পেনাল্টি স্পটে রাখা ছিল বলটা—নতুন, হলুদ ও শিশিরসিক্ত, তাই চকচকে। চারপাশে নিখুঁতভাবে ছাঁটা ঘাস। আমি ছুটে গিয়ে কিক নিলাম। মিটার দুই গিয়ে বলটা আটকে গেল ঘাসে। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে সোজা হয়ে দাঁড়াল গোলরক্ষক।
‘পাঁচ বছর ধরে তোমাকে কী শিখিয়েছে?’ পরীক্ষা কমিটির সবাই জিজ্ঞেস করলেন সমস্বরে।
আমি, বিষাদগ্রস্ত, মাথা নিচু করে দাঁড়ালাম।
‘আচ্ছা, এবার তুমি গোলপোস্ট লক্ষ্য করে দৌড় শুরু করো, আমরা তোমাকে পাস দেব,’ বললেন এক পরীক্ষক। ‘তুমি চলন্ত অবস্থায় কিক নেবে।’
আমি দৌড় শুরু করলাম, পাস পেলাম বল, কিন্তু কিক করতে গিয়ে পা পড়ল বলের ওপর। আরেকটু হলে পড়েই গিয়েছিলাম।
‘হুম,’ পরস্পরের সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় করলেন পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা। ‘পাঁচ-পাঁচটা বছর! সোজা কথা নাকি!’
‘নাকি গোলপোস্টের সামনে লব দেব আর সে হেড দিয়ে গোল করুক?’ প্রস্তাব দিল একজন।
‘না না, সেটার প্রয়োজন নেই। তার জন্য এটা খুব দুরূহ হবে,’ বাকিরা বলল সমস্বরে।
‘তাহলে থ্রো করুক সে,’ সবার কথা ছাপিয়ে কার যেন উঁচু কণ্ঠ শোনা গেল।
আমি থ্রো করলাম। মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল সবাই।
‘সর্বনাশ! এক হাত দিয়ে! ঠিক যেন শট থ্রো! সে তো আইনকানুনও জানে না।’
পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা চেষ্টা করছিলেন পরস্পরের দিকে না তাকাতে।
‘পাঁচ বছর…পাঁচ বছরের শিক্ষা…’ দুর্বল কণ্ঠে একজন বললেন, ‘নাকি তাকে ১০০ মিটার দৌড়াতে বলে দেখব?’
‘সে তো ফুটবলার, দৌড়বিদ নয়।’
‘পাঁচ বছর…পাঁচ বছর…’ আক্ষেপ শোনা গেল আবার।
কমিটির প্রধান সবাইকে শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত করলেন। ‘হ্যাঁ, পাঁচ বছর তো কম সময় নয়। এই পুরো সময় তোমাকে আমরা বড় করেছি, তোমার যত্ন নিয়েছি। এসবকে তো বৃথা যেতে দেওয়া যায় না। এখন তোমার সময় এসেছে সব পরিশোধ করার।’
‘আমি প্রস্তুত। কিন্তু কীভাবে?’ প্রশ্ন করলাম আমি।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে কমিটির প্রধান বললেন, ‘প্রশিক্ষক হবে।’

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, নভেম্বর ১৪, ২০১১