা ফল ভাই!      আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই॥ প্রতি নিমেষেই যেতেছে সময়, দিন ক্ষণ চেয়ে থাকা কিছু নয়— `সময় সময়’ ক’রে পাঁজি পুঁথি ধ’রে      সময় কোথা পাবি বল্ ভাই!      আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই॥ পিছায়ে যে আছে তারে ডেকে নাও      নিয়ে যাও সাথে করে— কেহ নাহি আসে, একা চলে যাও      মহত্ত্বের পথ ধরে। পিছু হতে ডাকে মায়ার কাঁদন, ছিঁড়ে চলে যাও মোহের বাঁধন— সাধিতে হইবে প্রাণের সাধন,      মিছে নয়নের জল ভাই!      আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই॥ চিরদিন আছি ভিখারির বেশে      জগতের পথপাশে—… Read more আগে চল্‌, আগে চল্ ভাই

আজি এ ভারত লজ্জিত হে

              আজি এ ভারত লজ্জিত হে,                 হীনতাপঙ্কে মজ্জিত হে॥ নাহি পৌরুষ, নাহি বিচারণা,         কঠিন তপস্যা, সত্যসাধনা—      অন্তরে বাহিরে ধর্মে কর্মে সকলই ব্রহ্মবিবর্জিত হে॥ ধিক্‌কৃত লাঞ্ছিত পৃথ’পরে,          ধূলিবিলুন্ঠিত সুপ্তিভরে—      রুদ্র, তোমার নিদারুণ বজ্রে করো তারে সহসা তর্জিত হে॥ পর্বতে প্রান্তরে নগরে গ্রামে    জাগ্রত ভারত ব্রহ্মের নামে,      পুণ্যে বীর্যে অভয়ে অমৃতে হইবে পলকে সজ্জিত হে॥ স্বরবিতান ৪৭

আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে

আজি      বাংলাদেশের হৃদয় হতে   কখন আপনি তুমি এই  অপরূপ রূপে বাহির   হলে জননী! ওগো   মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার   দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ ডান হাতে তোর খড়্গ জ্বলে,   বাঁ হাত করে শঙ্কাহরণ, দুই নয়নে স্নেহের হাসি,   ললাটনেত্র আগুনবরণ। ওগো      মা, তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে! তোমার   দুয়ার আজি খুলে গেছে   সোনার মন্দিরে॥ তোমার   মুক্তকেশের পুঞ্জ মেঘে   লুকায় অশনি, তোমার   আঁচল ঝলে আকাশতলে   রৌদ্রবসনী! ওগো    মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার   দুয়ার আজি খুলে গেছে   সোনার মন্দিরে॥ যখন       অনাদরে চাই নি মুখে   ভেবেছিলেম দুঃখিনী মা আছে      ভাঙা ঘরে একলা পড়ে,   দুখের বুঝি নাইকো সীমা। কোথা সে তোর দরিদ্র বেশ,   কোথা সে তোর মলিন হাসি— আকাশে আজ ছড়িয়ে গেল   ঐ চরণের দীপ্তিরাশি! ওগো    মা, তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে! তোমার   দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ আজি      দুখের রাতে সুখের স্রোতে ভাসাও ধরণী— তোমার   অভয় বাজে হৃদয়মাঝে   হৃদয়হরণী!… Read more আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে

আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে

                   আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে।                    কে আছ জাগিয়া পুরবে চাহিয়া,           বলো `উঠ উঠ’ সঘনে   গভীরনিদ্রাগমনে॥ হেরো   তিমিররজনী যায় ঐ,  হাসে উষা নব জ্যোতির্ময়ী—                         নব আনন্দে, নব জীবনে,           ফুল্ল কুসুমে, মধুর পবনে, বিহগকলকূজনে॥ হেরো   আশার আলোকে জাগে শুকতারা উদয়-অচল-পথে,           কিরণকিরীটে তরুণ তপন উঠিছে অরুণরথে— চলো যাই কাজে মানবসমাজে,   চলো বাহিরিয়া জগতের মাঝে—           থেকো না অলস শয়নে, থেকো না মগন স্বপনে॥           যায়   লাজ ত্রাস, আলস বিলাস কুহক মোহ যায়।           ঐ   দূর হয় শোক সংশয় দুঃখ স্বপনপ্রায়। ফেলো জীর্ণ চীর, পরো নব সাজ,   আরম্ভ করো জীবনের কাজ—           সরল সবল আনন্দমনে, অমল অটল জীবনে॥ ভারততীর্থ। স্বরবিতান ৪৭

আপনি অবশ হলি, তবে

     আপনি অবশ হলি, তবে   বল দিবি তুই কারে?      উঠে দাঁড়া, উঠে দাঁড়া, ভেঙে পড়িস না রে॥ করিস নে লাজ, করিস নে ভয়,   আপনাকে তুই করে নে জয়—      সবাই তখন সাড়া দেবে   ডাক দিবি তুই যারে॥ বাহির যদি হলি পথে    ফিরিস নে আর কোনোমতে,      থেকে থেকে পিছন-পানে চাস নে বারে বারে। নেই যে রে ভয় ত্রিভুবনে,    ভয় শুধু তোর নিজের মনে—      অভয়চরণ শরণ ক’রে      বাহির হয়ে যা রে॥

আমরা পথে পথে যাব

আমরা       পথে পথে যাব সারে সারে, তোমার     নাম গেয়ে ফিরিব দ্বারে দ্বারে॥               বলব `জননীকে কে দিবি দান,               কে দিবি ধন তোরা কে দিবি প্রাণ’— `তোদের         মা ডেকেছে’ কব বারে বারে॥               তোমার নামে প্রাণের সকল সুর               আপনি উঠবে বেজে সুধামধুর মোদের     হৃদয়যন্ত্রেরই তারে তারে।               বেলা গেলে শেষে তোমারই পায়ে               এনে দেব সবার পূজা কুড়ায়ে তোমার     সন্তানেরই দান ভারে ভারে॥ ভারততীর্থ। স্বরবিতান ৪৬

আমরা মিলেছি আজ মায়ের ডাকে।

                   আমরা   মিলেছি আজ মায়ের ডাকে।           ঘরের হয়ে পরের মতন ভাই ছেড়ে ভাই ক’দিন থাকে?।           প্রাণের মাঝে থেকে থেকে   `আয়’ ব’লে ঐ ডেকেছে কে, সেই     গভীর স্বরে উদাস করে—         আর কে কারে ধরে রাখে?।           যেথায় থাকি যে যেখানে   বাঁধন আছে প্রাণে প্রাণে, সেই     প্রাণের টানে টেনে আনে— সেই   প্রাণের বেদন জানে না কে?।           মান অপমান গেছে ঘুচে,   নয়নের জল গেছে মুছে— সেই     নবীন আশে হৃদয় ভাসে ভাইয়ের পাশে ভাইকে দেখে॥           কত দিনের সাধনফলে   মিলেছি আজ দলে দলে— আজ     ঘরের ছেলে সবাই মিলে   দেখা দিয়ে আয় রে মাকে॥

আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে

আমরা          সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে—                  নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?। আমরা          যা খুশি তাই করি,   তবু  … Read more আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে

আমাদের যাত্রা হল শুরু এখন

আমাদের    যাত্রা হল শুরু   এখন,   ওগো কর্ণধার।                    তোমারে         করি নমস্কার। এখন        বাতাস ছুটুক, তুফান উঠুক, ফিরব না গো আর—                    তোমারে         করি নমস্কার॥ আমরা       দিয়ে তোমার জয়ধ্বনি   বিপদ বাধা নাহি গণি                                       ওগো কর্ণধার। এখন        মাভৈঃ বলি ভাসাই তরী, দাও গো করি পার—                    তোমারে         করি নমস্কার॥ এখন        রইল যাত্রা আপন ঘরে   চাব না পথ তাদের তরে                                        ওগো কর্ণধার। যখন         তোমার সময় এল কাছে তখন কে বা কার—                    তোমারে         করি নমস্কার। মোদের      কেবা আপন, কে বা অপর, কোথায় বাহির, কোথা বা ঘর                                        ওগো কর্ণধার। চেয়ে         তোমার মুখে   মনের সুখে   নেব সকল ভার—                    তোমারে         করি নমস্কার॥ আমরা       নিয়েছি দাঁড়, তুলেছি পাল,   তুমি এখন ধরো গো হাল                                        ওগো কর্ণধার। মোদের      মরণ বাঁচন ঢেউয়ের নাচন, ভাবনা কী বা তার—                    তোমারে         করি নমস্কার।… Read more আমাদের যাত্রা হল শুরু এখন

আমার সোনার বাংলা

     আমার   সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন   তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি॥      ও মা,   ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,                              মরি হায়, হায় রে— ও মা,  অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে   আমি   কী দেখেছি মধুর হাসি॥           কী শোভা, কী ছায়া গো,   কী স্নেহ, কী মায়া গো—           কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে,   নদীর কূলে কূলে।      মা, তোর   মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,                              মরি হায়, হায় রে— মা, তোর   বদনখানি মলিন হলে,   ও মা,   আমি নয়নজলে ভাসি॥           তোমার এই   খেলাঘরে   শিশুকাল   কাটিলে রে,           তোমারি   ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি।   তুই   দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে,                              মরি হায়, হায় রে— তখন   খেলাধুলা সকল ফেলে,   ও মা,   তোমার কোলে ছুটে আসি॥           ধেনু-চরা তোমার মাঠে,   পারে যাবার খেয়াঘাটে,           সারা দিন    পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে,      তোমার     ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে,                              মরি হায়, হায় রে— ও মা,  আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি॥… Read more আমার সোনার বাংলা

আমায় বোলো না গাহিতে

              আমায়   বোলো না গাহিতে বোলো না।      এ কি   শুধু হাসি খেলা, প্রমোদের মেলা, শুধু মিছেকথা ছলনা?। এ যে   নয়নের জল, হতাশের শ্বাস,   কলঙ্কের কথা, দরিদ্রের আশ,      এ যে   বুক-ফাটা দুখে গুমরিছে বুকে গভীর মরমবেদনা।      এ কি   শুধু হাসি খেলা, প্রমোদের মেলা, শুধু মিছেকথা ছলনা?। এসেছি কি হেথা যশের কাঙালি   কথা গেঁথে গেঁথে নিতে করতালি—      মিছে কথা কয়ে, মিছে যশ লয়ে, মিছে কাজে নিশিযাপনা! কে জাগিবে আজ, কে করিবে কাজ,   কে ঘুচাতে চাহে জননীর লাজ—      কাতরে কাঁদিবে, মায়ের পায়ে দিবে সকল প্রাণের কামনা?      এ কি   শুধু হাসি খেলা, প্রমোদের মেলা, শুধু মিছেকথা ছলনা?। শতগান। স্বরবিতান ৪৭

আমি ভয় করব না

          আমি ভয়        করব না ভয় করব না।      দু বেলা      মরার আগে মরব না, ভাই, মরব না॥ তরীখানা বাইতে গেলে  মাঝে মাঝে তুফান মেলে— তাই ব’লে হাল ছেড়ে দিয়ে  ধরব না,       কান্নাকাটি ধরব না॥ শক্ত যা তাই সাধতে হবে,  মাথা তুলে রইব ভবে— সহজ পথে চলব ভেবে   পড়ব না,    পাঁকের ‘পরে পড়ব না॥ ধর্ম আমার মাথায় রেখে     চলব সিধে রাস্তা দেখে— বিপদ যদি এসে পড়ে          সরব না,    ঘরের কোণে সরব না॥

এ ভারতে রাখো নিত্য

এ ভারতে রাখো নিত্য, প্রভু, তব শুভ আশীর্বাদ— তোমার অভয়, তোমার অজিত অমৃত বাণী,           তোমার স্থির অমর আশা॥ অনির্বাণ ধর্ম আলো   সবার ঊর্ধ্বে জ্বালো জ্বালো,           সঙ্কটে দুর্দিনে হে,      রাখো তারে অরণ্যে তোমারই পথে॥ বক্ষে বাঁধি দাও তার   বর্ম তব নির্বিদার,      নিঃশঙ্কে যেন সঞ্চরে নির্ভীক। পাপের নিরখি জয়   নিষ্ঠা তবুও রয়—      থাকে তব চরণে অটল বিশ্বাসে॥ ব্রহ্মসঙ্গীত। ভারততীর্থ। স্বরবিতান ৪ ও ৪৬

এখন আর দেরি নয়

          এখন   আর দেরি নয়, ধর্ গো তোরা   হাতে হাতে ধর্ গো।           আজ     আপন পথে ফিরতে হবে     সামনে মিলন-স্বর্গ॥ ওরে    ঐ উঠেছে শঙ্খ বেজে,   খুলল দুয়ার মন্দিরে যে—           লগ্ন বয়ে যায় পাছে, ভাই,   কোথায় পূজার অর্ঘ্য?। এখন    যার যা-কিছু আছে ঘরে   সাজা পূজার থালার’পরে,           আত্মদানের উত্‍‌সধারায়   মঙ্গলঘট ভর্ গো। আজ    নিতেও হবে, আজ   দিতেও হবে,   দেরি কেন করিস তবে—           বাঁচতে যদি হয় বেঁচে নে,   মর্‌তে হয় তো মর্ গো॥ স্বরবিতান ৪৬

এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে

     এবার তোর   মরা গাঙে বান এসেছে,     `জয় মা’ ব’লে ভাসা তরী॥ ওরে রে     ওরে মাঝি, কোথায় মাঝি,    প্রাণপণে, ভাই, ডাক দে আজি—      তোরা  সবাই মিলে বৈঠা নে রে,           খুলে ফেল্ সব দড়াদড়ি॥      দিনে দিনে বাড়ল দেনা,   ও ভাই,   করলি নে কেউ বেচা কেনা—                    হাতে নাই রে কড়া কড়ি।      ঘাটে বাঁধা দিন গেল রে,     মুখ দেখাবি কেমন ক’রে—               ওরে,   দে খুলে দে,   পাল তুলে দে,   যা হয় হবে বাঁচি মরি॥

ও আমার দেশের মাটি

ও আমার        দেশের মাটি, তোমার ‘পরে ঠেকাই মাথা। তোমাতে        বিশ্বময়ীর,  তোমাতে   বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা॥ তুমি              মিশেছ মোর দেহের সনে, তুমি              মিলেছ মোর প্রাণে মনে, তোমার ঐ      শ্যামলবরন কোমল মূর্তি মর্মে গাঁথা॥ ওগো মা,        তোমার কোলে জনম আমার, মরণ তোমার বুকে।                    তোমার ‘পরে খেলা আমার দুঃখে সুখে। তুমি              অন্ন মুখে তুলে দিলে, তুমি              শীতল জলে জুড়াইলে, তুমি যে          সকল-সহা সকল-বহা মাতার মাতা॥ ও মা,            অনেক তোমার খেয়েছি গো, অনেক নিয়েছি মা— তবু              জানি নে-যে কী বা তোমায় দিয়েছি মা! আমার           জনম গেল বৃথা কাজে, আমি             কাটানু দিন ঘরের মাঝে— তুমি              বৃথা আমায় শক্তি দিলে শক্তিদাতা॥

ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে

     ওদের   বাঁধন যতই শক্ত হবে ততই বাঁধন টুটবে,               মোদের ততই বাঁধন টুটবে।      ওদের   যতই আঁখি রক্ত হবে মোদের আঁখি ফুটবে,               ততই মোদের আঁখি ফুটবে॥ আজকে যে তোর কাজ করা চাই,   স্বপ্ন দেখার সময় তো নাই—      এখন    ওরা যতই গর্জাবে, ভাই তন্দ্রা ততই ছুটবে,               মোদের      তন্দ্রা ততই ছুটবে॥ ওরা          ভাঙতে যতই চাবে জোরে   গড়বে ততই দ্বিগুণ করে, তোরা       ভরসা না ছাড়িস কভু,   জেগে আছেন জগত্‍‌-প্রভু— ওরা          ধর্ম যতই দলবে ততই ধুলায় ধ্বজা লুটবে,               ওদের        ধুলায় ধ্বজা লুটবে॥ স্বরবিতান ৪৬

ওরে, তোরা নেই বা কথা বললি

                   ওরে, তোরা   নেই বা কথা বললি,      দাঁড়িয়ে হাটের মধ্যিখানে নেই জাগালি পল্লী॥ মরিস মিথ্যে ব’কে ঝ’কে,   দেখে কেবল হাসে লোকে,      নাহয়   নিয়ে আপন মনের আগুন মনে মনেই জ্বললি॥ অন্তরে তোর আছে কী যে   নেই রটালি নিজে নিজে,      নাহয়   বাদ্যগুলো বন্ধ রেখে চুপেচাপেই চললি॥ কাজ থাকে তো কর্ গে না কাজ,   লাজ থাকে তো ঘুচা গে লাজ,      ওরে,   কে যে তোরে কী বলেছে নেই বা তাতে টললি॥ স্বরবিতান ৪৬

ওরে, নূতন যুগের ভোরে

          ওরে,   নূতন যুগের ভোরে দিস নে সময় কাটিয়ে বৃথা সময় বিচার করে॥ কী রবে আর কী রবে না,   কী হবে আর কী হবে না                    ওরে হিসাবি, এ সংশয়ের মাঝে কি তোর ভাবনা মিশাবি?।           যেমন করে ঝর্না নামে দুর্গম পর্বতে নির্ভাবনায় ঝাঁপ দিয়ে পড় অজাজিতের পথে। জাগবে ততই শক্তি যতই হানবে তোরে মানা, অজানাকে বশ ক’রে তুই করবি আপন জানা।           চলায় চলায় বাজবে জয়ের ভেরী— পায়ের বেগেই পথ কেটে যায়, করিস নে আর দেরি॥ ভারততীর্থ। স্বরবিতান ৪৭