পকেটমারের কাণ্ড

বছর দুয়েক আগে আমি একবার ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলাম। তারপর মানিব্যাগে আর কোনো টাকা রাখি না। পকেটেই টাকা রাখি। তবে মানিব্যাগে টাকা না রাখলেও পেছনের পকেটে মানিব্যাগ ঠিকই রাখি। বন্ধুবান্ধবের দেওয়া বেশ কিছু ভিজিটিং কার্ড আছে তো, তাই মানিব্যাগটা ফেলিনি। ভেতরে টাকা না থাকলেও মানিব্যাগের স্বাস্থ্য কিন্তু খারাপ দেখায় না। কারণ ওই ভিজিটিং কার্ডগুলো মানিব্যাগে ভরা। কিছুদিন আগে ফার্মগেটে লোকাল বাসে বানরের মতো ঝুলে ওঠার চেষ্টা করলাম। একপর্যায়ে বাসের গেটে ঝুলে থাকার জায়গাও হলো। কিন্তু আমার পাশে ঝোলা বানরটি যে পকেটমার, তা কিছুতেই বুঝতে পারিনি। পকেটমারটি বারবার মোচড়ামুচড়ি করছিল, কিন্তু আমি কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। গাড়ি যখন বিজয় সরণিতে সিগন্যালে পড়ল, তখন হঠাৎ পকেটমারটি আমার মানিব্যাগ নিয়ে দিল দৌড়। আমার পাশে ঝুলে থাকা একজন দৃশ্যটি দেখেই বলল, ‘ধর! ধর! পকেটমার যাচ্ছে রে!’ এতে অন্য যাত্রীরাও চিৎকার দিয়ে উঠল। আমি মুচকি হাসছি। এক ভদ্রলোক বললেন, ‘আপনার মানিব্যাগ নিয়েছে, অথচ আপনি মুচকি হাসছেন? দৌড়ে গেলে কিন্তু ওই শালারে ধরতে পারতেন।’ আমি বললাম, ‘দৌড়ের মতো এনার্জি নাই রে ভাই, মানিব্যাগে মান্ধাতা আমলের কিছু ভিজিটিং কার্ড ছাড়া কোনো টাকাও নেই।’ এবার অনেকেই হাসাহাসি করল বিষয়টি নিয়ে। কাজীপাড়া যেতেই আমার মুঠোফোন বেজে উঠল, ‘হ্যালো, কে বলছেন? আপনার মানিব্যাগ কি পকেটমার নিয়েছিল?’ আমি বললাম, ‘জি, কিন্তু আপনি কে?’ এবার অপর প্রান্ত থেকে উত্তর এল, ‘ওই মিয়া, মানিব্যাগে টাকা রাখেন না ক্যান? আপনারে ভিক্ষুকে পাইছে নাকি, এ যাত্রায় আইজকা কুফা লাগায়া দিলেন! যে রিকস (রিস্ক) নিয়া পালাইছিলাম, ধরা খাইলে তো পাবলিক হাত-পা ভাইঙ্গা কাবাব বানায়া ফেলত।’ কথাটি বলে সে লাইন কেটে দিল।

নজরুল আহমেদ
মিরপুর, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *