ফুটবল রঙ্গ – জুলাই ০৫, ২০১০

সিডনি থেকে ৬০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আরমিডেইল শহরে একসময় কিছু অভিনব আইন মেনে চলা হতো (হয়তো এখনো হয়)। মদ্যপানের পর কারও ব্যাপক টলমল দশা হলে তাকে বারম্যান হলুদ কার্ড দেখাত এবং বিয়ারের চেয়ে বেশি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় তাকে সার্ভ করা হতো না। আর পানোত্তর প্রতিক্রিয়া কাউকে নিয়ন্ত্রণহীন করে ফেললে তাকে দেখানো হতো লাল কার্ড এবং বের করে দেওয়া হতো বার থেকে।

আহত খেলোয়াড়ের সেবা-শুশ্রূষা করতে ব্যস্ত সহখেলোয়াড়েরা, ঠিক সেই সময় বিপক্ষ দলের স্ট্রাইকার গোল করে বসল। স্পেনের গিখুয়েলো শহরের দুই শৌখিন ফুটবল দলের খেলার ঘটনা সেটি। তো গোলদাতা দলের কোচ বেনজামিন বেনিতো প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের খেলোয়াড়দের আদেশ দিলেন আত্মঘাতী গোল করতে। খেলোয়াড়েরা কান দিল না তাঁর কথায়। খেলা শেষে ১-২ গোলে পরাজিত দলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন বিজয়ী দলের কোচ বেনজামিন বেনিতো।

কয়েক বছর আগে উইলিয়াম হিলের বুকমেকার কোম্পানিতে এক ইংরেজ ভদ্রলোক কুড়ি পাউন্ড বাজি ধরেছেন। বাজির বিষয়টি এ রকম: ভদ্রলোকটির সবে-হাঁটতে-শেখা পুত্রসন্তান ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষকে গোল দেবে। বাজিতে জিতলে তাঁর পুত্র পাবে এক মিলিয়ন পাউন্ড।

ইতালির অধিবাসী রোমেলো বোসি তাঁর ১০০তম জন্মদিনে ইন্টার ক্লাবের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে উপহার পেলেন সোনার টাই-ক্লিপ এবং স্টেডিয়ামে ঢোকার আমরণ পাস। ৯০ বছর ধরে তিনি ইন্টারের সক্রিয় সমর্থক।
‘ফুটবল রোগ’ তাঁর স্বাস্থ্যে নিশ্চয়ই সুপ্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। সাবেক ব্যাংক কর্মচারী, চিত্রকর ও কবি ১০০ বছর বয়সী বোসি বাস করেন একা এবং নিজেকে পুরোপুরি সুখী মনে করেন।

ওয়েইন রুনি তখন এভারটনের খেলোয়াড়। এক চোর তাঁর বাসায় ঢুকে চুরি করল তাঁর টয়লেটের কমোড! খবরটা পেয়েই রুনির ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিসপত্রের সরবরাহকারী কোম্পানি Trax ঘোষণা দিয়ে বসল, তারা তস্করের কাছ থেকে কমোডটি কিনে নিতে চায়। কোম্পানির মুখপাত্র একই সঙ্গে আশাবাদ ও হতাশা প্রকাশ করে বললেন, ‘কমোডটা কিনতে পারলে পরে ভালো দাম হাঁকানো যেতে পারত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, রুনি ঠিক ওই কমোডেই বসতেন, সেটি প্রমাণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।’ তা তো বটেই, হস্তাঙ্গুলির ছাপের ব্যাপার হলে তা প্রমাণ করতে বেগ পেতে হতো না। কিন্তু এটি যে কমোড!

রিয়াল মাদ্রিদ আর আতলেতিকো মাদ্রিদের মধ্যে যখন খেলা চলে, মাদ্রিদ শহরটি তখন প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। পথঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। পড়বেই বা না কেন, কখনো কখনো শতকরা ৭০-৭৫ শতাংশ মাদ্রিদবাসী খেলা দেখতে বসে যায় টিভির সামনে! টেলিফোন কলের সংখ্যা কমে আসে ৮০-৮৫ শতাংশ, অ্যাম্বুলেন্স, দমকল ও অন্যান্য জরুরি সার্ভিসের টেলিফোনগুলোও প্রায় নিশ্চুপ হয়ে পড়ে, পানির ব্যবহার কমে যায় ৬০-৭৫ শতাংশ, কমে আসে বার-রেস্টুরেন্টে লোকের সংখ্যা। রমরমা ব্যবসা করে শুধু হোম-ডেলিভারি পিৎজা-ব্যবসায়ীরা। খেলা দেখার সময় মাদ্রিদবাসীর প্রিয় খাদ্য পিৎজা।

১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ড যুবদলের স্পন্সর হয়েছিল শব-সৎকার সংস্থাগুলোর ইউনিয়ন। ইউনিয়নের মুখপাত্র বলেছিলেন, তাঁরা ইংরেজ ফুটবলের ভবিষ্যৎকে নবজীবনদানে বদ্ধপরিকর।

স্পেনের চতুর্থ বিভাগ ফুটবলের একটি ম্যাচ অমীমাংসিতভাবে শেষ
হওয়ার পর ভয়ে মুষড়ে
পড়া রেফারিকে সান্ত্বনা
দিতে লাগল উভয় দলের খেলোয়াড়েরা। ব্যাপার কী? না, রেফারি সেই খেলায়
দুই-দুইখানা গোল
করেছেন! ইচ্ছাকৃত নয় অবশ্য। প্রথম গোলটি হয়
বল রেফারির পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বারে ঢুকে পড়লে। আর পরের গোলটি হয় তার মাথায় বল লেগে। তাঁর সৌভাগ্য,
গোল দুটি হয় দুই দলের বারে।

সংকলন ও অনুবাদ: মাসুদ মাহমুদ
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জুলাই ০৫, ২০১০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *