বাজার করে এনে

প্রতি মাসে হয়তো একসঙ্গে পুরো মাসের বাজার করে থাকেন অনেকে। আবার প্রতি সপ্তাহে বাজার করতে পছন্দ করেন কেউ কেউ। কিন্তু বাজার যখনই করা হোক না কেন, সেটা তো ঠিকমতো ফ্রিজে তুলে রাখতে হবে। বাজার থেকে কাঁচা শাকসবজি, মাছ-মাংস এনে টাটকা রাখার উপায় সম্পর্কে জেনে নিন।

‘বাজার থেকে মাছ-মাংস এনে বেশিক্ষণ বাইরে রাখলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। ফলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ জন্য বাজার থেকে আনার সঙ্গে সঙ্গে রান্না করার অংশটুকু রেখে প্রক্রিয়াজাত করে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে রাখতে হবে। যেকোনো শাকসবজি বাজার থেকে এনে প্রক্রিয়াজাত করে রাখলে তাতে পুষ্টিগুণ অটুট থাকবে, আর টাটকাও থাকবে।’ বলছিলেন পুষ্টিবিদ সিদ্দিকা কবীর। তাঁর পরামর্শ—

যেকোনো ধরনের শাকপাতা তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য বাজার থেকে আনার সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করে ছড়িয়ে রাখতে হবে। এরপর শাকের গায়ে লেগে থাকা পানি শুকিয়ে গেলে প্লাস্টিক কন্টেইনারে রেফ্রিজারেটরে রাখতে হবে।
ধনেপাতা, পুদিনাপাতা ধুয়ে কতক্ষণ পানি ঝরিয়ে ছড়িয়ে রাখার পর প্লাস্টিক কন্টেইনারে রাখতে হবে। তবে অবশ্যই এর গোড়াগুলো পরিষ্কার করে তবে মুখবন্ধ পাত্রে রাখতে হবে।
অন্যান্য যেকোনো সবজি বাজার থেকে এনে ময়লা পরিষ্কার করে রেফ্রিজারেটরে রাখতে হবে। তবে কিছু কিছু তরকারি, যেমন—পটল তাড়াতাড়ি রান্না করে ফেলতে হবে, না হলে পচে যাবে।
বাজার থেকে মাছ-মাংস এনে যতখানি রান্না করা দরকার, ততখানি বাইরে রেখে বাকিটা প্রয়োজনমতো পর্যাপ্ত পরিমাণ প্যাকেট করে কিংবা কন্টেইনারে ডিপ ফ্রিজে রাখতে হবে।
মাছ-মাংস প্যাকেট করার আগে এমনভাবে পরিষ্কার করে রাখতে হবে, যেন রক্ত না লেগে থাকে।
ডিপ ফ্রিজে (মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়) মাছ-মাংস রাখলে অনেক দিন ভালো থাকে।
ডিপ ফ্রিজে না রাখতে চাইলে রান্না করে মাছ-মাংসের তরকারি ঠান্ডা করে রেফ্রিজারেটরে রাখা যেতে পারে।

রেফ্রিজারেটর না থাকলে…
গ্রীষ্মকালীন এবং উষ্ণ আর্দ্র স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় কাঁচা শাকসবজি, মাছ-মাংস টাটকা রাখতে হলে নিতে হবে সঠিক পদ্ধতি। বলছিলেন রন্ধনশিল্পী সিতারা ফেরদৌস। তাঁর পরামর্শ—
 পাকা মিষ্টিকুমড়া, পাকা চালকুমড়া, পাকা শসা—এসব অক্ষত অবস্থায় বাইরে রেখে দিলে অনেক দিন ভালো থাকে।
 কাঁচকলা, পটল, ঝিঙা, পেঁপে—এসব রান্নাঘরের তাকের নিচে একটা ঝুড়িতে সাজিয়ে ঠান্ডা স্থানে ছড়িয়ে রেখে দিলে দিন চারেক ভালো থাকে। খেয়াল রাখতে হবে, একটার গায়ে যেন অন্যটা লেগে না যায়।
 শজনে ডাঁটা ভেজা কাপড়ে পেঁচিয়ে ১৫-১৬ দিন বা তারও বেশি সময় রাখা যেতে পারে, তবে প্রতিদিনই কাপড়টা তুলে দেখতে হবে এবং পুনরায় ভিজিয়ে রাখতে হবে।
 কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা বোঁটা ফেলে কাগজের ঠোঙায় পেঁচিয়ে রাখলে পাঁচ-ছয় দিন ভালো থাকে।
 আদা, আলু ঠান্ডা স্থানে বালির ভেতর রেখে দিলে অনেক দিন ভালো থাকে।
 সবজি, ফল যেকোনো জিনিস রেফ্রিজারেটরে রাখতে হলে ছিদ্র করা পলি প্যাকে রাখলে ভালো থকবে।
 মানকচু, ওলকচু, কলার থোড়—এসব প্রাকৃতিকভাবেই ভালো থাকে অনেক দিন।
 কই মাছ, শিং মাছ, মাগুর, শোল, টাকি—এসব মাছ পানিতে জিইয়ে রেখে অনেক দিন খাওয়া যায়। তবে মাঝেমধ্যে পানি পরিবর্তন করতে হবে এবং মাছ তাজা আছে কি না, তা লক্ষ রাখতে হবে।
 ইলিশ মাছ মাটির পাত্রে লবণ মাখিয়ে লোনা করে রেখে দেওয়া যায়। আবার আঁশটা না ছাড়িয়ে প্যাকেট করে আস্ত ইলিশ ডিপ ফ্রিজে রাখলে ভালো থাকে।
 ছোট মাছ ডিপ ফ্রিজে পলিপ্যাক অথবা কন্টেইনারে পানিসহ রেখে দিলে টাটকা মাছের স্বাদ পাওয়া যাবে।

নাঈমা আমিন
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, এপ্রিল ২৬, ২০১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *