দাঙ্গায় হাজতবাস

দাঙ্গায় হাজতবাস

শরৎচন্দ্র তখন থাকতেন। হাওড়া শহরে। সেই সময় একবার হাওড়া শহরে দাঙ্গা বেঁধে যায় দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে। দাঙ্গার সময় শরৎচন্দ্ৰ ভুল করে রাস্তায় বেরিয়ে ছিলেন কোথাও যাওয়ার জন্য। শরৎচন্দ্রের গালে কদিনের না কাটা দাড়ি, মাথায় উস্কো খুস্কো চুল দেখে পুলিশ তাকে দাঙ্গাকারী মনে করেন ও তাঁকে গ্রেফতার করেন। পুরে দেন সোজা লক আপে। শরৎচন্দ্ৰ কোনও প্রতিবাদ করেন না। তিনি ভাবেন, বললেই শুনবে কে! তার থেকে যা হচ্ছে হোক! পরের দিন সকালবেলায় জেলা হাকিম গুরুসদয় দত্তর কোটে হাজির করানো হল শরৎচন্দ্ৰকে। হাকিম জানতে চাইলেন, মিজ্ঞা সাহেব, আপনার নাম কী?

শরৎচন্দ্ৰ উত্তর দিলেন, আজ্ঞে, শরৎচন্দ্ৰ চট্টোপাধ্যায়।

নাম শুনে হতভম্ব হাকিম লেজ পেয়ে বলেন, আপনিই সাহিত্যিক শরৎচন্দ্ৰ?

শরৎচন্দ্ৰ মাথা নাড়েন। হাকিম আবার বলেন, ছিঃ ছিঃ পুলিশের ভুলে আপনাকে সারারাত পচতে হল গারদের মধ্যে। খুব কষ্ট হয়েছে নিশ্চই। কিছু মনে করবেন না।

শরৎচন্দ্ৰ হাসতে হাসতে বলেন, না, এমন কিছু কষ্ট হয়নি। তবে যদি একটু খুঁকো কলকে পাওয়া যেত, তাহলে রাতটা বেশ আরামে কাটতো।

শরৎচন্দ্রের কথা শুনে হাকিমসাহেব হেসে ফেলেন। যে পুলিশ ভুল করে দাঙ্গাকারী মনে করে শরৎচন্দ্ৰকে গ্রেফতার করেন, তিনি পরে শরৎচন্দ্ৰকে প্ৰণাম করে ভুলের জন্য লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চেয়ে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *