গীতা – অধ্যায় ১৮ – মোক্ষযোগ

অষ্টাদশ অধ্যায় – মোক্ষযোগ “অর্জুন কহিলেন, ‘মহাবাহো! আমি সন্ন্যাস ও ত্যাগের প্রকৃত তত্ত্ব পৃথকরূপে শ্রবণ করিতে অভিলাষ করি, তুমি তাহা কীর্তন কর।’ “বাসুদেব কহিলেন, ‘হে অর্জুন! পণ্ডিতেরা কাম্যকর্মের ত্যাগকেই সন্ন্যাস এবং সকল প্রকার কর্মফল ত্যাগকেই ত্যাগ কহিয়া থাকেন। কেহ...

গীতা – অধ্যায় ১৭ – শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ

সপ্তদশ অধ্যায় – শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ “অর্জুন কহিলেন, ‘হে কৃষ্ণ! যাহারা শাস্ত্রবিধি পরিত্যাগ করিয়া শ্রদ্ধাসহকারে যজ্ঞ অনুষ্ঠান করে, তাহাদের শ্রদ্ধা সাত্ত্বিক কি রাজসিক অথবা তামসিক?’ “কৃষ্ণ কহিলেন, ‘হে অর্জুন! দেহিগণের স্বাভাবিক শ্রদ্ধা তিন প্রকার;–সাত্ত্বিক, রাজসিক ও...

গীতা – অধ্যায় ১৬ – দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ

ষোড়শ অধ্যায় – দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ “ভগবান বলিলেন, ‘হে অর্জুন! যাহারা দৈবসম্পদ্‌ লক্ষ্য করিয়া জন্মগ্রহণ করে, তাহারা অভয়, চিত্তশুদ্ধি, আত্মজ্ঞানোপায়ে (আত্মজ্ঞানসাধনে) পরনিষ্ঠা (ঐকান্তিকভাব), দান, দম, যজ্ঞ, স্বাধ্যায়, তপ, ঋজুতা, অহিংসা, সত্য, অক্রোধ, ত্যাগ, শান্তি,...

গীতা – অধ্যায় ১৫ – পুরুষোত্তমযোগ

পঞ্চদশ অধ্যায় – পুরুষোত্তমযোগ “ভগবান্‌ বলিলেন, ‘হে অর্জুন! সংসাররূপ এক অব্যয় অশ্বত্থ (সংসারকে অশ্বত্থবৃক্ষে রূপক করা হইয়াছে। ‘শ্ব’ শব্দের অর্থ পরবর্তী প্রভাতকাল। ইহার সহিত স্থিতিবোধক ‘খ’ শব্দযোগে সংসারের অল্পকালস্থায়িত্ব নির্ণীত হইয়াছে; তাহার সহিত আবার অভাবার্থ ‘অ’...

গীতা – অধ্যায় ১৪ – গুণত্রয়বিভাগযোগ

চতুর্দশ অধ্যায় – গুণত্রয়বিভাগযোগ “ভগবান বলিলেন, ‘হে অর্জুন! আমি পুনরায় উৎকৃষ্ট জ্ঞান কীর্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। মহর্ষিগণ ইহা অবগত হইয়া দেহান্তে মোক্ষলাভ করিয়া থাকেন এবং ইহা আশ্রয় করিলে আমার সারূপ্য প্রাপ্য হইয়া সৃষ্টিকালেও জন্মগ্রহণ করেন না ও প্রলয়কালেও ব্যথিত হয়েন না!...

গীতা – অধ্যায় ১৩ – ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞযোগ

ত্রয়োদশ অধ্যায় – ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞযোগ “অর্জুন কহিলেন, ‘হে বাসুদেব! আমি প্রকৃতি, পুরুষ, ক্ষেত্র, ক্ষেত্রজ্ঞ, জ্ঞান ও জ্ঞেয়, এই কয়েকটি বিষয় শ্রবণ করিতে অভিলাষ করি।’ “কৃষ্ণ কহিলেন, ‘হে অর্জুন! এই শরীরই ক্ষেত্র বলিয়া অভিহিত হয়; যিনি ইহা বিদিত হইয়াছেন, তিনি ক্ষেত্রজ্ঞ;...

গীতা – অধ্যায় ১২ – ভক্তিযোগ

দ্বাদশ অধ্যায় – ভক্তিযোগ “অর্জুন কহিলেন, ‘হে বাসুদেব! যাহারা ত্বদ্‌গতচিত্তে (অনন্যমনে–একমাত্র ভগবানে মন রাখিয়া) তোমার উপাসনা করে এবং যাহারা কেবল অক্ষয় ও অব্যক্ত ব্রহ্মের আরাধনা করিয়া থাকে, এই উভয়বিধ লোকের মধ্যে কাহারা শ্রেষ্ঠ যোগী বলিয়া নির্দিষ্ট হয়?’ “অর্জুন কহিলেন,...

গীতা – অধ্যায় ১১ – বিশ্বরূপদর্শন

একাদশ অধ্যায় – বিশ্বরূপদর্শন “অর্জুন কহিলেন, ‘হে বাসুদেব! তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করিয়া যে পরম গুহ্য আত্মা ও দেহ প্রভৃতির বিষয় কীর্তন করিলে, তদ্দ্বারা আমার ভ্রান্তি দূর হইয়াছে। হে পদ্মপলাশলোচন! আমি তোমার মুখে ভূতগণের উৎপত্তি, প্রলয় এবং তোমার অক্ষয়মাহাত্ম্য...

গীতা – অধ্যায় ১০ – বিভূতিযোগ

দশম অধ্যায় – বিভূতিযোগ “ভগবান্‌ কহিলেন, ‘হে অর্জুন! তুমি আমার বাক্যশ্রবণে নিতান্ত প্রীত হইতেছে; এক্ষণে আমি তোমার হিতবাসনায় পুনরায় যে সমস্ত উৎকৃষ্ট বাক্য কীর্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। মহর্ষি ও সুরগণও আমার প্রভাব অবগত নহেন; আমি সকল বিষয়েই তাঁহাদিগের আদি। যিনি আমাকে অনাদি,...

গীতা – অধ্যায় ০৯ – রাজবিদ্যা-রাজগুহ্যযোগ

নবম অধ্যায় – রাজবিদ্যা-রাজগুহ্যযোগ “ভগবান্‌ কহিলেন, ‘হে অর্জুন! তুমি অসূয়াশূন্য; অতএব যাহা অবগত হইলে সংসারবন্ধন হইতে মুক্ত হইবে, আমি সেই গোপনীয় উপাসনাসহকৃত ঈশ্বরজ্ঞান কীর্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। এই উৎকৃষ্ট জ্ঞান বিদ্যাশ্রেষ্ঠ, রাজগণেরও গোপনীয়, অতি পবিত্র, প্রত্যক্ষফলদ,...
Page 1 of 7012345...102030...Last »