ঋগ্বেদ ১০।০০৫

ঋগ্বেদ ১০।০০৫
ঋগ্বেদ সংহিতা।। ১০ম মণ্ডল।। সূক্ত ৫
ঋষি ও দেবতা পূর্ববৎ।

১। এক যে অগ্নি, ইনি সমুদ্রের ন্যায় ধনের আধারস্বরূপ, ইনি নানারূপে জন্ম গ্রহণ করেন, ইনি আমাদিগের মনের অভিলাষ সকল অবগত আছেন, ইনি প্রাতঃকাল ও সায়ংকালের নিকটবর্তী রাত্রিকালে দেখা দেন। হে অগ্নি। মেঘের মধ্যে তোমার যে বিদ্যুৎস্বরূপ স্থান আছে, তথায় গমন কর।

২। যজ্ঞকর্তারা আহুতি সেচন করিতে করিতে সকলে এক প্রকার নীল বস্ত্র পরিধানপূর্বক ঘোটকী লাভ করিলেন। অগ্নি যজ্ঞের স্থানস্বরূপ, পণ্ডিতেরা সেই অগ্নি যত্নপূর্বক রাখিয়া থাকেন। অগ্নির ভিন্ন নিগূঢ় নামসমূহ তাঁহারা ভিন্ন হৃদয়ে ধারণ করেন।

৩। দুই অরণি যজ্ঞের অবলম্বনস্বরূপ, তাঁহাদিগের কাৰ্য্য অতি আশ্চৰ্য্য, তাহারা একত্র হইল এবং যথাসময়ে অগ্নিরূপী বালককে জন্ম দান করিয়া লালন পালন করিল। স্থাবর, জঙ্গম সমস্ত জগতের শ্রেষ্ঠ সেই অগ্নির যে সন্তান, আমরা যেন তাহাকে মনে মনে ধ্যান করি।

৪। যে সকল প্রাচীন পুরোহিত ও যজ্ঞকর্তা ব্যক্তি ছিলেন, যাহারা যজ্ঞের কার্যের প্রবর্তকস্বরূপ, অগ্নি উত্তমরূপে উৎপন্ন হইবামাত্র তাহার অন্ন কামনাতে অগ্নির সেবা আরম্ভ করিলেন। যে দ্যুলোক ও ভূলোক তাবৎ বস্তুর আস্বাদন কারী, অগ্নি তাহারই মধ্যে বাস করেন, সেই অগ্নিকে যজ্ঞকর্তারা ঘৃত ও মধুপূর্ণ খাদ্যদ্রব্য অর্পণপূর্বক সংবর্ধনা করিতেছেন।

৫। অগ্নি মধু জানেন, তিনি মধুর অভিলাষী হইয়া তাঁহার স্বকীয় সপ্তসংখ্যক লোহিতবর্ণ শিখা আবির্ভূত করিলেন, অভিপ্রায় যে সকলে অনায়াসে আলোকসহকারে চতুর্দ্দিকে দেখি পায়। তিনি প্রথমে জন্ম গ্রহণ করিয়া আকাশে সেই সমস্ত শিখা প্রেরণ করিলেন, তিনি যেন সূর্যের আলোক আবরণ করিতে পারে, এরূপ ঔজ্জ্বল্য ইচ্ছাপূর্বক ধারণ করিলেন।

৬। পণ্ডিতেরা সাত মর্য্যাদা, অর্থাৎ সীমা, অর্থাৎ সীমা, অর্থাৎ অকর্ত্তব্যকর্ম্ম নিরূপণ করিয়াছেন; যে কেহ তাহার একটীও করে সেই পাপী (১)। অগ্নি মনুষ্যকে পাপ হইতে রুদ্ধ রাখেন, তিনি নিকটবর্ত্তী মনুষ্যের ভবনে থাকেন, সূর্যকিরণের বিচরণ মার্গে এবং জলের মধ্যেও থাকেন।

৭। অগ্নিই অসৎও বটেন, সৎও বটেন (২)। তিনি পরমধামে আছেন, তিনি আকাশের উপরে সূৰ্য্যরূপে জন্মিয়াছেন। অগ্নিই আমাদিগের অগ্রে জন্মিয়াছেন, তিনি যজ্ঞের পূৰ্ববৰ্ত্তী কালে অবস্থিত ছিলেন। তিনি বৃষও বটেন, গাভীও বটেন, অর্থাৎ স্ত্রীপুরুষ উভয়রূপী।।

—–

(১) সাত অকর্তব্য কর্ম যথা ব্রহ্মহত্যা, সুরাপান, চৌর্য্য, গুরুপত্নীগমন, পুনঃপুনঃ পাপাচরণ, পাপ করিয়া প্রকাশ না করা। সায়ণ। কিন্তু সায়ণের এই ব্যাখ্যা পৌরাণিক মত সঙ্গত, বৈদিক নহে।

(২) এস্থলে সৃষ্টির পূর্বে জগতের যে অপরিণত অবস্থা ছিল, তাহাকে অসৎ বলা হইয়াছে। আর সৃষ্টির পরবর্তী অবস্থা সৎ। সায়ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *