পুত্রবধু ও শাশুড়ি

বিয়ের দু-তিন বছর পরেও কবি রজনীকান্ত সেনের স্ত্রী শাশুড়িকে মা বলে ডাকতেন না। এই জন্য রজনীকান্তর মা ছেলেকে একদিন দুঃখ করে বলেই ফেললেন, আমার একমাত্র পুত্রবধু, দুঃখের কথা সেও আমাকে মা বলে না!

রজনীকান্তর স্ত্রী শাশুড়িকে আপনি, আসুন, বসুন, খান, নেবেন, দিন—এই ভাবে সম্বোধন করতেন।

রজনীকান্ত একান্তে তাঁর স্ত্রীকে অনেক বোঝালেন, আমার মা তো তোমারও মা, উনাকে মা বলে ডাকবে, বুঝলে?

কিন্তু বোঝালেও কোনো ফল হল না। কী করা যায়! কী ভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়! অনেক ভেবে তিনি একটা কৌশল বের করলেন, যাতে জোর করে হুকুমও করতে হবে না বা হিতে বিপরীতও হবে না।

রজনীকান্তু একদিন নৌকো করে ভাঙাবাড়ি থেকে রাজসাহী চলেছেন মা ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। হঠাৎ নৌকো কত হয়ে গেল, কবি উল্টে জলে পড়ে গেলেন! হৈ হৈ করে উঠল মাঝিমল্লারা। ডুবে গেল বলে কবিকে খুঁজতে কেউ জলে ঝাঁপ দিলেন। কিন্তু কই। কবিকে খুঁজে পাওয়া গেল না। তখন কবির স্ত্রী শাশুড়ির পা দুটো ধরে কাঁদতে লাগলেন মা আমার সার্বনাশ হয়ে গেল! মা এখন কী হবে! এ কী হল মা!–এই সব বলে।

ঘটনা হল-রজনীকান্ত কিন্তু ডোবেন নি। তিনি জল থেকে অন্যদিক দিয়ে নৌকায় উঠে একপাশে বসে চুপচাপ মজা দেখছিলেন। শেষে গামছা দিয়ে ভিজে শরীর মুছতে মুছতে তার স্ত্রীকে বললেন, কী গিন্নি, এবার আর আমার মাকে মা বলে ডাকতে অসুবিধা হবে না তো? বেশ তো দেখলাম মা মা বলে কাঁদছিলে!

একথা শুনে কবির স্ত্রী লজ্জা পেয়ে গেলেন এবং মা বলে শাশুড়ির পা ধরে ক্ষমা চেয়ে নিলেন। শাশুড়ি খুশি হয়ে আশীৰ্বাদ করলেন পুত্ৰবধুকে। এভাবে দারুণ বুদ্ধি খাটিয়ে সমস্যার সমাধান করলেন কবি রজনীকান্ত।