সাইলাস মারনার – ২০

বিশ

সাধারণত বসন্তকালে র‍্যাভেলো গ্রামে বিয়ে লাগে। এ সময়টায় আকাশে রোদ ঝলমল করে, বাগানে ফোটে নানা জাতের রঙিন ফুল। মিষ্টি সুরে গান গায় পাখিরা। বিয়ে-শাদীর জন্যে আদর্শ সময়।

বসন্তের এক সুন্দর দিনে বিয়ে হয়ে গেল এপি আর অ্যারনের।

‘কী সুন্দর দেখাচ্ছে এপিকে!’ বলল সকলে। ‘ঠিক লিলি ফুলের মত।’

বিয়ের দিন ন্যান্সি কাসের দেয়া পোশাক পরল এপি। সাদা পোশাকে বড় পবিত্র দেখাচ্ছে ওকে। ‘বাবা,’ গির্জায় ঢোকার মুখে ফিসফিসিয়ে বলল সে, ‘আমি তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি না। তোমার জন্যে একটা ছেলের ব্যবস্থা করছি কেবল।’

বিয়ের পর সারা গ্রামটা ঘুরে বেড়াল এপি। এক হাতে জড়িয়ে ধরেছে বাবার হাত। ওর পাশে রয়েছে অ্যারন। গর্বিত। মিসেস ডলি উইনথ্রপও রয়েছেন। বিয়ের খানাপিনা হবে রেইনবো সরাইখানায়। ওখানে যেতে হলে পেরোতে হয় ‘রেড হাউস’। পেরোল ওরা। বাসার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ন্যান্সি, তার বোন আর বাবা। গডফ্রেও রয়েছে। বর কনের দিকে হাত নাড়ল ওরা। এরাও প্রত্যুত্তর দিল।

এলাহী কাণ্ড হল সরাইখানায়। বিপুল খাবার-দাবারের আয়োজন করা হয়েছে। লোকে পেট পুরে খেল। প্রাণভরে আশীর্বাদ করল। তারপর এপি, অ্যারন, সাইলাস আর ডলি উইনথ্রপ রওনা দিল সাইলাসের কুটিরের দিকে।

ওদের বাগানে আজ অসংখ্য ফুল ফুটেছে। ফুলে ফুলে ছেয়ে রয়েছে যেন। এপির মুখে হাসি ধরে না। ‘বাবা, দুনিয়ায় আমরাই বোধহয় সবচেয়ে সুখী, তাই না?’

‘হ্যাঁ, রে,’ আবেগে সাইলাসের গলা বুজে এল। ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল সে।

****

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *