ঋগ্বেদ ১০।০০৩

ঋগ্বেদ ১০।০০৩
ঋগ্বেদ সংহিতা।। ১০ম মণ্ডল।। সূক্ত ৩
ঋষি ও দেবতা পূর্ববৎ

১। হে রাজন্! সেই প্র অগ্নির স্বভাবই অগ্রসর হওয়া, যিনি ভয়ঙ্কর ও সুন্দর, তিনি বিশিষ্টরূপ উজ্জ্বল হইয়া দেখা দিলেন। তিনি সচেতন হইয়া বিপুল আলোকে শোভা পাইতেছেন; তিনি কৃষ্ণবর্ণ রাত্রিকে দূর করিয়া শুক্লবর্ণ দীপ্তি ধারণ করিতেছেন।

২। এই অগ্নি পলায়নোদ্যত ও কৃষ্ণবর্ণ রাত্রিকে পরাভব করলেন; সেই বৃহৎ পিতা অর্থাৎ সূর্যের পত্নী উষাদেবীকে জন্ম দান করিলেন। তিনি ঊর্ধ্বে আলোক বিস্তার করিয়া সূর্য্যের কিরণ আচ্ছাদনপূর্বক গগনবিসারী নিজ তেজের দ্বারা সুশোভিত হইয়াছেন।

৩। অগ্নি নিজে সুরূপ, সুরূপা দীপ্তির সহিত সমাগত হইয়া আসিতেছেন, তিনি উপপতির ন্যায় উষার পশ্চাৎ পশ্চাৎ যাইতেছেন। উক্ত আলোকে পরিপূর্ণ হইয়া তিনি আপনার শ্বেতবর্ণ কিরণসহকারে কৃষ্ণবর্ণ অন্ধকারকে পরাভব করিতেছেন।

৪। এই প্রকাণ্ড অগ্নির প্রদীপ্ত কিরণসমূহ স্তবকদিগকে ক্লেশ দেয় না; অগ্নি হিতৈষী বন্ধুর ন্যায়; তিনি পূজ্য এবং অভিলষিত ফলদাতা; তাহার মুখশ্রী সুন্দর; তাহার দীপ্তি অন্ধকার নষ্ট করতঃ অগ্রসর হইতেছে, সকলে তাহা জানিতে পারিতেছে।

৫। এই প্রকাণ্ড দীপ্তিশালী অগ্নি শিখা সমস্ত বায়ুর ন্যায় শব্দ করিতেছে। ইনি অতি চমৎকার ক্রীড়াশীল, অতি তেজস্বী ও অত্যন্ত বুদ্ধিপ্রাপ্ত নিজ কিরণের দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ করিতেছেন।

৬। এই অগ্নির শিখা দৃষ্ট হইতেছে, ইনি চলিয়াছেন; ইঁহার উত্তাপযুক্ত কিরণসমূহ বায়ুর ন্যায় শব্দ করিতেছে। ইনি সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক উজ্জ্বল, ইহার স্বভাব অগ্রসর হওয়া এবং সৰ্বদিকে বিস্তারিত হওয়া। ইহার চিরপরিচিত শুভ্রবর্ণ শব্দায়মান শিখাসমূহ শোভা পাইতেছে।

৭। হে অগ্নি! সেই তুমি আমাদিগের যজ্ঞে পূজনীয় দেবতাদিগকে লইয়া আইস, দ্যুলোক ও ভূলোক দুই যুবতীর ন্যায় তাঁহাদিগের মধ্যে তুমি অগ্রসর হইয়া উপবেশন কর। তুমি নিজে সৌম্য ও বেগবান, তোমার অশ্বগণও সৌম্য ও বেগবান, সেই ঘোটকদিগকে লইয়া তুমি এখানে আগমন কর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *