2 of 3

রাবণের চিতা

রাবণের চিতা

সংস্কৃতে একটি শ্লোক আছে—
চিতা দহতি নির্জীব
চিন্তা দহতি সজীবং।

অর্থাৎ চিতা পোড়ায় মৃত ব্যক্তিকে আর চিন্তা পোড়ায় সজীবকে। রাবণের চিতা হলো অনন্ত যন্ত্রণা বা চিরকালীন মর্মব্যথা যা অন্তরকে দহন করে নিরন্তর।

রামচন্দ্রের হাতে রাবণের পরাজয় ও সবংশে নিধনের ঘটনা ঘটার পর বিভীষণের হাতে লঙ্কার রাজ্যভার প্রদান করা হয়। অতঃপর রামের ইচ্ছানুযায়ী রাবণের প্রধান রাণী মন্দোদরীকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেন রাবণের ছোটভাই ঘরভেদী বিভীষণ। মন্দোদরী ধীরস্থির ও ধর্মশীলা ছিলেন। বিভীষণের স্ত্রী হলেও তিনি রাবণের বিধবা স্ত্রী বিধায় ললাটের সিঁদুর রাখার পক্ষে যুক্তি পাচ্ছিলেন না। বিজয়ীরা বিজিত রাজার স্ত্রী গ্রহণ করবে এমন প্রথা তৎকালে ছিল। আর দেবরকে পতিরূপে গ্রহণ করাও নিন্দার ছিল না।

যাহোক, মন্দোদরী পুনর্বিবাহ না করে রাবণের নামে সিঁদুর অক্ষয় করে রাখার বাসনায় ছিলেন। রামচন্দ্র তার সে বাসনা পূর্ণ করার জন্য নাকি বলেছিলেন যে, রাবণের চিতার আগুন যেহেতু কোনোকালেই নিভে যাবে না সেহেতু মন্দোদরীরও সিঁদুর মুছে ফেলার কারণ ঘটবে না। প্রথামতো স্বামীর চিতাগ্নি নেভার পরই হিন্দুনারীর সিঁথির সিঁদুর মোছা হয়। রামের বরে রাবণের চিতা আজও অনির্বাণ। অর্থাৎ মানুষের মনের দহনজ্বালাই রাবণের চিতার আগুন। তাই দীর্ঘকালীন মনস্তাপ ও মনের যন্ত্রণা যতদিন থাকবে ততদিন মানুষ তা রাবণের চিতা হিসেবেই মনে করবে; যদিও কাহিনীটি প্রতীকী হিসেবেই বিবেচ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *