কয়েদি – ৭

সাত বছর পর আবার সে ফিরে এল প্রথম কারাগারে। সেই কারাপ্রধান, তিনিও পুনরায় অধিষ্ঠিত। দেখা হতেই সে, জেলার মহাশয়ের সঙ্গে সৌজন্যবিনিময় না করে জিজ্ঞেস করল, ‘ও কেমন আছে?’

সাত বছরে একবারও দেখা হয়নি। চিঠি বিনিময় হয়নি। কথা হয়নি ফোনে।

কারাপ্রধান প্রেমিকার সুপরিচিত, তার জানা আছে। তাই জেলার মহাশয় অদ্ব্যর্থক বললেন, ‘ভালো আছে।’

‘ও জানে? ওকে বলেছেন, আমি এখানে আসছি?’

‘বলেছি বইকী।’

‘আমি এই জেলে ফিরে এসেছি বলে খুব খুশি, তা-ই না?’

‘খুবই খুশি।’

‘ও আসবে না? আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবে না?’

‘তেমনটা সম্ভব না হতেও পারে।’

‘বাড়ির লোক ওকে বন্দি করে রাখবে, তা-ই না? তাহলে আমি ওর কাছে যাব। এখন আমি প্যারোল পেতে পারি তো’।

‘আইন মোতাবেক তুমি এখনও প্যারোল পেতে পারো না। আবেদন করো। প্যারোল বোর্ড যাতে তোমার আবেদন অনুমোদন করে, আমি তার জন্য তদবির করব। সদাচারী হলে ব্যতিক্রমী প্যারোল দেওয়া হয় অনেক সময়।’

‘আমি জেলের মধ্যে যথাযথ আচরণ করেছি।’

‘আমি জানি, তুমি যেখানে ছিলে, তোমার যোগ্য আচার ব্যবহার করেছ।’

‘আমার তো আর কেউ নেই। আপনি জানেন। ক’দিনের জন্য বাইরে যেতে পারলে ওর ভালো লাগবে। আমাকে দেখতে না পেয়ে ও ভেতরে ভেতরে বড়ো দুঃখী, সেরকমই কি মনে হয়নি আপনার?’

‘হ্যাঁ। তা তো ঠিকই।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *