আমার আছে জল – ০৯ম পরিচ্ছেদ

শিকারে যাবার প্রোগ্রাম হঠাৎ করেই হয়েছে। নীলগঞ্জ থানার ও সি সাহেব সকালবেলা একটি দোনলা বন্দুক আর একগাদা ছররা গুলি নিয়ে উপস্থিত—স্যার, শিকারে যাবেন নাকি? বড়গাঙ্গের চরে বালিহাঁস পড়েছে। কায়দামত একটা গুলি করতে পারলে বিশ-পঁচিশটা পাখি পড়বে।

বলেন কি?

স্যার, একটা স্পীডবোটের ব্যবস্থা করেছি।

ওসমান সাহেব বহুদিন পর উৎসাহিত বোধ করেন। শিকার করা অনেকদিন হয় না। শেষ শিকারে গিয়েছিলেন প্রায় পাঁচ বছর আগে।

ওসি সাহেব, তাহলে তো তাড়াতাড়ি রওনা হতে হয়।

জ্বি স্যার।

চা-টা খেয়েই রওনা দেব কি বলেন ও সি সাহেব?

ঠিক আছে স্যার।

ওসমান সাহেব ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। দীর্ঘদিন পর রক্তে যৌবনের উত্তেজনা অনুভব করেন। থানার ওসির মত একজন অধস্তন অফিসারকেও হঠাৎ বন্ধু স্থানীয় মনে হয়।

ও সি সাহেব।

জ্বি স্যার।

দিনটাও আজ শিকারের জন্যে ভালো। কুয়াশা নেই, কিছু নেই।

না স্যার কুয়াশা থাকলেই ভালো। পরিষ্কার দিন শিকারের জন্য না। একটু তাড়াতাড়ি করা দরকার স্যার।

প্রথমে ঠিক হয়েছিল সবাই যাবে। পাখি শিকার হোক বা না হোক নৌকা ভ্রমণ হবে কিন্তু সাব্বির যেতে রাজি হলো না। তার নাকি শিকারে তেমন উৎসাহ নেই। রেহানাও থেকে গেলেন। কারণ বাবুর গা গরম হয়েছে। সকালে একবার বমি করেছে। রেহানা ধরেই নিয়েছিলেন নিশাত বাবুকে রেখে যাবে না। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন নিশাত দিলুর মতই উৎসাহ নিয়ে সাজ করছে। অনেকদিন পর তার চোখ ঝমমল করছে।

 

স্পীড বোটটি আহামারি কিছু নয়। দেশী নৌকায় বার হর্স পাওয়ারের একটা মেশিন বসানো। বসবার জায়গা নেই। চারদিকে ভেজা। এটা বোধহয় মাছ আনা নেয়া করে। মাছের বোটকা গন্ধ। তবু দিলুর ভীষণ ভালো লাগছে। সে বসেছে জামিলের পাশে। বেণী দুলিয়ে দুলিয়ে ক্রমাগত গল্প করছে। ওসমান সাহেব হাসি মুখে বললেন—মেয়েটাতো বড্ড বক বক করতে পারে। সবাই হেসে উঠলো। দিলু মোটেও অপ্রস্তুত হলো না, প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তার এক বান্ধবীর গল্প করতে শুরু করলো। তার নাম লীনা কিন্তু সবাই তাকে ডাকে বক লীনা কারণ সে বকের মত মাথা নীচু করে হাঁটে। দিলু মাথা নীচু করে ব্যাপারটা দেখালো। ওসমান সাহেব বললেন—আয় মা তুই আমার পাশে বসে গল্প কর। কিন্তু দিলু নড়লো না। সে জামিলের পাশেই বসে রইলো।

বড় গাঙের চর পর্যন্ত স্পীডবোট নিয়ে যাবার উপায় নেই। পানি কম। তাছাড়া ভট ভট শব্দ হচ্ছে। শব্দে পাখি উড়ে যাবে। ওসি সাহেব বললেন—এখান থেকে যেতে হবে পায়ে হেঁটে। অসুবিধা হবে নাতো স্যার?

না অসুবিধা কি?

খানিকটা পানি ভেঙে যেতে হবে।

বেশী পানি?

জ্বি না স্যার। খুব বেশী হলে হাঁটুপানি। জুতো খুলে ফেলেন। ওসমান সাহেব জুতা খুলে ফেললেন। দিলুও জুতা খুললো। ওসি সাহেব অবাক হয়ে বললেন—তুমিও যাবে নাকি খুকি?

জ্বি।

কষ্ট হবে। একটু পরেই রোদ উঠবে কড়া।

উঠুক।

ওসমান সাহেব বললেন—শখ করে এসেছে, চলুক। নিশাত, তুই যাবি নাকি?

আমি হাঁটু পানি ভেঙে যাব? পাগল হয়েছ বাবা?

দিলু বললো—চলো না আপা। আমি তো যাচ্ছি। তোমার ভালই লাগবে।

এখানে বসে থাকতেই আমার ভাল লাগছে।

ওসমান সাহেব বললেন—একা একা বসে থাকবি, খারাপ লাগবে না?

একা একা থাকব না। জামিল ভাই থাকবেন। কি জামিল ভাই, আমাকে একা ফেলে নিশ্চয়ই আপনি পাখি শিকারে যাবেন না? নাকি আপনিও যেতে চান?

না, আমি আছি।

 

রোদের তাপ বাড়ছে। মিষ্টি গন্ধ উঠে আসছে মাঠ থেকে। এ অঞ্চল বেশ নির্জন। মাঝে মাঝে দু-একটা মাছ ধরার নৌকা শুধু যাচ্ছে। নৌকায় বসে থাকা লোকজন তাদের দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু খুব একটা অবাক হচ্ছে না। স্পীড বোট নিয়ে শহরের লোকজন হয়তো প্রায়ই এদিকে শিকারে আসে।

নিশাত হাত বাড়িয়ে হাসি মুখে বললো—জামিল ভাই, এই কি সেই বিখ্যাত কাশফুল?

হুঁ। তবে এখনো ফুল ফুটেনি। সময় হয়নি।

কই, তেমন কিছু তো লাগছে না।

বাতাসে যখন ঢেউয়ের মত উঠানামা করে তখন ভালো লাগে। তুমি কি বোটেই বসে থাকবে না নামবে?

চলুন নামি। হিল পরে হাঁটা যাবে তো?

হিল পরে এসেছো?

হ্যাঁ, দেখছেন না কত লম্বা লাগছে আমাকে।

জামিল ঠিক বুঝতে পারছে না। নিশাতকে খুব খুশী খুশী মনে হচ্ছে। সাজগোজের মধ্যেও যথেষ্ট যত্নের ছাপ। ঠোঁটে কড়া করে লিপস্টিক দিয়েছে।

নিশাত বললো—গ্রাম-নদী এইসব কিন্তু আমার কাছে তেমন এক্সাইটিং মনে হয় না।

একেকজনের দেখার ক্ষমতা একেক রকম। সাব্বির সাহেব যা দেখে মুগ্ধ হবেন তুমি হয়তো তা দেখে মুগ্ধ হবে না। তাছাড়া…।
সাব্বির ভাইকে আপনার কেমন লাগে?

চমৎকার। ভদ্রলোক অল্প সময়ের মধ্যে আমাকে দারুণ ইমপ্রেস করেছেন। এই একটি লোক দেখলাম যার মধ্যে ভান নেই।

নিশাত ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বললো—এত তাড়াতাড়ি একটা ডিসিশনে আসা ঠিক না। আপনি মানুষ সম্পর্কে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তে চলে আসেন। নিশাত খুব সাবধানে পা ফেলে এগুতে লাগলো।

জামিল বললো—জুতো পরে তোমার হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। জুতো খুলে ফেলো।

খালি পায়ে হাঁটব?

হ্যাঁ। খারাপ লাগবে না। শুকনো পথঘাট।

নিশাত হিল খুলে ফেললো—খালি পায়ে হাঁটতে তার ভালই লাগলো। খুশী খুশী গলায় বললো—ফ্লাক্সটা নিয়ে এলে ভাল হতো। কোথাও বসে চা খাওয়া যেতো। শাড়ি পরা আট-ন বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে কোত্থেকে হঠাৎ এসে উদয় হয়েছে। চোখ বড় বড় করে দেখছে। নিশাত বললো—এ্যাই তোমার নাম কি? মেয়েটি জবাব দিলো না।

বাড়ি কোথায় তোমার?

মেয়েটি হাত বাড়িয়ে যেদিকে দেখালো সেদিকে কোন ঘরবাড়ি নেই।

জামিল ভাই, মেয়েটি কি হারিয়ে গেছে নাকি?

না, ওরা হারাবে না। গ্রামের মেয়ে, সমস্ত অঞ্চল এদের খুব ভাল করে চেনা। নিশাত, কোনদিকে যেতে চাও?

চলুন ঐ গাছটার নিচে বসি। কি গাছ ওটা, বিরাট বড় তো।

শিমুল গাছ।

শিমুল গাছে এত বড় বড় কাঁটা থাকে নাকি?

থাকে।

জামিল সিগারেট ধরালো। নিশাত হ্যাণ্ডব্যাগ থেকে সানগ্রাস বের করে চোখে দিলো। হালকা স্বরে বললো—একটা হাসির গল্প বলুন তো। দিলুকে রোজ কিসব গল্প বলেন। দেখি এবার আমি একটা শুনি।

দিলুকে হাসির গল্প বলি না। দিলুকে বলি ভূতের গল্প। ভূতের গল্প শুনতে চাইলে বলতে পারি।

নিশাত খিলখিল করে হেসে ফেললো। তার হাসি দেখে ছোট্ট মেয়েটাও হাসতে শুরু করলো। জামিল নিজেও হাসলো।

না জামিল ভাই, বলুন একটা হাসির গল্প। দেখি আপনি আমাকে হাসাতে পারেন কিনা।

হাসাতে পারলে কি দেবে?

আপনি আগে বলুন, তারপর দেখা যাবে।

টেলিফোনের খুঁটি বসানো হচ্ছে। সারাদিন ধরে কাজ চলছে। সন্ধ্যাবেলা ইঞ্জিনিয়ার সাহেব কাজ দেখতে এলেন। জিজ্ঞেস করলেন—তোমরা ক’টা খুঁটি পুঁতলে? ওরা বললো—স্যার বারটা। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব বললেন—মন্দ না, বারটা খারাপ না। তারপর গেলেন অন্য একটা দলের কাছে—তোমরা কটা পুঁতলে? ওরা বললো—স্যার একটা। ইঞ্জিনিয়ার রেগে আগুন—এত কম? ঐ দল তো বারটা পুঁতলো। দলের সর্দার বললো—আমাদের কাজ আর ওদের কাজ? ওদের খুঁটির সবটাই মাটির উপর আর আমাদেরটা দেখুন। মাটির উপর আছে চার আঙুল। সবটাই ঢুকিয়ে দিয়েছি,

নিশাত গল্প শুনে হাসলো না। গম্ভীর হয়ে বললো—এই গল্পটা জামিল ভাই আপনি আমাকে ইচ্ছে করে বললেন।

ইচ্ছে করে বলব কেন?

গল্পটা বাবুর আব্বার।

হ্যাঁ, আমি কবিরের কাছ থেকে শুনেছি। এটা একটা চমৎকার গল্প, তাই তোমাকে বললাম। অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিলো না। সব কিছুতেই তুমি এত উদ্দেশ্য খোঁজ কেন?

নিশাত উঠে দাঁড়ালো—চলুন বোটে ফিরে যাই। ফেরার পথে কেউ কোন কথা বললো না। ছোট মেয়েটি আবার পেছনে পেছনে আসছে। খুব কৌতূহল মেয়েটির। ছোট্ট শাড়িটা পরেছেও খুব গুছিয়ে। শাড়ির রঙ গাঢ় সবুজ। তার মধ্যে লাল পাড়। জামিল বললো—নিশাত, তুমি কি লক্ষ্য করেছো বেশীর ভাগ গ্রামের মেয়ের শাড়ির রঙ সবুজ।

না, আমি লক্ষ্য করিনি। গ্রামই দেখিনি। গ্রামের মেয়ে দেখবো কোথায়?

গ্রামের মেয়েরা যে সবুজ শাড়ি পরে এটাও কিন্তু প্রথম নোটিশ করে কবির। তার ধারণা এরা সবুজ দেখতে দেখতে সবুজ রঙের প্রতি একটা উইকনেস জন্মিয়ে ফেলে। আমার ধারণা কিন্তু তা নয়।

আপনার কি ধারণা?

আমার ধারণা সবুজ রঙের কাপড় ময়লা হয় কম, সে জন্যই এরা সবুক কাপড় পরে।

আপনার ধারণাটাই প্রাকটিক্যাল। কিন্তু হঠাৎ করে আপনি রঙের প্রসঙ্গ আনলেন কেন?

জামিল কিছু বললো না। স্পীড বোটে উঠে বসলো। স্পীড বোটের ড্রাইভার রোদের মধ্যে পা মেলে দিয়ে দিব্যি ঘুমুচ্ছে। নিশাত ফ্লাক্স খুললো—চা দেব জামিল ভাই?

দাও।

চায়ের সঙ্গে আর কিছু? কেক আছে। নষ্ট হয়ে গেছে কিনা কে জানে।

নিশাত এক পিস কেক বের করে মেয়েটির দিকে এগিয়ে দিলো। সে নিলো না। পিছিয়ে গেলো অনেকখানি। জামিল বললো—এ ভিখিরী নয় কারো কাছ থকে কিছু নেয়ে এর অভ্যেস নেই।

আপনি চট করে সবকিছু বুঝে যান কিভাবে?

জামিল হাসলো। ঠিক তখনি পর পর দু’টি গুলির শব্দ হলো। ওরা পাখি পেয়েছে কিনা কে জানে। স্পীড বোটের ড্রাইভার চোখ কচলে উঠে বসলো। শিকারীরা হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসবে। নিশাত অবাক হয়ে দেখলো তার মাথার উপর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে যাচ্ছে। আশ্চর্য, এত পাখি! তারা ডাকছে কর্কশ গলায়। শুনতে ভালো লাগে না।

ওরা কোথায় যাবে?

নিরাপদ কোন জায়গায় যাবে। তারপর সেখানেও শিকারীরা যাবে। সেখান থেকেও এদের উড়ে যেতে হবে।

নিশাত তাকিয়ে রইলো। জামিল বললো—সমস্ত জীব-জন্তু ও পশুপাখির জীবনের বেশীর ভাগ সময় কেটে যায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে গিয়ে। মানুষের জন্যেও এটা সত্যি। আমরাও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজি।

মাস্টারী করতে করতে বক্তৃতা দেয়া আপনার অভ্যেস হয়ে গেছে তাই না?

হ্যাঁ।

এবং আপনি মনে করেন জগৎ-সংসারের সমস্ত রহস্য আমি বুঝে ফেলেছেন?

না, তা বুঝিনি তবে বুঝতে চেষ্টা করি। তোমার মত চোখ বন্ধ করে থাকি না।

জামিল একটা সিগারেট ধরালো। নিজেই হাত বাড়িয়ে ফ্লাক্স থেকে চা ঢাললো। তার ভাব দেখে মনে হচ্ছিলো সে বড়সড় একটা বক্তৃতা দেবে কিন্তু জামিল তেমন কিছুই করলো না। সিগারেট টানতে টানতে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো। স্পীড বোটের ড্রাইভার নেমে গিয়ে ছোট মেয়েটির সঙ্গে আলাপ জুড়ে দিয়েছে। এতক্ষণ যে মেয়ে একটি কথাও বলেনি, তার মুখে এখন খই ফুটছে।

 

তোর নাম কি?

ফুলি।

তোর বাপের নাম কি?

কসির শেখ।

কোন গ্রাম?

আতরা, মিয়াবাড়ি।

ভাই-ভইন কয়জন?

ছয়জন।

নিশাত খুব মন দিয়ে ওদের কথাবার্তা শুনছে। এই মেয়েটি এতক্ষণ চুপ করে ছিলো কেন?

জামিল ভাই।

বল।

এই মেয়েটি এতক্ষণ কোন কথাবার্তা বলেনি কিন্তু দেখুন ঐ লোকটির সঙ্গে কেমন জমিয়ে গল্প করছে।

জামিল কোন উত্তর দিলো না।

জামিল ভাই, আপনি কি আমার উপর রাগ করেছেন?

না, রাগ করিনি। রাগ করতে হলে একটা অধিকার থাকতে হয়। তোমার ওপর আমার সে রকম কোন অধিকার নেই।

দিলুর উপর আছে?

হ্যাঁ আছে। ওর সঙ্গে আমি কিন্তু প্রায়ই রাগ করি।

আপনারা কি নিয়ে এত কথা বলেন?

যা মনে আসে তাই বলি। ওর সঙ্গে তো আর হিসেব করে কথা বলতে হয় না।

নিশাত গম্ভীর ভঙ্গিতে বললো—আমার কিন্তু মনে হয় ওর সঙ্গেই আপনার সবচে সতর্ক হয়ে কথাবার্তা বলা উচিত।

কেন?

এই বয়সে মন অন্য রকম থাকে। আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি?

পারছি।

আপনি কি এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে চান?

চাই। নিজেকে দিয়ে সবাইকে বিচার করা ঠিক নয়।

তার মানে?

দিলুর মত যখন তোমার বয়স ছিলো তখন তুমি আমার প্রতি অন্যরকম ধারণা পোষণ করতে।

এসব আপনি কি বলছেন?

স্কুল ছুটির পর ক’দিন এসেছ আমাদের বাড়িতে মনে আছে?

কেন আপনি এখন এইসব পুরনো কথা তুলছেন?

জামিল চুপ করে গেলো।

দেখা গেলো শিকারীরা ফিরে আসছে। ওসি সাহেবের হাতে কয়েকটা হাঁস। ওদের জবাই করা গলা দিয়ে তখনো ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়ছে। দিলু ওসমান সাহেবের শরীরে ভর দিয়ে পা টেনে টেনে ফাঁটছে। জামিল বললো—কি হয়েছে দিলু?

পায়ে কাঁটা ফুটেছে।

শিকার কেমন লাগলো?

ভালো না।

ওসমান সাহেব উল্লাস বোধ করছিলেন। তার চোখে-মুখে ক্লান্তির কোন চিহ্নই নেই। ওসি সাহেব বললেন—স্যার, কাল আবার যাবো নাকি?

চলেন যাই। নতুন কোন স্পটে চলেন।

স্যার, যেতে হবে কিন্তু আরো সকালে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি শেষ রাতে উঠতে পারেন।

উঠব। শেষ রাতেই উঠবো। নো প্রবলেম।

ওসমান সাহেব নীলগঞ্জ থানার ওসি সাহেবের ওপর অত্যন্ত প্রসন্ন বোধ করেন।

ওসি সাহেব রাতে খান আমাদের সঙ্গে।

জ্বি-না স্যার। জ্বি না।

দিলু বসে নিশাতের পাশে। গাছের গুঁড়িতে বসে থাকা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করে—এই, নাম কি তোমার?

ফুলি।

বাহ্‌ কি সুন্দর নাম! ফুল থেকে ফুলি।

ছোট্ট মেয়েটি ফিক করে হেসে ফেললো। দিলু বললো—সাব্বির ভাই থাকলে এই মেয়েটির ছবি তুলতে বলতাম। কি সুন্দর মেয়ে দেখছ আপা? নিশাত জবাব দিলো না। দিলু বললো—গ্রামের মেয়েরা কি সুন্দর হয়। বড় মায়া লাগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *