দ্বিজেন্দ্রলাল রায় : Tag

ভাত

ভাত প্রখ্যাত নাট্যকার-কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মভূমি কৃষ্ণনগর। ১৩৪১ সালের ১০ আশ্বিন, সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কৃষ্ণনগরে গেছেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের নদীয়া শাখার বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করতে। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পুত্ৰ দিলীপকুমার ছিলেন শরৎচন্দ্রের বিশেষ স্নেহভাজন। কৃষ্ণনগরে শরৎচন্দ্ৰ দিলীপকুমারকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। কৃষ্ণনগরে যাবেন, অথচ দ্বিজেন্দ্রলালের পৈতৃক বাসভবনে যাবেন না, তা হয়? দ্বিজেন্দ্রলালের দাদা সুরেন্দ্রলাল রায় সেই সময় […]

রসিকে রসিকে

রসিকে রসিকে ‘বঙ্গবাসী’ পত্রিকার সম্পাদক পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে একদিন দ্বিজেন্দ্রলাল হ্যাঁট কোট পরে হাজির। সেখানে ছিলেন ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিজেন্দ্ৰলাল পাঁচকড়িকে হাসতে হাসতে বললেন, তোমার এখানে বাপু আসতে বড় ভয় করে। তুমি বঙ্গবাসী এডিটর, গোঁড়াদের সর্দার বলে কথা!’ ইন্দ্ৰনাথ হেসে বললেন, না মশাই, পাতিদের সর্দার। কমলালেবু জন্মায় সিলেটে। সেই কমলা বাংলার মাটিতে ফললে গোড়া হয়। পাঁচকড়ি […]

গ্ৰীষ্মে লেপ

গ্ৰীষ্মে লেপ দাদামশায় প্রসাদদাস গোস্বামীর সঙ্গে মাঝে মাঝেই রঙ্গ রসিকতায় মেতে উঠতেন কবি দ্বিজেন্দ্ৰলাল রায়। দ্বিজেন্দ্রলাল প্ৰবীন দাদামশায়কে অত্যন্ত শ্ৰদ্ধা করতেন। দাদামশায়ও স্নেহ করতেন দ্বিজেন্দ্রলালকে। তাদের সম্পর্কটা ছিল হাসি-ঠাট্টার। দাদামশায় প্রসাদদাস প্রায়ই আসতেন। দ্বিজেন্দ্রলালের কলকাতার বাড়িতে। এমনই একদিন তিনি এসেছেন। কবিগৃহে। তখন গ্ৰীষ্মকাল। দাদামশায় গরমে ঘোমে নেয়ে একাকার! অন্যান্য সাহিত্যিক বন্ধুদের সঙ্গে বসেছিলেন। দ্বিজেন্দ্ৰলাল। দাদামশায়কে […]

দাঁড়ি কলপ

দাঁড়ি কলপ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়-এর কলকাতার বাড়িতে একদিন ঘরোয়া সাহিত্যসভা বসেছে। তাঁর বন্ধু সাহিত্যিক-কবিরা অনেকেই এসেছেন। কেউ স্বরচিত রচনা পাঠ করছেন, কেউ মত্ত আলোচনায়। মাঝেমাঝে নানারকম কথাবার্তা হচ্ছে। চলছে টুকটাক খাওয়া দাওয়া। এমন সময় দ্বিজেন্দ্ৰলাল রসিকতা করেই বললেন, ওহে, আজকের এমন দিনটা যে শুধুমাত্ৰ সাহিত্যচর্চা করে মিছে কেটে যাচ্ছে! বলে দেখি কী করা যায়?’ এক বন্ধু […]

বেশ হবে

বেশ হবে এক সাহেব দ্বিজেন্দ্রলাল রায়কে বলেন, আমার ইচ্ছে ইংরেজরা ভারতবর্ষ থেকে চলে যায়, আর এক জাতি এসে বাঙালিকে ছিন্নভিন্ন করে। তারা যেমন ইংরেজ বিরূপ, ইংরেজ বিদ্বেষী, তেমন ফল পাবে, বেশ হবে!’ চটজলদি দ্বিজেন্দ্রলাল সাহেবের মুখের ওপর উত্তর দিলেন, ‘আমিও দেখব। ইংরেজ সাহেবেরা ভারতবর্ষ ছেড়ে গেলে কেমন অনাহারে মরবে, বেশ হবে!’ সাহেবের আর উত্তর দেওয়ার […]

নিমন্ত্রণপত্ৰ

নিমন্ত্রণপত্ৰ বিখ্যাত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক প্রতাপচন্দ্র মজুমদার ছিলেন কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের শ্বশুরমশাই। দ্বিজেন্দ্রলাল একবার তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বন্ধুবান্ধবআত্মীয়স্বজনদের এক ভোজ দিয়েছিলেন। তার শ্যালক জিতেন্দ্রনাথও ছিলেন। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। যে নিমন্ত্রণ পত্রটি তিনি পাঠিয়েছিলেন নিমন্ত্রিতদের, তা এরূপ– ‘যাহার কুবেরের ন্যায় সম্পত্তি, বৃহস্পতির ন্যায় বুদ্ধি, যমের ন্যায় প্রতাপ, এহেন আপনি আপনার ভবনের নন্দনকানন ছাড়িয়া, আপনার পদ্মাপলাশনয়না ভামিনী সমভিব্যাহারে, আপনার স্বৰ্ণশকটে […]

তরুণ নাট্যকার

তরুণ নাট্যকার এক তরুণ নাট্যকার একদিন সকালে দেখা করতে এসেছেন। দ্বিজেন্দ্ৰলাল রায়ের সঙ্গে। তরুণ নাট্যকারটি কথায় কথায় তোষামোদ করতে থাকেন। দ্বিজেন্দ্ৰলালকে। তরুণ নাট্যকারের আবেগ এতটাই বেড়ে যায় যে তিনি দ্বিজেন্দ্রলালকে বলেন -’হে কবি, হে নাট্যকার, আপনি এদেশের একজন আদর্শ মহাপুরুষ। আমি আপনাকে যত ভক্তি করি, এজগতে আর কাউকে তেমন ভক্তি করি না। আমি আপনার লেখার […]

বিচার প্রসঙ্গে

বিচার প্রসঙ্গে বিখ্যাত ‘সাজাহান’ নাটকের লেখক দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এক রাতে গল্প করছিলেন এক ইংরেজ সাহেবের সঙ্গে। সাহেব তাকে বললেন, আপনারা তিন-চার বছর বিদেশে থেকেও আমাদের দেশের রীতিনীতি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেননি। কীভাবে আমাদের ওপর বিচার করবেন?’ কথা শুনে তৎক্ষনাৎ দ্বিজেন্দ্ৰলাল বলে উঠলেন, ‘সাহেব, আপনারা দৈবশক্তিতে বোধহয় বিদেশ থেকেই আমাদের রীতিনীতি জানতে পারেন, আর তাই আমাদের […]

বিলিতি ও দেশী

বিলিতি ও দেশী কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় একদিন রায়পুরে এক দরবারে অদ্ভুত পোশাক পরে হাজির হলেন। কী রকম? ধুতি-চাদর-লালকোট–বিলিতি টুপি! উপস্থিত সকলেই তাঁর এই বেশ দেখে অবাক! কমিশনার সাহেব হেসে বললেন, আপনি পাগল নাকি মশাই! না হলে এরকম পোশাক পরে কেউ আসে?’ দ্বিজেন্দ্রলাল রাগ করলেন না, হাসতে হাসতে বললেন, ‘আমি বিলিতি ও দেশী পোশাক মিশিয়ে পরে […]

ইটের বদলে পাথর

ইটের বদলে পাথর কবি দ্বিজেন্দ্ৰলাল রায় একদিন গল্প করছিলেন এক ইংরেজের সঙ্গে। কথায় কথায় সেই ইংরেজ ব্যক্তিটি বললেন, ‘হিন্দু ধর্মটা মিথ্যা, কারণ তাহারা পৌত্তলিক।’ নিজ ধর্ম সম্পর্কে ইংরেজের মুখে এহেন মন্তব্য শুনে দ্বিজেন্দ্রলালের মাথা গরম হয়ে গেল। তিনি পিঠোপিঠি বললেন, ‘সাহেব, খ্ৰীষ্টধর্মটা খুব ভুল!’ ইংরেজ জিগ্যেস করলেন, ‘কেন? ভুল কেন?’ দ্বিজেন্দ্ৰলাল হেসে বললেন, ‘পরমেশ্বর তো […]

টাইটেল

টাইটেল কবি-নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় অনেকের কাছে ডি.এল রায় নামে পরিচিত। একদিন সকালে তিনি নিজের ঘরে বসে একটি নাটক রচনা করছেন। এমন সময় এক স্বল্প পরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। লোকটিকে দেখে কলম থামিয়ে চশমা হাতে দ্বিজেন্দ্রলাল বললেন, ‘কী ব্যাপার বলুন?’ লোকটি সরকারি খেতাব পেয়ে আনন্দে গদগদ হয়ে দ্বিজেন্দ্রলালকে জানাতে এসেছেন। বঁধভাঙা উচ্ছাসে একটু […]