০১. ঝিম মেরে আছে মাস্ট্যাং

ঝিম মেরে আছে মাস্ট্যাং। তিন দিন হলো পিস্তলবাজি নেই, খুনোখুনি নেই, শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। এ-শহরে আসল রূপ সবার চেনা, তাই আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। হরদম খুন-খারাবী শুরু হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে সবাই। বন্দুকবাজি ছাড়া কটা দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর এখন উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। সবার মনে জিজ্ঞাসা: কার কপালে মরণ লেখা আছে এরপর?

এদিকে ক্লে অ্যালিসন, যার হাতে তিরিশজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, মরমন হাউসে জমিয়ে পোকার খেলছে; ফাঁসির আসামী ব্ল্যাক জ্যাক কেচাম মদ খেয়ে বেসামাল অবস্থায় ফিরে গেছে সেইন্ট জেমস-এর নিজের কামরায়। যে কোনও মুহূর্তে মহা গোলমাল শুরু হয়ে যেতে পারে! সেইন্ট জেমস্ হোটেলের ছায়া ঢাকা প্রশস্ত বারান্দা, শহরে নতুন এসেছে ক্যাপ্টেন পল কেড্রিক, একটা ঝকঝকে নতুন চেয়ারে বসে কৌতূহলী চোখে রাস্তা জরিপ করছে।

দীর্ঘদেহী একহারা গড়নের যুবক পল কেড্রিক, স্বল্পভাষী, এক মাথা লালচে বাদামি চুল, তামাটে চেহারা, সবুজ একজোড়া চোখ। সব মিলিয়ে সুদর্শন।

বাক বোর্ড ফ্রেইট ওয়্যাগনে গিজ গিজ করছে শহরের রাস্তা; এই মাত্র একটা স্টেজ কোচ পৌঁছেছে, একটু বাদেই রওনা হতে যাচ্ছে আরেকটা। হিচরেইলগুলোয় নানান ব্র্যান্ডের অসংখ্য ঘোড় দাঁড়িয়ে ঝিমুচ্ছে।

পাশে এক তরুণ এসে দাঁড়িয়েছে হঠাৎ টের পেল কেড্রিক, চোখ তুলে তাকাল। অল্পবয়সী ছোকরা, ধূসর চোখে তাকিয়ে ওর দিকে। লম্বা চুল কাঁধ অবধি নেমে এসেছে তার।

ক্যাপন কেড্রিক?

জিজ্ঞেস করল নবাগত তরুণ। আমি ডরনি শ। জুন গুন্টারের কাছ থেকে আসছি।

ও, তাই? উঠে দাঁড়াল কেড্রিক, করমর্দনের জন্যে হাত বাড়াল। তোমার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুশি হলাম। তুমি গুন্টারের লোক?

বিদ্রূপ খেলে গেল যেন শর ধূসর চোখে। গুন্টারের সঙ্গী, শুধরে দিল সে। আমি কারও চাকরি করি না!

আচ্ছা, বুঝেছি।

আসলে বোঝে নি কেড্রিক। ধৈর্য ধরবে, স্থির করল ও, ব্যাপারটা কী জানতে হবে। ছেলেটার হাবভাবে কোথায় যেন একটা অস্বাভাবিকতা রয়েছে, সতর্ক করে তুলছে ওকে।

গুন্টার কোথায়?

আসছে। তুমি এসেছ কিনা দেখতে বলল আমাকে। হোটেলের কাছাকাছি অপেক্ষা করতে বলেছে তোমায়।

ঠিক আছে। তুমি দাঁড়িয়ে কেন, বসো?

সার বাঁধা চেয়ারগুলোর দিকে এক নজর তাকাল ডরনি শ। না, আমি হাতলঅলা চেয়ারে বসি না, অসুবিধে হয়।

অসুবিধে? চোখ তুলে তাকাল কেড্রিক, শর কোমরে ঝোলানো পিস্তলজোড়ার দিকে নজর গেল। বুঝেছি। পিস্তলের বাঁট দুটো বাইরের দিকে ছড়ানো। ওগুলোর দিকে ইঙ্গিত করল কেড্রিক। টাউন মার্শাল আপত্তি করে না?

কেড্রিকের দিকে তাকাল ডরনি শ, ধীরে ধীরে এক চিলতে হাসি দেখা দিল ঠোঁটে। না, করলে খারাপ হয়ে যাবে না!

আসলে, একটু থেমে আবার বলল সে, মাস্ট্যাংয়ে কাউকেই কিছু বলার সাহস নেই তার। শহর ভর্তি গুণ্ডা-পাণ্ডা। এখানে কোনও মার্শাল বেশিদিন টেকে না। তেমন লোক কোথায়?

হাঁসল কেড্রিক। হিকক? ইয়্যাৰ্প? ম্যাস্টারসন?

ওরা হয়তো টিকতে পারে, ডরনি শয়ের কণ্ঠে স্পষ্ট সন্দেহ, তবু আমার সন্দেহ আছে। অ্যালিসন এখন এখানে, জ্যাক কেচামও, বিলি, দ্য কিড দলবল নিয়ে আশপাশে ঘুরঘুর করছে। এই রকম শহরের মার্শালকে ক্ষিপ্র পিস্তলবাজ হতে হয়, প্রতিদিন নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে তাকে।

ঠিক বলেছ, আড়চোখে ডরনি শকে মাপল কেড্রিক। কী আছে ছেলেটার মাঝে, যা অস্বস্তি জাগিয়ে দিচ্ছে? পিস্তলজোড়া নয়; দুই পিস্তল ঝোলায় এমন লোক অনেক দেখেছে ও; সত্যি বলতে ওদের মাঝেই বেড়ে উঠেছে। নাহ্, অন্য কিছু, এর প্রতিটি ভঙ্গিতেই কেমন যেন অশুভ ইঙ্গিত আছে, সাপের চোখের দিকে তাকালে যেমন হয়-ভীতিকর অনুভূতি জাগে মনে।

লোকজন যোগাড় হয়ে গেছে, খানিক পর বলল ডরনি শ। লরেডো শ্যাডকে আমার কাজের লোক বলেই মনে হয়েছে। কঠিন, ক্ষিপ্র পিস্তলবাজ। ফেসেনডেন, পয়েন্সেট, গফ-এরাও, যোগ দিয়েছে, আমাদের সঙ্গে। ডরনি শয়ের বলার ভঙ্গিতে মনে হচ্ছে নামগুলো অর্থবহ। কিন্তু কেড্রিকের কোনও প্রতিক্রিয়া হলো না। ফেসেনডেন নামটা চেনা চেনা লাগলেও, নিশ্চিত হতে পারল না ও। ঘাড় ফিরিয়ে রাস্তার দিকে তাকাল আবার, ভিড়ের ওপর চোখ বোলাল।

ওরা সত্যি লড়বে? রাস্তা থেকে চোখ না সরিয়েই জানতে চাইল ও। তেমন লোক আছে?

লড়বে মানে? শুষ্ক কণ্ঠে বলল ডরনি শ, জানপ্রাণ দিয়ে লড়বে! কঠিন লোকের অভাব নেই ওখানে। ইন্ডিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ছাড়াও আরও বিপদের মোকাবিলা করেছে। কাউকে পরোয়া করে না ওরা। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে কেড্রিকের দিকে তাকাল সে। গুন্টার বলছিল, তুমি লড়াকু লোক।

শয়ের কণ্ঠে কি সন্দেহ প্রকাশ পেল?

মুচকি হেসে কাঁধ ঝাঁকাল কেড্রিক।

 আগে পশ্চিমে এসেছ?।

নিশ্চয়ই! গোল্ড রাশের কিছুদিন আগে ক্যালিফোর্নিয়াতে আমার জন্ম; যুদ্ধের সময় বয়স ছিল ষোল, নেভাদার একটা দলের সঙ্গে তখনই যুদ্ধে যোগ দিই। যুদ্ধ শেষ হবার পরেও দুবছর পশ্চিমে কাটিয়েছি। অ্যাপাচিদের বিরুদ্ধে। লড়াই করেছি।

মাথা দোলাল ডরনি, যেন সন্তুষ্ট হয়েছে। গুন্টার তোমাকে খুব পছন্দ করে। তবে সে একজন সাধারণ পার্টনার ছাড়া আর কিছু নয়।

খর্বাকৃতি স্থূলদেহী এক লোক ভিড় ঠেলে এদিকে এগিয়ে আসছে। থুতনিতে চৌকো ছাঁটের দাড়ি; ঠোঁটে একটা কালো সিগার ঝুলছে।

তার পাশে কেড্রিকের মতো লম্বা আরেকজন লোক। তীক্ষ্ণ চেহারা, চোখজোড়ায় শীতল দৃষ্টি; আদেশ করার জন্যেই যেন তার জন্ম। প্রয়োজনে এই লোক চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিতে দ্বিধা করবে না। এ-ই বোধ হয় কর্নেল লরেন কীথ। অর্থাৎ আর একজনের সঙ্গে পরিচয়ের পালা বাকি রইল-বারউইক। তিন অংশীদারের মধ্যে শুধু বারউইকই নাকি স্থানীয় লোক।

কাছে আসতেই হাসল গুন্টার, ঝকঝকে শাদা দুপাটি দাঁত বেরিয়ে পড়ল। হাত বাড়িয়ে দিল করমর্দনের জন্যে। এই যে, কেড্রিক, শেষ পর্যন্ত এলে! কর্নেল, এর কথাই তোমাদের বলেছি। কেউ যদি পারে একমাত্র ও-ই পারবে কাজটা। প্যাটারসনের গরু নিয়ে গিয়েছিল ও। চোর-ডাকাত আর কোম্যাঞ্চেদের নাকের ডগা দিয়ে গরু নিয়ে গেছে, একটা বাছুর পর্যন্ত খোয়া যায় নি।

মাথা ঝাঁকাল কীথ। ঠাণ্ডা দৃষ্টিতে চট করে মেপে নিল কেড্রিককে।

ক্যাপ্টেন-আর্মিতে ছিলে নাকি?

হ্যাঁ, গৃহযুদ্ধের সময়।

হুম্। অ্যাপাচি ওঅরে পল কেড্রিক বলে একজন সার্জেন্টের নাম শুনেছিলাম…

আমিই। সেনাবাহিনী ভেঙে দেয়ার সময় সবার র্যাংক কয়েক ধাপ কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

রণাঙ্গনে ছিলে কতদিন? কেড্রিকের উপর থেকে চোখ সরাল না কর্নেল কীথ।

চার বছর। দক্ষিণ-পশ্চিমে দুবার পাঠানো হয়েছিল আমাদের।

মন্দ নয়। লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আছে দেখা যাচ্ছে, বিদ্রূপ-ভরা দৃষ্টিতে কেড্রিকের দিকে তাকাল লরেন কীথ। আমি অবশ্য বার বছর আর্মিতে ছিলাম, নিয়মিত সদস্য হিশেবে।

কীথের আচরণ বিরক্তির উদ্রেক করছে কেড্রিকের। তবু ঠিক করল উপেক্ষা করবে ব্যাপারটা। চুপ করে রইল ও।

শুধু আমেরিকান সেনাবাহিনীতে চাকরি দিয়ে ওর অভিজ্ঞতার বিচার করো না, কর্নেল, বলল গুন্টার। লোক নির্বাচনে তার ভুল হয় নি প্রমাণ করতে চাইছে। ও ফ্রাংকো-প্রুশিয়ান ওঅরে মেয প্রতিরক্ষায় অংশ নিয়েছে। ম্যাকমোহ্যানের সঙ্গে সেডানের যুদ্ধেও ছিল।

তীক্ষ্ণ হলো কীথের দৃষ্টি, পরস্পরের সঙ্গে চেপে বসল ঠোঁটজোড়া। লোকটা ওকে পছন্দ করছে না, কেড্রিক বুঝতে পারছে, গুন্টারকে না থামালে শুরু থেকেই এ লোক ওর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে, কাজ করতে দেবে না সুষ্ঠুভাবে। কিন্তু তার-সুযোগ পেল না ও।

আফ্রিকায় সেকেন্ড অ্যাশ্যানতি ওঅরে ওয়ালসেলির সহকারী ছিল আমাদের পল, গুন্টারের গলায় আত্মপ্রসাদ। তার পর উত্তর তাই শানের তুঙ গ্যানসেদের বিপক্ষে দুবছর ব্যাপী লড়াইতেও অংশ নিয়েছে-ওই যুদ্ধে জেনারেল ছিল।

খাঁটি মার্সেনারী!

এবার আর সহ্য হলো না কেড্রিকের। এত লোকের সামনে কেউ তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চাইবে এটা সে মেনে নিতে পারে না। ঠিক করল। কর্নেলের অহঙ্কারে একটু খোঁচা দেবে, লোকটা বেশি বাড়াবাড়ি করছে। নিজের লড়াই ভাড়াটে লোকদের দিয়ে করানোর রেওয়াজ পৃথিবীর সব দেশেই আছে, কী বলো?

প্রথমে লাল পরক্ষণে রক্ত সরে শাদা হয়ে গেল কর্নেল কীথের মুখ। কিন্তু সে কিছু বলার আগেই দশাসই চেহারার এক লোক ভিড় ঠেলে সামনে এসে দাঁড়াল।

তুমি গুন্টার? চড়া গলায় জিজ্ঞেস করল লোকটা। তুমি কেন এখানে এসেছ আমরা জানি। কিন্তু শুনে রাখো, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বহু কষ্টে ওখানে সংসার গড়ে তুলেছি আমরা। অত সহজে আমাদের জমি কেড়ে নিতে পারবে না। আমরা লড়ব!

কেউ জবাব দেয়ার আগেই কীথ আর গুন্টারের পেছন থেকে লোকটার সামনে চলে এল ডরনি শ। গোলমাল করার খায়েশ হয়েছে আঁ? এখনই পিস্তল বের করতে চাও?

ডরনি শ নিচু, প্রায় অস্পষ্টভাবে কথাগুলো বললেও আতঙ্কে যেন কুঁকড়ে গেল লোকটা। আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে দুহাত তুলে এক কদম পিছিয়ে গেল। তোমাকে কিছু বলি নি আমি, ডরনি! আশপাশে তুমি আছ, জানতাম না!

তা হলে ভাগো! খেঁকিয়ে উঠল ডরনি। শান্ত ভাব খসে পড়েছে চেহারা থেকে, হিংস্র দেখাচ্ছে। লোকটার দুচোখে খুনের নেশা জেগে উঠতে দেখে হতবাক হয়ে গেল কেড্রিক।

ভাগো! আবার বলল ডরনি। বাঁচতে চাইলে, আর কক্ষনো এ-মুখো হবে না।

ঘুরে দাঁড়াতে গিয়ে হোঁচট খেল লোকটা। চট করে ভিড়ের মাঝে লুকিয়ে পড়ল। জনতার দিকে তাকাল পল কেড্রিক, ভাবলেশহীন চেহারায় তাকিয়ে আছে সবাই, কারও কারও দৃষ্টিতে ঘৃণা, ঝরছে; কিন্তু শুভেচ্ছা বা বন্ধুত্বের আভাস নেই কারও মাঝে। ভুরু কুঁচকে উঠল কেড্রিকের, ঘুরে দাঁড়াল।

বাহু আঁকড়ে ধরে ওকে থামাল গুন্টার। কীথের সঙ্গে ওর মন কষাকষি শুরু হয়েছে বুঝতে পেরেছে সে। এবার এই গোলমালের ফলে ওদের আলাপে বাধা পড়ার সুযোগে কীথের সঙ্গে ওর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করল। বুঝতে পারছ, কাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে? বলল গুন্টার। এই লোকটার নাম পিটার্স। ও অবশ্য তেমন বিপজ্জনক নয়। তবে ওদের মধ্যে কিছু ভয়ঙ্কর লোকও আছে, চালু বন্দুকবাজ। সবাই তো আর পিটার্সের মতো গবেট হতে পারে না! চল, বারউইকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই।

গুন্টারের পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল কেড্রিক, অন্যপাশে এগোচ্ছে কীথ। মুহূর্তের জন্য একবার পেছনে তাকাল কেড্রিক, ডরিন শকে দেখা গেল না কোথাও। স্পষ্ট বুঝতে পারছে কেড্রিক, ওর সহকারী ডরিন শ জাত খুনী। এই ধরনের লোকদের চিনতে ভুল হবার কথা নয় ওর।

অস্বস্তি বোধ করছে ও। পিটার্সের হুমকির কথা মনে পড়ছে। নির্বোধ হতে পারে, কিন্তু চেহারা বলে লোকটা ভালোমানুষ। তবে ওদের মাঝে দুএকজন ভালোমানুষ থাকা খুবই স্বাভাবিক। পিটার ঠিক নেতা গোছের লোক নয়, এই রকম লোকেরা খারাপ লোকের ফাঁদে পা দিয়ে অজান্তে বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে।

জমিটা সরকারী নির্দেশে গুন্টার, কীথ আর বারউইকের দখলে গিয়ে থাকলে, এর মধ্যে কোনও ঘোর প্যাঁচ না থাকারই কথা। সরকার ওদের কাছে জমি বিক্রি করলে স্কোয়ার্টার বা জবরদখলকারীদের ওখানে থাকার অধিকার নেই। তবে অধিকাংশ লোক যদি পিটার্সের মতো হয়ে থাকে, ও যেমন ভেবেছিল, মোটেই ততো কঠিন হবে না কাজটা।

রাস্তা থেকে খানিকটা দূরে একটা চৌকো পাথুরে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল গুন্টার। আমাদের হেডকোয়াটার, বলল সে, এসো, ভেতরে এসো!

বাড়িটার চারপাশে প্রশস্ত বারান্দা। সিঁড়ি বেয়ে উঠে এল ওরা। কেড্রিক দেখল কাছেই শাদা ব্লাউজ আর ধূসর স্কার্ট পরা এক মেয়ে চেয়ারে বসে বই পড়ছে। থমকে দাঁড়াল গুন্টার।

ক্যাপন কেড্রিক। এ আমার ভাগ্নী, সামান্থা ফক্স।

দৃষ্টি বিনিময় হলো ওদের, নিঃশব্দে কেটে গেল একটি দীর্ঘ মুহূর্ত। কেড্রিকের পুরো শরীর যেন অসাড় হয়ে গেছে, নড়তে পাড়ছে না। বড় বড় চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটা, দৃষ্টিতে বিস্ময়।

চট করে নিজেকে সামলে নিল কেড্রিক, ঈষৎ মাথা নুইয়ে অভিবাদন জানাল।

হাউডি, মিস ফক্স!

ক্যাপ্টেন কেড্রিক, কোনওমতে উঠে দাঁড়াল মেয়েটা, কেড্রিকের দিকে এগিয়ে এল। আশা করি এখানে তোমার ভালো লাগবে।

মেয়েটার ওপর থেকে চোখ সরায় নি কেড্রিক, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে সামান্থা ফক্সের চেহারা।

নিশ্চয়ই! আস্তে করে বলল ও, ভালো লাগতেই হবে!

এতটা নিশ্চিত হওয়া ঠিক নয়, শীতল কণ্ঠে বলল কর্নেল লরেন কীথ। ধ্যেৎ, দেরি হয়ে যাচ্ছে। চল তো! কিছু মনে করো না, সামান্থা, বারউইক

অপেক্ষা করছে। দরজা দিয়ে পা বাড়াতে গিয়ে একবার পেছনে তাকাল কেড্রিক। এখনও দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা।

স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, খেপে গেছে কীথ, কিন্তু গুন্টার ব্যাপারটা লক্ষ্য করে নি।

হঠাৎ কোত্থেকে এসে হাজির হলো ডরনি শ, পলকের জন্যে কেড্রিকের দিকে তাকাল, কিন্তু কিছু বলল না। অচঞ্চল হাতে একটা সিগারেট রোল করতে শুরু করল।

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *