আঠারো
পরদিন সকাল।
অন্যদের আগেই ব্রেকফাস্ট সেরে নেয়ার জন্যে নিচে নেমে এসেছে রানা ও মারিয়া। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বলে রাতে ঘুমাতে পারেনি মারিয়া, তাই ধসে গেছে ওর কমনীয় চেহারা। ওরা দু’জনই বুঝে গেছে, ব্যর্থ হয়ে গেছে ওদের মিশন।
হোটেলের রেস্টুরেন্টে বসে চুপচাপ ব্রেকফাস্ট করল ওরা। খাবার শেষ করে ওয়েটার ডেকে বিল মিটিয়ে দিল রানা। হোটেলের লনে রোদে গিয়ে বসল ওরা। কিছুক্ষণ পর মারিয়াকে বলল রানা, ‘স্পেন থেকে চলে যাওয়ার আগে একবার স্কি করতে চাও?’
মাথা নাড়ল মারিয়া। ‘ওপরে গিয়ে লাগেজ গুছিয়ে নেব।’
মাথা দোলাল রানা। ‘বেশ। আমি একবার ভেলেটাতে যাচ্ছি। পাহাড়ের ওপর থেকে স্কি করে নেমে যাব।’
জবাব দিল না মারিয়া, ডুব দিয়েছে নিজের মনে।
‘এত ভাবছ কেন?’ বলল রানা। ‘পরে হয়তো এর চেয়ে অনেক ভাল কোন মিশন পাবে।’
চুপ করে দূরে চেয়ে রইল মারিয়া। রানা উঠে পড়বে কি না ভাবছে, এমন সময় মুখ খুলল মেয়েটা, ‘ভাবছিলাম, শুধু শুধু কত মানুষের প্রাণ ঝরে গেল। মোরেলির ডাবল লোকটা। কিউলেক্স। জন কার্সন। এলিনা পার্কারসন। তারপর আছে ক্যাথি মোনালিসা। ওর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওকে কোথাও পেলাম না।
মারিয়ার বাহুতে আলতো চাপড় দিল রানা। ‘দুনিয়াটা ভাল জায়গা নয়, মারিয়া। আর আমাদের সবাইকে একদিন এখান থেকে বিদায় নিতেই হবে।’
‘কিন্তু পৃথিবীটা এমন না হলেও তো পারত!’
‘কেউ তো কথা দেয়নি যে পৃথিবী সুন্দর হবে।’
মন খারাপ করে মাথা দোলাল মারিয়া।
ওপরে ওদের সুইটে গিয়ে স্কি আর পোল সংগ্রহ করল রানা, তারপর হোটেল থেকে বেরিয়ে চলে গেল ভেলেটায়। সোনালি রোদ বিছিয়ে আছে পাহাড়ের তুষারের ওপরে। উত্তর দিক থেকে হু-হু করে বইছে শীতের হাওয়া। স্কি রানের ওপরে গুঁড়ো তুষারের ধবল স্তর। পকেট থেকে ছোট্ট বিনকিউলার নিয়ে পাহাড়ি ঢালে চোখ বোলাল রানা। ওদিকে আছে ভেলেটা থেকে নিচে দু’ভাগ হয়ে যাওয়া দুটো স্কি রান।
দুটোর ভেতরে বামেরটা দীর্ঘ। ওটাই স্কিয়িঙের জন্যে বেছে নিল ও। চামড়ার কেস থেকে বের করে চোখে সানগ্লাস পরল। আর তখনই দেখতে পেল কেবল-কারের দিক থেকে ওকে লক্ষ্য করে আসছে এক লোক।
সে হের আর্নেস্ট মুলার। এখন সাঙ্গপাঙ্গরা নেই তার।
লোকটার উদ্দেশে হাত নাড়ল রানা। ‘গুড মর্নিং, হের মুলার।’
রানার কাছে এসে থামল সে। মুখে আন্তরিক হাসি। ‘গুড মর্নিং, মিস্টার কিং।’
‘গতকাল আপনার সঙ্গে স্কিয়িং করতে পারিনি,’ বলল রানা। ‘তবে আজকে সুযোগটা হারাতে চাই না।’
‘আপনিও বোধহয় ব্যবসার কাজে ব্যস্ত ছিলেন,’ হাসল জার্মান ব্যবসায়ী।
‘তা তো বটেই;’ হের মুলারের দিকে তাকাল রানা।
পাহাড়ের নিচের ঢালে চোখ বোলাচ্ছে ভদ্রলোক। নিচু গলায় বলল, ‘আপনার সুন্দরী স্ত্রী কোথায় গেলেন?’
‘ব্যাগেজ গুছিয়ে নিচ্ছে।’
‘এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাবেন?’
‘উপায় কী, ওর বান্ধবীর মা মারা গেছে।’
‘দুঃখজনক। স্কিয়িঙের জন্যে আজকের দিন বড় সুন্দর।’
‘ঠিকই বলেছেন।’
বোল্ডারের ওপরে বসল হের মুলার। তার পাশে বসে পড়ল রানা। বুটের ফিতা শক্ত করে বেঁধে নিয়ে স্কি দুটোর নিচে মাখিয়ে নেয়ার জন্যে নীল মোম বের করল হের মুলার।
অলস সময়ে কিছু করার নেই, তাই জানতে চাইল রানা, ‘আপনারা বন্ধুরা যে সঙ্গে এল না আজ?’
‘ওরা হোটেলে রয়ে গেছে,’ হাসল হের মুলার। ‘দু’জন তো এখনও ঘুম থেকে ওঠেইনি। গতরাতে সেই দুর্ঘটনার পর বার এস্কুইতে গিয়ে গলা পর্যন্ত কনিয়্যাক গিলেছে।’
‘আপনাকে তো কখনও একা থাকতে দেয় না, তাই জানতে চেয়েছি।’
‘টাকার জোর আসলে এমনই,’ গাল কুঁচকে হাসল হের মুলার। ‘যার বেশি আছে, তার কাছে ঘুরঘুর করে চাটার দল। টাকা সবসময় চুম্বকের মত মানুষকে আকর্ষণ করে।’
‘আপনি কিন্তু বন্ধু-সমাজের নিন্দা করছেন, হের মুলার।’
‘মিথ্যা তো আর বলিনি, হের কিং।’ প্রথম স্কি তুলে নিয়ে ওটার নিচে নীল মোম ডলতে লাগল হের মুলার। ভাল জার্মান ভদ্রলোকের মতই নিজের কাজে নিখুঁত।
‘ফ্রাউলিন মারিয়াকে দেখলে আমার খুব কাছের একজনের কথা মনে পড়ে,’ কিছুক্ষণ পর বলল সে।
‘তা-ই? সে কে?’
‘আপনার জানার কথা নয়, তবে সে ছিল আমার একমাত্র মেয়ে, মুখ তুলে রানাকে দেখল হের মুলার। আবার মোম ডলতে লাগল স্কির নিচে। ‘অপূর্ব সুন্দরী ছিল।’
‘ছিল বলছেন, ওর কী হয়েছে সেটা কি বলবেন, হে মুলার?’
‘ওর বয়স তখন উনিশ,’ সোনালি রোদে ভরা পাহাড়ের চূড়ার দিকে উদাস চোখে তাকাল হের মুলার। ‘পড়ছিল সুইট্যারল্যাণ্ডের নামকরা এক ইউনিভার্সিটিতে। ওর মা, মানে আমার স্ত্রী মারা গেছে বহু বছর আগে। শিলা তখন একেবারেই ছোট্ট। সে-সময়ে বারবার ভাবতাম কী করে অবোধ এই বাচ্চাটাকে মানুষ করব? আমার কথা বুঝতে পেরেছেন, হের কিং?’ রানার দিকে তাকাল হের মুলার।
‘আমি কখনও কারও বাবা হইনি, তাই একজন বাবার মনের অনুভূতি কীভাবে বুঝব, বলুন?’ নরম সুরে বলল রানা।
‘যা বললেন, সেটা আপনার অন্তরের কথা, কাজেই কেউ আপনাকে দোষ দেবে না।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলল হের মুলার। ‘অজান্তে অবহেলা করা, সময় না দেয়া বা ভুল পথে সন্তানকে ঠেলে দেয়া, তার সবই করেছি আমি। তাই শিলা যখন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলো, আমার ওপরে অভিমান করে বন্ধ করে দিল সব যোগাযোগ।’
‘আজকাল সব দেশেই এসব হচ্ছে।’
‘শিলা যা করল, সেটার জন্যে তৈরি ছিলাম না আমি। বাজে বন্ধু-বান্ধবীর পাল্লায় পড়ে ড্রাগসের নেশায় ডুবে গেল।’ রানাকে আরেকবার দেখল হের মুলার। আবার মন দিল স্কিতে মোম পলিশে। ‘তাতে ভীষণ রেগে গেলাম।
হের মুলারের দিকে চেয়ে আছে রানা।
‘পুরো একবছর নেশার জগতে থেকে ওভারডোযের কারণে মারা গেল শিলা,’ গ্রানাডার সুউচ্চ চূড়া দেখল হের . মুলার। ‘নিজের হাতে নিজেকে শেষ করে দিল।’
‘আমি দুঃখিত, আন্তরিক সুরে বলল রানা।
‘আমাকে সান্ত্বনা দেবেন না, কারণ ওর মৃত্যুর পেছনে ছিল আমার নোংরা হাত,’ কর্কশ শোনাল হের মুলারের কণ্ঠ। হাসিখুশি গলা এখন হারিয়ে গেছে। ‘বাবা হিসেবে কোন দায়িত্ব পালন করিনি। চরম অবহেলা করেছি নিজের একমাত্র সন্তানকে। একের পর এক সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে এসে নিজের বাড়িতে রেখেছি। আর তাতে আমার কাছ থেকে বহু দূরে সরে গেছে শিলা। ঘৃণা করেছে আমাকে। প্রথম সুযোগে চলে গেছে আমার প্রভাব বলয়ের বাইরে। শেষ করে দিয়েছে নিজেকে। আর তারপর ওকে হারিয়ে বসার পর বুঝলাম, কত চরম প্রতিশোধ নিয়েছে ও আমার ওপরে।’
চুপ করে থাকল রানা।
‘শিলা ভাল করেই জানত, আমি কী ধরনের ব্যবসা করি।’
হের মুলারের দিকে তাকাল রানা। বুঝে গেছে, এরপর কী ধরনের কথা বলবে হের মুলার।
‘আমি ড্রাগসের ব্যবসা করতাম,’ তিক্ত হাসল লোকটা। ‘হ্যাঁ, আমারই ছড়িয়ে দেয়া ভয়ঙ্কর ড্রাগের কবলে পড়ে নিজে শেষ হয়ে গেছে শিলা। হের কিং, আপনি বলতে পারেন, আমি যা করেছি, সেজন্যে আমার ওপরে চরম প্রতিশোধ নিয়েছে প্রকৃতি।
মৃদু মাথা দোলাল রানা।
‘শিলার কফিন কবরে শুইয়ে দিয়ে পরের ক’দিন শুধু ভেবেছি, শত কোটি মানুষের ওপরে কত ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়েছে আমার সরবরাহ করা ড্রাগসের। এসব ভাবতে গিয়ে হয়ে গেলাম প্রায় উন্মাদ।’ দ্বিতীয় স্কির নিচে মোম ঘষছে হের মুলার। ‘তখনই শপথ করলাম: যতক্ষণ দেহে প্রাণ থাকবে, ড্রাগসের সঙ্গে জড়িত জানোয়ারগুলোর বিরুদ্ধে লড়ব।’
রানাকে দেখল হের মুলার। ‘মাফিয়া থেকে আমাকে সতর্ক করা হলো, তাদের সংগঠন থেকে বেরিয়ে গেলে প্রাণে বাঁচতে দেবে না তারা আমাকে। দুনিয়ার কোথাও লুকিয়ে বাঁচব না।’ তিক্ত হাসল সে। ‘আমার কথা বুঝতে পেরেছেন, হের কিং?’
‘হ্যাঁ, সেনোর রোমিয়ো মোরেলি।’
‘হ্যাঁ, আমিও জানি আপনি কে। আপনি মিস্টার রানা, যার কথা বিসিআই চিফ আমাকে বলেছেন। তাঁর সংগঠনের সেরা এজেন্ট আপনি।’
মোরেলি আরও কিছু বলরে, সেটা বুঝে চুপ করে থাকল রানা।
‘প্রথমে ভাবলাম আপনার হাতে তুলে দেব মাইক্রোফিল্ম। আর সেজন্যে কর্সিয়া থেকে ইয়ট দ্য লিলিতে চেপে রওনা হলাম ম্যালাগার উদ্দেশে। মনস্থির করলাম আপনার সঙ্গে দেখা করব সিয়েরা নেভাডায়। কিন্তু আমারই খুব কাছের কেউ আগেই ফাঁস করে দিয়েছে আমার পরিকল্পনা। তাতে সতর্ক হয়ে উঠল ইতালিয়ান ও আমেরিকান মাফিয়া কাপোরা। তারা ভাড়া করল নামকরা পেশাদার খুনি কিউলেক্সকে। আমিও বুঝলাম, যে-কোন সময়ে হামলা হবে আমার ওপরে। তখন আমার পুরনো বন্ধু বাস্তিলো দে ভ্যানারির সাহায্য নিলাম। আমার চরিত্রে ইয়টে অভিনয় করল সে। আর এ-সুযোগে ভ্যালেন্সিয়া বন্দরে নেমে উধাও হলাম আমি।’
‘এ-পযন্ত আমি জানি,’ বলল রানা।
‘ভাবতেও পারিনি ইয়টে উঠে ভ্যানারিকে খুন করতে পারবে কিউলেক্স। কিন্তু ঘটল তেমনই। ভেবেছিলাম আপনার সঙ্গে ভ্যানারির কথা শেষ হলে আপনাকে জানিয়ে দেব, কোথায় দেখা করব আমরা। যা-ই হোক, বন্ধু ভ্যানারি খুন হয়ে গেলে কয়েকটা সূত্র থেকে জানলাম, আমারই অপূর্ব সুন্দরী এক রক্ষিতা চাইছে আমাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিতে।’
‘এলিনা পার্কারসন।’
‘হ্যাঁ, সে-ই। ভয়ঙ্কর এক নিমফোম্যানিয়াক। ভীষণ লোভী মেয়ে। আমার গড়ে তোলা ড্রাগসের ব্যবসা নিজে চালাতে চাইছে। সেজন্যে যোগাযোগ করেছে মাফিয়া কমিশনে। ওখান থেকে হ্যাঁ-না জানানো না হলেও নিজে থেকেই আমাকে খুন করতে ভাড়া করেছে পেশাদার খুনি।’ তিক্ত হাসল মোরেলি।.
কৌতূহলী চোখে তাকে দেখছে রানা।
‘ওর বারো বছর বয়সে ডেনমার্কের এক খামারে বয়স্ক এক খামারি ধর্ষণ করে ওকে। তাতে প্রেগনেন্ট হয়ে যায় এলিনা। নষ্ট করে দেয়া হয় বাচ্চা। কিন্তু ঘা হয়েছিল ওর ওভারিতে। ফলে হিস্টোরেকটমি করতে বাধ্য হয় ডাক্তারেরা। তাতে বেঁচে থাকল এলিনা। অদ্ভুত সুন্দরী এক মেয়ে। দুর্দান্ত বুদ্ধিমতী। অথচ হয়ে গেছে বন্ধ্যা। আর কোনদিন মা হতে পারবে না। তখন থেকেই দুনিয়াটাকে অন্য চোখে দেখেছে এলিনা। না সে কোন ভদ্রমহিলা, না সে কোন পুরুষ। ওকে বলতে পারেন সুপার হিউম্যান! আমি মাফিয়া কমিশনের সঙ্গে আর নেই, সেটা বুঝতেই ভাবতে লাগল দখল করবে আমার রাজত্ব।’
‘আপনি চান ধ্বংস করে দিতে ড্রাগ চেইন,’ বলল রানা।
‘ঠিকই ধরেছেন। আর সেজন্যে সবই গুছিয়ে নিয়েছি।’
মাথা দোলাল রানা। ‘এবং সেজন্যে আপনাকে খুন করতে জন কার্সনকে ভাড়া করেছে এলিনা পার্কারসন।’
‘আপনার ধারণা সঠিক। বলেছিল, কখনও আমার সঙ্গে বেঈমানি করবে না। তবে আমি ছিলাম সতর্ক। ফলে চোখ রেখেছি এলিনার ওপরে। কর্সিয়ার বাড়িতে ট্যাপ করেছি ওর ফোন। তাতে জেনেছি ম্যালাগার পেশাদার খুনি জন কার্সনকে ভাড়া করেছে সে। আমার কথা কি আপনি বুঝেছেন?’
‘হ্যাঁ।’
এরপর আমি নিজেই কার্সনের ওপরে চোখ রাখতে ভাড়া করলাম একজনকে। অবশ্য ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী কার্সনের সত্যিকারের নাম হচ্ছে অ্যালেন রলিন্স। আমেরিকার নাগরিক। ওর বাবা-মা ফ্রান্সের এক ব্যাঙ্কে ডাকাতি করতে গিয়ে খুন হয়। তখন থেকে প্যারিসে অমানুষ হয়েছে রলিন্স।’
‘মারা গেছে সে,’ সহজ সুরে বলল রানা।
‘আমারও তা-ই ধারণা,’ কাঁধ ঝাঁকাল মোরেলি। ‘আমার কন্ট্যাক্টের কাছে শুনেছি, আপনি আর আপনার বন্ধু অ্যালেন রলিন্সকে নাইট ক্লাব থেকে বের করে নিয়ে গেছেন। অবশ্য তার আগেই খুন হয়ে গেছে সে।’
‘দেখা যাচ্ছে সবদিকেই আপনার নজর থাকে।’
‘সবদিকে তো আর চোখ রাখতে পারি না, তবে ম্যালাগায় রলিন্সের সঙ্গে ভিড়িয়ে দিই ক্যাথি মোনালিসাকে। সে-ই প্রথম জানাল, আমাকে খুন করতে সোল ই নিয়েরেতে আসছে লোকটা। এরপর আপনার সঙ্গে আর ভেলেটায় গিয়ে দেখা করিনি।’
‘আমিও সেটাই ভেবেছি।’
জুতোয় স্কি সেট করে নড করল মোরেলি। ‘ভাবলাম ইয়টে মাফিয়া কাপোদের পাঠানো খুনির গুলিতে খুন হয়েছে এলিনা। কিন্তু পরে বুঝলাম সামান্য আহত হয়ে দিব্যি বেঁচে আছে বেঈমান মেয়েলোকটা। তখন মেনে নিতে হলো, এরপর থেকে শুধু মাফিয়ার পাঠানো খুনি নয়, এলিনা পার্কারসনের লেলিয়ে দেয়া খুনির জন্যেও সতর্ক হতে হবে আমাকে। একদিকে কিউলেক্স, আরেকদিকে অ্যালেন রলিন্স। ‘তখন বাধ্য হয়ে হলাম হের আর্নেস্ট মুলার। ভ্যালেন্সিয়ার এক থিয়েটার থেকে ভাড়া করলাম তিন অভিনেতাকে। আমি মস্তবড় এক ব্যবসায়ী, আর আমার পা চাটতে ব্যস্ত হয়ে আছে তিন কর্মচারী।’
হেসে ফেলল রানা। ‘বুদ্ধিটা কিন্তু চমৎকার।’
বিপজ্জনক পেশায় প্রচুর মাথা খাটাতে হয়েছে। ভুরু কুঁচকে রানাকে দেখল মোরেলি। ‘যদিও ওটাকে আমার কোন পেশা বলা উচিত হয়নি। ছিলাম একদল নরপশুর দলনেতা।’
মাথা দোলাল রানা। ‘আপনি বলুন, আমি শুনছি।’
‘এখানে এসে আপনাকে দেখে বুঝলাম, আপনি একজন যোগ্য মানুষ।’ হাসল মোরেলি। ‘দূর থেকে দেখলাম কীভাবে আপনার হাতে খুন হলো কিউলেক্স। ভেবেছিলাম ওর হাতে খতম হবে রলিন্স। কিন্তু সেটা আর হলো না। গতকাল আমার জন্যে বিস্ময়কর ছিল এলিনার আকস্মিক মৃত্যু। প্রাডো লানোর মানুষ যা-ই বলুক, আমার মনে হয়নি জেনে-বুঝে আত্মহত্যা করে বসেছে সে। অবশ্য এটা হতে পারে, গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড় থেকে নদীর খাদে গিয়ে পড়েছে সে।’
‘যেভাবেই ওর মৃত্যু হোক, আপনার হাতে খুন হবে সে- ভয়ে এখান থেকে চলে যেতে চেয়েছিল এলিনা,’ বলল রানা।
‘হাতের নাগালে পেলে ওকে সত্যিই বাঁচতে দিতাম না। যা-ই হোক, বড় কথা হচ্ছে সে এখন আর বেঁচে নেই।’ স্কির কেবল শক্ত করে বাঁধল মোরেলি, তারপর উঠে দাঁড়িয়ে কুঁজো হয়ে রানার দিকে তাকাল।
জবাবে মাথা দোলাল রানা। স্কি রান বেয়ে নেমে যাওয়ার জন্যে তৈরি।
‘বেশি খাড়া ঢাল দিয়ে নেমে যেতে আপত্তি নেই তো?’ জানতে চাইল মোরেলি।
‘নেই,’ বলল রানা।
‘আমরা স্কিয়িং শুরু করার আগে আপনার হাতে একটা জিনিস দিতে চাই,’ আন্তরিক হাসল রোমিয়ো মোরেলি। তার হাতে এখন একটা এনভেলপ। ভেতরে ফোলা কী যেন।
ড্রাগ লর্ডের হাত থেকে এনভেলপ নিল রানা। একমাথা খুলে ভেতরে উঁকি দিল। খামের ভেতরে ছোট্ট মাইক্রোফিল্ম।
‘যা ভাবছেন সেটাই, ওটার ভেতরে সবই পাবেন,’ বলল মোরেলি, ‘সবার নাম, বাড়ির ঠিকানা, নতুন রুট আর করে কখন কোথায় ড্রাগ চালান দেয়া হয়েছে ইত্যাদি। এ-ছাড়া বেশ কয়েকজন মাফিয়া ডন এবং তাদের ঘনিষ্ঠ লোকদের ছবি।’
‘ধন্যবাদ, মোরেলি,’ মন থেকে বলল রানা।
ওর পিঠে হালকা চাপড় দিল মোরেলি। ‘চলুন, এবার রওনা হই!’ সামনে বেড়ে ফল লাইন থেকে খসে পড়ল সে। নিচের তুষারে স্কি নেমে যেতেই বাঁক নিয়ে পাথরের কিছু স্তূপ পাশ কাটিয়ে তীরবেগে ছুটে চলল নিচে।
স্কি জ্যাকেটের পকেটে মাইক্রোফিল্ম রেখে মোরেলির পিছু নিল রানা। আজকের গুঁড়ো তুষার সত্যি মসৃণ। নেমে যাওয়ার সময় ওটার বুকে বসে যাচ্ছে রানার স্কি। পাথরের স্তূপ এড়িয়ে বাঁক নিয়ে শুরু হলো তুমুল স্কিয়িং।
ঝড়ের বেগে নেমে চলেছে মোরেলি। বাঁক নিয়ে তার পিছনে ছুটে চলল রানা। তারই ফাঁকে ওর চোখে পড়ল দ্বিতীয় স্কি রানে আছে আরেক স্কিয়ার। সেই ঢালু পথে কোন কোন জায়গায় জড়িয়ে-পেঁচিয়ে গেছে দুই স্কি রান।
তৃতীয় স্কিয়ার বয়সে তরুণ, পরনে বাদামি পোশাক। টানটান করা তারের মত মেদহীন দেহ। দুর্দান্ত স্কি করছে। প্রতিটা বাঁক যেন তার চিরকালের চেনা।
দুই স্কি রান যেখানে এক হয়েছে, ওখানে পৌঁছে সমতল এলাকা বেছে নিয়ে গতি কমাল তরুণ। পাথরের উঁচু পিঠের কারণে তাকে আর দেখতে পেল না রানা। দুই স্কি রানের ওপরদিকের সঙ্গমে এসে মোরেলিকে ধরল ও। খুশিমনে বলল, ‘আজকের দিন সত্যি স্কিয়িং করার জন্যে দারুণ!’
মাথা দোলাল মোরেলি। ‘এবার আসুন, পরের ধাপে নেমে যাই!’ প্রচণ্ড বেগে নেমে যেতে লাগল সে।
পিছু নিল রানা। অবশ্য সামান্য ঢিলা হয়ে গেছে ওর ডান পায়ের স্কি। তুষারে যেন আরও ভালভাবে বসে স্কির তলা, সেজন্যে গতি কমিয়ে আরেকটু ভাঁজ করল দু’হাঁটু। খাড়া পথে নেমে যেতে লাগল বিদ্যুদ্বেগে। কিছুটা নিচে বড় দুটো পাথরের স্তূপের মাঝে সরু পথ। একবার ওটা পেরোলে দারুণ সুন্দর চওড়া ঢালু জমি। যে-কোন দক্ষ স্কিয়ার বলবে, ওটা স্কিয়িং করার জন্যে পৃথিবীর বুকে আস্ত এক স্বর্গ। এরই ভেতরে ওখানে পৌঁছে গেছে মোরেলি। নতুন উদ্যমে রওনা হলো রানা। চাইছে মোরেলির বামে পৌঁছে যেতে। আর তখনই আবারও দেখতে পেল তরুণ ছেলেটাকে। দ্বিতীয় স্কি রান বেয়ে রানা বা মোরেলির চেয়ে ঢের বেশি বেগে নেমে গেছে সে।
সামনেই আবার. এক হয়েছে দুই স্কি রান। তারপর তুষারে ঢাকা পাহাড়ের চওড়া এক ঢাল নেমে গেছে বহু একবার ওদিকে চেয়ে আইস হকি স্টপ করল রানা। অর্থাৎ কড়া ব্রেক কষে থেমে গেল। নিচের মসৃণ তুষার যেন দেখতে ঠিক পাউডার দুধের মত। নিচেই শক্ত বরফ। ওদিকে আরেকবার চেয়ে মাঠের অ্যাঙ্গেলটা সন্দেহজনক বলে মনে হলো রানার। কোথাও বরফের সমতল প্রান্তর, আবার কোথাও ঝুপ করে নেমে গেছে বহু নিচে। আরেকটু ওপরের তুষার নিরাপদ বলে মনে হলো না ওর।
যদিও নিচের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার আধাআধি জায়গা এরই ভেতরে পাড়ি দিয়েছে মোরেলি। তাতে কোন বিপদ হয়নি তার। রানার নিচে ডানে সরে নেমে যেতে যেতে আবার বামে সরল মোরেলি। আর তখনই তার পেছনে সেই তরুণকে আবার দেখতে পেল রানা। এইমাত্র পাহাড়ের শিরদাঁড়ার মত এক জায়গা থেকে নতুন করে নিচে রওনা দিয়েছে তরুণ।
আবারও স্কিয়িং শুরু করবে রানা, এমন সময় কী যেন; ঝলসে উঠল ওর চোখের কোণে। ঘাড় ফিরিয়ে ওদিকে তাকাল। কড়া রোদে কুঁচকে গেল ওর দুই চোখের পাতা। নিজেকে মনে মনে জিজ্ঞেস করল, আমি কি ভুল দেখলাম?
না, তা তো নয়!
তুষারের মাঠে থেমেছে তরুণ।
রোদ পড়ে হাতে ঝিলিক দিচ্ছে কী যেন!
বাম বগলে পোল গুঁজে ছুটন্ত মোরেলিকে লক্ষ্য করে পিস্তল তাক করেছে তরুণ!
সাবেক ড্রাগ লর্ড জানেও না যে গুলি করা হবে তাকে। ‘মুলার!’ গলা ফাটিয়ে সতর্ক করল রানা। ‘সাবধান!’
ঘাড় ফিরিয়ে ওপরের ঢালে তাকাল মোরেলি। হাতের ইশারায় তরুণকে দেখাল রানা। কিন্তু মোরেলি যেখানে আছে, ওখান থেকে ছেলেটাকে দেখতে পাচ্ছে না সে। ঘন ঘন হাত নাড়ছে রানা। মোরেলি বুঝে গেল, কোথাও বড় কোন ঝামেলা হয়েছে। তাকে সরে যেতে বলছে বিসিআই এজেন্ট। বাঁক নিয়ে অন্যদিকে সরে যেতে চাইল সে। কিন্তু ছুটে চলায় মনোযোগ ছিল না বলে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেল তুষারের ঢালু মাঠে। শরীর মুচড়ে আঘাতটা নিল ঊরুতে। গড়াতে গড়াতে নেমে যেতে লাগল নিচে।
এদিকে দুই পোল ব্যবহার করে দ্রুত রওনা হয়েছে রানা। সরাসরি নামছে একসারি পাথরের দিকে। ওখানে ঘাপটি মেরে আছে সেই তরুণ। ছুটতে ছুটতে বামহাতে পোল দুটো নিল রানা, পরক্ষণে ওর হাতে উঠে এল ওয়ালথার পিপিকে।
পাথরগুলোর ওদিকে তরুণের মাথা দেখতে পেল রানা। নেমে যাওয়ার সময় টের পায়নি, সামনেই আছে ফুলে ওঠা তুষারের বড় একটা স্তূপ। তীব্রবেগে ওটার একপাশে পৌছুতেই ডুবে গেল ওর দু’হাঁটু। হুমড়ি খেয়ে তুষারে পড়ল রানা। পা থেকে ছিটকে গেছে একটা স্কি। গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে গুঁড়ো তুষারের ধস। ওটার সঙ্গে সরসর করে নেমে চলেছে স্কিটা। নিজেও পিছলে নামছে রানা। অবশ্য কয়েক সেকেণ্ড পর থেমে গেল ওর পতন। পাশে এসে থামল দ্বিতীয় স্কি। স্কি কখন হারিয়ে গেছে, জানেও না রানা। : ধড়মড় করে উঠে বসে এদিকে-ওদিকে তাকাল।
তুষার ধসের এলাকা থেকে সরে গেছে রোমিয়ো মোরেলি। ঘুরে তাকাল কালো পাথরের স্তূপের দিকে। আর তখনই তার দিকে গেল তরুণের প্রথম গুলি।
অবশ্য মিস করেছে সে। পাথরের স্তূপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল তরুণ। এবার তাকে পরিষ্কার দেখতে পেল রানা। এগোতে শুরু করেছে ছেলেটা।
টার্গেটে বুলেট লাগার সম্ভাবনা খুব কম, তবুও তার মাথা লক্ষ্য করে ওয়ালথার থেকে গুলি পাঠাল রানা।
ঝট করে ঘুরে ওকে দেখল তরুণ। গুলির আঘাতে মাথা থেকে খসে গেছে তার ক্যাপ। কাঁধে লুটিয়ে পড়েছে একরাশ সোনালি চুল। এবার ভাল করেই তাকে চিনল রানা।
মেয়েটা অপরূপা সুন্দরী এলিনা পার্কারসন!
এক সেকেণ্ডে রানা বুঝে গেল, আসলে কী ঘটেছে।
জাগুয়ারের ভেতরের লাশটা ছিল ক্যাথি মোনালিসার!
কার্সনের ঘরে খুনিটাকে নির্দেশ দিতে হাজির হয়েছিল এলিনা পার্কারসন। লোকটার লাশ ওখানে দেখার পর ফোন করে লাউঞ্জ থেকে ডেকে নিয়েছে ক্যাথিকে। ভাল করেই জানত, ক্যাথি আসলে মোরেলির গুপ্তচর। মেয়েটা ঘরে ঢুকতেই পিস্তলের মুখে তাকে নিয়ে গেছে ব্যালকনিতে। পরে হোটেল থেকে বের করে খুন করেছে নিজের গাড়ির ভেতরে। কার্সনের ঘরে জরুরি কিছু আছে কি না, সেটা জানতে আবার ফিরে এসেছে ড্যানিশ দানবী। তার একটু পর ওখানে ঢুকল রানা। ওর কণ্ঠস্বর শুনে বাথরুমে লুকিয়ে পড়ল মেয়েটা। তারপর রানা সেখানে ঢুকলে ওকে ড্রাগ দিয়ে অবশ করে পালিয়ে গেছে। বুঝেছিল, একটু পর তাকে খুঁজতে শুরু করবে রানা। কাজেই লবিতে নাটক করে গভীর রাতে বেরোল হোটেল থেকে। জাগুয়ারের ড্রাইভিং সিটে আগেই বসিয়ে রেখেছিল ক্যাথির লাশ। প্রথম সুযোগে গাড়ি নিয়ে রওনা হলো এলিনা। রাস্তায় ঘোড়ার নালের মত জায়গায় গতি কমিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়ল। তার আগে লম্বা কিছু দিয়ে ঠেস দিয়েছে অ্যাক্সেলারেটর প্যাডেলে। তাতে দ্রুত গতিতে রওনা হয়েছে জাগুয়ার। ঝড়ের বেগে রাস্তার পাশের নিচু দেয়াল টপকে গাড়িটা গিয়ে পড়েছে পাহাড়ি নদীখাদে। ওদিকে আঁধারে পালিয়ে গেছে এলিনা পার্কারসন।
আর এখন এসেছে মোরেলিকে খুন করতে, যাতে সে হতে পারে মাফিয়ার মহিলা ড্রাগ লর্ড!
মোরেলিকে উঠে দাঁড়াতে দেখল রানা। গম্ভীর চেহারায় নিজের রক্ষিতাকে দেখছে সে। রানার দিকে গুলি পাঠাল এলিনা। জবাবে নিজেও তাকে লক্ষ্য করে গুলি করল রানা। অবশ্য অনেক বেশি দূরে রয়ে গেছে মেয়েটা।
একবার রানাকে দেখল এলিনা, তারপর তাকাল মোরেলির দিকে। এক পা এক পা করে এগোল ড্রাগ লর্ডের দিকে।
ফস্কা তুষার থেকে বেরিয়ে প্রায় দৌড়িয়ে ঢালু পাহাড় বেয়ে নেমে চলেছে রানা। বুঝে গেছে, বিপজ্জনক পেশার বেশিরভাগ লোকের মতই নিজের সঙ্গে অস্ত্র রাখে না মোরেলি। ধীর পায়ে সাবেক ড্রাগ লর্ডের দিকে হাঁটছে এলিনা, হাতে উদ্যত পিস্তল।
মোরেলি আর এলিনার বেশ ওপরে তুষারের মাঠ ঘিরে জমাট-বাঁধা বরফের আস্তরণ। স্কিয়ারদের ছুটে চলার কম্পন ও গুলির বিকট আওয়াজে ওখানে কটকট শব্দে ফাটছে বরফ। যে-কোন সময়ে হুড়মুড় করে নেমে যাবে হিমস্রোত।
আর সেটাই হয়তো রক্ষা করবে মোরেলিকে।
বরফের মাঠের দিকে ওয়ালথার তাক করে এক এক করে তিনটা গুলি’ করল রানা। পাহাড়ে লেগে চারদিকে ছড়িয়ে গেল গুলির জোরাল প্রতিধ্বনি। তার তিন সেকেণ্ড পর মড়াৎ করে জোর শব্দ তুলে ফাটল ধরল তুষারের মাঠের চারপাশের শক্ত বরফে। পরক্ষণে পিছলে নিচে রওনা হলো মাঠের তুষার ও বরফের চাঁই। মাত্র পাঁচ সেকেণ্ডে অবিশ্বাস্য গতি পেল ওটা!
হিমস্রোতের সুনামি নেমে আসতে দেখছে এলিনা, কোথাও যে পালিয়ে যাবে সে-উপায় নেই। পর পর দু’বার মোরেলিকে লক্ষ্য করে গুলি করল সে। তারপর নেমে যেতে লাগল সাবেক প্রেমিকের দিকে। যদিও পরের সেকেণ্ডে ওকে তলিয়ে দিয়ে তীব্রবেগে নেমে গেল হিমস্রোত। পলকের জন্যে মেয়েটার কাঁচা সোনার মত চুল দেখতে পেল রানা।
বহু নিচে পাথুরে দেয়ালে ভীষণ জোরে ‘থ্যাপ!’ আওয়াজে আছড়ে পড়ল তুষারের স্রোত। ওখানে ফুলে উঠে তৈরি করল মাঝারি আকারের শুভ্র একটা টিলা।
উঠে দুই স্কি জড় করল রানা, তারপর ও-দুটো বুট জুতোয় আটকে নিয়ে. ধীরে ধীরে নেমে গেল মোরেলির কাছে।
কাত হয়ে পড়ে আছে ড্রাগ লর্ড। বুকের কাছের তুষার ভিজে গেছে লাল রক্তে। লোকটার সামনে গিয়ে থামল রানা।
ব্যথায় পাণ্ডুর হয়ে গেছে মোরেলির মুখ। চোখে ঝাপসা দৃষ্টি। একবার মাথা তুলে রানাকে দেখে নিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘আজকের এই পরিণতি আসলে আমার প্রাপ্য ছিল, রানা। শুধু দুঃখ এটা, দেখে যেতে পারলাম না ধ্বংস হয়ে গেছে ড্রাগের চেইন!
তার পাশে বসে হাত দিয়ে মোরেলির ঘাড় তুলে ধরল রানা। ঘোলা চোখে ওকে দেখছে মোরেলি।
‘ভেবো না, মোরেলি, অবশ্যই শেষ করে দেয়া হবে ওটা,’ নরম সুরে বলল রানা।
কী যেন ভেবে স্মিত হাসল মোরেলি, পরক্ষণে রানার হাতে কাত হয়ে গেল তার মাথা। মৃত্যু এসেও কেড়ে নিয়ে যেতে পারেনি তার ঠোঁটের মৃদু হাসি।
রোমিয়ো মোরেলির চোখ দুটো বুজে দিয়ে উঠে দাঁড়াল রানা। অপেক্ষা করল গার্ডিয়া সিভিল অফিসারদের জন্যে। যে-কোন সময়ে হাজির হবে তারা।
