ঋগ্বেদ ০৮।০৬৬

ঋগ্বেদ ০৮।০৬৬
ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ৮ম মণ্ডল সূক্ত ৬৬
ইন্দ্র দেবতা। প্রগাথের পুত্র কলি ঋষি।

১। তোমরা বাধাযুক্ত হইয়া বেগবান অশ্বের সাহায্যে যিনি ধন প্রদান করেন, সেই ইন্দ্রের উদ্দেশে বৃহৎ সাম গান করতঃ পরিচর্য্যা কর। লোকে যেমন হিতকারী কুটুম্বপোষক ব্যক্তিকে আহ্বান করে, আমি সেইরূপ অভিযুত সোমযুক্ত যজ্ঞে সেই ইন্দ্রকে আহ্বান করি।

২। দুৰ্দ্ধৰ্ষ শত্ৰুগণ সুন্দর হনুযুক্ত ইন্দ্রকে নিবারণ করিতে পারে না। স্থির দেবগণ তাঁহাকে নিবারণ করিতে পারে না, মনুষ্যগণও পারে না। তিনি সোমপানজনিত আনন্দলাভের উদ্দেশে প্রশংসাকারী, সোমাভিষবকারী স্তোতার উদ্দেশে দান করেন।

৩। যে শক্র পরিচর্য্যার যোগ্য, যিনি অশ্ববিদ্যাকুশল, যিনি অদ্ভুত, যিনি হিরন্ময়। যে আশ্চৰ্য্যভূত বৃত্রহা ইন্দ্র বহুল গোসমূহকে অপাবৃত করতঃ চালিত করেন।

৪। যিনি ভূমিতে নিখাত সংগৃহীত বহুধন যজমানের উদ্দেশে উঠাইয়া দেন। সেই বজ্রযুক্ত উত্তম হনুযুক্ত হরিদ্বর্ণ অশ্ববিশিষ্ট ইন্দ্র যাহা ইচ্ছা করেন, কাম্মদ্বারা তাহাই সিদ্ধ করেন।

৫। হে বহুলোকের স্তুত শূর ইন্দ্র! পূর্বকালের ন্যায় স্তোতাগণের নিকট যাহা কামনা করিয়াছ, তাহাই আমরা শীঘ্র তোমায় প্রদান করিয়াছি, তাহা যজ্ঞই হউক, উকথই হউক, আর বাক্যই হউক, প্রদান করিয়াছি।

৬। হে পুরুহূত ও বজ্রবান ও স্বৰ্গযুক্ত সোমপায়ী! সোম অভিযুত হইলে মদযুক্ত হও। তুমিই স্তোত্রকারী সোমাভিষবকারীর উদ্দেশে সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক পরিমাণে কমনীয় ধনের দাতা হও।

৭। আমরা এক্ষণে এবং কল্য এই বজ্রযুক্ত ইন্দ্রকে আপ্যায়িত করিব। তাঁহারই উদ্দেশে এই যুদ্ধে অভিযুত সোম আহরণ কর। স্তোত্র শ্রুত হইলে তিনি যেন আগমন করেন।

৮। চোর যদিও সকলের নিবারণকারী এবং পথগামীদিগের বিনাশক, তথাপি সে ইন্দ্রের কাৰ্য্যে ব্যাঘাত করিতে পারে না। হে ইন্দ্র! সেই তুমি প্রীত হইয়া আগমন কর। হে ইন্দ্র! বিচিত্র কৰ্ম্মবলে বিশেষরূপে আগমন কর।

৯। কোন পৌরুষকর কাৰ্য্য ইন্দ্রের অনাচারিত আছে? উহাঁর কোন প্রকার পৌরুষকাৰ্য্য শ্রুতিগোচর না হয়? এই বৃত্রহা জন্মাবধি বিখ্যাত।

১০। ইন্দ্রের মহাবল কখন অধৰ্ষক হইয়াছিল? ইন্দ্ৰের হন্তব্য কবে অহিংসিত হইয়াছিল? হে ইন্দ্র! সমস্ত সুদখোর দিবস গণনাকারীদিগকে (১) এবং বণিকদিগকে তাড়নাদিদ্বারা অভিভব করেন।

১১। হে বৃত্রহা, পুরুহুত, বজ্রবান ইন্দ্র! তোমারই উদ্দেশে আমরা অনেকে ভৃতির ন্যায় নূতন স্তোত্র প্রদান করি।

১২। হে বহু কৰ্ম্মবান! বহুসংখ্যক আশা তোমাতেই অবস্থিত, রক্ষাও তোমাতেই অবস্থিত। স্তোতাগণ তোমাকে আহ্বান করে। অতএব হে ইন্দ্র! অরির সবন সকল অতিক্রম করিয়া আমাদের সবনে আগমন কর। হে মহাবল! আমাদের আহ্বান শ্রবণ কর।

১৩। হে ইন্দ্র! আমরা তোমারই, আমরা তোমার স্তোতা হইয়াছি। হে পুরুহূত মঘবান! তোমা ভিন্ন আর কেহ সুখপ্রদ নাই।

১৪। হে ইন্দ্র! তুমি আমাদিগকে এই দারিদ্র্য, এই ক্ষুধা এবং এই নিন্দার হস্ত হইতে মোচিত কর। তুমি আমাদের উদ্দেশে রক্ষা এবং বিচিত্র কৰ্ম্ম দ্বারা অভিমত প্রদান কর। হে সৰ্ব্বাপেক্ষা বলবান! তুমি উপায়জ্ঞ।

১৫। তোমাদেরই সোম অভিযুত হউক। হে কলিগণ(২)! ভীত হইও না। এই রাক্ষসাদি দূর হইয়া যাইতেছে। ইহারা আপনিই অপগত হইতেছে।


(১) মূলে “বেকনাটান অহঃ দশঃ” আছে।

(২) মূলে “কলয়” আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *