১৬. টেলিফোন

স্পেশাল ব্রাঞ্চের এ. আই. জি. আবদুল লতিফ, নুরুদ্দিনকে টেলিফোন করেছেন। নুরুদ্দিন প্রতিটি বাক্যের সঙ্গে দুবার করে স্যার বলছেন। তার চেয়ারে বসে থাকার মধ্যেও একটা অ্যাটেনশন ভঙ্গি চলে এসেছে। কথা ভালো শোনা যাচ্ছে না। লাইন ভালো না। থানায় হৈচৈও হচ্ছে প্রচুর। লোজন কোথেকে এক পাগল ধরে এনেছে, সে বড় ঝামেলা করছে। নুরুদ্দিন চোখে ইশারা করছেন, পাগল সরিয়ে নিতে। তাঁর চোখের ইশারা কেউ বুঝতে পারছে না।

এ. আই. জি. আবদুল লতিফ সাহেব বললেন, কথা শুনতে পাচ্ছেন, লাইনটা ডিস্টার্ব করছে।

জ্বি স্যার, আপনার কথা শুনতে পাচ্ছি স্যার।

জামিন হয়েছে আপনি জানেন তো?

জ্বি স্যার জানি।

ইনোসেন্ট লোকদের হ্যারাসমেন্ট যাতে কম হয় সেটা দেখতে হবে তো। পুলিশের তাই দায়িত্ব।

তা তো বটেই স্যার।

সোসাইটির রেসপেক্টেবল মানুষদের হাতে চোরগুণ্ডাদের সঙ্গে ফেলে রাখার কোন যুক্তি আছে কি? এরা তো পালিয়ে যাবার লোক না। কোর্ট যখন চাইবে তখনই এরা কোর্টে হাজির হবে।

তা তো ঠিকই স্যার।

এটা খেয়াল রাখবেন।

নিশ্চয়ই স্যার। তবে……

আবার তবে কী?

না স্যার, বলছিলাম কি, যদি ভিকটিমকে বিরক্ত করে বা ভয় দেখায় তা হলে……।

সেরকম কিছু দেখিয়েছে?

এখনো কোনো খবর পাই নি স্যার।

তা হলে মনগড়া কথা বলছেন কেন? অতিরিক্ত উৎসাহ দেখাবেন না। অতিরিক্ত উৎসাহ ভালো না।

তা তো স্যার ঠিকই।

নুরুদ্দিন টেলিফোন নামিয়ে রাখলেন। কপালের ঘাম মুছলেন। তাঁর এখন তেমন কিছু করার নেই। মিজান ঘুরে বেড়াবে, কেউ তাকে কিছু বলবে না। মামলা কোর্টে না ওঠা পর্যন্ত তার আপাতত কোন সমস্যা নেই। নন-বেইলেবল সেকশনের আসামী সমাজের উচু একটা স্তরে আছে বলেই বুকে ফু দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা সহ্য করা বেশ কঠিন। সহ্য করতে হয়। এর নাম চাকরি।

স্যার আপনার টেলিফোন।

আবার কে?

সেকেন্ড অফিসার ইঙ্গিতপূর্ণ একটি হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে দিল।

অফিসার ইনচার্জ বলছি।

কে, নুরুদ্দিন? চিনতে পারছ?

জ্বি স্যার। স্লামালিকুম স্যার।

একটা রেপ কেসের ইনভেস্টিগেশন তোমার এখানে হচ্ছে না?

জ্বি স্যার।

কত দূর।

দু-একদিনের মধ্যে ইনভেস্টিগেশন শেষ হবে স্যার।

গুড, ভেরি গুড। এইসব কেসগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।

তা তো স্যার ঠিকই।

অপরাধীর শাস্তি হওয়া দরকার। কঠিন শাস্তি।

অবশ্যই স্যার।

সেইসঙ্গে লক্ষ রাখতে হবে নিরপরাধ যাতে শাস্তি না পায়।

অবশ্যই স্যার।

মিজানকে আমি খুব ভালোভাবে চিনি। চমৎকার ছেলে। সে কীভাবে জড়িয়ে পড়ল বুঝতে পারছি না। আমার মনে হয় ভিকটিম অব সারকমটেন্স। যাই হোক, তুমি তোমার তদন্ত কর। মিজানের ব্যাপারে কোন রেফারেন্সের দরকার হলে আমাকে বলবে।

নিশ্চয়ই বলব স্যার। অবশ্যই বলব।

আচ্ছা রাখলাম।

স্লামালিকম স্যার।

নুরুদ্দিন দীর্ঘ সময় চুপচাপ বসে রইল। পাগলটা এখনো যন্ত্রণা করছে। থানার সবাই মনে হচ্ছে তাতে মজা পাচ্ছে। সবাই হাসছে। সেকেন্ড অফিসার নুরুদ্দিনকে বলল, স্যার দেখুন, পাগলটা আপনাকে ভেংচি কাটছে।

নুরুদ্দিন দেখলেন, পাগলটা সত্যি-সত্যি জিভ বের করে তাঁকে দেখাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *