অতীন্দ্রমোহন রায়

অতীন্দ্রমোহন রায় যিনি অতীন রায় নামে বেশি পরিচিত (১৮৯৪—১৯৭৯) ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

অতীন্দ্রমোহন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার ভোলাচঙ্গ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আনন্দমোহন রায়। কুমিল্লা ইউসুফ স্কুলের ছাত্র অবস্থায় অতীন রায় বিপ্লবী অনুশীলন দলের সদস্য হন। এর দায়ে তাঁর জেল হয়েছিল। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি সক্রিয় বিপ্লবী হয়ে ওঠেন এবং এরপর আজীবন বিপ্লবী ছিলেন। বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের কুমিল্লায় আসলে অতীন্দ্র রায় তাঁর অন্তরঙ্গ হয়ে ওঠেন এবং বিপ্লবীদের মুখপত্র ধূমকেতু প্রকাশের পর কবিকে অভিনন্দন জানান। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন।

অতীন্দ্রমোহন কিছুটা খর্বকায় হলেও সুঠামদেহী ছিলেন; তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করতেন। অন্যান্য বিপ্লবীদের মত তিনিও গান্ধীর অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাস করতেন না। তিনি ১৯৪০ সালে কুমিল্লায় বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দল নামে একটি গোপন বিপ্লবী দল গড়তে সাহায্য করেন। এই বিপ্লবীরা আগরতলা মহারাজার কাছ থেকে গোপনে অর্থসাহায্য পেত। তারা ভারতব্যাপী একটি সশস্ত্র বিপ্লবের প্রস্তুতি নিয়েছিল। ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত ধনাঢ্য ব্যক্তিদের বাড়িতে ডাকাতি করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে নাবিকদের মাধ্যমে তারা বিদেশ থেকে যুদ্ধাস্ত্র সংগ্রহ করত। জার্মানি থেকে বিপ্লবীদের জন্য কয়েক জাহাজ উন্নত মানের যুদ্ধাস্ত্র প্রেরিত হয়েছিল। এ তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে বহু বিপ্লবী ধরা পড়ে এবং তাদের কঠোর শাস্তি হয়। অতীন্দ্র রায় এই বিপ্লবী দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৪ মাস পলাতক থাকার পর তিনি ধরা পড়েন। তাঁকে ২৪ বছর কারাভোগ করতে হয়।

দেশ বিভাগের পর ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। কুমিল্লা অভয় আশ্রম, বসন্ত স্মৃতি পাঠাগার, অমূল্য স্মৃতি পাঠাগার ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে তিনি অবদান রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী, তাঁর পুত্র কুমিল্লা কলেজের রসায়ন বিভাগের ডেমোনস্ট্রেটর অসীম রায়কে কুমিল্লা সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এরপর থেকে অতীন্দ্র রায় বই-পুস্তক পড়ে নিঃসঙ্গ জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কুমিল্লার বাগিচা গাঁয়ে একটি টিনের ঘরে বাস করতেন এবং অত্যন্ত সাদাসিধা জীবন যাপন করতেন।

সূত্রঃ ৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *