দিল দরিয়ায় ডুবে দেখ না।
অতি অজান খবর যাবে জানা।।
আলখানার শহর ভারি
তাহে আজব কারিগরি
উত্তরায় পানি নাই
ভিটে ডোবে ভাই
কি প্ৰত্যারি এ কারখানা।।

ত্ৰিবেণীর পিছন ঘাটে
বিনে হাওয়ায় সোজা ছোটে
ওরে বোবায় কথা কয়
কালায় শুনতে পায়
আধলাতে পরখ করছে সোনা।।

কহিবার যোগ্য নয় সে কথা
সাগরে ভাসে জগৎ-মাতা
লালন বলে, সে মার উদরে পিতা
জন্মে পত্নীর দুগ্ধ খেলে সে না।।

—————-

লালন-গীতিকা, পৃ. ১০৪

গানটি হেঁয়ালির ভাষায় রচিত হয়েছে। চৰ্যাপদে ও নাথসাহিত্যে অনুরূপ হেঁয়ালিপূৰ্ণ পদ ও পদগুচ্ছ আছে। আভোগ স্তবকটির চরণ-বিন্যাসে ও অন্তঃমিলে ভিন্নতা আছে। অন্তরা ও সঞ্চারীর ছন্দ-রীতি খখ গগক; আভোগের ছন্দ-রীতি খখখক। লালন এরূপ মিশ্র ছন্দরীতির ব্যবহার করেননি। ‘লালন-সঙ্গীতে’ গানের সুর কাঠামো অভিন্ন থাকলেও চরণ ও স্তবক বিন্যাসে অনেক ওলট-পালট হয়েছে। গানটি সম্পূর্ণ তুলে দেয়া হল :

দেল দরিয়ার বুকে দেখা না
অতি অজান খবর যাবে জানা।।

ত্ৰিবেদীর পিছন ঘাটে
বিনে হাওয়ায় মৌজা ওঠে
উত্তরায় পানি নাই
ভিটে ভেসে যায়
শুনলে কি পাবি কারখানা।।

আলখানার শহর ভারি
তাহে আজব কারিগরি
বোবায় কথা কয়
কালায় শুনতে পায়
অন্ধকার পরখ করছে সোনা।।

কইবার যোগ্য নয় কথা
সাগরে ভাসে জগৎমাতা
লালন বলে, মার উদরে পিতা
জন্মে পত্নীর দুধ খেল সে না।। পৃ. ১৬৬