সম্পাদক, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা-কে

সম্পাদক, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা-কে

From:
QAZI NAZRUL ISLAM
Battalion Quartermaster Havilder
49th Bengalis,
Dated, Cantonment, Karachi,
The 19th August, 1919

আদাব হাজার হাজার জানবেন!

বাদ আরজ, আমার নগণ্য লেখাটি আপনাদের সাহিত্য-পত্রিকায় স্থান পেয়েছে, এতে কৃতজ্ঞ হওয়ার চেয়ে আমি আশ্চর্য হয়েছি বেশি। আমার সবচেয়ে বেশি ভয় হয়েছিল, পাছে বেচারি লেখা ‘কোরকে’র কোঠায় পড়ে। অবশ্য যদিও আমি ‘কোরক’ব্যতীত প্রস্ফুটিত ফুল নই; আর যদিই সেরকম হয়ে থাকি কারুর চক্ষে, তবে সে বেমালুম ধুতরো ফুল। যা হোক, আমি তার জন্যে আপনার নিকট যে কত বেশি কৃতজ্ঞ, তা প্রকাশ করবার ভাষা পাচ্ছিনে। আপনার এরূপ উৎসাহ বরাবর থাকলে আমি যে একটি মস্ত জবর কবি ও লেখক হব, তা হাতে-কলমে প্রমাণ করে দিব, এ একেবারে নির্ঘাত সত্যি কথা। কারণ, এবার পাঠালুম একটি লম্বা চওড়া ‘গাথা’ আর একটি ‘প্রায় দীর্ঘ’ গল্প আপনাদের পরবর্তী সংখ্যা কাগজে ছাপাবার জন্যে, যদিও কার্তিক মাস এখনও অনেক দূরে। আগে থেকেই পাঠালুম, কেননা এখন হতে এটা ভালো করে পড়ে রাখবেন এবং চাই কি আগে হতে ছাপিয়েও রাখতে পারেন। তাছাড়া আর একটি কথা। শেষে হয়তো ভালো ভালো লেখা জমে আমার লেখাকে বিলকুল ‘রদ্দি’ করে দেবে, আর তখন হয়তো এত বেশি লেখা না পড়তেও পারেন। কারণ, আমি বিশেষরূপে জানি, সম্পাদক বেচারাদের গলদঘর্ম হয়ে উঠতে হয় এই নতুন কাব্যি-রোগাক্রান্ত ছোকরাদের দৌরাত্ম্যিতে। যাক, অনেক বাজে কথা বলা গেল। আপনার সময়টাকেও খামকা টুঁটি চেপে রেখেছিলুম। এখন বাকি কথা কটি মেহেরবানি করে শুনুন।

যদি কোনো লেখা পছন্দ না হয়, তবে ছিঁড়ে না ফেলে গরিবকে জানালেই আমি ওর নিরাপদে প্রত্যাগমনের পাথেয় পাঠিয়ে দেব। কারণ সৈনিকের বড্ড কষ্টের জীবন। আর তার চেয়ে হাজার গুণ পরিশ্রম করে একটু আধটু লেখি। আর কারুর কাছে এ একেবারে worthless হলেও আমার নিজের কাছে ওর দাম ভয়ানক! আর ওটা বোধ হয় সব লেখকের পক্ষেই স্বাভাবিক। আপনার পছন্দ হল কিনা, জানাবার জন্যে আমার নাম ঠিকানা লেখা একখানা Stamped খামও দেওয়া গেল এর সঙ্গে। পড়ে মত জানাবেন।

আর যদি এত বেশি লেখা ছাপবার মতো জায়গা না থাকে আপনার কাগজে, তা হলে যে কোনো একটা লেখা ‘সওগাত-এর সম্পাদককে hand-over করলে আমি বিশেষ অনুগৃহীত হব। ‘সওগাত’-এ লেখা দিচ্ছি দু-একটা করে। যা ভালো বুঝেন জানাবেন।

গল্পটি সম্বন্ধে আপনার কিছু জিজ্ঞাসা বা বক্তব্য থাকলে জানালেই আমি ধন্যবাদের সহিত তৎক্ষণাৎ তার উত্তর দিব, কারণ, এখনও অনেক সময় রয়েছে।

আমাদের এখানে সময়ের money-value; সুতরাং লেখা সর্বাঙ্গসুন্দর হতেই পারে না। Undisturbed time মোটেই পাই না। আমি কোনো কিছুরই কপি বা duplicate রাখতে পারি না। সেটি সম্পূর্ণ অসম্ভব।

By the by আপনারা যে ‘ক্ষমা’ বাদ দিয়ে কবিতাটির ‘মুক্তি’ নাম দিয়েছেন, তাতে আমি খুব সন্তুষ্ট হয়েছি। এই রকম দোষগুলি সংশোধন করে নেবেন। বড্ড ছাপার ভুল থাকে, একটু সাবধান হওয়া যায় না কি? আমি ভালো, আপনাদের কুশল সংবাদ দিবেন।

নিবেদন ইতি –
খাদেম
নজরুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *