১৩. শেষ কথা

১৩. শেষ কথা

বুরুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ের নূতন নাম শহীদ জননী জাহানারা ইমাম বিদ্যায়তন। শান্তা আপা হোস্টেল সুপারিনটেন্ডেন্টের দায়িত্বের সাথে সাথে আপাতত প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করছেন। নূতন একজন প্রিন্সিপাল খোঁজা হচ্ছে যদিও ছাত্রীদের একান্ত ইচ্ছা শান্তা আপাই শেষ পর্যন্ত এই দায়িত্বে থেকে যান।

বেগম জোহরা কামাল যেভাবে চেয়েছিলেন ঠিক সেভাবে স্কুলটাকে নূতন করে দাঁড় করানো হচ্ছে, স্নেহ মমতা আর ভালবাসা দিয়ে। কাসেম পর্যন্ত চাঁদাবাজী ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে গেছে, আজকাল তাকে অবিশ্যি কেউ কাসেম ডাকে না, ডাকে কুসুম। শান্তা আপার দেয়া নাম। অন্যে মেয়েরাও যা মিষ্টি স্বভাবের হয়েছে সেটা লিখে বোঝানো যাবে না। (তবে সবাই যে সবসময় মিষ্টি সেই গ্যারান্টি অবিশ্যি দেয়া যাচ্ছে না। এই কয়েকদিন আগে মাঝ রাতে যখন–থাক, সেই বৃত্তান্ত এখন টেনে আনা ঠিক হবে না।)

স্কুলের মেয়েরা আজকাল ছবি আঁকে, আবৃত্তি করে, গান গায়, নাচে। কয়দিন আগে শহরের সিনেমা হলে বাচ্চাদের জন্যে একটা সিনেমা এসেছিল সবাই মিলে সিনেমা হলে গিয়ে সেই সিনেমা দেখে এসেছে।

গল্প বই পড়ার জন্যে বিশাল একটা লাইব্রেরি তৈরি করা হচ্ছে। এর মাঝে কয়েক হাজার বই কেনা হয়েছে (খবর পাওয়া গেছে তার মাঝে কোনো জ্ঞানের বই নেই—সব এভভেঞ্চার, ডিটেকটিভ আর সায়েন্স ফিকশান!) কবি সুফিয়া কামালকে এনে এই লাইব্রেরি উদ্বোধন করা হবে। পরীক্ষার পর নাটক করা হবে, মুক্তিযুদ্ধের নাটক। সবাই শুধু বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযোদ্ধার অভিনয় করতে চায় কেউ রাজাকার আর গোলাম আযমের অভিনয় করতে চায় না। কেউ পরে খেপাবে না এবং সামনের বার মুক্তিযোদ্ধার পার্ট দেওয়া হবে কথা দেয়ার পর কয়েকজনকে রাজি করা হয়েছে। জোর রিহার্সাল হচ্ছে, নাটক যেদিন মঞ্চস্থ হবে সেদিন ফাটাফাটি অবস্থা হবে বলে মনে হয়।

স্কুল থেকে খোরাসানী ম্যাডামকে অবিশ্যি পুরোপুরি দূর করা যায় নি। এখনো প্রতি শুক্রবার একবার হানা দিয়ে যাচ্ছে—সেদিন প্রথম আলোর দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় খোরাসানী ম্যাডামের একটা ছবি ছাপা হয়, নিচে বড় বড় করে লেখা থাকে, একে ধরিয়ে দিন। তার নিচে ছোট ছোট করে লেখা থাকে কেন তাকে ধরিয়ে দিতে হবে কি বৃত্তান্ত!

এখনো তাকে ধরা যায় নি, জোর গুজব খোরাসানী ম্যাডাম নাকি নাম পাল্টে পাকিস্তান চলে গেছে। সেটা মনে হয় ভালই হয়েছে, খোরাসানী ম্যাডামের জন্যে ভাল, পাকিস্তানের জন্যেও ভাল! খোরাসানী ম্যাডামের দরদ মনে হয় বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের জন্যেই বেশি ছিল।

 

নিতু আর তার বন্ধুরা কেমন আছে? সেটা বলতে গেলে এক বিশাল ইতিহাস–

আজ থাক।

—০—

1 Comment

I like it very very very much
This touch my heart.
Nitu O Tar Bondhura – book is my favorite.
It gives me much pleasure.
I am crying when I reading it.
Shanta Apa is very nice madam.
She is very very very nice.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *