ধূর্ত গোকৃপুর কুকীর্তি – নবনীতা দেবসেন

ধূর্ত গোকৃপুর কুকীর্তি

অঙ্গামী নাগাদের মধ্যে গোকৃপু বলে একজন ধূর্তলোক ছিল। সে অন্যকে ঠকিয়ে নিজের সুবিধা হয়, এমন সব কুকীর্তি করত। একদিন গোকৃপু ব্যবসা করবে বলে একশো টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে রওনা হল। যেতে যেতে পথে এক গভীর জঙ্গল। সেই জঙ্গল পেরিয়ে গোকৃপু চলেছে। হঠাৎ একটা ভাল্লুক তাকে আক্রমণ করল। গোকৃপু বীরের মতন ভাল্লুকের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগল। কিন্তু ওর টাকাগুলো সব মাটিতে ছড়িয়ে পড়ল? এমনসময়ে আরেকজন লোক ঘোড়ায় চড়ে জঙ্গল দিয়ে যাচ্ছে। সে দেখে গোকৃপু ভাল্লুকের সঙ্গে যুদ্ধ করছে আর মাটিতে টাকা গড়াগড়ি যাচ্ছে। লোকটি জিজ্ঞেস করল :

—এখানে এত টাকা কেন?

—আরে, ভাল্লুকটার সঙ্গে মারামারি করলেই ও ভয়ের চোটে টাকা মাটি করে ফ্যালে! গোকৃপুর উত্তর শুনে লোকটি ঘোড়া থেকে নেমে এসে ভাল্লুকের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে দিল। আর গোকৃপু টাকাকড়ি কুড়িয়ে নিয়ে ওরই ঘোড়াটায় চড়ে দে ছুট, দে ছুট! লোভী লোকটি ওদিকে যুদ্ধ করেই চলল।

গোকৃপু এদিকে একটি নদীর তীরে এসে পৌঁছেছে। সেখানে একটি মেয়ে আর তার বুড়ি মায়ের সঙ্গে দেখা। তারা নদীটা পেরুতে চায়, কিন্তু জল বড় গভীর। গোকৃপু বলল, এসো, তোমাদের ঘোড়ায় তুলে পার করে দিচ্ছি। আগে মেয়েকে নিয়ে যাই। ফিরে এসে মাকে নিয়ে যাব। বলে মেয়েকে ঘোড়ায় বসিয়ে টগবগ করে একদৌড়ে বনের মধ্যে পালিয়ে গেল গোকৃপু। আর বুড়ি মা বেচারি পড়েই রইল নদীর ধারে।

 গোকৃপু তো এমনি স্বভাব—

 যা না করবার তাই সে করে,

 লোক ঠকিয়ে জীবন কাটায়—

 অন্যায়েতেই পকেট ভরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *