দুধের বিকল্প সয়াদুধ

দুধে মেলামিন পাওয়ার পর মা-বাবারা বেশ চিন্তিত। পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বাচ্চাদের বেশি করে খাওয়াতে চাচ্ছেন শাকসবজি, ডিম, মাছ, মাংস, ফলমূল এবং এখানেই সমস্যা হচ্ছে দুধপ্রিয় বাচ্চাদের সঙ্গে মা-বাবার। দুধের এ চাহিদা মেটাতে খোঁজা হচ্ছে এর বিকল্প এবং তা আমরা অনায়াসেই পেতে পারি সয়াদুধে।
সয়াবিন নামটি আমাদের পরিচিত। এটি থেকে শুধু তেল নয়, তৈরি করা যায় পুষ্টিকর দুধ। সয়াদুধের গুণগত মান অনেক, এতে আছে কার্বোহাইড্রেট, ক্যালোরি, প্রোটিন, ফাইবার। অনেকে শুনলে অবাক হবেন, এসব উপাদান পাওয়া যাবে প্রায় ফ্যাটবিহীন অবস্থায়। ফলে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কোনো ভয় নেই। সয়াদুধকে অনায়াসেই তুলনা করা যেতে পারে গরুর দুধের বিকল্প হিসেবে। গরুর দুধের বিকল্প হিসেবে সয়াদুধ বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ নিশ্চিন্তে পান করতে পারবেন। জানালেন স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য পরিচর্যা কেন্দ্র ‘হারমনি স্পা’র কর্ণধার রাহিমা সুলতানা রীতা। তিনি আরও জানালেন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটি পরীক্ষা থেকে বলা হয়েছে, যারা নিয়মিত সয়াদুধ পান করবেন, তাঁদের কিছু রোগ থেকে বেঁচে যাবার সম্ভাবনা বেশি। এগুলো হল ব্রেস্ট ক্যান্সার, প্রোস্টেড ক্যান্সার, হার্ট-অ্যাটাক। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, হাড় ক্ষয় হয়ে যাওয়া। সুখবর আছে, যাঁরা ডায়েট করেন তাঁদের জন্যও। সয়াদুধ পান করলে পাবেন ক্যালরি। কিন্তু শরীরে জমবে না চর্বি।
বাজারে কিনতে পাওয়া যায় সয়াদুধ, তবে ঘুরেফিরে কিছুটা রাসায়নিক মিশ্রণ সেখানে পাবেন। এর চেয়ে সয়াবিন থেকে সয়াদুধ বানিয়ে নিতে পারবেন আপনি নিজেই এবং তা বাড়িতেই।

প্রণালী
২৫০ গ্রাম সয়াবিন ভিজিয়ে রাখুন ১২ ঘণ্টা। এরপর এর সঙ্গে মেশান এক লিটার পানি। ভালোমতো ব্লেন্ড করে নিন। ব্লেন্ডার না থাকলে পাটায় পিষে নিতে পারবেন। তারপর ছেঁকে নিতে হবে পাতলা কাপড় দিয়ে। খুব বেশি বিরতি না দিয়ে জ্বাল দিয়ে নিন। গরম কিংবা ঠান্ডা পছন্দমতো খেতে পারবেন এরপর।
তৈরি করা সয়াদুধটি ব্যবহার করা যাবে বেশ কিছুদিন। এ দুধ ফ্রিজে রাখা হলে জ্বাল দিতে হবে তিন দিন পরপর। এ দুধ যদি বাইরে রাখা হয় তাহলে এক দিন অন্তর জ্বাল দিতে হবে।
এই পুষ্টিকর দুধটির গুণগত মান একঝলকে দেখে নেওয়া যাক।

এক কাপ সয়াদুধে পাওয়া যাবে-
–ক্যালরি ৮০ গ্রাম
–প্রোটিন ৬·৭ গ্রাম
–কার্বোহাইড্রেট ৪·৪ গ্রাম
–ফ্যাট ৪·৭ গ্রাম এবং
–ফাইবার ৩·২ গ্রাম

তৈরি করা দুধ দিয়ে বানানো যাবে পুডিং, সেমাই, পায়েস ইত্যাদি। সয়াদুধের নিজস্ব কোনো ফ্লেভার নেই। সে ক্ষেত্রে পছন্দমতো ফ্লেভারটি মিশিয়ে নিলেই হবে। বাচ্চারা যদি খেতে না চায় তাহলে কোকো পাউডার, ফল, হরলিক্স বা বাদাম মিশিয়ে মজাদার ড্রিংকস তৈরি করে দিতে পারেন।
সয়াদুধ দামেও কম। একদম বাজেটের মধ্যেই। এক কেজি সয়াবিনের দাম ৫০ টাকা। যা থেকে তৈরি করা যাবে চার লিটার দুধ। কিনতে পাবেন কারওয়ান বাজার ও গুলশানেও।
রাহিমা সুলতানা রীতা আরও জানান, সয়াবিনের মাধ্যমেও করা যায় রূপচর্চা।
যে মণ্ডটি তৈরি করা হবে দুধ বানানোর সময়, তা ব্যবহার করা যাবে শরীরের স্ক্রাব হিসেবে। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। সয়াবিনটা হালকাভাবে টেলে পাউডার করে নিয়ে মাস্ক হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
যাদের ত্বক তৈলাক্ত-এক চা চামচ সয়া পাউডার এবং শসার রস মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন।
ত্বক শুষ্ক-এক চা চামচ সয়া পাউডার এবং গাজরের রস মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন, ত্বকে আর্দ্রতা আনবে। এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে।

রয়া মুনতাসীর
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, নভেম্বর ২৫, ২০০৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *